# পিতামাতার ভরণপোষণ বিধিমালা খসড়া: পুত্রবধূও বাধ্য সেবা দিতে! কিন্তু বাধ্যবাধকতা কেনো?

- Author: [মারজানা ফেরদৌস রুবা](https://sonelablog.com/author/marjanaruba2979/)
- Published: 2019-05-04T04:32:31+00:00
- Updated: 2019-05-06T11:30:53+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%be/

---

“**পিতামাতার ভরণপোষণ বিধিমালা খসড়া: পুত্রবধূও বাধ্য সেবা দিতে।”**

সম্প্রতি এই শিরোনামে পত্রিকান্তরে জানা গিয়েছে যে পিতা-মাতার ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

পিতা-মাতা! সন্তান জন্মদানের মাধ্যমেই মানব-মানবী পৃথিবীতে এই শ্রেষ্ট কৃতিত্বটি অর্জন করেন। ঠিক এই কারণেই ‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ’ বা ‘পিতার চেয়ে চাচা বড়’ হতে পারেন না। অর্থাৎ সন্তানের সাথে পিতামাতার যে অবিচ্ছেদ্য নাড়ীর সম্পর্কটি তৈরি হয়, তা জন্ম প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই। এ সম্পর্কটি পৃথিবীর শ্রেষ্ট বন্ধন।

জন্ম সম্পর্কটা যেমন রক্তের সাথে, তেমনি নাড়ীর সাথে সম্পর্কযুক্ত। নাড়ীর টান, অনুভূতির টান, আত্মার টান! নাড়ীর টানকে কখনোই অস্বীকার করা যায় না। অন্যসব সম্পর্ককে আইনি কাঠামোতে বেঁধে দিলেও নাড়ীর সম্পর্ককে বেঁধে দেয়া যায় না। দিলেও তা তেমন কার্যকর হয় না। সেটা পজেটিভভাবে হোক বা নেগেটিভভাবে।

আইনি কাঠামো দেয়া হয় কাগজের সম্পর্ককে ঘিরে। দেয়া হয় এজন্য যে, গড়ে উঠা আত্মার বন্ধন কেটে গেলে যেনো পরিবারপ্রথাটা টিকে থাকে কাগজের জোরে। সামাজিক স্বার্থেই তা করা হয়, নতুবা সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তো। সভ্যতা মুখ থুবড়ে পড়তো।

কিন্তু নাড়ীর সম্পর্কে অনুভূতির টান সৃষ্টি হতে যে ন্যয়বোধ দরকার, বেড়ে উঠাকালীন সময়েই তা ক্রমান্বয়ে মানবশিশুর সুপ্তমনে সৃষ্টি হতে থাকে পরিবার থেকে, শিক্ষাঙ্গন থেকে, পরিবেশ থেকে। সে হিসেবে মা-বাবা, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্র প্রত্যকেরই সেখানে ভূমিকা থাকে। সেসব জায়গায় দৃষ্টিপাত না করে আইন করে কী নাড়ীর সম্পর্ককে বাধ্যবাধকতায় ফেলা যায়? তাও আবার গিট্টু লাগিয়ে?

প্রথমেই কতোগুলো চিরসত্য বাক্য উচ্চারণ করেছি ‘নাড়ীর সম্পর্ক’, ‘জন্ম দায়’, ‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ’। আইনি খসড়ায় গিট্টু হিসেবে একটি লাইন জুড়ে দেয়া হয়েছে, “**পুত্রবধূও বাধ্য সেবা দিতে**।” কেনো? পুত্রবধূ বাধ্য কেনো? সন্তান পয়দা করেছেন মা-বাবা। রোজগার করে তাদের নিজ উদরে জন্ম নেয়া সন্তান আর আইনি কাঠামোয় ফেলা হচ্ছে পুত্রবধূকে? পুত্রবধূর সাথে তাদের সম্পর্কটি তৈরি হয় পুত্রের সূত্র ধরে। পুত্র আইনি কাঠামোতে বৈবাহিক সম্পর্কের ভেতর দিয়ে যে নারীটিকে অধিকার দিয়ে এ বাড়িতে নিয়ে আসেন, সে সূত্র ধরেই শ্বশুর শ্বাশুড়ীর সাথে পুত্রবধূর সম্পর্কটি স্থাপিত হয়। অর্থাৎ ছেলের কাগজের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। এখানে অনুভূতি নেই, থাকার কথা না। আছে কেবল দায়বদ্ধতা। অনুভূতি যদি তৈরি হয়, সে ধীরেধীরে একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের যেমন হয়, তেমনই। তবে এই অনুভূতি কিন্তু মানবীয় অনুভূতি, নাড়ীর টান নয়। নাড়ীর টান প্রাকৃতিক। অন্যদিকে দায়বদ্ধতা? সে কাগজীয়, স্বামীর সূত্র ধরে। জন্মদায় নয়। তবে কেনো এখানে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করার চিন্তা করা হচ্ছে?

আইন করে কী এমনটা হয়েছে এদেশে সত্যিকারভাবে? হয়েছে কিছু? যেই লাউ সেই কদুই তো থাকে। এদেশে বেশিরভাগ আইনই তো, ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নমুনার। বরং এতে বিরুপ পরিস্থিতিতে পড়বে ওই বৃদ্ধ মা-বাবাই। আর তা না হলে কে পড়তে পারে? বেকার পুত্রবধূ। কেনো পড়বে? সে কি রুজিরোজগার করে? করে না। তাইলে সে পড়বে কেনো?  
স্বামী যদি তার নিজ রোজগারে পিতামাতার দেখাশুনা করেন, সেখানে বেকার বউও তো স্বামীর রোজগারেই দিনাতিপাত করছেন। যৌক্তিক ভিত্তিতে উভয়েই নির্ভরশীল। সেখানে এমনিতেই তো একটা ভারসাম্য বজায় থাকার কথা। তবে যদি স্বামী প্রবরটি সেরকম দক্ষ ম্যানেজার হন। আর যদি ম্যানেজারিয়াল পাওয়ারের দুর্বলতায় তিনি নিজেই কোনদিকে বেশি হেলে পড়েন, তো এর দায় আরেকজনের কাঁধে বর্তাবে কেনো? আর বর্তালে কী হবে? অথর্ব ম্যামেজমেন্ট এর কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। মুখোমুখি কারা হবে? স্বাভাবিকভাবেই বউ-শ্বাশুড়ী দ্বন্দ্ব (ননদ সম্পর্কটিও)।  
গিট্টুর জটিল প্যাঁচে এবার বউ-শ্বাশুড়ী দ্বন্ধটি কোর্ট-কাচারিতেও যাবে! লোকে কী বলবে?  
বলবে, এক নারী আরেক নারীকে সহ্য করতে পারে না।  
বলবে, এই পৃথিবীতে সমস্ত ঝগড়াফ্যাসাদের কারণ নারী (ওই, কিছু হুজুররা বলেন না? অনেকটা তেমনই)।  
গো-বেচারা স্বামী তখন ভালো মানুষ!  
মোদ্দাকথা, এই দ্বন্দ্বে পরিবারপ্রথায় বিশৃঙ্খলা আরও ঝেঁকে বসবে। দায়বদ্ধতার বাধ্যবাধকতা জারি করতে গিয়ে ভাঙনের মাত্রা না আবার সংখ্যাতীতভাবে বেড়ে যায়, সেদিকটায়ও একটু দৃষ্টি রাখুন।

*বাকীটা পরের পর্বে।

---

Comments: 5 — https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%be/#comments
