# নারী তোমার কী পরিচয়?

- Author: [নীলাঞ্জনা নীলা](https://sonelablog.com/author/nilanjana/)
- Published: 2017-01-31T06:15:43+00:00
- Updated: 2017-02-06T21:56:26+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a7%9f/

---

![নারী তোমার কি পরিচয়?](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/01/16402184_10211151748125950_1781185377_n.jpg)

****নারী তোমার কি পরিচয়?****

একজন মানুষের পরিচয় তার নাম দিয়ে। বাবা-মা কতো আদর করে, ভালোবাসা দিয়ে সন্তানের নাম রাখেন। সেই পরিচয়টুকু নিয়েই সন্তানরা তাদের নিজেদের পৃথিবী গড়ে তোলে। তবে ওই পৃথিবীতে নারীদের বাসের জায়গা আছে, কিন্তু মালিকানা নেই। পরিচয় নেই। পেশা দিয়ে নারীদের পরিচয়টুকু যদিও কিছুটা আলোকিত হয়, কিন্তু নামটা হারিয়েই যায়। সারা পৃথিবীর নারীদেরই এই একই অবস্থা।

এই প্রবাসে নতূন কারো সাথে পরিচয় হলেই মহিলারা ভাবী বা বৌদি বলে সম্বোধন করে থাকেন। ভাবী বলে সম্বোধন করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তথাকথিত ভাইয়ের মুখও দর্শন করা হয়নি কোনোদিন। আমি জাপানে যখন ছিলাম, তখন নতূন চাকরীতে ঢুকেছি। একজন এসে বললেন ‘ওহ ভাবী কতোদিন হলো এসেছেন এখানে? সাথে সাথেই আবার বললেন, ওহো আপনি তো বৌদি হবেন।’ বললাম আমায় নাম ধরে ডাকুন নয়তো আপা/দিদিও বলতে পারেন, আপত্তি নেই। সাথে সাথেই বলে বসলেন ‘স্যরি, স্যরি। আপনার বুঝি…’ বললাম না আমি ডিভোর্স দেইনি, স্বামী আমার সাথেই আছে। কিন্তু ভাবী মানে তো ভাইয়ের স্ত্রী। যে ভাইকে দেখেননি, তার স্ত্রী কিভাবে আপনার ভাবী হলো আপা? আমার কথা বলার ধরণে কোনো বিশ্রীরকম আচরণ ছিলোনা। হেসে হেসেই মজা করে বলেছিলাম। ভদ্রমহিলা বললেন, ‘আসলে দিদি এটা অভ্যাস। কেউ কখনোই এমন করে বলেনা।’ আবার বেশ কিছু নারী আছেন যাদেরকে আপা বলে ডাকলে উল্টে এসে ভাবী বলে ডাকতে বলেন। বিবাহিত মানেই কি নিজস্ব নামকে কেটে ফেলা? বিয়ের পর একজন কন্যা সন্তানকে তার বাবার পদবী থেকে স্বামীর পদবীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর নামের জায়গায় পরিচয় হিসেবে এসে দাঁড়ায় মিসেস+স্বামীর নামসহ পদবী। আজ এই ব্যাপারটা নিয়েই কথা হচ্ছিলো ম্যাসাজথেরাপিষ্ট জেন-এর সাথে। সেও একই কথা বললো নিজের নামকে কেন ফেলে আসতে হবে? হুম সে বলতেই পারে, কারণ সে এ দেশের। এ দেশেও নামের মৃত্যু হয়, কিন্তু অনেকেই নিজেদের নামকে বাতিলের খাতায় ফেলে রাখেনা। এই লেখাটা যখন শুরু করেছিলাম, মামনির সাথে কথা হচ্ছিলো এই বিষয় নিয়ে। মামনিও বললো একই কথা। তবে মামনির নাম মীরা চন্দ হয়নি, মীরা দাস-ই থেকে গেছে।

আমরা সহজেই সমাজ-পরিবেশকে দোষারোপ করে থাকি এই বলে যে সমাজটা পুরুষতান্ত্রিক। এও বলি স্বামীরা বিভিন্নভাবে ডোমিনেট করে থাকে। কথাটা মিথ্যে নয়, কেইবা না চায় অন্যকে নিজের অধীনস্থ করে রাখতে? কিন্তু আমি যদি বলি নারীরা অধীনস্থ হিসেবে থাকাকে মানিয়ে নিয়েছে। আমার কথা হলো নিজস্ব স্বকীয়তা থেকে কেন বিচ্ছিন্ন করতে হবে নিজেকে? কেন নিজের নামটা বিয়ের পরেই একেবারে মুছে যাবে? শ্বশুরবাড়ীতে যাবার পরে অনেক মেয়েদের জন্য আলাদা নাম ধরে ডাকা হয়। সেটাকে আমি মনে করি আদর করেই একটা নাম দেয়া। আমার নামে আপত্তি নেই, কিন্তু ভাবী/বৌদি, স্বামীর নাম+পদবীর আগে মিসেস এসবে আপত্তি। নারীরা বলুক আমার নাম অমুক। বলুক আমাকে নাম ধরে ডাকুন, নয়তো আপা বা দিদি বলুন। ভাবী/বৌদি শুধু শ্বশুরবাড়ীর ননদ-দেবরদেরই, আর কারো জন্য নয়। নারীরা যেদিন নিজেকে একটি নাম হিসেবে দাঁড় করাতে পারবে, সেদিন অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যাবে। মিসেস অমুক, মিসেস তমুক তো অনেক হলো, এবারে নয় নামের আগে মিসেস নামক লেজটা কেটে ফেলে দেয়া হোক। যদিও অনেক কঠিন কাজ আমাদের দেশীয় মানসিকতায়। তাহলে এমন তো হতে পারে মিসেস রহমান বা মিসেস রায় নয়, মিসেস রোকশানা বা মিসেস রমিতা? বাবা-মায়ের দেয়া এই একটা পরিচয়, আদরের ওই নামটা সকল নারীরা ধরে রাখুন, এটা আমাদের অধিকার।

হ্যামিল্টন, কানাডা  
৩১ জানুয়ারী, ২০১৭ ইং।

---

Comments: 39 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a7%9f/#comments
