# প্লটঃ ৭১

- Author: [গোধূলি](https://sonelablog.com/author/krintonika/)
- Published: 2015-03-20T12:17:48+00:00
- Updated: 2015-03-20T20:34:36+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/), [মুক্তিযুদ্ধ](https://sonelablog.com/category/freedom-war/)
- Tags: একাত্তর, টাইম-ট্রেভেল, ধর্ষণ, বীরাঙ্গনা, মুক্তিযুদ্ধ
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%9f%e0%a6%83-%e0%a7%ad%e0%a7%a7/

---

[!\[\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/03/463745_574352142587793_1351182898_o.jpg)](http://sonelablog.com/archives/30252/463745_574352142587793_1351182898_o)

‘ “হ্যালো, হুম, আব্বা, আমি একমাস পরেই আসবো। একটা ভেকেশন আছে তখন। ওকে। খোদা হাফেজ” ফোনটা কেটেই পাশে তাকিয়ে দেখে ক্লার্ক বসে আছে। ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। আগে কখনো কথা হয় নি ক্লার্কের সাথে। খুবই অমিশুক ছেলে। তবে জিনিয়াস হিসেবে পরিচিত। মোটা কাচের চশমার পেছনে নীল চোখদুটো জলজল করছে। গায়ের রঙটা ফর্সা হলেও চেহারায় অস্ট্রেলিয়ান ভাবটা নেই। ঠোঁট পাতলা, কোঁকড়া চুল।

ক্লার্ক বলল, “আমি ভেবেছিলাম, তুমি আপসেট থাকবে”

শরিফা পুরো আকাশ থেকে পড়ল। বাংলায় কিভাবে কথা বলছে ক্লার্ক? টোনে বিদেশী টান থাকলেও এতো নিখুঁত বাংলা জানাটাও অস্বাভাবিক।

ক্লার্ক আবার বলল, “Hey! Are you listening to me?”

“Yes, I am. তুমি বাংলা জানো?”

ক্লার্ক হাসলো। বলল, “শুধু বাংলা না, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, রুশ, মান্দারিন, কোরিয়ান, হিন্দী, উর্দু…”

“ বাস, বাস, হয়েছে। এতো ভাষা কিভাবে জানো?”

“শিখেছি”

“কেন?”

“আমার রিসার্চের জন্য”

“হুম”

“সিরিয়াসলি?”

“হুম”

“রিসার্চের জন্য ভাষা শেখার কী দরকার? অনুবাদ তো পাওয়াই যায়”

“হুম, তা যায়। কিন্তু অনুবাদগুলোতে অনেকসময় পুরোপুরি ভাবটা প্রকাশ হয় না অরিজিনাল বইয়ের”

“হুম। কী যেন বলছিলে?”

“আমি ভেবেছিলাম, তুমি আপসেট থাকবে”

“কেন?”

“বাংলাদেশ হেরে গেছে, তাই…”

“তা তো একটু আপসেট অবশ্যই। কিন্তু এখনো তো পাকিস্তান আছে। অস্ট্রেলিয়ার সামনে ঘোর অন্ধকার”

“পাকিস্তান! আমি ভেবেছিলাম, ইউ গাইজ হেট পাকিস্তান”

“কেন?”

“এক বাংলাদেশী ফ্রেন্ডের কাছে শুনেছিলাম অ্যাবাউট 71”

“সেটা অতীত। অতীতকে আঁকড়ে ধরে কতদিন? আর 71এর গন্ডগোলে বাংলাদেশ কী পেয়েছে?”

“গন্ডগোল?”

“হুম। আর ইন্ডিয়াকে বন্ধু ভেবে কী হল? অল দোজ বর্ডার কিলিংস, টিপাইমুখ বাঁধ, etc. আমরা 71এর আগেই বরং ভালো ছিলাম”

“ওর কাছে বর্ডার কিলিঙের কথাও শুনেছিলাম। কিন্তু ও বলেছিল, ও পাকিস্তানকে ঘৃণা করে, কখনো পাকিস্তানকে সাপোর্ট করবেনা”

“আমি বুঝি না কেন খেলার সাথে রাজনীতিকে মেশানো হয়!”

“সে বলেছিল, সে নাকি ফ্রীডম-ফাইটারের সন্তান”

“আমার আব্বাও একজন মুক্তিযোদ্ধা। উনিও খেলায় পাকিস্তান সাপোর্ট করেন। পুরোনো ভুল বোঝাবুঝির জন্য ২টি মুসলিম দেশের মধ্যেকার সম্পর্ক খারাপ থাকতে পারে না, তাই না?”

“হয়ত। আমি তো জানি না ওসব। কিছু বলতে পারছি না”

“বাই দ্যা ওয়ে, তুমি কি আমাকে চেনো? তুমি আগে কখনো আমার সাথে কথা বলো নি”

“হুম, তুমি সরিফা”

“সরিফা না শরিফা”

“আমি ক্লার্ক”

“আমি জানি”

“তোমার রিসার্চের কি অবস্থা?”

“এই তো”

“এখনো অনেক বাকি”

“এক্সপেরিমেন্ট করছি”

“এক্সপেরিমেন্ট?”

“হুম”

“কী এক্সপেরিমেন্ট?”

“পরে কোন একদিন বলবো। স্যার চলে এসেছেন”

ক্লার্ক আবার প্রতিদিনকার মত একদম সামনের সারিতে গিয়ে বসলো। আগের মতই হাতঘড়ির পাশে প্রেস করল। আর লেকচার টুকতে লাগলো। সবার ধারণা হাতঘড়িতে রেকর্ডার আছে। লেকচার রেকর্ড করে ও। ক্লাস শেষে ক্লার্ক শরিফার কাছে এসে বলল, “তুমি কি আজকে ফ্রী আছো?”

শরিফা কিছুক্ষণ ভেবে বলল, “হুম, আছি”

“বিকালে কি আমরা দেখা করতে পারি? কফি খাবো একসাথে”

শরিফা মৃদু হেসে বলল, “ওকে”

“তাহলে দেখা হচ্ছে বিকালে। বাই”

“হুম। বাই”

 

ক্লার্ক চলে যেতেই জেসিকা এসে বলল, “What happened to him?”

“I don’t know.”

“I think, he has fallen for you.”

“You think, ‘genius Clark’ has fallen for me?”

“Ya”

“He never asked any girl for coffee.”

“How could you be so sure?”

“Because I once asked him out. He replied, ‘I don’t like going out.’ I thought, he was gay. Now I think, he isn’t gay.”

“Good news for you”বলেই মুচকি হাসি দিল শরিফা।

 

শরিফা গাঢ় লাল রঙের টাইটফিটিং লংড্রেস পড়ল। সাথে লাল রঙের স্কার্ফ মাথায় হাল্কা করে পেচালো। গাঢ় লাল রঙের লিপস্টিক লাগালো ঠোঁটে। ইচ্ছে করেই আধাঘন্টা দেরীতে গেল কফিশপটায়। গিয়ে দেখলো, ক্লার্ক একটা বই নিয়ে পড়ছে। Meir H. Krygerএর “Principles & Practice of Sleep Medicine”। শরিফা ক্লার্কের টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। ক্লার্ক মাথা তুলে বলল, “ইউ আর লেট”

“স্যরি”

“আমি আরো কিছু বলতে চাই”

“কী?”

“ইউ লুক অ্যামেজিং” শরিফা হাসল।

ক্লার্ক বলল, “এই কফিশপটায় আগে কখনো এসেছো?”

“না”

“এখানে মত ভ্যারাইটি আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই”

“তাই?”

“হুম। ম্যেনুটা দ্যাখো। কী অর্ডার দেবো তোমার জন্য?”

“তুমি নিজের জন্য কোনটা দিচ্ছো?”

“তোমাকে দেখে রেড ওয়াইন খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু এটা কফিশপ। আই উইল হ্যাভ হোয়াইট কফি”

“হোয়াইট কফি? এটা কি ফ্ল্যাট হোয়াইট কফি?”

“উহু। এটা মালয়েশিয়ার ফেমাস কফি। আমার খুব ফেভারিট”

“আমার জন্য লাট্টে”

“ওকে”

ক্লার্ক অর্ডার করল।

শরিফা বলল, “তোমার রিসার্চ কতদূর?”

“থেমে আছে”

“কেন?”

“ইন্সপিরেশন পাচ্ছি না”

“ইন্সপিরেশন?”

“হুম”

“কী রকম ইন্সপিরেশন?”

“তোমার মত”

“স্যরি”

“তোমার কি ধারণা, ইন্সপিরেশন শুধু কবিদের লাগে?”

“না”

“Every person needs a muse in his life.”

“হয়ত”

ক্লার্ক শরিফার ঠোঁটের দিকে গাঢ় দৃষ্টি দিয়ে বলল, “তুমি কি এটা ইচ্ছে করে করছো?”

“কী?”

“তোমার ঠোঁটের উপর মিল্ক ফোম লেগে আছে। ডোন্ট ডু দিজ। আমাকে পক্ষে নিজেকে সংযত রাখা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে”

শরিফা টিস্যু দিয়ে মুখ মুছলো। শরিফা বলল, “আমি খুবই আনকমফোর্টেবল ফিল করছি”

“স্যরি। আসলে I’m very much attracted to you.”

“আমরা কি অন্য কোন ব্যাপারে কথা বলতে পারি না?”

“হুম, পারি”

“তোমার রিসার্চ সম্পর্কে বলো”

“অনেক কমপ্লেক্স”

“এক্সপ্লেইন করে বলো”

“কমপক্ষে ৪-৫ঘন্টা লাগবে এক্সপ্লেইন করতে। Why don’t you come to my place?”

“এখন?”

“যদি তুমি আনকমফোর্টেবল ফিল না করো”

“ওকে”

ক্যাবে উঠলো ক্লার্ক ও শরিফা।

ক্লার্ক বলতে লাগলো, “তুমি টাইম-ট্রেভেলের উপর মুভি দেখেছো?”

“হুম। প্রচুর দেখেছি”

“অনেকটা সেরকম”

“আর ইউ কিডিং?”

“নো”

“তুমি টাইম-মেশিন আবিস্কারের চেষ্টা করছো?”

“Did I mention “time-machine”?”

“টাইম-ট্রেভেল বলেছো। টাইম-মেশিন ছাড়া কিভাবে পসিবল?”

“তুমি ‘সমাধি’ সম্পর্কে শুনেছো?”

“কবর?”

“‘সমাধি’ ইয়োগা”

“না”

“সমাধি হল super-conscious state of mind. Meditationএর সর্বোচ্চ পর্যায়, যখন আত্মা দেহ থেকে বেরিয়ে যায় এবং আবার দেহে ফিরে আসে”

“হোয়াট?”

“ইয়াপ”

“ইউ বিলিভ ইন দোজ থিংস?”

“না। আমি এক্সপেরিমেন্ট করছি”

“কী রকম এক্সপেরিমেন্ট?”

এমন সময় ক্যাব এসে থামলো ক্লার্কের বাসার সামনে। ক্লার্ক বলল, “পৌঁছে গেছি। দিজ ইজ মাই প্লেস”

এপার্টমেন্ট ঢুকেই শরিফা দেখলো, সব কিছুই একদম অগোছালো। জিনিয়াসরা এমনই হয় বোধহয়। শরিফা এমনটাই এক্সপেক্ট করেছিল। ক্লার্কের পিছু পিছু ক্লার্কের বেডরুমে  গেল শরিফা। ক্লার্ক বেডরুমের দরজা লাগিয়ে দিল।

শরিফা বলল, “এটা তো তোমার ল্যাব নয়, তাই না?”

“হুম” বলে শরিফার দিকে এগিয়ে গেল ক্লার্ক।

শরিফা দুষ্টহাসি দিয়ে বলল, “তোমার ল্যাব দেখাবে না?”

“I’m not in the mood. ল্যাব পরেও দেখানো যাবে” বলেই শরিফাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিল। শরিফা বলল, “কী করছো তুমি?”

“What I had been fantasizing from the first time I met you.”

 

রাত ৪টার দিকে শরিফার ঘুম ভাঙল। সে বিছানায় ক্লার্ককে দেখলো না। ফ্লোরে তাকিয়ে দেখলো, শুধু শরিফার নিজের জামা-কাপড় পড়ে আছে।

বিছানার চাদরটা গায়ে কোনরকম জড়িয়ে ক্লার্ককে খুঁজতে লাগলো শরিফা। ক্লার্কের এপার্টমেন্টটা বেশ বড়। খুঁজতে খুঁজতে ক্লার্কের ল্যাবে ঢুকল শরিফা। দেখল, ক্লার্ক ল্যাবের কম্পিউটারের সামনে বসে আছে। শরিফাকে দেখে মৃদু হাসল ক্লার্ক। শরিফা বলল, “তোমার ল্যাব তো অনেক বড়”

ক্লার্ক বলল, “আরো বড় করার ইচ্ছে আছে। থ্যাঙ্ক ইউ”

“থ্যাঙ্কস কেন?”

“আমাকে ইন্সপিরেশন দেয়ার জন্য”

“একরাতেই ইন্সপিরেশন পেয়ে গেলে?”

“আশা করছি, সামনের রাতগুলোতেও পাবো”

“তুমি কিছু একটা পরে এসো। নইলে আমার আরো ইন্সপিরেশন নিতে ইচ্ছে করবে”

শরিফা হেসে বলল, “আমি তো বাঁধা দিচ্ছি না”। তারপর মিনিটবাদেই লাল ড্রেসটা পরে এল। এসে বলল, “তোমার এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে বলছিলে”

“কোথায় ছিলাম?”

“সমাধি হল super-conscious state-”

“হুম। হিন্দু যোগীরা ধ্যানের সর্বোচ্চ লেভেলকেই সমাধি বলে থাকে, যখন আত্মা দেহ থেকে বের হয়ে যায়। আমি অনেকগুলো সিডেটিভ, হিপ্নোটিক, মাসল রিল্যাক্সান্ট, অ্যানেস্থেটিক ড্রাগ ও ডিফরেন্ট হারবাল থেকে একটা ড্রাগ কম্পোজিশন প্রিপেয়ার করেছি, যার মাধ্যমে আমরা deep sleepকে induce করি, যা অনেকটা সমাধির মত। তোমার শরীর প্রেজেন্টেই থাকবে, body reflex অর্থাৎ knee jerk, ankle jerk ইত্যাদি থাকবে কিন্তু কোন রেসপন্স থাকবে না, একটা coma-like state. স্লিপের ২টা ধরণ আছে। একটা হল REM স্লিপ অর্থাৎ Rapid Eye movement Sleep। REM স্লিপের স্বপ্নই মানুষ মনে রাখতে পারে। আরেকটা হল Non-REM বা Slow wave Sleep, যেটাকে ড্রীমলেস স্লিপও বলা হয় কারণ এই স্লিপের স্বপ্নগুলো মানুষের মনে থাকে না। নরমাল মানুষের ব্রেনের ইলেক্ট্রোএনকেফালোগ্রাম(Electroencephalogram)এ ঘুমানোর আগে আলফা, বিটা এবং স্লো ওয়েভ ঘুমের সময় ঠিটা, ডেল্টা ব্রেন ওয়েভ পাওয়া যায়। আর REM স্লিপের ব্রেন ওয়েভ ইরেগুলার ও হাই ফ্রিকোয়েন্সির হয়ে থাকে। সেজন্য REM স্লিপকে Dysynchronized স্লিপ বলা হয়ে থাকে”

“প্লিজ, স্টপ”

“কী হল?”

“এমনভাবে বলো, যাতে কিছু বুঝতে পারি”

“ওকে। আই অ্যাম ট্রাইং” বলে একটা ফাইল থেকে কিছু কাগজ বের করল। বলল, “এটা হল নরমাল একজন মানুষের ঘুমের সময়কার ইলেক্ট্রোএনকেফালোগ্রাম। আর এটা হল যখন বিভিন্ন সিডেটিভের সাথে ঐ ড্রাগটি দিয়ে নরমাল কাউকে ঘুম পাড়ানো হয়, তখনকার ইলেক্ট্রোএনকেফালোগ্রাম”

শরিফা হাতে নিয়ে দেখলো ঠিকই, কিন্তু কিছুই বুঝলো না। ক্লার্ক বলতে লাগলো, “ব্রেন ওয়েভগুলোতে অ্যাবনরমালিটি হতে পারে Epilepsy বা parkinsonism type disorderএ। কিন্তু এইরকম ধরণ কোন ডিসিজ বা প্যাথোলজীর সাথে যায় না। ঐ ড্রাগটি দেয়ার ফলে যে স্লিপ আমরা ইনডিউস করি, সেটা REM এবং Slow wave স্লিপের মাঝামাঝি কিছু একটা এবং সেটাতে ব্রেন ওয়েভ ইরেগুলার থাকা সত্ত্বেও একটা বিশেষ ওয়েভ আমরা পাই। সেই ওয়েভের সাথে কোন ওয়েভের ক্রাইটেরিয়া মেলে না”

“তুমি কি থামবে?”

“আমি আগেই বলেছিলাম, পাঁচ মিনিটে বোঝার বিষয় নয়”

“সামারি বলো”

“আমরা অন্যান্য সিডেটিভের সাথে ঐ ড্রাগটি যখন দেই, তখন পসিবলি আত্মা দেহ থেকে বের হয়ে যায়”

“কী?”

“ড্রাগটিতে কোন প্রকার Hallucinogen নেই”

“তুমি ট্রাই করেছো?”

“হুম”

“কার উপর?”

“আমার উপর। আমার অ্যাসিস্টেন্টের উপর”

“কোন গিনিপিগের উপর না করে মানুষের উপর করেছো কেন?”

“গিনিপিগের ভাষা আমার জানা নেই। ওর কথা বুঝবো না তাই”

“ওকে। ট্রায়ালের রেজাল্ট কী?”

“আমরা ২জনেই টাইম-ট্রেভেল করেছি। আমি আজ যে হোয়াইট কফি খেয়েছি, ওটা প্রথম কোথায় খেয়েছি জানো?”

“কোথায়?”

“মালয়েশিয়ায়। কিন্তু আমি কখনো মালয়েশিয়ায় যাই নি। তুমি চাইলে আমার পাসপোর্ট দেখতে পারো। হোয়াইট কফির পুরো নাম হল ‘ইপোহ হোয়াইট কফি’। তুমি ওটাকে এখানকার ‘ফ্ল্যাট হোয়াইট কফি’র সাথে মিলিয়ে ফেলেছিলে”

“আচ্ছা”

“কিন্তু আমরা ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছিলাম না। আমরা যেটা ভাবছি সেটা সত্য হলে, এটা হবে যুগান্তকারী আবিষ্কার। যেসব সত্য কখনো আলোর মুখ দেখেনি, সেসব সত্য আলোর মুখ দেখবে। অনেক বড় বড় রহস্য ও প্রশ্নের উত্তর মিলবে”

“Soul-travel! আত্মা এভাবে অতীতে যেতে পারে। ভবিষ্যতেও কি যেতে পারে?”

“না”

“শরীর যদি বর্তমানে থাকে, তাহলে আত্মা অতীতে গিয়ে কি ইনভিজিবল থাকে?”

“উহু, আমরা যতটুকু বুঝেছি, আত্মা অতীতে গিয়ে ঐ মুহূর্তের কোন অচেতন বা ঘুমন্ত শরীরকে বেছে নেয়”

“অতীতে গিয়ে আত্মা কি কিছু বদলাতে পারে?”

“না। শুধু উইটনেস করে, even mind of that body will be controlled by the unconscious body। আত্মা শরীরকে চুজ করলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না”

“টু কমপ্লেক্স”

“জানি। তুমি ট্রাই করবে?”

“মিউজ থেকে গিনিপিগ বানাচ্ছো?”

“যুগান্তকারী আবিষ্কারকে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হেলায় হারাতে চাও?”

“বাহ। এমনভাবে বাংলা বলছো যেন তুমি বাংলাদেশী”

“বাংলাদেশেও গিয়েছি আমি 71এ। যা দেখেছি, তা যেকোনো দুঃস্বপ্ন থেকেও ভয়াবহ”

“কি যে বলো!”

“আমি নিজে চোখে না দেখলে হয়ত বিশ্বাস করতাম না। মানুষ কতোটা হিংস্র হতে পারে। এতো রক্ত আমি কখনো দেখিনি”

“আমি সিওর। ভারতীয়দের প্রোপ্যাগান্ডা থেকে তোমার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। 71এ মোটেও ৩০লাখ হত্যা ও ২লাখ রেপ হয় নি। সব ভুয়া। ১লাখের মত মানুষ মরেছে, ২হাজারের মত রেপ। যেকোনো যুদ্ধেই অমন হয়”

“রবিনও দেখেছে”

“Shared Psychotic Disorder”

“হয়ত। Why don’t you let your soul visit 71?”

“মানে?”

“যদি আমাদের রিসার্চ ভুল হয়, আমি আর রবিন সাইক্রিয়াট্রিক কাউন্সিলিং নেয়া শুরু করবো। আর যদি রিসার্চ ঠিক হয়, 71এর আসল কালপ্রিটরা ধরা পড়বে। যাদের উপর ফলস অ্যাকুউজেশন আছে, তা মিথ্যা প্রমাণ করাও ব্যাপার না”

“ওকে। আমার আত্মা দেহ দখল করলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বললে- তাই না?”

“হুম”

“কথাও কি অচেতন আত্মা দ্বারা  নিয়ন্ত্রিত?”

“হুম”

“Ok. Your muse is ready to be your guinea pig.”

ক্লার্ক শরিফাকে ল্যাবের ওটি-টেবিলের উপর শুতে বলল। রবিনকে ফোন করে আসতে বলল। শরিফা বলল, “তুমি ওকে কেন আসতে বললে?”

“সে আমার রিসার্চের সহযোগী”

শরিফা দেখল, ক্লার্ক অনেকগুলো ইনফিউশন সেট, স্যালাইন ব্যাগ বের করছে। শরিফার ভাইটাল সাইনগুলো দেখার জন্য টিভি মনিটর সেট করল, ইলেক্ট্রোএনকেফালোগ্রাফ মেশিন সেট করল। কিছুক্ষনের মধ্যেই রবিন চলে এল। শরিফার হাতে cannula ওপেন করে ইনফিউশন সেট যুক্ত করল রবিন। শরিফার ঘুম আসতে লাগলো। শরিফা বলল, “আমি অতীতে কোথায় যাবো?”

ক্লার্ক বলল, “বাংলাদেশে”

“বাংলাদেশে কোথায়?”

রবিন বলল, “মোহাম্মদপুর ক্যাম্পে যেতে পারো”

ক্লার্ক বলল, “উহু। তুমি যাবে যেখানে তোমার পরিবারের ঠিকানা”

“কখন ক’টায়?”

“৪ এপ্রিল ১৯৭১, সন্ধ্যা ৬টা”

শরিফা ঘুমিয়ে পড়ল।

 

শরিফা চোখ মেলল, সে শুয়ে আছে। বাসাটা চেনা চেনা লাগছে। রুমগুলো একইরকম। ফার্নিচারগুলো জায়গামত নেই। অনেক ফার্নিচার কখনো দেখেনি সে। বাথরুমের দিকে গেল মুখ ধুতে। আয়নায় তাকিয়ে দেখে সিঁদুর পরা ১৬-১৭বছরের সবুজ শাড়ী পরা তরুণীকে। শেষমেশ একটা হিন্দুমেয়ের শরীরে ওর আত্মা ঢুকেছে। বাথরুম থেকে বের হতেই সমবয়সী সালোয়ার-কামিজ পরা এক তরুণীকে দেখল। সে তাকে ‘দুর্গা’ বলে সম্বোধন করল। শরিফার আত্মা যে শরীরটির মধ্যে আছে তার নাম দুর্গা। দুর্গা মেয়েটিকে বলল, “মরিয়ম, কী হয়েছে?”

“আমি নামায পড়ব। কোথায় পড়ব?”

“নামাজের সময় হয়েছে?”

“হুম, হয়েছে। খুব চিন্তা হচ্ছে, জানো। আমি আর মা তো চলে এসেছি। কিন্তু বাবা ও ভাইজানের কোন খবর এখনো পাই নি। নামায পড়ার পর দোয়া-দরুদ পড়ব”

“আচ্ছা, চলো। আমি দেখিয়ে দিচ্ছি”

মরিয়ম ও মরিয়মের মা নামায পড়তে লাগলো। দুর্গা পাশের রুমে গিয়ে রেডিও ছেড়ে খবর শুনতে লাগলো। শরিফা দেখল, ধুতিপরা একজন এগিয়ে আসছে। খুব সম্ভবত দুর্গার স্বামী। সে বলল, “একটু চা করে আনো। বড্ড ক্লান্ত লাগছে”

“অফিস নেই। এতো ক্লান্তি কিসের?” বলেই দুর্গা রান্নাঘরের দিকে গেল। হঠাৎ দরজায় দড়াম দড়াম শব্দ। বাইরে থেকে শোনা গেল, বাঙালি কেউ একজন বলছে, “এটা হিঁদুবাড়ী”।

দরজা ভাঙ্গার শব্দ পেল দুর্গা রান্নাঘরে থেকেই। দুর্গা ভয়ে চুলার পাশে বসে পড়ল। বৈঠকঘরেই নামায পড়ছিল মরিয়ম ও মরিয়মের মা। দুর্গার স্বামী বৈঠকঘরে আসতেই গুলি খেয়ে লুটিয়ে পড়ল। দুর্গা রান্নাঘর থেকে দেখতে পাচ্ছিল, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো। পাকি ২জন সৈন্য মরিয়ম ও মরিয়মের মায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করতে লাগলো। মরিয়ম ও মরিয়মের মা চিৎকার করতে লাগলো। পাকি সৈন্য দুজনের পিছে লুঙ্গিপরা একজন দাঁড়াল, পেছন থেকে বাঙালি মনে হল। লুঙ্গিপরা লোকটা বলল, “এই বাসায় একটা হিঁদু মাইয়া থাকার কথা”বলেই পাশের রুমে গেল। দুর্গার হৃদস্পন্দন শরিফা টের পাচ্ছে। শরিফারও ভীষণ ভয় লাগতে শুরু করেছে। একটু পর এই ঘরটাতেও আসবে। কী করবে ও? মিনিটবাদেই লুঙ্গিপরা লোকটা রান্নাঘরে ঢুকল। শরিফা বিস্ফোরিত চোখে তাকাল। লোকটিকে সে চেনে, খুব ভালভাবে চেনে। শরিফার আব্বা। ভয়ংকর বীভৎস  হাসি হাসছে লোকটা। শরিফা কথা বলার চেষ্টা করছে “আব্বা, না”, কিন্তু দুর্গা কোন কথা বলছে না। শরিফা দেখল, লোকটা তার সামনে এসে বসেছে। বলছে, “খানসাহেবেরা তো ব্যস্ত। আমি এসেছি। হিঁদু মেয়েদের কখনো ছুঁই নি। আজ তোকে ছোঁব, মাগি” বলেই দুর্গাকে মাটিতে ফেলে দিল। শরিফা কিছুই করতে পারছে না। কতক্ষণ দুর্গার শরীরে থাকবে ও? ওর শরীর ঘিনঘিন করছে। শরিফা শুনতে পেল, দুর্গা একা চিৎকার করছে না, মরিয়ম ও মরিয়মের মাও চিৎকার করছে। শরিফা দেখল, দুর্গার ব্লাউজ, পেটিকোট খুলে ফেলল আব্বা।  এরপর নিজের লুঙ্গিটা খুলে ঝাঁপিয়ে পড়ল দুর্গার উপর। একটা সময় দুর্গার বাঁধা দেয়ার শক্তি শেষ হয়ে গেল। সারা শরীরের ব্যাথা অনুভব করছে শরিফা। শরিফার শুধু দেখার কথা। ও ব্যথা কেন অনুভব করছে? শরীরের প্রত্যকটা জায়গা কামড়িয়েছে লোকটা। লুঙ্গি পরে খানসেনাদের ডাক দিল। দুজন খানসেনা একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

ক্লার্ক বলছিল, Soul-travel কয়েকঘন্টার। শরিফার মনে হল, কয়েক যুগ ধরে ও আটকে আছে অতীতে। নিজের আব্বাকে এভাবে দেখবে ভাবে নি ও। শরিফার মনে হচ্ছে, ওর কোন শক্তি নেই। ও কোন দুঃস্বপ্ন দেখছে, এগুলো সত্যি নয়।

ঘন্টাখানেক পরে দুর্গা ও মরিয়মকে ট্রাকে তোলা হল। মরিয়মের মা জায়নামাযের উপরই মারা গেছেন। দুর্গা ও মরিয়ম শরীরে কোন রকমে কাপড় জড়িয়ে রেখেছে। ট্রাকে আরো দশ-বারো জন মেয়েকে দেখল। তাদের গায়েও নামমাত্র কাপড়ের টুকরো, কামড়ের জন্য রক্ত ঝরছে অনেকের। রাত আটটার মধ্যেই ট্রাক ভর্তি হয়ে গেল। ট্রাক থামল। ট্রাক থেকে নামানোর পর যাদের শরীরে যতটুকু কাপড় ছিল, খুলে ফেলে উলঙ্গ করা হল। শরিফার প্রচণ্ড লজ্জা লাগছিল, মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিল।

শরিফা দেখল, কিছু মেয়েকে হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হল, বাকিদের ব্যারাকের ভেতর। যাদের জায়গা হল না ব্যারাকের ভেতর, তাদের বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রাখা হল। দুর্গা ও মরিয়মের জায়গা হল ব্যারাকের ভেতরে। শরিফা দেখল, পাকসেনারা কুকুরের মত জিভ চাটতে চাটতে ব্যারাকের মধ্যে প্রবেশ করছে, উন্মত্ত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে। মেয়েদেরকে টেনে নিয়ে লাথি মারতে মারতে মাটিতে ফেলেই ধর্ষণ করতে লেগে গেল তারা, পাগলের মত ধর্ষণ করছে। ধারালো দাঁত দিয়ে স্তন, গাল, ঘাড়, পেট, পিঠ, কোমর, নিতম্বের অংশ কামড়াতে কামড়াতে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে। এক সৈনিক দুর্গার পাশে থেকে মরিয়মকে টান দিয়ে মাটিতে ফেলে দিল। শরিফা টের পেল, দুর্গার সব রোম খাড়া হয়ে গেছে। সেনা মরিয়মের কাছে যেতেই লাথি মারল মরিয়ম। পাকসেনা ক্ষেপে গিয়ে ওর চুল ধরে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। শরিফা টের পেল, দুর্গা স্মৃতিচারণ করছে।

দুর্গা মরিয়মকে বলতো, “মরিয়ম, তোমার বর তোমার চুল দেখেই পাগল হয়ে যাবে”

শরিফার মনে হতে লাগলো, ও নিজেই দুর্গা। শরিফা দেখল, সেনাটি বন্দুকের বেয়োনেট ঢুকিয়ে দিয়েছে মরিয়মের যোনিপথে। মরিয়ম চিৎকার করছে। শুধু মরিয়ম না ধর্ষিত হতে থাকা সব মেয়েই চিৎকার করছে। হঠাত দুর্গাকে একজন টান মারল, মাটিতে ফেলে দিল। আরো ২জন সেনা এগিয়ে এল। তিনজন মিলে দুর্গাকে ধর্ষণ করতে লাগলো, রক্তাক্ত করতে লাগলো। শরিফা ব্যাথায় চিৎকার করছে, কিন্তু দুর্গার চিৎকার শুনতে পেল না। ভোর রাতের দিকে দুর্গাকে ছেড়ে দিল তারা।

শরিফা ভেবেছিল, মরিয়ম বুঝি মারা গেছে। দূর থেকে দেখতে পেল মরিয়মকে, হেডকোয়ার্টারের উপরতলার বারান্দার মোটা লোহা তারের উপর চুলের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। শরিফা জানে না, বুঝতে পারছে না, দুর্গা কতক্ষণ ধরে কেঁদেছে। দুর্গার চোখের পানি এখনো আছে? শরিফা দুর্গার শরীরের সব ব্যাথা অনুভব করতে পারছে, কিন্তু চোখের পানিকে বুঝতে পারছে না। শরিফা আল্লাহকে ডাকছে, সে এই দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি চায়। ভোরের দিকে আরো গাড়ি এল। আবার শুরু হল। সব দেখছে শরিফা। কিছুক্ষণ আগে দেখলো একটা বাচ্চা মেয়েকে, যার বয়স ৮-৯এর বেশি হবে না। বারংবার ধর্ষণ শেষে দুইপা দুইদিকে থেকে টেনে নাভি পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলা হল।

শরিফা দেখতে লাগলো মরিয়মকে। হেডকোয়ার্টার ঢোকার সময় ও বের হবার সময় সৈন্যরা উন্মত্তভাবে  আঘাত করতো মরিয়মকে, মরিয়মের সাথে ঝুলন্ত মেয়েদেরকে। ঝুলন্ত অবস্থাতেই মরিয়মকে পায়খানা করে দিতে দেখল শরিফা। টের পেল দুর্গা ঝুঁকে বমি করছে। আরেকটা মেয়ে, ১৩-১৪ বছরের হবে, দুর্গার কাছে এসে দুর্গাকে ধরে বসলো। শরিফা তাকিয়ে দেখলো, মনে হল, এই মেয়েটকে কোথাও দেখেছে সে। শ্যামলা মেয়েটার ঠোঁট পাতলা, কোকড়া চুল। মেয়েটা দুর্গাকে ধরে রাখল, বলল, “মেয়েটা তোমার সই?”

দুর্গা মাথা নাড়ল। মেয়েটা বলল, “ওদিকে তাকিয়ো না”। মেয়েটা দুর্গাকে বসিয়ে কোথায় যেন গেল। শরিফা দেখল, তার আব্বাকে মেয়েটা ডেকে নিয়ে এসেছে। মেয়েটা বলছে, “পানি লাগবে। পানি। পানি লাগবে”

শরিফার আব্বা বলছে, “কার লাগবে?”

মেয়েটা কিছু বলার আগেই শরিফা দেখল, শরিফার আব্বা লুঙ্গি খুলে দুর্গার মুখের উপর প্রসাব করে দিল। বলতে লাগলো, “লে, মাগি, পানি খা। প্রাণ ভরে খা”। প্রসাবের স্পর্শ গন্ধ সব টের পাচ্ছে শরিফা। গা ঘিনঘিন করতে লাগলো। ও কিছুই করতে পারবে না। দেখতে পারবে, অনুভব করতে পারবে। টাইম-ট্রেভেল আর কতোক্ষণ?

শরিফা টের পেল, দুর্গা মাটিতে শুয়ে পড়েছে। শুয়ে শুয়েই শরিফা দেখল, মরিয়মের ডান স্তনে ছুরি চালিয়ে কেটে নিয়ে গেল এক সৈনিক, দরদর করে রক্ত পড়ছে। আরেক সৈনিক মরিয়মের যোনিপথে লাঠি ঢুকিয়ে দিয়েছে। শরিফা চোখ বন্ধ করতে চাইছে, কিন্তু দুর্গা চোখ বন্ধ করছে না। সেই মেয়েটা এগিয়ে আসলো, দুর্গার মাথা কোলে তুলে নিয়ে বসে রইল। শরিফা টের পেল, দুর্গা বিড়বিড় করে অস্ফুট স্বরে কথা বলছে মেয়েটার সাথে। মেয়েটা দুর্গার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। শরিফা দেখলো, সূর্য মাথার উপরে। কিছু সৈন্য এসে মেয়েটাকে টেনে নিয়ে গেল, অন্যসব মেয়েদের সাথে কড়ারোদে দাঁড় করিয়ে রাখল। দুর্গা পড়ে রইল, কতক্ষণ শরিফা জানে না। পাঁচজন সেনা এসে দাঁড়াল দুর্গার সামনে। পাঁচজন মিলে আবার শুরু করল। দুর্গার ঠোঁটের দুদিকের মাংস টেনে ছিঁড়ে ফেলল। লোহার রড দিয়ে হাতের আঙুল থেতলে দিল। শরিফা চিৎকার করছে, কিন্তু দুর্গার মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। শরিফা টের পাচ্ছে, দুর্গার স্তনের উপর জলন্ত সিগারেট চেপে চেপে ধরছে। কিছুক্ষণ পর হাত ও পায়ের নখ দিয়ে মোটা সূচ ঢুকানো হচ্ছে। শরিফা সহ্যশক্তিও নেই, টের পেল, দুর্গা লাথি মারার চেষ্টা করছে, মেরেছেও ২টো। লাথি খেয়ে সৈন্যগুলো দুর্গাকে ফেলে রেখে যাচ্ছে। শরিফা ভাবল, শেষ বুঝি। কিছুক্ষণ পর পাঁচজন ফিরে এল গরম সিদ্ধ ডিম নিয়ে… শরিফা টের পাচ্ছে, দুর্গার যোনিপথে সিদ্ধ ডিম ঢোকাচ্ছে তারা। শরিফা চিৎকার করছে, কিন্তু দুর্গার মুখে শব্দ নেই। দুর্গার কোন নড়াচড়া নেই। শরিফা দেখলো, ঘন্টাখানেক পর দুর্গাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এই পাকি পুরুষদের নিয়ে একসময় কত ফ্যান্টাসি ছিল শরিফার… একটা জাতির সবাই এতোটা বর্বর কিভাবে হয়? শরিফা টের পেল, দুর্গা শুন্যে। হঠাত ধুপ করে পড়ল একটা বড় গর্তে। পচা গন্ধ টের পাচ্ছে শরিফা। শরিফার নিচে নগ্ন আরো অনেক মেয়ের শরীর। দুর্গার হাতের কাছে শরিফা ভাঙ্গা কাচের চুড়ি, চুলের স্পর্শ পেল। শরিফা চোখ বন্ধ করতে চাইছে, কিন্তু ওর নিয়ন্ত্রণে নেই দুর্গার শরীর। দেখল, আরো অনেকগুলো মেয়ের নগ্ন শরীর দুর্গার শরীরের উপর পড়ছে। সবার শরীর রক্তাক্ত, ছিন্নভিন্ন, এখানে ওখানে রক্তজমাট বেঁধে আছে। আচ্ছা, মেয়েগুলো কি বেঁচে আছে? শরিফা টের পাচ্ছে, দুর্গা মারা যাচ্ছে ধীরে ধীরে…

ক্লার্কের ওটির টেবিলে ওঠে বসলো শরিফা। মাথা ঝুকেই বমি করতে লাগলো।

ক্লার্ক ও রবিন তাকিয়ে আছে ওর দিকে। শরিফা ক্লার্কের দিকে তাকিয়ে বলল, “I need to go to hospital”

শরিফা thorough-check up করালো নিজের। কিছুই ধরা পড়ল না। নিজেই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকলো। ক্লার্ক ওর কেবিনে এসে বলল, “তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ। শুধু তোমার আত্মা গিয়েছিল অতীতে”

শরিফা কোন উত্তর না দিয়ে শুয়ে পড়ল।

সপ্তাহখানেকের মধ্যে শরিফা বাংলাদেশে ফিরল। শরিফা দেখলো, এয়ারপোর্টে আব্বার লোকেরা দাঁড়িয়ে আছে। শরিফার আব্বা ব্যস্ত মানুষ, ধর্মকর্ম নিয়ে থাকেন, অনেক শিষ্য তার। শরিফা বাসায় পৌঁছল রাত ১০টার দিকে। এই সেই বাসা। বাসাটার মাঝখানে তুলসী গাছের বেদী ছিল, সেটার জায়গায় স্নানঘর করা হয়েছিল। শরিফা বৈঠকঘরে গেল, কিছু সেগুন কাঠের আসবাব এখনো নষ্ট হয় নি। রান্নাঘরে গেল, উনুনটা আগের জায়গাতেই আছে। আম্মা অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও শরিফা মুখে তুলে নি কিছু। না খেয়েই শুয়ে পড়ল। রাত ১২টা। শরিফা জানে, বাসার সবাই শুয়ে পড়েছে। শরিফা রান্নাঘরের দিকে গেল। রান্নাঘরে আলো জ্বলছে। শরিফা দেখল, তার ষাটোর্ধ আব্বা ১৩বছরের কাজের মেয়েটাকে… এই বাসার প্রথমদিনের অভ্যাসটা আজো যায় নি আব্বার। শরিফা বটি তুলে নিল, কোপাতে লাগলো, বলতে লাগলো, “আমি দুর্গা, আমি দুর্গা, আমি দুর্গা”। রান্নাঘরটা লাল হয়ে গেল, আর শরিফার পরনে সবুজ শাড়ী, শাড়ীটাও লাল হয়ে গেল। ঢাকার ড্রেনগুলো, রাস্তাগুলোও এমনই লাল হয়েছিল ৭১-এ… ’

[!\[\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/03/980561_578839905472350_1193356911_o.jpg)](http://sonelablog.com/archives/30252/980561_578839905472350_1193356911_o)

শাওন বলল, “গল্প নিশ্চয় এতটুকু নয়?”

অপু বলল, “কিভাব বুঝলে?”

“টুইস্ট ছাড়া ডিরেক্টর অপুর মুভি হয় কখনো? আগের প্লটেও ছিল”

“তাহলে টুইস্টটা আন্দাজ করো”

“সম্ভবত এপিলগে থাকবে, সেই ১৩-১৪ বছরের শ্যামলা মেয়েটি বেঁচে ছিল। প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছিল। অস্ট্রেলিয়ান Dr. Geoffrey Davisএর অধীনে যে ৪লাখ ৪০হাজার মেয়ের অ্যাবরশন হয়েছিল তাদের মধ্যে সেও ছিল। যে ২লাখ ধর্ষিতার ভাগ্যে ছিল ঐ গর্তগুলোতে মৃত্যু, তাদের থেকেও খুব বেশি ভালো ভাগ্য হয় নি বাকি ৪লাখ ৪০হাজারের। মেয়েটিকে পরিবার গ্রহণ করেনি। পচাত্তরের পর যখন রাজাকারেরা ফিরে আসতে থাকে, সেরকম কোন এক সময়ে মেয়েটি দেশ ছেড়েছিল লজ্জা, কষ্ট, হতাশা ও অভিমানে। অস্ট্রেলিয়াতে এসে এক ফার্মাসিস্টকে বিয়ে করে। আর সেই ঘরের ছেলে হল ক্লার্ক”

অপু টেবিলে তুড়ি মেরে বলবে, “ভেরি গুড। এপিলগে দুর্গা ও সেই মেয়েটির ডায়লগ দেখানো হবে। মহিলা ক্লার্ককে তার স্মৃতির কথা বলবেন, দুর্গার কথা বলবেন”

“So it was preplanned by Clark.”

“হুম”

“আরেকটা ব্যাপার”

“বুঝেছি”

“কী?”

“আরেকটা রহস্য রেখে দেবো”

“শরিফার শরীরে কী শরিফাই ফিরেছিল? না দুর্গা?”

“এপিলগে ক্লার্ক বলবে, আত্মা অতীত ভ্রমণের সময় যে শরীরে আশ্রয় নিয়েছে, সেই শরীরের মৃত্যুতে কি হয়-সে জানে না। তার কোন ভিজিটেই শরীরের মৃত্যু ঘটে নি। তাই শরিফার শরীর কে- সে জানে না”

“হুম। শুরুটা অনেক বেশি Erotic। মুভিটা অনেক বেশি Vulgar হয়ে যাচ্ছে না?”

“Erotic দেখেই লোকজন দেখবে। ডকুমেন্টারি ফিল্ম ক’জন দেখে বলো? আমি আরো অনেক কিছুই ঠিক করেছি”

“কী?”

“আমরা ট্রেইলারে শুধু ক্লার্ক ও শরিফার সেন্সুয়াল সিনগুলোই দেখাবো”

“হুম। এতে দর্শক বাড়বে। প্রযোজকেরও মন ভরবে”

“হুম। কিন্তু মুভিতে রাখবো না। যারা masturbate করতে ঢুকবে, বমি করতে করতে বের হবে”

“আই থিঙ্ক, রাখলেও প্রব্লেম হবে না। ক্ষরণ দুদিক থেকেই হোক। নরমাল ইন্টারকোর্স ও রেপের ডিফরেন্সটাও ফুটে উঠবে, তাই না?”

“দেখা যাক”

“সেন্সরবোর্ড ছাড়পত্র দেবে কি?”

“সেন্সরবোর্ড কোনকালে কোন ভালো মুভিকে একবারে ছাড়পত্র দিয়েছে?”

 

[ বিঃ দ্রঃ বীরাঙ্গনাদের অত্যাচারের যে বর্ণনা দিয়েছি তা মাত্র কয়েকজন বীরাঙ্গনার স্বীকারোক্তি হুবুহু তুলে দিয়েছি। গল্পটি লেখার জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে খেটেছি। সঞ্জয় ভাইয়া, রুবা আপুর লেখা থেকে কিছু তথ্য পেলেও আরো অনেক তথ্যের দরকার ছিল। পাচ্ছিলাম না। অবশেষে পেলাম। ফাতেমা জোহরা আপুর কাছে পেলাম। তিনজনকেই ধন্যবাদ।]

অপু ও শাওনের গল্প :

[প্লট](http://sonelablog.com/archives/17134)

অপুর ব্যক্তিগত গল্প :

[অহো-কথা](http://sonelablog.com/archives/2926)

[খণ্ডিতা](http://sonelablog.com/archives/2972)

[অভিসারিণী ](http://sonelablog.com/archives/21679)

শাওনের ব্যক্তিগত গল্প :

[অন্যপূর্বা](http://sonelablog.com/archives/3011)

---

Comments: 42 — https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%9f%e0%a6%83-%e0%a7%ad%e0%a7%a7/#comments
