# নারী, মা এবং কিছু কথা

Author: খসড়া
Published: 2016-03-04
Category: একান্ত অনুভূতি
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/

মায়ের হাতে সন্তান খুন এই প্রথম হয়নি, আরও হয়েছে। একজন মা সন্তানদের হত্যা করে নিজেও অত্মহত্যা করে, কোন কোন ক্ষেত্রে মা সফল হন কোন ক্ষেত্রে বিফল হন।

মিডিয়া এথিকস, রাইট টু প্রাইভেসি এগুলো সম্পর্কে আমাদের সম্যক সচেতনতা নেই।

নিরাপত্তার কত অভাব হলে মা তার সন্তানকে হত্যা করে একবার ও কি কেউ ভেবে দেখছে? মা হল সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। সেই জায়গাটাই কত অনিরাপদ? একজন মায়ের হাতে দুটি সন্তান খুন হবার স্পর্শকাতর ঘটনাটি মিডিয়াকে জানানোর ক্ষেত্রে আইন-শৃংখলা মা এবং সন্তানদের নাম পরিচয় গোপন রাখতে পারতো। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও তার পরিচয় ও ছবি প্রকাশ আইন-শৃংখলা বাহিনী করতে পারেনা।

তাই এই খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে মিডিয়া নৈতিকতা ভেঙ্গেছে। একটি ঘটনার অগ্র-পশ্চাত কিছু না জেনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণ রায় দিয়ে অভিযুক্ত আসামীকে শাস্তি দিতে শুরু করে দিয়েছে।

একজন মা- একজন নারী। এই মার জন্ম মূহুর্তে কেউ খুশি হয়নি। তার কানে কেউ আজান শোনায়নি কিংবা উলুধ্বনি। কেউ তার নাম রাখার জন্য বড় প্রানী জবেহ বা বলি দেননি। খুব কৃচ্ছতার মধ্যে একটি ছাগল হয়ত দিয়েছে কিংবা দেয়নি।

বাবা মা মুখে যতই বলুক ছেলে/মেয়ে আমার কাছে সমান কিন্তু সমাজের ভয়ে তারা চুপ অথবা সামাজিক শিক্ষায় সেটাই ঠিক। প্রতিটি মূহুর্তে তাকে বুঝতে হয়েছে তুমি মেয়ে, তুমি ভোগ্য,তুমি পন্য। তোমার কোথাও কোন অধিকার নেই, কোথাও মাথা উঁচু করে কথা বলার অধিকার নেই। পুরুষের লোলুপ হাত তোমাকে ছুঁলেই তুমি কুকুরের মুখ দেয়া মাটির হাড়ি হবে। তোমাকে অচ্ছুৎ করা হবে। তুমি ধর্ষিতা হলে সমাজ বিচারের নামে তোমাকে ঐ ধর্ষকের সাথেই বিয়ে দেবে, প্রতিবাদ দূরে থাক একবারও চোখ তুলে তাকাতে পারবে না। যদি ধর্ষক না পাওয়া যায় বা প্রভাবশালী হয় তবে তুমি পতিতালয়ে যাও। ওটাই ভবিতব্য। যেখানে ঐ সমাজপতিরাই তোমাকে ভোগ করে করে নিজেরা শুদ্ধ হবে।

এই সমাজের প্রতিটা ক্ষেত্রের নিগৃহ প্রতিটি নারীকে পাগল যে করেনা এর কারন একজন নারীর প্রচন্ড মানসিক শক্তি ও মানিয়ে নেবার ক্ষমতা।

একজন মা যে তার পিছনের কথা ভাবে তার বর্তমানের কথা ভাবে তার ভবিষ্যৎ, তখন সেখানে দেখে একটি বিশাল ব্লাক হোল। পিতা থেকে স্বামী সেখান থেকে ছেলে।

এই অসহায় নারীই আশ্রয়স্থল তার সন্তানের। হায় নারী, উহ্ নারী, ওহ্ নারী ইস্ নারী, হুস্ নারী।

পাশ থেকে একজনকে খুব বড় গলায় বলতে শুনলাম — কি বললেন? ওয়াইফ ছাড়া অন্য কোন নারীকে কখনও ভোগ করেন নি? ছিঃ আপনি কি ? হয় আপনি নঃপুংশক অথবা মহা পুরুষ। শোনেন মিঃ নিরামিষ জীবন দিয়ে কি করেন? জীবনতো একটাই। আর ঐ বহু ব্যবহৃত বুড়ি বউ তার চেয়ে চারিদিকে কত টাটকা মাল—— নারীর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের আগে ঘরের নারীরও অন্য পুরুষকে কামনা করতে পারে এই ভাবনা মাথায় রাখতে হবে। সন্মান পেতে হলে দিতে হয়।

নারী চোখ মেলে দেখে তার মেয়েটা কি পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাছে,কিন্তু মায়ের কোলের বাইরেই সে একটি স্পঞ্জ রসগোল্লা / কোরবানী পশু / পুরুষের ইচ্ছা অনিচ্ছার দাসী। সেই পুরুষ তার বাড়ির চাকর থেকে সমাজপতি, একবছর থেকে ১০০বছর।

একজন মা তার ভিতরে ডাক শুনতে পায় তার মেয়ের—— বাচাঁও মা, যদি বাচাঁতে নাই পারবে তবে জন্ম দিলে কেন? আমি মানুষের মর্যদায় বাঁচতে চাই। দিশেহারা মা সন্তান রক্ষায়।

মা চেয়ে দেখেন তার ছেলেটা কি পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। মার তার ভবিষ্যত দেখেন— ওর মাঝে খুঁজে পান তার পিতার প্রতিচ্ছবি, ছেলের বাবার প্রতিচ্ছবি, সমাজপতির প্রতিচ্ছবি — যে নারীর দন্ডমুন্ডের কর্তা।

এক মা চান তার মেয়েটা নারী নয় মানুষ হোক। তার ছেলেটা পুরুষ নয় মানুষ হোক। যদি সেপথে কোন আলোর আভাস না পায় তবে সে কি ভুল করবে না?

খুব সহজ প্রশ্ন —  
বাপের বাড়ি ঐ যে নারী, স্বামীর বাড়ি ঐ, তোমার বাড়ি কই গো নারী, তোমর বাড়ি কই?  
কেউ কি দিতে পারবেন এর উত্তর?

এই সমাজ মায়েদের নিরাপত্তা না দিতে পারলে সন্তানের অনিরাপদ ভবিষ্যতের কথা ভেবে মায়েরা আরও বড় ভুল করতে পারে। সামজাকেই এই দায় নিতে হবে। মায়ের নিরাপত্তা দিতে হবে।

পরিবারই সভ্যতার সুতিকাগার। শিক্ষাটা সন্তানকে পরিবার থেকেই দিতে হবে। নারীকে সম্মান করতে হবে, দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। আমি আমার ওয়াইফকে চাকরী করতে দেই —কখনই এই মনোভাব প্রকাশ করে আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করা বন্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে সে তার যোগ্যতায় চাকরী করে, পুরুষ স্বামীর দয়ায় নয়। পুরুষ বিয়ে করে আর নারী বিয়ে বসে, এই শিক্ষা না দিয়ে শিখাই নারী বিয়ে করবে।
