# পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি শপিংব্যাগ!

- Author: [মারজানা ফেরদৌস রুবা](https://sonelablog.com/author/marjanaruba2979/)
- Published: 2018-10-03T15:26:10+00:00
- Updated: 2018-10-03T15:42:32+00:00
- Category: [এদেশ](https://sonelablog.com/category/this_country/), [খ্যাতনামা ব্যক্তি](https://sonelablog.com/category/%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf/), [পরিবেশ](https://sonelablog.com/category/misc/environment/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ac-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a7%88%e0%a6%b0%e0%a6%bf/

---

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2018/10/FB_IMG_1538578630182.jpg)

নভেম্বর ২০০৯, ‘প্রথম আলো’তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন-  
“**পেঁপের পর রাবারের জিন নকশা উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম উন্মোচিত হোক আমাদের পাটের জিন নকশা”**  
তাতে চোখ পড়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাকসুদুল আলমকে তিনি দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে দায়িত্ব দেন পাটের জীবন-নকশা উন্মোচনের।

বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তা পেয়ে বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম একদল তরুণ বিজ্ঞানী নিয়ে তোষা পাটের জিন নক্সা উন্মোচন করতে নেমে পড়েন।  
৪২ জনের একদল চৌকশ তরুণ বিজ্ঞানী, যাদের মূল নেতৃত্বে ছিলেন মাকসুদুল আলম, রাতদিন পরিশ্রম করে তিন বছর মেয়াদের প্রস্তাবিত সে গবেষণার ফল প্রায় এক বছরের মাথায়ই বের করে নিয়ে আসেন। ২০১০ সালে বাংলাদেশের হয়ে তোষা পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করে দেশে-বিদেশে সাড়া ফেলে দেন।  
২০১২ সালে উন্মচিত হয় পাটের জন্য ক্ষতিকর একধরণের ছত্রাকের জিননকশা। আর পরেরবছর, ২০১৩ সালে উন্মোচিত হয় সাদা পাটের জিননকশা।

মাকসুদুল আলমের জন্য মাসে ১৬ লাখ টাকা পারিশ্রমিক ধরা হয়েছিল। তিন বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় পৌনে ছয় কোটির টাকা। কিন্তু দেশের কাজে সে পারিশ্রমিক তিনি গ্রহণ করেননি।

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/03/IMG_20170309_225251-300x176.jpg)

যাহোক, ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ। বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমকে পাশে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই ঘোষণা বিশ্বের চেখে এক বিস্ময়।  
একই সময়ে পাটের জীবন রহস্য নিয়ে কাজ করছিল পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও। তাদের টেক্কা দিয়ে মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এ সাফল্য অর্জন করেছিলেন (যদিও বদনাম আছে, হাসিনা সরকার ভারতস্বার্থকে বিবেচনায় রেখেই কাজ করেন)।

২০১৩ সালে পাটের জীবন রহস্য উন্মোচিত হলেও বাংলাদেশ পাটের তিনটি জিনম কোড বরাদ্দ পায় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর মাধ্যমে অর্জিত হয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

যেকোন জীবের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কার্যক্রমই নিয়ন্ত্রিত হয় তার জিনোম বা কিছু ক্রোমোজোম বা অনেক অনেক অনেক জিনের দ্বারা। জিনগুলি তৈরি DNA দ্বারা। তাই কোনো জীবের এই জিনোম এর পারস্পরিক বিন্যাসটা আবিষ্কার করা মানেই সেই জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিনগুলির অবস্থান ও ফাংশন সম্বন্ধে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া।

পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের ফলে জিনতত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে পাটের হারানো সোনালি ঐহিত্য ফিরিয়ে আনা-ই নয়, বাংলাদেশ ছিনিয়ে আনতে চায় বিশ্বমানের আরও একটি সুনাম। সরকারের লক্ষ্য রয়েছে ক্রিকেটের মতো করে পাটকেও বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।  
পাটকে শীঘ্রই এক ফসলি থেকে তিন ফসলিতে রূপান্তরের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। অতিশীঘ্রই দেশে শীতকালীন, গ্রীষ্মকালীন ও বর্ষাকালীন পাটের আবাদ শুরু হবে। এমনকি জীবনচক্র আবিষ্কারের ফলে পাটগাছ বৈরী পরিবেশেও টিকে থাকতে পারবে ।

বর্তমানে ১৭টি পণ্যে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এই বাধ্যবাধকতার কারণে বছরে ১২০ কোটি পিস পাটের বস্তার প্রয়োজন পড়বে।  
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ তৈরি করেছে পলিথিনের ন্যায় পাটের তৈরি শপিংব্যাগ। পাট দিয়ে তৈরি এ পলিথিন পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

দেশ জাতির প্রতি কমিটেড নেতৃত্ব একটা জাতিকে অনেকদূর নিতে পারে সেটা আমরা গত কয়েক বছরে খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছি, যদিও প্রশাসনের রন্দ্রেরন্দ্রে লুকিয়ে থাকা স্বাধীনতা বিরোধীরা একের পর এক কালো ছায়া ফেলে সবকিছু নস্যাৎ করে দেবার ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে।  
তারপরও সত্য এই যে, চালকের আসনে বসা মানুষটি যদি হয় কমিটেড তো, এবড়োখেবড়ো, খানাখন্দ পেড়িয়ে অবশেষে গাড়ী সঠিক পথেই ফিরবে।  
জয় বাংলা…..

★ বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের হাত ধরেই পাট ‘Golden Fibre of Bangladesh’ নামের হারানো সোনালি ঐহিত্য ফিরে পেতে যাচ্ছে। যদিও মাকসুদুল আলম এখন আর আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শেষ করছি।

---

Comments: 3 — https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ac-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a7%88%e0%a6%b0%e0%a6%bf/#comments
