# ”বং আল” একটি অসাম্প্রদায়িক জনপদ

Author: খসড়া
Published: 2015-02-05
Category: বিবিধ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%86%e0%a6%b2-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95/

আগের পোস্টঃ**  
\> [মোদের গরব মোদের আশা আ’মরি বাংলা ভাষ](/archives/28007 "মোদের গরব মোদের আশা আ'মরি বাংলাভাষ")**  
\> [**শোণিত ধারায় শানিত চেতনা**](/archives/27972 "শোণিত ধারায় শানিত চেতনা")  
বাংলা তথা বাংলাদেশ শব্দের উৎপত্তি প্রাচীন ‘বঙ্গ’ থেকে। ‘বঙ্গ’ অত্যান্ত প্রাচীন দেশ। মহাভারতে বঙ্গ দেশের উল্লেখ আছে। তৎকালিন আর্যদের চেয়ে ‘বঙ্গ’ ছিল নিদারুন ঘৃনা আর আবজ্ঞার বিষয়। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। কারন আর্যরা ছিল এদেশে বহিরাগত। আর ‘বঙ্গ’ এদেশের গভীর থেকে উৎপত্তি লাভ করা নাম। সুতরাং তার মৃত্যু হতে পারে না। তাইতো দেখি আজ আর্য অনার্যদের পার্থক্যের প্রাচীর ভেঙে গেছে।কালের স্রোতে আর্যের অনার্যের উত্তর পুরুষ এই বাংলারই বাঙ্গালী হয়ে একত্রে বসবাস করছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবর্তনের প্রাচীন ইতিহাসটি সংগ্রামে পরিপূর্ণ।  
প্রচীনকাল থেকে ষষ্ঠ/সপ্তম শতক পর্যন্ত আজকের বাংলাদেশ ও পশ্চীমবঙ্গের বিভিন্ন কৌমের অধীন যে কয়েকটি জনপদে বিভক্ত ছিল তার মধ্যে পন্ড্রু, গৌড়, রাঢ়,বঙ্গ, সমতট আর হেরিকেল উল্লেখযোগ্য। এসব জনপদের মধ্যে একমাত্র রাঢ় ছিল মোটামুটি আজকের পশ্চীমবঙ্গের জনপদ।সপ্তম শতকের প্রথমদিকে শশাংক নামে এক শক্তিশালী রাঢ়াধিপতি গৌড় দখল করে অপরাপর সকল জনপদকে গৌড়ের নামে একত্রিত করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। একই চেষ্টা করেছিলেন পরবর্তি কালে পাল ও সেন বংশীয় রাজারা। কিন্ত তা সফল হয়নি। কারন এর প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে জয় হলো বঙ্গের, স্থানীয় পাঠান সুলতানদের আমলে। মুসলিম সুলতান শামসুদ্দীনিলিয়াস শাহ্‌ প্রথমবারের মত নিজেকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ হিসেবে ঘোষনা করে সকল জনপদকে বাংলা নামের অধীন একত্রিত করেন। তাঁর রাজধানী ছিল লক্ষণাবর্তী অর্থাৎ গৌড়ে। এরপর বিভিন্ন শাসনামলে এবং বিশেষ করে ইংরেজ শাসনামলে বাংলা অধীক দৃঢ়তা লাভ করে। আবুল ফজল আইন-ই-আকবরীতে লিখেছন বঙ্গ শব্দের সাথে ‘আল’ যুক্ত হয়ে বাঙ্গাল হয়েছে। ‘বং’ শব্দের অর্থ জলাশয় আর ‘আল’ শব্দের অর্থ ক্ষেতের আল বা ছোট বাঁধ। বেঙ্গল থেকে ফরাসী বাঙ্গালা,পর্তুগীজ বেঙ্গালা, ইংরেজী বেঙ্গল এবং আমাদের ভাষায় বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দের উৎপত্তি। সুতরাং আমাদের জাতিত্ববোধে এ অনুভূতি স্পষ্ট হওয়া একান্ত প্রয়োজন যে, আজ গোটা বাংলাদেশ জুড়ে যে জাতি বিরাজ করছে তা একদিনে হঠাৎ করে আত্মপ্রকাশ করেনি।  
বরং জাতি গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের আছে হাজার বছরের সংগ্রামী ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এই ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্রষ্টা যেমন একান্তই আমরা, তেমনি আমাদের আত্মপরিচয়ের ক্ষেত্রে এ এক অমূল্য সম্পদ। পাশাপাশি এই জাতিসত্তার অসাম্প্রদায়িক চরিত্রটিও সহজেই লক্ষনীয়।যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আগমনের ফলে এ অঞ্চলের মধ্যে যেমন ধর্মান্তর ঘটেছে তেমনি কালের ব্যবধানে ক্রমাগত বর্ধিত সংখ্যক সম্প্রদায়ের আপন স্বকিয়তা বজায় রেখেই সাম্প্রদায়িক সম্মিলনের একটি নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া এই দেশে প্রতিনিয়ত ক্রিয়াশীল রয়েছে। সে কারনেই বাঙ্গালী নানা সম্প্রদায়ের সংমিশ্রণ হলেও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে একটি অনন্য জাতি।
