# বই মেলা

- Author: [বনলতা সেন](https://sonelablog.com/author/bonolota/)
- Published: 2014-03-31T03:18:26+00:00
- Updated: 2014-04-24T01:02:16+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be/

---

হারাধনের সাকুল্যে একটির মত আমারও একটিই প্রাণবঁধু।শয়নে স্বপনে জাগরণে আড্ডায় মজমায় কান্নায় হারামিপনায়ও ওই একটি ই।এই আক্রায়ও বেশ আটঘাট বেঁধে বিস্তর চা টা খেয়ে মহা পরিকল্পনার অনুকল্প পরিপত্র তৈরি হল।অভিযান বই মেলা।  
কর্ম পরিকল্পনায় থাকছে – ক্লান্তিময় চষে ফেলা,চেটেপুটে চরম ঝাল ফুচকা খেয়ে কান্না কান্না অবস্থায় পড়া,ভাব ধরে বক্তৃতাবাজী শোনার ভান করা ও নেড়েচেড়ে নূতন বই দেখার ছলে বইয়ের গন্ধ নেয়া।শেষে এসে পত্রিকা সহ বেশ কিছু বই কেনা,ভুরি বাগানো সাদা বা রঙ্গিন পোশাকের হনুদের অটোগ্রাফ এড়িয়ে।অবশ্য ধুলো এড়াতে নাকে রুমাল বাঁধা হবে কী হবেনা বা হলেও রুমালের রং কী হবে,নিজেদের হাতে তোলা কোন নকশা থাকবে কী থাকবেনা বা নকশার বিষয় বস্তু কী,এমনকি নকশায় সুতোর রং কী হবে তার বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি নেহায়েৎ অতি মেধাশূন্যতার কারণে।এতদসত্ত্বেও বই মেলা নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে মিলনের জায়গায় পরিণত হল।  
আলোচনা শোনার ভান করে বেশ একটু নাদুস নুদুস ভাব নিয়ে বসে বসে অপেক্ষা করছি নাছরিনের জন্য।সময় যায়,যায় দিন,রাত্রি,সপ্তাহ মাস বছর,অপেক্ষায়।বিরক্তিতে উষ্ণতার পারদ চড়তে শুরু করছে,ইচ্ছে করেই ফোন দিচ্ছি না,দিচ্ছেও না।একটু পরে ও ই আমাকে ফোন করে দেরির কারণ বলল,আরও বলল এই সময়টুকুতে একটু ঘুরে ফিরে মেলা দেখতে,এসে আমাকে ফোন দেবে।আগুনে মস্ত বরফ ফেলে রাস্তা পেরিয়ে মেলায়।ভিড় ও ধুলো আমাকে সাদরে গ্রহণ করে নিল।আমিও সপে দিলাম নিজেকে মিলনের বইসমুদ্দুরে।

ভিড়ে অভিড়ে বইয়ের গুচ্ছে নাড়াচাড়,কতশত বই,জানা অজানা লেখকের।মনের আনন্দে উল্টাচ্ছি পাল্টাচ্ছি দেখছি পড়ছি ভাবছি – কী কী কিনে নেব বা নেব না,পছন্দের বই নিতে ট্রাক ভাড়া করতে হবে কিনা,হলে ক’চাকার ট্রাক,কী ই বা রং,ল্যার ল্যারে নাকি ঝাঁ চকচকে,চাকায় ঠিকঠাক হাওয়া আছে কী নেই,মাকুন্দ ড্রাইভার ট্যারা চোখে ত্যাছড়া করে চোখ মেড়ে দিয়ে ভাড়া নিয়ে মুলামুলি করলে তখন কী হবে ? ভালো লাগছে বেশ,কিশোর কিশোরী তরুণ তরুণী যুবক যুবতী মা ও শিশু বৃদ্ধ বৃদ্ধা,কলির কেষ্ট-বিষ্টু,ঝকানো টি-শার্টে পুষ্ট মুষ্টামুষ্টিকারী,চোরা চোখের চোট্টা মেশিন ম্যান,কিছু মেনি মুখো চিবুক ঝুলে পড়া মাজুর হাঁড়িমুখো স্বামী,চিকন বেত হাতে রাগী পণ্ডিতের মত পূর্বকালের অমরাবতী নিবাসিনী মনোরঞ্জিনী স্ত্রীর চোখা নজরদারীতে বিরস বদনে।  
চকিতে শরীরে স্পর্শকাতর জায়গায় আলতো হাতের স্পর্শ । ফিরে তাকাতেই স্যাৎ করে এঁকেবেঁকে ভিড়ের গভীরে চলে গেল পূর্ণ হিজাবে ঢাকা নারী মূর্তি।”ও কিছু না” মনকে এমন প্রবোধ দিয়ে আবারও বই রাজ্যে। বেশ মনযোগ দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের বাদশাহ নামদার বইটি দেখছিলাম । হঠাৎ আবারও ঘটলো বাজে ঘটনাটি,এবারে বেশ করেই হাতিয়ে দিল।আকস্মিকতায় ও ঘৃণায় শরীর রি রি করে উঠল,হায় খোদা শেষমেশ আমি লাফাংগি ল্যাজোছের (লেসবিয়ন) পাল্লায় পড়লাম । এবারে নিমিষে সটকে পড়ল লম্বাপায়ে বেশ দূরে,একই নারী। মাথায় রক্ত উঠে গেছে,কী করব বুঝতে পারছি না।এক সময় দুষ্টেরা আমার নামে বদনাম তুলেছিল আমার ব্যাগে নাকি বড় ছুরি থাকে।থাক সে কথা । ফোন দিলাম নাছরিনকে উদ্বেগ চেপে।ও বলল এই দোয়েলে একটু আটকেছে, এসে পরবে এখনই।দাঁত কিড়মিড়িয়ে নবম দশম ইন্দ্রিয়কে স্ট্যান্ডবাই করে মাথার পেছনেও চোখ খুলে রেখে প্রস্তুতি নিলাম সম্মুখ যুদ্ধের,কেন যেন মনে হচ্ছিল আবার আসবে। নিজেই ইচ্ছে করে বেশি বেশি ভিড়ের মধ্যে গেলাম আর অপেক্ষায় রইলাম।  
অপেক্ষা অপেক্ষা কিন্তু ওটাকেতো দেখছি না এমুড়ো-ওমুড়ো,হাওয়ায় মিলিয়ে গেল!নাছরিন শালীটাও আটকে পড়ার সময় পেলনা আর।শরীরে হাত পরার সাথে সাথে ঝট্ করে হাতটা ধরে উল্টো করে দিলাম মোচড়,বাবাগো বলে বিকট চিৎকার।আমার মাথায় যেন আস্ত বাজ পড়ল,হাল্কা ভিড় মুখ চাওয়া চাওয়ি। কিং কর্তব্য।হে ঈশ্বর এ আমি কী করলাম!হাতটি ভেঙ্গে ফেললাম নাকি!কী জবাব দেব সবাইকে!চোখে পানি নিয়ে বুকে জড়ালাম।হতে ব্যথা পেয়েছে প্রচণ্ড,তবে ওর তা সহ্য হবে।কথা বিহীন কথা হল কিছুক্ষণ।তার পর হিহি হিহি ……….হিজাব খুলে ব্যাগে পোড়া হয়ে গেছে ইতিমধ্যে এক ফাঁকে।  
এবার এক্সপেডিশন ঝাল ফুস্কা।আমার ঘোর কাটেনি আমি চুপচাপ বসে আছি।শয়তানটি আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ব্যথা হাতখানা ডলছে আর বলছে হাতটি এযাত্রা নাকি বেঁচে গেছে তার।এলো দু’প্লেট ফুচকা,খেতে শুরু করলাম আস্তে আস্তে নিঃস্বর হয়ে, ও শুরু করল আরও ঝাল চাই,আরও ঝাল চাই,এই বলে।যতক্ষণ পর্যন্ত কান থেকে ধোয়া আর চোখ-নাক থেকে দরদর করে পানি বেরুতে না থাকবে ততক্ষণ আরও ঝাল চাই।এক কথায় দু’কথায় দোকা্নির সাথে গেল লেগে,আর যায় কোথায়,লাথি মেরে চেয়ার ফেলে টেবিল উল্টিয়ে হু হু হা হা করে লাফ দিয়ে কাউন্টারের কাছে,এ দোকানটায় ভিড় কম,তাও লোকের ইতিউতি।কায়কষ্টে কোন রকম থামাতে পারলাম খামাখা এই হাংগামা,এতটার কোনই দরকার ছিল না।একটু পরেই আবার হিহি,আরও এক প্লেট ফুসকা।তেমন কিছু না একটু নাকি ভয় পাইয়ে দিয়েছে দোকানদার কে।সত্যি সে ভয় পেয়েছিল।এমন রণরঙ্গিণী ও বেচারা ইহজীবনে দেখেনি।  
এবারে বই কেনা পর্ব,কিন্তু আমার কিছুই ভাল লাগছিল না পর পর দুটো ঘটনায়,প্রথমটার গিল্টি ফিলিংস মনে বাসা বেঁধে গেছে।এদিকে ওর কিছুই হয়নি,সব কিছু ভুলে সুন্দর করে হেসে হেসে দোকানদার কে আত্মীয় বানিয়ে আবার আসার দাওয়াত নিচ্ছে । আবার ঢুকলাম মেলায় কিছু কেনাকাটা করলাম আমি,ও ও কিনল,ওর কেনা বইয়ের নাম ধাম নিয়ে এখন সত্যিই কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।ও কয়েকটি বই কিনলে সেলসম্যান সাদা পোষাকে প্রায় সাদা চুলের দগ্ধ জনকে দেখিয়ে অটোগ্রাফ নিতে বলল,সেলস ম্যানের কানের কাছে মুখ এগিয়ে গোপন কথা বলার মত করে কিন্তু শোনানোর মত করে ওর অটোগ্রাফ লাগলে যেন উনি নিয়ে রাখতে পারেন এমন প্রস্তাব দিল।গোল চোখ তাকালেন নিরুত্তরে,নির্ঘাত শুনেছেন।আমার জিভে কামড়,হ্যাঁচকা টানে সরিয়ে আনলাম।  
এবারে যে যার ডেরায় ফেরার পালা,হু হু প্রাণে।  
ঠিক হল এরপর একদিন আমরা পুরোনো ঢাকার সেই আমাদের প্রিয় দোকানে বাকরখানি খেয়ে পরীবিবির মাজারে যাব।

কাজের বুয়ার দরজা ধাক্কানো্র শব্দে জেগে উঠলাম,ধাতস্থ হতে একটু সময় লাগল।আমার জন্মান্তরের সই নাছরিনের স্বপ্ন ছিল নান হয়ে ধর্ম প্রচারের,তা হয়নি,পারেনি সে।মনের দুঃখে বছর খানেক আগে আত্মহত্যা করেছে।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ সংযুক্তিঃ বেপথু ফেককের নির্লজ্জ প্রচেষ্টার প্রশস্ত উদাহরণ।  
(মন চাইলে কেউ আমার প্রতীক্ষা(৩)অখাদ্যটি পড়ে দেখতে পারেন।)

---

Comments: 49 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%87-%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be/#comments
