# পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন

Author: মাছুম হাবিবী
Published: 2021-05-02
Category: একান্ত অনুভূতি
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a6%ad%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d/

**আজ ২মে ভারতের** বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন ভারতে হলেও পাশাপাশি রাষ্ট্রের মানুষ হিসাবে কিছু কথা বলতেই হয়। অনেকে ভাবতে পারেন অন্যদেশের নির্বাচন নিয়ে আমার মাথা ব্যথার কারণ কি? বিশ্বাস করুন আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমি জাস্ট এমনি বকবক করতে আসছি।

**‘ভারতের শাসনব্যবস্থা** যুক্তরাষ্ট্রীয়। কেন্দ্রে এবং রাজ্যগুলিতে আলাদা আলাদা আইনসভা রয়েছে। **কেন্দ্রের আইনসভার নাম সংসদ।** ভারতীয় সংসদ **দুই কক্ষবিশিষ্ট লোকসভা ও রাজ্যসভা।** লোকসভায় রয়েছে **৫৪৩টি** আসন। সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে দেশের জনগণ এই **৫৪৩টি** আসনের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। প্রতি **পাঁচ বছর** অন্তর নির্বাচন হয়। রাজ্যসভার সদস্যসংখ্যা **২৪৫।** এঁদের মধ্যে **২৩৩ জনকে** নির্বাচিত করেন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইনসভার সদস্যরা। রাজ্যসভার সদস্যদের **মেয়াদ ছ’ বছর।** প্রতি **দু’ বছর** অন্তর এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর নেন। রাজ্যসভার বাকি **১২ জন** সদস্যকে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মনোনয়ন করা হয়। কোনো কোনো রাজ্যের আইনসভা **এক কক্ষবিশিষ্ট** এবং আইন সভার নাম **বিধানসভা’।** বর্তমানে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতিক দলগুলোর মধ্যে উল্লিখিত দলগুলো হল **‘তৃণমূল কংগ্রেস,** **বিজিপি ও বামজোট** ইত্যাদি। বর্তমানে এসব দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলমাত্র দুটি **তৃণমূল ও বিজিপি।** তৃণমূলের প্রধান হলেন ‘বর্তমানে পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী **মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।** এবং বিজিপি’র প্রধান হলেন বর্তমান সরকার **নরেন্দ্র মোদি।**

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল থেকে সব মিলিয়ে **১৪০** জন প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছে। এদের মধ্যে **৫০জন** মহিলা বাকি সব অন্যান্য পেশাজীবী মানুষ। অপরদিকে বিজিপিও একই ভাবে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দিয়েছে। বলতে গেলে **২০২১** সালের বিধানসভা নির্বাচনে **তৃণমূল কংগ্রেসকে** গদি থেকে সরানোর জন্য মোদির বিজিপি উঠে পরে লেগেছে। সকল নাটকীয়তার শেষে আজ **২মে ২০২১** এ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে। এই নির্বাচনকে ঘিরে এখন পর্যন্ত অনেক কর্মি প্রাণও হারিয়েছেন। যাইহোক, এবার মেইন কথায় আসি!!

**আমি ব্যক্তিগত** ভাবে চাই পশ্চিমবঙ্গে মমতার দল তৃণমূল ক্ষমতায় আসুক। বর্তমান সরকার মোদির দল **২০১০ সালে** ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। **হিন্দু-মুসলমানদের** মধ্যে অনেক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ একদল মুসলিমদের মধ্যে অনেকে **বিজিপির ব্যানারে** মিছিলে করে। অনেক আবার **তৃণমূল কংগ্রেসের** পক্ষে মিছিল করে। বলতে গেলে সেখানকার মুসলিমদের মধ্যে **দুটি পার্ট** তৈরী হয়ে গেছে। একদল বলে আমরা দিদি চাই! আরেকদল বলে আমরা দাদা চাই। এই দিদি আর দাদার খেলায় পুরো পশ্চিমবঙ্গ আজ উত্তাল। আজ **অবধি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নিউজ পোর্টালসহ** বড় বড় পত্রিকাগুলোর নিউজে যতটুকু ধারণ তৈরী হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আন্দাজ করতে পারি **‘ভারতের প্রায় অধিকাংশ হিন্দু মমতাকে সহ্য করতে পারেনা।** তারা কোনো ভাবেই চায়না এই নির্বাচনে মমতার দল নতুন করে ক্ষমতায় আসুক। তার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি কারণ হল। **মমতা বন্দ্যােপাধ্যায় হিন্দুদের থেকে সেখানকার মুসলিমদের একটু বেশি সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন।**

হিন্দুদের অভিযোগ **মমতা ক্ষমতায় গেলে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের থেকে মুসলিমদের দাপট**  **বেশি থাকবে।** তাই তারা চায় পশ্চিমবঙ্গে মমতা নয় বরং বিজিপি ক্ষমতায় আসুক। আমরা যতই **হিন্দু-মুসলিম** ভাই ভাই করিনা কেন। **ভারতে হিন্দুরা কখনই মুসলিমদের আপন করে নিতে পারেনি।** এজন্মে পারবে কি না জানা নেই। ভারতের **একদল কটুরপন্ত্রী হিন্দুরা** চায় মুসলিম সংখ্যাগোষ্ঠীরা সব সময় নিচে থাকুক। তারা যাতে পশ্চিমবঙ্গে বুক ফুঁলিয়ে কথা বলতে না পারে। তাই তারা জোড় করে মোদির দল **বিজিপিকে ক্ষমতায় বসাতে চায়।** অপরদিকে নরেদ্র **মোদি যে মুসলিম বিদ্বেষী** তা হয়তো সবাই জানেন। তাই পশ্চিমবঙ্গের **হিন্দুদের পছন্দের দল হল বিজিপি।** আর অধিকাংশ **মুসলিমদের পছন্দের দল তৃণমূল কংগ্রেস!!**

**আবারো বলছি,** আমি একদমই চাইনা মোদির দল বিজিপি ক্ষমতায় আসুক। কারণ বিজিপি গোটা ভারতে যে তাণ্ডব শুরু করেছে তা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে যেন না আসে। **২০১৯ সালে NRC** করতে গিয়ে প্রায় অর্ধেক মুসলিমদের ভারত থেকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা করেছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজিপি। কিন্তু সেই সময় শুধু **একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’ই** মাইক হাতে নিয়ে বুক উঁচিয়ে বলছিলো ‘ভারতের একটা মুসলমানও কোথাও যাবেনা। তারা এদেশের নাগরিক। **NRC মানিনা। যদি NRC করতে হয় তাহলে আমার লাশের উপর দিয়ে করতে হবে।** অন্ততপক্ষে পশ্চিমবঙ্গে **NRC করতে** দিবনা। প্রয়োজন হলে দিল্লির সব মুসলমান কলকাতায় চলে আসুক। **সেদিনই তার** চোখে সুন্দর একটি রাজ্য গঠনের স্বপ্ন দেখতে পেয়েছিলাম।

**পরিশেষে** একটা কথাই বলবো। **একটা দেশের সরকার কিংবা মুখ্যমন্ত্রী** ‘কেউ সঠিক ভাবে কাজ করতে পারেনা। সঠিক ভাবে দেশ বা রাজ্য পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। আর এটা প্রতিনিয়ত হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান ভাইদের কাছে একটাই অনুরোধ। বুঝে শুনে এবং ভাবনা চিন্তা করে এগিয়ে যাবেন। **যেখানে মুসলিমদের জয় শ্রীরাম বলে হত্যা করা হয়।** সে সকল দলে নিজেকে বিক্রি না করে। **জয় বাংলা শ্লোগানে এক হয়ে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করুন।** আমরা চাই ভারতের মুসলমান ভাইয়েরা ভালো থাকুক। আপনারা সেটাই করবেন যেটাতে আপনাদের ভালো হয়।

অতঃপর, সুষ্ট সুন্দর একটি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আশায় আছি। **মমতা দিদির জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।** দেখার অপেক্ষায় আছি এতদিনের খেলাখেলিতে কার দল বিজয়ী হয়।।

তথ্যসূত্রঃ Google
