# নিঃসীম শূন্যতার কথা ভাবি ক’জন ?

- Author: [রিমি রুম্মান](https://sonelablog.com/author/rimee-rumman/)
- Published: 2018-05-22T05:13:05+00:00
- Updated: 2018-05-22T05:13:05+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae-%e0%a6%b6%e0%a7%82%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf/

---

> একদিন আমাদের পাড়ার শেষ প্রান্তের বাড়িটিতে নতুন ভাড়াটিয়া এলো। পরীর মত দেখতে তিনটি ছোট ছোট মেয়ে সেই পরিবারে। ছেলের আকাঙ্ক্ষায় ওদের মা চতুর্থবারের মত সন্তানসম্ভবা। সন্তান জন্মদানের সময়টাতে তিনি হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। মায়ের আঁচল ধরে ছোট্ট আমিও সেদিন হাসপাতাল বেডের কোণায় দাঁড়িয়েছিলাম। মুখে অক্সিজেন মাস্কসহ হাতে, শরীরে নানান রকম স্যালাইন, সুঁই আর তার প্যাঁচানো। তিনি নিঃশ্বাস নিচ্ছেন অনেক বড় করে। প্রতি নিঃশ্বাসের সাথে তার বিশালাকৃতির শরীর কয়েক ইঞ্চি উপরে উঠে যাচ্ছিলো। নার্সরা কেউ কেউ হাত পা চেপে ধরেছিলো। অনেক কষ্ট করে শ্বাস নেয়া, আবার ছেড়ে দেয়া। শ্বাস-প্রশ্বাস। বেডের রেলিঙের ফাঁক দিয়ে হতভম্ব হয়ে ভীত চোখে যমে-মানুষে লড়াই দেখি আমি। একপর্যায়ে নিঃশ্বাস ছোট হতে হতে নিস্তেজ হয়ে আসে সেই মায়ের। চারিপাশে কান্নার রোল উঠে। জীবনে সেই প্রথম আমার কারো মৃত্যু দেখা। দুঃস্বপ্নের মত গেঁথে থাকে ঘটনাটি আমার শিশুমনে।
>
>
>
>  
>
>
>
> বড় হবার পর, এক বর্ষার সকালে কলেজের জন্যে তৈরি হচ্ছিলাম। গ্রাম থেকে খবর আসে আমার এক কাজিনকে নৌকায় করে গ্রাম থেকে শহরে আনা হচ্ছে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। সাত মাসের গর্ভবতী সেই কাজিন সিঁড়িতে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর অবস্থা আশংকাজনক। আব্বা, আম্মা ছুটলেন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যার কিছু আগে ফিরলেন শতাব্দীর নিষ্ঠুরতম সংবাদ নিয়ে। মা এবং সন্তান কাউকেই বাঁচানো যায়নি।
>
>
>
> অনাগত সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর স্বপ্নে বিভোর প্রতিটি মা-ই জানেন যে, জন্মদানের মুহূর্তে তাঁর নিজের জীবন প্রদীপটুকু নিভে যাবার সম্ভাবনা অনেকখানি। তবুও কি স্বপ্ন দেখা থেমে থাকে ! সন্তানের মুখখানা দেখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মাঝেও যেন সুখ ! অতঃপর জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত মায়েদের ত্যাগের কথা আর না-ই বলি ! তাই বলে বাবাদের অবদানকে খাটো করে দেখবার অবকাশ নেই। নিরবে, নিঃশব্দে, নিভৃতে একজন বাবা দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন আয়ের পিছনে ছুটে। সন্তানের মুখে ভালটা তুলে দিবে বলে, পছন্দের জামাটা কিনে দিবে বলে, কিংবা লেখাপড়ার সীমাহীন খরচ মেটাবে বলে। নিজের সুখটুকু বিসর্জন দিয়ে, নানান কায়দায় অর্থ সাশ্রয় করে সন্তানের জন্যে সুখ কেনেন বাবা’রা । এটাই শাশ্বত সত্য, সন্তানের প্রতি বাবা-মা’র ভালোবাসাই পৃথিবীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা । তাঁদের এই ভালোবাসার গভীরতা বুঝি ক’জন ? বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের নিঃসীম শূন্যতার কথা ভাবি ক’জন ? প্রতিটি সন্তানের বুকের গভীরে থাকুক বাবা-মায়ের জন্যে অন্তহীন ভালোবাসা।
>
>
>
> রিমি রুম্মান
>
>
>
> নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

---

Comments: 8 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae-%e0%a6%b6%e0%a7%82%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf/#comments
