# নারী দিবস ও কিছু কথা

- Author: [রোকসানা খন্দকার রুকু](https://sonelablog.com/author/ruku007/)
- Published: 2021-03-09T03:13:25+00:00
- Updated: 2021-03-09T03:22:48+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b8-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/

---

ফেসবুক, টিভি, পত্রিকার পাতা নারীদের শুভেচ্ছায় ভরপুর। আমার কাছে মনে হয় এ সবের দরকার কি? নারী দিবসের নামে এটাও একটা দূর্বল করে রাখবার পায়তারা। আমার জন্য কেন দিবস লাগবে? আর এই দিবসের যে প্যানপ্যানানী তা কতটুকু সফল? আমরা নারীরা জন্মগত স্বাধীনতা পেলেও আদতে তা কি আজও পেয়েছি?

নারী দিবসের সরগরম বৈঠকের নারী বক্তা বড় বড় কথা বলে বাড়ি ফেরার আগে ভীত হয়’ তুমিও এস, ড্রাইভারের সাথে একা যাব’? রাস্তায় তার একা চলার অধিকার নেই।

একজন নারী যখন কারও বউ, তখন পুরুষের সকল সম্মান যেন বউ এর কার্যকলাপেই আটকে থাকে। সকল আহ্লাদিপণা বিসর্জন দিয়ে তাকে ঘরোয়া হয়ে যেতে হয়। কারন “সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে”।

একজন নারী যখন ব্লগার ,স্বামীর সম্মানের নাকি তখন বারোটা। হবে হয়ত ,নাহলে ফোন কেন পানিতে আর ল্যাপটপ কেনোই বা তার জিম্মায়? অবশ্য  নারী জন্মই জিম্মায় থাকার জন্য, সে যত বড় অফিসারই হোক না কেন?

বাইরে ফাঁকা আওয়াজ  আওড়ানো একজন নারীবাদী, ক্ষমতাধর নারীও পরিবারে ঢুকলে বেরী পরা, আটপৌরে এক মানুষ যার নিজস্বতা বলে কিছুই নেই!

রাজনৈতিক সংলাপের গরম টক শোতে নীতি কথায় না পারলেই হেনস্তা করার প্রয়াস ‘নারী তুমি বিয়ে করনি কেন’?অতপর চলে তার চরিত্র উৎপাটন! অথচ একজন অবিবাহিত পুরুষ সবসময় সুপুরুষ ও সুপাত্র।

অফিসের বসের কড়া নজর এডিয়ে চলা নারী। তার সাথে প্রেমে উপেক্ষিত হবার পর তাকে চরিত্রহীন বলে চাকুরীচুত হবার পরও হাজার পুরুষের নেগেটিভ বক্তব্যে জরজরিত। অপরাধী বস নয়, অপরাধী নারী কর্মী।

সমাজতন্ত্র আর সমঅধিকারের নামে মুখে ফেনা তোলার পরও বাচ্চা পিঠে দিনমজুর নারীর মজুরী অর্ধেক। পরিবারে ছেলেসন্তান জন্মে ধোয়া তোলা খুশির বন্যা, মিষ্টি মিষ্টান্নের গডাগডী। বাবা- মায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকার আজও নারীর খুবই কম।

স্বামীর হাতে বেদম পিটুনির পর,রক্ত জমে যাওয়া শরীরে মলম লাগানোর অজুহাতে হাসিমুখে স্বামীর সাথে শারীরিক  হবার পর, সকালে একই টেবিলে বাহারী নাস্তার সাজানো প্লেট।

সারাবছর প্রেম করার পর ছেলেটি জানায় বাবা- মায়ের পছন্দে বিয়ে করবে! এরপর শ’খানেক মেয়ের চরিত্র উদঘাটন করা ছেলেটি মোটা অংকের উপহারের নামে যৌতুক নেয়। আর বিয়ের পিডিতে বসা মেয়েটিরও হাসিমুখ।সবাই খুশি অবশেষে একটা গতি হল, আর চিন্তা নেই!

নবনীরা কবে পারবে নিজের মত চলতে? কেন বলতে পারে না,”ধুর তেরি ছাই নিকুচি করি তোর সংসারের ”। যেখানে  ছোট ছোট চাওয়ার কোনও মূল্যই থাকে না। সেখানে সংসার কি?

হ্যাঁ, সদ্য ডিভোর্স হওয়া হাজারো নবনীা সমাজের চোখে সেই দোষী,অপরাধী। একটু ধৈর্য্য ধরলেই পারত কিন্তু সে কেন তা করল না? তাই তাকে ঘর ছাড়া হতে হল। শত হোক স্বাবলম্বীতাই নারীর শেষ কথা নয়। নবনীরা তা হাডে হাডে টের পাচ্ছে।

পরিবারের সম্মান থাকে না নবীনদের মত ডিভোর্সী মেয়ে ঘরে রাখলে।তাই জিভোর্সীদের অবশ্যই ভাড়া বাসাই শেষ আশ্রয়।কিন্তু যতটুকু খুশি হবার তা কিছু সময়ের মধ্যেই বিলীন হয়ে যায় যখন বাড়িঅলা নির্দ্ধিধায় ‘না’ শব্দ উচ্চারণ করে।  কিংবা ডিভোর্সী শুনে বাডিঅলা বলে বাড়ি ফাঁকাই নেই।

সারারাত বাচ্চাকে নিয়ে না ঘুমানো মায়ের সময়মত অফিস, রান্না এবং খেতে বসে স্বামীর প্লেটে খাবার তুলে দেবার ভঙ্গি বলে সারাদিন সে কোন কাজই করেনি।তারপরও তরকারীতে নুন বেশী হলে চলে দিব্যি কচর কচর!

একই অফিসে চাকুরীকরা স্বামী- স্ত্রী বাসায় ফেরার পর,’আজ ভীষন খাটুনি গেল’ স্ববামী শরীর এলিয়ে চায়ের অপেক্ষায় রিমোট টিপে। আর বউ তখন চলে যায় রসুই ঘরে চা বানাতে। চা খেয়ে বিশ্রামরত স্বামীর জন্য বউ ব্যস্ত রান্না করতে। সারাদিন বাচ্চারা কি খেয়েছে, কিভাবে কেটেছে, পড়াশুনা থেকে শুরু করে সমস্ত কাজও তারই।অতপর বিশ্রামরত স্বামীর মনতুষ্টি, কতটুকু সফল কতটুকু ব্যর্থ তারচুলচেরা হিসাব। প্রয়োজনে হাদিস- কোরআনের রেফারেন্স – যাতে অধিকাংশই স্বামীর সঠিক অধিকার না দেয়া নারী জাহান্নামী।

নারীদের বৃষ্টিতে ভেজারও নাকি সুনির্দিষ্ট বয়স বাঁধা থাকে।একটা বয়সের পর ভিজতে চাওয়া মানে আদিখ্যেতা, বাড়াবাড়ি। খুব বেশি ভিজতে ইচ্ছে হলে শেড দরকার হয়। শরীর আবৃত, ওড়নার ঠিকঠাক; তা না হলে পারিপার্শিক সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হয়। আমরা চাইনা কোন বৃষ্টিতে ভেজার শেড। আমাদেরও স্বাধীনতা আছে তা আমরা কেন করব না?

হয়ে গেলেন আপনি নারী তসলিমা নাসরিন! সমস্যা কই? হাজারো নষ্টামির পরও পুরুষের ভারজিনিটির সমস্যা নেই। এ সমস্যা শুধুই নারীর। আর তাই ফুলশয্যায় চাই রক্তাক্ত সাদা চাদর!

লিখতে গেলে পাতা, কলমের কালি সব ফুরিয়ে যাবে! এরকম হাজারো বাঁধা- বিপত্তিতে চলতে হয় আমাদের আমরা নারী, আমরা মা। তারপরও সম্মান টুকু মেলে না।

এই যে নারী দিবস নিয়ে যত কথা। যত প্রচার প্রসার চলে,আলোচনা- বৈঠক হয়। পরিবর্তন কতটুকু হয়? আজও যা কালও তা। পুরুষরা যতআলোচনাই হোক না কেন, এই জায়গায় ছাড দিতে নারাজ।

পুরুষদের বলছি,আপনারা ফেসবুক ভরিয়ে স্ট্যাটাস না দিয়ে,মনের স্ট্যাটাস চেন্জ করেন। নারীদের মানুষ ভাবেন। কোন সহযোগীতার দরকার নেই কারণ নারী নিজ মেধা,মনন,বুদ্ধিমত্তায় যথেষ্ঠ এগিয়ে। অযথা সাহায্যর নামে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবেন না।আমাদের ভালো থাকতে দিন!!!!!!

ছবি- নেট থেকে।

---

Comments: 8 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b8-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/#comments
