# প্লট

- Author: [গোধূলি](https://sonelablog.com/author/krintonika/)
- Published: 2014-07-02T18:23:14+00:00
- Updated: 2019-01-22T17:54:19+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- Tags: ইতিহাস, জোহর, পুনর্জন্ম
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%9f/

---

ডিরেক্টর অপু তার অ্যাসিস্ট্যান্ট শাওনকে বলল, “আজ তোমাকে প্লট বলব। তোমার স্ক্রিপ্ট লেখা কমপ্লিট হলেই কাজ শুরু করব। কলকাতার শিবকুমার অনেকদিন ধরেই চাচ্ছিলেন আমার সাথে কাজ করতে। এবারের ফিল্মটা কলকাতার শিল্পীদের নিয়েই করব।”

“হুম, এটা ইন্দো-বাংলাদেশি ফিল্ম হবে?”

“হুম” মাথা নাড়ল অপু। বলল, “Rebirthএর উপর।”

“পুনর্জন্ম?”

“হুম, ঐখানকার লোকজন এসব মাল ভালো খায়।”

“বাণিজ্যিক ছবি?”

“হুম, কলকাতার producerএর সাথে যখন কাজ করছি, বাণিজ্যিক ফিল্মই করে দেখি আগে। কি বল?”

“কাহিনী একটা মাথায় ঘুরছে অনেকদিন ধরেই। সাজাতে পারিনি পুরোপুরি। পুনর্জন্ম নিয়ে স্টাডি করেছি বেশকিছুদিন। একটা মজার ব্যাপার কি জানো? পুনর্জন্মের উপর যতো ফিল্ম হয়েছে, সব ফিল্মগুলোতেই বিশাল ভুল রয়েছে। পুনর্জন্মের কনসেপ্ট অনুসারে, কর্মফল ভোগের জন্য বারবার জন্ম হয় মানুষের। মৃত্যু হল আত্মার দেহবদল। অর্থাৎ আত্মা এক দেহ ছেড়ে অন্য দেহ গ্রহণ করে। রাজা ভরত নামে এক রাজা একটি হরিণশিশুকে ভীষণ আদর করতেন, পরের জন্মে তিনি হরিণ হয়ে পৃথিবীতে আসেন। ফিল্মগুলোতে নতুন জন্মে দেহবদল অর্থাৎ চেহারাবদল দেখায় না।”

“জ্বি, স্যার। তাই তো… Om Shanti Om, Magadheera…”

“এখন গল্পের প্লট শোনো। গল্পে ২টা যুগ। একটা বর্তমান যুগ, আরেকটা হল ১৫শ’ শতাব্দী। সমান্তরালে ২টা যুগকে দেখাবো আমরা। ২০১৪এর অরণ্য একটা প্রাইভেট ফার্মের owner। সে প্রায়ই যুদ্ধের স্বপ্ন দেখে। যুদ্ধের স্বপ্নে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়, প্রায়ই সে দেখে অনেকটা মুঘলশাসকের মতো পোশাকপরা একসেনার সামনে হাঁটু মুড়ে পড়ে থাকে। আর সেই সৈনিক তরবারি উঁচু করে গলায় আঘাত করে, তখনি ঘুম ভেঙ্গে যায়। নয় বছর বয়স থেকে এই স্বপ্ন দেখছে সে। ইদানিং তার স্বপ্নে ক্রন্দনরতা এক রাজবধূকে দেখতে পায়, যে তাকে বারবার অনুরোধ করে না যাওয়ার জন্য। রাজবধূকে বীণা বাজাতেও দেখেছে সে। অরণ্য এক সাইকোলজিস্টের কাছে যায়। সাইকোলজিস্ট বলেন, তার বেশি বেশি মুভি দেখার ফল এটা। অরণ্যর বন্ধুদের ধারণা, অরণ্য জাতিস্মর।”

[!\[\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/07/10382141_804116442945432_8321683387971623343_n.jpg)](http://sonelablog.com/archives/17134/10382141_804116442945432_8321683387971623343_n)

“জাতিস্মর?”

“যারা আগের জন্মের কথা মনে করতে পারে, তারা জাতিস্মর।”

![](https://scontent-b-sin.xx.fbcdn.net/hphotos-xpa1/t1.0-9/10382141_804116442945432_8321683387971623343_n.jpg)

“অরণ্যর বন্ধু অরণ্যকে বেদেদের পল্লীতে নিয়ে যায়। জটাধারী এক জ্যোতিষী বাবা অরণ্যর হাত দেখে ও কথা শুনে তাকে ধ্যান করার পরামর্শ দেন। এতে হয়ত অরণ্যর আগের জন্মের কথা পুরোপুরি মনে পড়ে যাবে। আটমাস meditation করে অরণ্য হাল্কা হাল্কা আঁচ করতে শুরু করল। প্রায় এগার মাস পড়ে সে তার স্বপ্নগুলোর ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে সমর্থ হল। ১৫২৭সালের দিককার কথা, ও ছিল রাজপুত, নাম ছিল মহারানা সংগ্রাম সিংহ। তাঁর বড় ভাই জয়মল। জয়মল অম্বা এক অপরূপ সুন্দর নর্তকীর অনুরক্ত ছিলেন। জয়মল অম্বাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েও বিয়ে করছিলেন না। অম্বার পরিবার বিষপ্রয়োগে জয়মলকে মেরে ফেলল। তখন সিংহাসনে বসেন মহারানা সিংহ। ইতিহাসের বই ঘেঁটে অনেক তথ্য বের করতে সক্ষম হয় অরণ্য। মেডিটেশনের জন্য নতুন ভিশন দেখে স্বপ্নে। জয়মলের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে যায় মহারানা সিংহ। কিন্তু অম্বার সামনে গিয়ে হতবিহ্বল হয়ে যান মহারানা সিংহ। ধরণীর সব রূপ যেন অম্বায় এসে মিলিত হয়েছে। তরবারির বাট থেকে হাত খসে পড়ে। নিয়মিত যাওয়া আসা শুরু করেন রানা সিংহ। রানী কর্ণবতী জানতে পারার পর অনেক চেষ্টা করেন রানা সিংহকে আটকাতে, রানা সিংহের পা জড়িয়ে ধরেন, প্রার্থনা করেন, কাঁদেন। কর্ণবতীর কোন কথাতেই কর্ণপাত করলেন না রানা সিংহ। অম্বার রূপের মোহে মত্ত তিনি। ঐদিকে সম্রাট বাবরের নজর পড়ে চিতোর ও মেওয়াতে। টনক নড়তে দেরী হয় রানা সিংহের। যুদ্ধে যাওয়ার আগে শেষ বারের মত দেখা করতে যান অম্বার সাথে, কর্ণবতী আবারো বাধা দেন। তখন রানা সিংহ জানালেন যে, যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে তিনি অম্বাকে বিবাহ করবেন। অম্বার সাথে দেখা করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন, বেশি করেই মদ্যপান করেন ঐদিন। ভোর রাত্রে প্রাসাদে গিয়ে যুদ্ধের পোশাক পড়ে যুদ্ধক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে সৈন্য নিয়ে বের হলেন। রাজপ্রাসাদ থেকে কর্ণবতী দেখতে লাগলেন, প্রার্থনা করতে লাগলেন ঈশ্বরের কাছে। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে বুঝতে পারলেন, রানা সিংহের যুদ্ধ পরিকল্পনা সম্পর্কে জেনে গেছে শত্রুপক্ষ। মনে মনে বললেন, “কেন? অম্বা কেন? আমি তো তোমাকে জ্যাষ্ঠ ভ্রাতার মত প্রতারণা করতাম না।” নেশার ঘোরে থাকাকালীন সময়ে যুদ্ধের পরিকল্পনা বারবার জানতে চাইছিল অম্বা। কর্ণবতীর নিষ্পাপ চেহারাটা ভেসে উঠলো চোখের সামনে। ইতিহাস অনুসারে, যুদ্ধে মারা যান রানা সিংহ। রানা সিংহের মৃত্যু সংবাদ শুনে রানী কান্নায় ফেটে পড়েন। কিন্তু শিশু রাজপুত্রকে সামনে রেখে রাজ্য পরিচালনা করতে থাকেন। আবার আক্রান্ত হয় চিতোর, এবার আক্রমণ করেন গুজরাটের বাহাদুর শাহ্‌। রানী বাবরপুত্র হুমায়ুনকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে ‘রাখী’ পাঠান সাহায্যের আবেদন করে। কিন্তু হুমায়ুন দেরী করে ফেলেন। পরাজয় নিশ্চিত। রাজপ্রাসাদে শত্রুপক্ষ ঢুকে পড়বে। রাজপুত রমণীদের কাছে সম্ভ্রমহানি থেকে মৃত্যু শ্রেয়। রানা সিংহকে স্মরণ করে অন্তরপুরের সকল রমণীদের নিয়ে ‘জোহর’ করলেন, ঝাঁপ দিলেন আগুন। ৮ মার্চ, ১৫৩৫সাল, উপমহাদেশের ইতিহাসে, পৃথিবীর ইতিহাসে ২য় জোহর। অরণ্যর পুনর্জন্মের সবকথা মনে পড়ে গেল। কর্ণবতীর সাথে অন্যায় করেছে সে। এই জন্মে সে কর্ণবতীকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেবে সে। কিন্তু কর্ণবতীকে কিভাবে খুঁজে বের করবে ও? জন্মান্তরে দেহ বদল হয়। কিভাবে চিনবে ওর কর্ণবতীকে? রূপের মোহে অন্ধ রানা সিংহ ভালবাসার অনুভুতিকে অবজ্ঞা করেছিল। জ্যোতিষীর কাছে গেল অরণ্য। জ্যোতিষী বললেন, অপেক্ষা ছাড়া কিছুই করার নেই।

[!\[\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/07/jauhar-of-rani-padma1.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/07/jauhar-of-rani-padma1.jpg)

দু’বছর পর। অরণ্য একটা কাজে দূরে যাচ্ছিলো। রাস্তায় এক ভয়াবহ সুন্দরী মেয়ে লিফট চাইল। মেয়েটির কথা কোনমতেই ভুলতে পারছিল না। চেনা চেনা লাগছিল খুব। পুরাতন নায়িকাদের মত করে টেনে কাজল দেয়া চোখে। অরণ্যর মনে হল- এই মেয়েটি কি অম্বা? হয়ত এই জন্মেও অম্বার মত কেউ ওকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। সেই ‘কেউ’ই এই মেয়েটি। মেয়েটির নাম মন্ময়ী। কেন জানি অরণ্যর মনে হতে লাগলো, ওর মন জুড়ে মেয়েটি অবস্থান করছে। অরণ্য আবার রাজপুতদের ইতিহাস নিয়ে ঘাটতে লাগলো। অনেকগুলো বই কিনল, ঘাটতে ঘাটতেই ঘুমিয়ে পড়ল বইএর উপরে। রানী কর্ণবতীর পিছনে ছুটছে অরণ্য মরুভুমির উপর দিয়ে, চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলছে, ‘প্লিজ, থামো’। রানী দৌড়াচ্ছে না , হাঁটছে, আর অরণ্য দৌড়াচ্ছে, তাও ধরতে পারছে না। ভীষণ তেষ্টা পেয়েছে ওর, বালুর উপর উপর হয়ে বসে পড়ল। কর্ণবতী ঘুরে দাঁড়ালো, জলের ঘটি এগিয়ে ধরল। হাত দিয়ে জল খেতে খেতে তাকিয়ে দেখতে লাগলো কর্ণবতীকে। কর্ণবতীর চোখের দিকে তাকিয়ে ভীষণ অবাক হল, কিছু একটা খুবই পরিচিত লাগলো। অরণ্যর ঘুম ভেঙ্গে গেল। মন্ময়ীর কাজল দেয়ার ধরনটা একদম কর্ণবতীর মত। পুনর্জন্মের থিওরি অনুসারে, আগের জন্মের কিছু ছাপ নিয়ে আসে মানুষ। মন্ময়ী কি তাহলে কর্ণবতী? হয়ত অম্বার থেকে রূপসী হবার আকাঙ্ক্ষা জন্মছিল কর্ণবতীর, সেজন্যই হয়ত এতো সুন্দর মন্ময়ী। মন্ময়ীকে খুঁজে পেতে অসুবিধে হল না অরণ্যর। কিন্তু মন্ময়ী কি বিশ্বাস করবে? আজগুবি বলে উড়িয়ে দেবে না তো? মন্ময়ীর সাথে দেখা করল, বন্ধুত্ব করল। একদিন জানতে চাইল, মন্ময়ী পুনর্জন্মে বিশ্বাস করে কিনা। মন্ময়ী বলল যে সে করে। সে নাকি প্রায়ই স্বপ্ন দেখে, সে আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে। মন্ময়ীর স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে থাকে অরণ্য। মন্ময়ী বিকট শব্দে হেসে উঠে। বলে, “আমি যে সুন্দর সেটা জানি। আপনি যে আমার প্রেমে আমার প্রেমে পড়বেন সেটাও জানতাম প্রথম দিন থেকেই। কিন্তু এমন অবাস্তব গল্প ফাঁদবেন- ভাবতেই পারছি না। আপনি ফার্মের কাজ ছেড়ে রূপকথার গল্প লিখুন। অনেক টাকা কামাবেন, বিশ্বাস করুন, নিজের প্রতিভাকে এভাবে নষ্ট করবেন না।”

“আপনি যে জোহরের স্বপ্ন দেখেন- সেটা তাহলে কি?”

 

 

গল্পের বাকী অংশ পড়তে চলে আসুন বইমেলায়, সংগ্রহ করুন “অনুভূতি গেছে অভিসারে”।

---

Comments: 52 — https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%9f/#comments
