# নুরু মিয়ার গল্প

Author: রুম্পা রুমানা
Published: 2017-03-17
Category: গল্প
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/

নুরু মিয়া গত তিন দিন ধরে ঔষুধ বিক্রি করতে যান না। চুপচাপ ঘরে বসে থাকেন। মাঝে মাঝে বিড়বিড় করে ঠোঁট নাড়েন।  
বউয়ের সাথে এসব নিয়ে বিরতি দিয়ে ঝগড়াও হয়েছে ক’বার ।  
“কতা বার্তায় খিল দিয়া কি এক বেশ নিছেন কয় দিন ধইরা !দানা-পানি কি আসমান ফাইরা নামব?”  
এমন অভিযোগ তুলে বউ সুর উঠালেই রেগে যায়। বাঁধে হট্টগোল।  
.  
বউয়ের উদ্বিগ্নতার কারণ সে বুঝে। কিন্ত মন যে নিরুপায় ! সব কিছুতেই অনাগ্রহ। দু’বছরও হয় নি এই পেশায় এসেছে। এমন ধাক্কা খেতে হবে জানলে কিছুতেই আসতো না।  
বিড়বিড় করে বলে-” মইরা গেলো? বউডা মইরা গেলো?”  
আট বছরের মেয়ে এসে কাঁধ ঝাঁকায় – ” আব্বা , ও আব্বা ছিলহি হুনুম। কও । নাইলে মোবাইল ছাইড়া দেও। ”  
নুরু মিয়া মেয়েকে ধমক দেয়।পিতার অচেনা গলায় মেয়ে হতভম্ব হয়ে বাইরে পা দেয়। চৌকাঠ পেরিয়ে সুর তুলে –  
” ইঁদুর তোমার রেহাই নাই, ধরা পড়লে জামিন নাই। ইঁদুরের বংশ করে দেব ধ্বংস….. ”  
নুরু মিয়া কান চেপে ধরে, ভেতরে পুঁড়ায়।এমন কেন হলো !নিজেকে অপরাধী লাগে। বউটা একবার তাঁকে যদি বলতো কি জন্য ঔষুধ কিনছে ! জানলে কিছুতেই তাঁর কাছে ঔষুধ বেচতো না।মরতেও নিষেধ করতো।  
মাঝে মাঝে মোড়ের টং দোকানে বসে চা-পান খেতো সে। এখন ওখানেও যায় না। মৃত মানুষটা নিয়ে কতো কথা ! শুনলেই অন্তরে মোচড় দিয়ে উঠে।  
.  
বিষ মুখে তুলবার আগে  
বউটা কি তাঁকে অভিশাপ করেছিলো ! কতো দুঃখ বুকে জমলে মানুষের কাছে জীবন বোঝা হয়ে উঠে ! জানালায় উদাসী দৃষ্টি দিয়ে নুরু মিয়া ভাবে।  
.  
সন্ধ্যায় বাক্স খুলে বসে। মানুষকে আকৃষ্ট করবার জন্য রেকর্ড করা কথাগুলো মুছে ফেলে। উপদ্রবকারীর জীবন মূল্যবান লাগে তাঁর কাছে। একটা প্রাণ কতো ছটফট তুলে বেরিয়ে যায় দেহ থেকে !  
.  
পাড়ার কলিমুদ্দিনের বউ ইঁদুরের বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। দুই সন্তানের মা।নুরু মিয়াকে পথে থামিয়ে বিষ কিনেছিলো ।সেই বিষ খেয়ে। সংসারের নানান অশান্তি,সামাজিক সমস্যা,অভাব-অভিযোগ হাঙরের মতোন ধেয়ে আসছিলো। একটা পথই পেয়েছিলো পালিয়ে যাবার। মৃত্যু। অথচ , বেঁচে থাকবার কতো কতো পথ ছিলো! দুঃখী আর অভিমানীর কাছে সেই পথগুলো হয়তো দৃষ্টিগোচর হয় না। বেঁচে থাকার সৌন্দর্য দুর্বিষহ লাগে। বুকের যাতনা কাউকে বুঝাতেও পারে না । আহারে , অভিমান! একবার নিজেকে ভালোবাসলে বেঁচে থাকবার হাজারটা কারণ সামনে চলে আসে।আর বোঝা হয়ে উঠলে ! তবুও , বেঁচে থাকাই আনন্দের।  
.  
মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় সে, ইঁদুর মারার বিষ বিক্রি করবে না। হঠাৎ করে জীবের জীবনও অমূল্য লাগে।হোক তা উপদ্রবকারী….
