# পথিক

- Author: [ছাইরাছ হেলাল](https://sonelablog.com/author/sairashelal/)
- Published: 2014-04-05T08:02:42+00:00
- Updated: 2014-04-06T09:02:24+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%95/

---

 

উৎসর্গ: প্রহেলিকাকে , যার সাথে খুবই ক্ষণস্থায়ী অন্তর্জালিয় অথচ আবেগময় হার্দ্রিক উষ্ণতার অনুভবে প্রাণবন্ত ও অজানা গভীর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ।

আপনাদের একটি গল্পের গল্প বলি অকপট কপটতায় , শোনা গল্প । যার কাছে শুনেছি সে আবার বেশ কাছাকাছি গল্পের ঘটনাটির । আমি অবশ্য হেসে ফেলেছি যতটা না প্রকাশ্যে মনে মনে তার থেকে অনেক গুন বেশি । স্রেফ পচা গপ্পো , অবশ্য মুখ ফসকে বলেও ফেলেছি নরম-সরম করে । পোড়া মুখের দুর্নাম ঘোচানোর চেষ্টা নেইনি। তাছাড়া আপনারাও আমার সাথে একমত হবেন দ্বিধাহীন ভাবেই এটি আগেই ভেবে রেখেছি । যদিও গল্পের গপ্পোটি অসৃষ্টিশীল প্রতিভার নিভু নিভু স্ফুরণের প্রতীক হিসাবে অনন্য ।

হালকা থেকে ভারী তাগাদা নিয়ত ‘ সেই কুতুকুতু গল্পের কী অবস্থা ?’ আমি বলি । প্রথমে বলতে চায় না , না বলে কী আর জো আছে ,গন্ধ যখন বিলিয়েছ রূপ মাধুরী মিশিয়ে তখন মনে ছিল না ? অবশ্য পড়ে সে ও বলেছিল গল্পটি গপ্পো গপ্পো তার কাছেও মনে হয়েছে কিন্তু এমন করে বলেছিল যে এটি ভৌতিক আধিভৌতিক মনে হচ্ছিল , তাই হাসিটি টেনেটুনে আটকে রেখে ইনিয়ে বিনিয়ে সে যে ভাবে শুনেছে তাই ই বলল ।  
‘পর পর কয়েকদিন প্রায় একই ঘটনা , গভীর রাতে মিহি স্বরে কে জেন ডাকে , ঘুম থেকে উঠতে বলে । অমূল্য সাধের ঘুম বললেই তো আর উঠা যায় না , উঠা হয় না । কী আর করা ঘুম তো ভেঙ্গে যায় , আধো ঘুমের ভাব ধরে মটকা মেরে পড়ে থেকে বাকী রাতটুকু কাবার করা । যতই লড়কে লেঙ্গে হই না কেন ভয় তো থাকেই , লাইট জ্বালিয়ে মিটমিটে চোখে আবার কখনও চোখ রগড়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে কূলকিনারা করার চেষ্টা মশ্‌ক করি । বিধি বাম কিছুতেই কিছু হয় না , শেষে আদি অকৃত্রিম মিহি সুরে সুরে-বেসুরে কন্না জড়িত কণ্ঠে বক্তব্য পেশ ।’  
এ পর্যন্ত শুনে বিরক্তি চরমে , শুধু উদগীরণের অপেক্ষা মাত্র । সে ও বুঝে ফেলেছে , আমাকে বলল – হির হির করে কুলা কানটি তারও টেনে দিতে ইচ্ছে করছিল , তবুও শোনা চালিয়ে যাবার ইচ্ছেটাই জয়যুক্ত হয়েছে ।  
‘বক্তব্য হল এই সাধের ঘুম থেকে উঠে (যদিও কাল ঘুম না) একটি বই পড়তে হবে , বইটির নাম ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস ‘ লেখক – আব্দুল্লাহ ফারুক , প্রকাশ কাল ১৯৮৩ ।’

আপনারা সদয় হয়ে অমূল্য সময় অপচয়ের দায় মাথায় নেয়া থেকে বিরত থাকতে এখনই চোখ-কান বন্ধ ( পড়তে আজকাল কান ও লাগে দেখছি ) করে অন্য লেখায় সুইচ করতেই পারেন , আর সেটাই প্রাণময় নিষ্ঠাবান ব্যাপক হৃদয়ের বুদ্ধিমান পাঠকের বুদ্ধিদীপ্ত কাজ । আমি কিন্তু আপনাদের পক্ষেই থাকছি ।

কিন্তু যে লোকটি তার শোনা গল্প যার কাছ থেকে শুনেছে বা শুনবে বলে কথা দিয়েছে সে তো আর তা না শুনে পারবেনা , আর সে যদি তা শোনে আমাকেও তা না শুনিয়ে ছাড়বে কেন ? কাজেই মনোযোগের ভুয়োমি করে হালকা পোক্‌রা দাঁত কেলিয়ে শুনতে থাকি , দেখিনা কী হয় ভাব নিয়ে ।

‘ঠিক আছে , ভয়ে ভয়ে বইটি নিলাম নির্ঘুম যন্ত্রণার অস্থির টানাপোড়ন নিয়ে (ঘাড় মটকে যায় কিনা সে ভাবনায় গায়ে শির-শিরে ভাব লুকিয়ে), পুরাই অর্থনীতি , আরে বাওয়া আমি এর কী জানি ! আমি আবার অর্থনীতিবিদ হলাম কখন ? আগের জন্মের খবর এখনও পাইনি তবে পরের জন্মে অর্থনীতিবিদ হওয়ার রাজকপালের চিহ্ন এখনও ফুটে ওঠেনি । বিরাট হা করা মাছিহীন মুখ নিয়ে পট পট ভট ভট গট গট করে পড়তে শুরু করলাম ।’

আমি শেষ-মেশ বলেই ফেললাম ‘ ভাইও , ও ভাই , আমার ঘুম পাচ্ছে , আর যে পারছি না ‘, মুখ কালো করে জানাল এই তো শেষ তিষ্ঠ ক্ষণকাল । আপনার কেউ যে এই গল্প না শুনে বা একটুকুও উঁকিঝুঁকি না দিয়ে কী ভালোটাই না করেছেন , তাই দেখে আমারই হিংসে অঙ্গ যায় জ্বলিয়া গান করতে বা গাইতে ইচ্ছে করছে ।

‘কট কট করে পড়া চলছে চলছে , হঠাৎ পোশাকআশাক ঝেড়ে ফেলে দিয়ে জন্মদিনের পোশাকে চিৎকার , ‘পাইছি পাইছি’ ।’ কি পাইছে কেন পাইছে কতগুলা পাইছে তাহা কিছুই কয় না , দেখায়ও না , শুধু বলে ‘পাইছি পাইছি , আমি উহারে পাইছি’ ।

আমি মানস চোখে এ দুই হনুমানশাখামৃগদ্বয়ের (হনুমান ও শাখামৃগের মিশ্রণে তৈরি সংকর প্রজাতি) মধ্যে চলতে থাকা মাইরের হাই ডেফিনিশন চলমান চিত্র দেখতে পাচ্ছি ।হা হা গপ্পের কী ছিরি ।  
অবশেষে উহারা পাইয়াছে এবং কী তাহারা পাইয়াছে তাহা জানিতে পারিয়া আপনাদেরও জানাইতেছি ব্যাঘ্র চিত্তের  
কোমল পরশে ।

*”ঘুমেরা ঘুমিয়েছে সেই-ই কখন , একটুও এপাশ ওপাশ না করে , দীর্ঘ ক্লান্তির ছায়া মেখে ;*  
*অন্ধকারের তাঁবু ফেলে গাঢ় ঘন রাত্রিতে,গভীর ঘুমের স্মৃতি মন্থনে বা ঘুমের গভীর স্মৃতি ছুঁয়ে ।*  
*রাত্রিরা চলছে বুনে যন্ত্রণার মিহি মায়াজাল মৃদঙ্গ বাজিয়ে ,পাশে থেকে ঘুম হয়েই জেগে আছি ,*  
*জেগে থাকি অনন্ত কাল ,চোখের ছায়ায় চোখের তারায় নীল জ্যোৎস্নায় ;*  
*আলতো করে সকালের এক মুঠো পাটভাঙা সোনা রোদ ওঠেনা হেসে ফিক করে ,*  
*দেয় না আদর কোলে তুলে ;সে-সে অনেক কাল ।”*

শেষে:  
মর্মান্তিক লাল চক্ষু আবেদন…… অনিচ্ছার ইচ্ছেয় হলেও চুপিসারে নিঃস্বর স্তব্ধতার দেয়াল ঘেঁষে  
উৎফুল্ল হৃদয়ে নিদারুণ ভাবে উজ্জীবিত হয়ে বানিয়ে-ছানিয়ে পেল্লাই একটি স্বপ্নস্বপ্ন স্বপ্ন দেখেই ফেলুন না আমদের জন্য  
হলেও ,অবাস্তব বাস্তব অস্বস্তিময় তুড়িয় নিরুত্তেজ নিদ্রতা নিয়ে।অদ্ভুত বিমূর্ত অপচয়ের এই ক্ষণে দূরবর্তী বৃহত্তর পরদেশী শুভেচ্ছা সব্বাইকে ; বিড়ম্বনার বিশাল বিষণ্ণের শেষ প্রহরে ।

শেষের পরিশেষে: *পথের শেষ দেখব বলে পথে নামিনি ,ভালোবাসি হাঁটতে,*  
*পথই আমার শেষ ঠিকানা ।*

---

Comments: 58 — https://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%95/#comments
