# নারী ফুটবলারদের সাফল্য, জামায়াত-জঙ্গীবাদ এবং উত্তরণের সাংস্কৃতিক লড়াই

- Author: [অপার্থিব](https://sonelablog.com/author/oparthib/)
- Published: 2016-09-23T12:36:18+00:00
- Updated: 2016-09-24T10:46:11+00:00
- Category: [এদেশ](https://sonelablog.com/category/this_country/), [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%9c/

---

একটা জাতির সামগ্রিক পরিচয় নির্ধারিত হয় সংস্কৃতি দ্বারা। মানুষ পৃথিবীর একমাত্র সংস্কৃতিবান প্রানী এবং সংস্কৃতি হচ্ছে তার টিকে থাকার কৌশল। এই কৌশলগুলো ভৌগোলিক, সামাজিক, জৈবিকসহ নানা বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে। এই বৈশিষ্ট্য গুলো যেহেতু জাতি বা অঞ্চল ভেদে ভিন্ন হয় সেহেতু জাতি বা অঞ্চল ভেদে আমরা বিভিন্ন সংস্কৃতির পার্থক্য দেখতে পাই। সংস্কৃতির এই উপাদানগুলোর কিছু আরোপিত যা আমরা উত্তরাধিকার সুত্রে পাই আবার কিছু অর্জিত যা সমাজ ও যুগের প্রয়োজনে নুতুন করে তৈরী হয়। সংস্কৃতির কোন উপাদান স্থায়ী নয়, প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে সংস্কৃতির ধারা। বর্তমানে বিশ্বায়নের প্রভাবে এই পরিবর্তন হচ্ছে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে। ধর্মও সংস্কৃতির একটা উপাদান। কিছু মৌলিক বিষয় বাদে ধর্ম পালনের প্রক্রিয়াতেও সংস্কৃতির পার্থক্য থাকে। যেমন ইসলাম ধর্ম সৌদি আরবে পালনের প্রক্রিয়া এক রকম আবার নাইজেরিয়ায় আরেক রকম। আবার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলোও অনেক সময় ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত ও পরিবর্তিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন হয় সময়ের প্রয়োজনে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে। সমস্যাটা তৈরী হয় তখন যখন কোন একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতিকে পরম মানদন্ড হিসেবে ধরা হয় এবং সেই মানদণ্ডের আলোকে নিজ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের আরোপিত চেষ্টা চালানো হয়। আজকে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট ইসলামী জঙ্গিবাদের উদ্দেশ্য মুলত তাই। ইসলামী জঙ্গিরা মূলত মধ্যযুগীয় আরব সংস্কৃতিকে পরম মানদন্ড হিসেবে ধরে তাদের ভাষায় শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে। সভ্যতার অগ্রযাত্রা ও যাবতীয় সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে অগ্রাহ্য করে তারা সভ্যতাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে সেই মধ্যযুগে যে যুগটাকে তারা তাদের ভাষায় স্বর্ণযুগ হিসেবে মনে করছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে একই না হলেও প্রায় কাছাকাছি ধরনের ভুল (অবশ্যই ইসলামী জঙ্গীদের মত সহিংস না) প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার ডাক দেওয়া এক শ্রেনীর প্রগতিশীলরাও করে থাকেন। চুমু হয়তো বাঙ্গালী, চাইনিজ, জাপানিজ, ষ্পানিশ সবাই খায় কিন্তু এটা প্রকাশ্যে খাওয়া হবে নাকি গোপনে খাওয়া হবে সেটা নির্ধারিত হয় সংস্কৃতি দ্বারা। চুমু ভালবাসার প্রকাশ, সেটা মা-সন্তান, স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা অন্য কোন সম্পর্কের অধিকারীদের মধ্যে হতে পারে তবে আমাদের বর্তমান সংস্কৃতি হাজবেন্ড-ওয়াইফ বা প্রেমিক-প্রেমিকার প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া সমর্থন করে না। অনেকে হয়তো হাজবেন্ড-ওয়াইফ বা প্রেমিক-প্রেমিকার প্রকাশ্যে চুমু না খাওয়ার এই রীতিকে ধর্মের প্রভাব বলে মনে করতে পারেন কিন্ত সত্যটা হচ্ছে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের পূর্বেও ভারত বর্ষে তাদের প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল না। এই রীতি কি অপরিবর্তনীয়? অবশ্যই না। কিন্তু আপনি যখন একটি ভিনদেশী সংস্কৃতিকে পরম মানদণ্ড হিসেবে ধরে তার আলোকে নিজ সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার আরোপিত চেষ্টা চালাবেন তখন সেই পরিবর্তন কতটা সাষ্টেইনবল হবে সেই প্রশ্নটা উঠে আসবে। সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে প্রক্রিয়া ধীর গতিতে হলেও তা প্রচলিত সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্য থেকেই চালানো উচিত অন্যথায় এই ধরনের অতি বিপ্লবী চিন্তা ভাবনা ব্যর্থতা ছাড়া অন্য কিছু বয়ে আনবে কিনা সেটাও এই ধারার প্রগতিশীলদের ভাবা উচিত। স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতি কিন্ত এই ভুলটা করেনি। তারা জানতো ৭১ সালে যে অসাম্প্রদায়ীক বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছে সেই রাষ্টের বুকে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ধৈর্য ধরা ছাড়া আপাতত তাদের কোন উপায় নেই। তারা এও জানতো যে এদেশের রাজনীতিতে ধর্ম তথা ইসলাম সবসময় একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই অসাম্প্রদায়ীক বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদকে কাউন্টার করতে এদেশে ইসলামের কোন বিকল্প নেই। অন্তরে পাকিস্তানী আদর্শ লালন করলেও বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে তারা বাস্তবতা হিসেবেই গ্রহণ করেছে। তাদের রাজনীতির মূল অনুষঙ্গ ইসলামের সঙ্গে তারা জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত এই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে মিশিয়ে একটা ককটেল বানিয়েছে এবং এই ইসলাম-বাংলাদেশী মতবাদকে দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে জনপ্রিয় করেছে। অধিকাংশ পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে শিবিরের রাজনীতির শক্তিশালী ভিতের মূল রহস্যও এটাই। এছাড়া বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ সাহায্য দিয়ে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রচুর স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিম খানা স্থাপন করে নিজেদের অনুগত একটা শক্তিশালী শ্রেণী তৈরী করেছে। ব্যাংক,বীমা, শিল্প কারখানা স্থাপন করে তারা মূলধারার অর্থনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে যা একই সঙ্গে তাদের নিজেদের সংগঠনকেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিতের উপর দাঁড় করিয়েছে। পাশাপাশি পাড়ায় মহল্লায় ওয়াজ মাহফিল আর প্রচার যন্ত্র ব্যবহার করে নিজেদের মতাদর্শকে তারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এভাবেই ধীরে ধীরে খুব সুক্ষ ভাবে বাঙ্গালী সমাজের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয়েছে একটা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, হুমায়ুন আজাদ যাকে তুলনা করেছেন বাঙ্গালী মুসলমান থেকে মুসলমান বাঙ্গালী এবং মুসলমান বাঙ্গালী থেকে মুসলমান হওয়া হিসেবে। মনে রাখবেন এই সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আপাতত সাষ্টেইন করছে, শুধুমাত্র জামায়াতের নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে ঠেকানো যাবে না। এই সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে কাউন্টার করতে প্রয়োজন দীর্ঘ সাংস্কৃতিক লড়াই। সেটার প্রুস্তুতি নেওয়াই এখন বড় জরুরী।

![fdfd](http://breakingnews.com.bd/news_image/11610_0.jpg)  
২)  
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রতিটি যুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির স্বীকার হয়েছে নারী, তা সেই যুদ্ধ রাজনীতি, অর্থনীতি ,ধর্ম কিংবা অন্য যে কোন নামেই পরিচালিত হোক না কেন। ইসলামী জঙ্গিবাদ এই মুহূর্তে বিশ্বের জন্য একটা বড় সমস্যা ( বামপন্থীরা অবশ্য ভিন্ন মত দিতে পারেন)। আফগানিস্তানে তালেবান শাসনামলের ইতিহাস যদি দেখেন তাহলে দেখবেন সেখানে ইসলামিক কট্টরপন্থা অবলম্বন করে নারীদের গৃহবন্দী করে সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। নারীদের মাহরাম (পুরুষ সঙ্গী) ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া, চাকরি ও প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ধবংস করা হয়েছিল হাজার হাজার স্কুল। নারীদের স্কুল গুলোতে হিংস্র হামলা, নানা রকম কথিত অপরাধে নারীদের প্রকাশ্যে বর্বরোচিত হত্যা ছিল সেসময় সেখানকার নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এমোনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাব মতে সেসময় আফগানিস্তানে সংঘটিত হওয়া ৮০ শতাংশ বিয়েই ছিল জোরপূর্বক। সাম্প্রতিক কালে ইরাক -সিরিয়ায় আই এস জঙ্গীদের হাতে ইয়াজিদি নারীদের দুর্দশার খবরও হয়তো আপনারা পত্রিকায় পড়ে থাকবেন। আর অতদুর যদি যেতে না চান তাহলে পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাইয়ের নজির তো আছেই। ইসলামী জঙ্গিবাদের বিস্তারের ফলে যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও কখনো যুদ্ধাবস্থা তৈরী হয় তবে সেই যুদ্ধেও সবচেয়ে বেশি ভুগবে বাংলার নারী। এই সত্যটা বাংলার শিক্ষিত মডারেট নারীরা ( যারা সব কিছুতে ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র খুঁজেন কিংবা “কিউট” জঙ্গীদের প্রতি অন্তরের টান অনুভব করেন) যত দ্রুত বুঝবেন ততই মঙ্গল। জঙ্গীবাদ ঠেকানোর কাজে তাই নারীদের ভুমিকার একটা আলাদা গুরুত্ব আছে। সম্প্রতি এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ ফুটবলের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের মেয়েরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করেছে। এই মেয়েগুলোর অধিকাংশই দেশের প্রান্তিক সমাজ থেকে উঠে আসা। অধিকাংশই দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত, নানা রকম প্রতিকুলতা মোকাবেলা করে এদের এই পর্যায়ের সাফল্য রীতিমত অভাবনীয়ও বটে। বাংলাদেশে যেখানে দিন দিন বোরখাওয়ালীদের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে, সো কলড শিক্ষিত মডারেট নারীরা যেখানে হিজাবের মধ্যে নারী মুক্তির উপায় খুঁজছে সেখানে এই মেয়েগুলোর সাফল্য নিঃসন্দেহে আলাদা কৃতিত্বের দাবী রাখে। আর একটা ব্যাপার লক্ষ্যনীয় তা হচ্ছে জঙ্গীবাদ মোকাবেলার এই ক্রিটিক্যাল সময়ে এই মেয়েগুলো তাদের সাফল্যের জন্য মিডিয়ার কাছ থেকে বেশ ভাল প্রচার পেয়েছে। যদিও বাংলাদেশে নারী ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের নজির আগেও কিছুটা ছিল যেমন রানী হামিদ, জোবেরা রহমান লিনু কিংবা সম্প্রতি সাফ গেমসে স্বর্ণ জয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, মাহফুজা খাতুন শীলা কিন্ত তারা কেউই মিডিয়ার কাছ থেকে এতটা প্রচার পায় নি। সেদিক দিয়ে এই মেয়েগুলো ভাগ্যবান। এই প্রচারের ফলে দেরীতে হলেও এখন বাফুফে ও সরকারের টনক নড়েছে। বাফুফে এখন তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করছে, বেসরকারী নানা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকেও এদেরকে নানা ভাবে সম্বর্ধিত করা হচ্ছে অর্থাৎ বাংলাদেশের এই ক্রিটিক্যাল সময়ে সরকার ও মিডিয়া এই মেয়েগুলোর সাফল্যকে জঙ্গীবাদ মোকাবেলার সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের একটা ক্ষুদ্র ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে। ডাঃ ইসতিশনা ঐশী, আকলিমা আক্তার মণি, শায়লা আফরিন ওরফে প্রিয়তিদের বিপক্ষে কৃষ্ণা, সানজিদা, মৌসুমীদের একটা আলাদা আইডেন্টিটি হিসেবে দাড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যাপারটা আশাব্যঞ্জক। তবে বাস্তবতা হল দিনে পর দিন মাসের পর মাস পাড়ায় মহল্লায় ওয়াজ ব্যবসা করে সাইদীরা যেভাবে “ছিলাকলা তত্ত্ব” জনপ্রিয় করেছে তাতে এই লড়াইয়ে জেতার পথ অত সহজ নয়। এই ফুটবলার মেয়েগুলো বাসে করে বাড়ি ফেরার পথে তারই কিছু নমুনা দেখেছে। সমাজেও ঐশী, মণি, প্রিয়তি তৈরি হওয়ার পথ গুলো রুদ্ধ নয়। সানজিদা, মৌসুমীরা কেন হিজাব করে না, কেন তারা মেয়ে হয়েও ফুটবল খেলে এই প্রশ্ন গুলো দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যেই আছে এটাই বাস্তবতা। এই প্রশ্নগুলো উত্থাপনের পিছনে রয়েছে একটা দর্শন এবং এই দর্শন থেকে গড়ে উঠেছে প্রশ্নকারীর পার্সপেক্টিভ। মনে রাখবেন এই পার্সপেক্টিভ কিন্ত প্রগতিশীলতার পার্সপেক্টিভ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ইভটিজিংও কারো কাছে প্রেমের শ্বাশত নিবেদন, আবার কারো কাছে প্রেমের শ্বাশত নিবেদনই ইভটিজিং অর্থাৎ এখানেও পার্সপেক্টিভটা ডিফ্রেন্ট। কবির ভাষায় বলতে হয়-

প্রেম নিবেদন শাহরুখ করলে  
মাইয়া প্রেমে পাগলা  
একই কাম আমি করলে  
খাই ইভ টিজিং এর মামলা।

ইটজ অল এবাউট পার্সপেক্টিভ ইনডিড। পার্সপেক্টিভ আর পার্সপেক্টিভ উদ্ভবের পিছনের থাকা এই দর্শন মোকাবেলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

---

Comments: 17 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%9c/#comments
