# নদী (২য় পর্ব)

- Author: [ইঞ্জা](https://sonelablog.com/author/einzza/)
- Published: 2017-01-11T16:37:32+00:00
- Updated: 2017-01-11T16:37:32+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a7%a8%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/

---

![be289253312d429e51ba2e4d47780bb2-21](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/01/be289253312d429e51ba2e4d47780bb2-21-500x263.jpg)

 

 

তা কতদিন ধরে আছেন এইখানে, জীবন জিজ্ঞেস করলো নদীকে।  
দেড় বছর হয়, নদী জবাব দিলো।  
তাতো বেশি দেরি হয়নি।  
স্যার আপনার একশ বিশ পাউন্ড পঁচিশ সেন্ট হয়েছে, কম্পিউটারে দেখে নদী জানালো।  
ওকে, পকেট থেকে কার্ড বের করে দিলো জীবন।  
নদী মেসিনে পাঞ্চ করে রিসিট আর কার্ড দিলো আর জীবন রিসিটে সিগ্নেচার করে দিয়ে কার্ড মানিব্যাগে রাখতে রাখতে বললো, আরেকটা কথা আমি আসলেই ঋণী রয়ে গেলাম আপনার কাছে জানিনা শোধ করতে পারবো কিনা আর আপনি আমাকে স্যার স্যার করলে মনে কষ্ট পাবো, আপনার অসুবিধা না থাকলে আমাকে জীবন নামেই ডাকবেন, খুব খুশি হবো।  
ধন্যবাদ স্যার সরি জীবন, নদী একটু হাসিমুখ করতে চাইলো কিন্তু কেন জানি সেই হাসি এলোনা।  
ওকে ভালো থাকুন আসি বলেই জীবন ব্যাগ ভর্তি জিনিষ পত্র নিয়ে এগুলো দরজার দিকে আর নদী অপলক চেয়ে রইল জীবনের গমন পথে।

নদী বাসায় ফেরার আগে দেশে ইমো দিয়ে কল দিলো, অপর পাশ থেকে ওর মার কণ্ঠ বেসে এলো, নদী মা, ও মা কেমন আছিস তুই?  
হাঁ মা খুব ভালো আছি, তুমি কেমন আছো, বাবা কেমন আছে, চোখের পানি গড়িয়ে পড়লো নদীর।  
আমরা সবাই ভালো, জামাই কেমন আছে?  
খুব ভালো মা।  
আল্লাহর রহমত এমন ভালো একটা জামাই পেয়েছিস, ওকে খেয়াল রাখিস।  
ঠিক আছে মা, বাবা কোথায়?  
এই নে কথা বল বাবার সাথে নাকি কথা বলবে।  
হ্যালো নদী কেমন আছিস, নদীর বাবা ফোন ধরেই জিজ্ঞেস করলো।  
জি বাবা ভালো আছি, তুমি কেমন আছো, তোমার হার্টের রেগুলার চেক করতো নাকি হেলাফেলা করছো, ঔষধ গুলো ঠিক মতো খাওয়া হয় নাকি খাওনা।  
সব ঠিকঠাক চলছে মা কোন অসুবিধা নাই, হাসতে হাসতে জবাব দিলেন নদীর বাবা।  
তুমি কিন্তু ভুলো মন, তুমি কিন্তু ঠিক মতো মেডিসিন খাবে।  
তুই ওইসব চিন্তা করিসনে মা, আমি ঠিক আছি।  
ঠিক আছে বাবা আমি এখন রাখি বাসায় ফিরতে হবে।  
ঠিক আছে মা সাবধানে যাবি, আল্লাহ্‌ হাফেজ।  
আল্লাহ্‌ হাফেজ বাবা, গলা ধরে এলো নদীর, ফোন কেটে দিয়ে দোকানের মহিলা মালিককে বলে সে বেড়িয়ে এলো, নদীর হাসবেন্ড ওর সাথে কি করে এইসব সে বাড়ীতে কাউকে বলেনা কারণ এইসব শুনলে নদীর বাবা হার্টের রুগী উনার অসুবিধা হতে পারে।

বাসায় দরজার চাবি বের করে দরজা খুলে প্রবেশ করলো, ভিতরে এসে নিজের কোটটা হ্যাংগারে রেখে ব্যাগটা নিয়ে ডুপ্লেক্স বাড়ীর উপরে নিজ রুমে চলে এলো, ব্যাগ রেখে কাপড় চোপড় চেইঞ্জ করে নিচে এসে কিচেনে এলো আর ফ্রিজ থেকে মাছ আর কিছু সবজি নিয়ে টেবিলে বসে পড়লো, সেইখানেই বসেই সব কেটে কুটে রেডি করলো রান্নার জন্য, বেসিনে নিয়ে গিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে রান্না চড়ালো এরপর ময়লা গুলো ময়লার ব্যাগে পুরে রেখে দিলো ডাস্টবিনের ভিতরে, রান্না শেষে সেগুলো নামিয়ে রেখে টেবিলে পরিস্কার প্লেট দিয়ে রাখলো যেন রনি এলে খাওয়া দিতে দেরিনা হয়, এরপর নিজে গিয়ে ড্রয়িং রুমে গিয়ে বসলো টিভি ছেড়ে।  
টিভি দেখতে দেখতে কখনো যে সোফার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে ও খেয়াল করেনি, হটাৎ কলিং বেলের আওয়াজে লাফ দিয়ে উঠলো আর পড়িমরি করে গিয়ে দরজা খুললো আর দরজা খুলতেই রনি চিৎকার শুরু করলো।  
কি মহারাণী ভিক্টোরিয়া দরজা খুলতে এতক্ষণ লাগে নাকি নাগরকে নিয়ে শুয়ে ছিলে?  
তুমি এইসব কি বলছো?  
ঠিকই বলছি, একশোবার বলবো, হাজার বার বলবো, বললে তোর বাপের কি?  
দেখো তুমি এইখানে আমার আব্বার কথা আনছো কেন?  
বলা শেষ করতেই পারেনি ঠাশ করে কষে চড় খেলো নদী আর রনি খারাপ গালি দিয়ে বললো, ধুর হয়ে যা আমার সামনে থেকে।  
নদী কাঁদতে কাঁদতে উপরে চলে গেল নিজ রুমে।

ঘন্টা খানেক পর রনি এলো, এসেই বিছানার পাশে এসে দাঁড়ালো আর বললো, এই শুনো আজকে আমার খুব ইচ্ছে করছে তুমি রেডি হও।  
না না আজ আমি পারবোনা, আমি অসুস্থ ফিল করছি।  
ধুরর বলে একটা খারাপ গালি দিলো আবার আর নদীর কাছে এসে চেপে ধরলো, নদী বুঝতে পারলো ওর কোন কথারই দাম নেই তখন সে সব অত্যাচার সহ্য করতে লাগলো চুপচাপ আর নিজের হাসবেন্ডের কাছে নিজেই ধর্ষিত হতে লাগলো, রনি শেষ করে এক পাশে এলিয়ে পড়লো আর নদী কোঁকাতে কোঁকাতে বাথরুমে গেল, বাথরুমের দরজা বন্ধ করেই পানি ছেড়ে দিলো বেসিনের আর কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো, নিজের কপাল নিজে চাপড়িয়ে কাঁদতে লাগলো নদী, অনেকক্ষণ কান্নার পরে গরম পানিতে গোসল করে বেড়িয়ে এলো আর সোজা বিছানায় গিয়ে একপাশ ফিরে শুয়ে পড়লো আর রনি তখন নাক ডাকছে।  
পরদিন সকালে উঠে টেবিলে ব্রেকফাস্ট রেডি করে বসে আছে আর রনি কাজে বের হওয়ার জন্য রেডি হয়ে নিচে এসে ব্রেকফাস্টের জন্য বসলো, নদী ডিমের অমলেট আর ব্রেড এগিয়ে দিলে রনি ব্রেডে মাখন লাগিয়ে আয়েশ করে খেতে লাগলো।  
আমি একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম, নদী নিচু স্বরে বললো।  
কি বলার বলে ফেলো।  
আমি একটু বাড়ী যেতে চাইছিলাম।  
না এখন নয় আর তুমি একা যেতেই পারবেনা, আমি যখন যাবো তখন তুমি আমার সাথে যাবে তার আগে নয়।  
নদী চুপ করে গেলো।  
রনি বেড়িয়ে গেলে নদীও ওর চাকরীস্থলে রওনা হয়ে গেল, শপে পোঁছেই কাজে নেমে পড়লো।

সন্ধ্যার কিছু আগে জীবন এলো মেয়েকে নিয়ে, ওর মেয়ে বায়না ধরেছে কিছু জুস আর চকলেট কিনবে আর তাই নিয়ে আসা, মেয়েকে নিয়ে ও প্রথমে চকলেট কাউন্টারে গেলো আর ওর মেয়ে নাবিলা ঘুরে ঘুরে কিছু চকলেটে, ওয়েফারস আর জুস কিনলো এরপর দুজনে মিলে কাউন্টারে এলো পে করার জন্য আর কাউন্টারে নদীকে দেখে জীবন অবাক হলো আর বললো, হাই আপনাকে আজও দেখবো কল্পনায় করতে পারিনি, আপনার হয়ত আট ঘন্টার শিফট?  
আসলে আমি বারো ঘন্টা করি, তা আজকে এলেন?  
আর বলবেন না মেয়ে আমার কতো যে বায়না ধরে, আজ চকলেট আর জুস নিলো বলেই হাতের ঝুড়িটা কাউন্টারের উপর রাখলো।  
তা আপনার ওয়াইফ আসেননি সাথে?  
একটু ইতস্তত করলো জীবন, তারপর বললো আসলে আমাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে আর মেয়েকে আমার কাছে রেখে গেছে।  
ওহ সরি আমি হয়তো আপনাকে কষ্ট দিয়ে ফেললাম।  
না না ঠিক আছে।  
তা মামনি তোমার নাম কি, এইদিক আসো এইদিক আসো বলেই মেয়েকে নিয়ে গেল কাউন্টারের পিছে, তা নামটা কি বললেনা?  
আমার নাম নাবিলা চৌধুরী, তোমার নাম কি, আদুরে গলায় জিজ্ঞেস করলো নাবিলা।  
আমি, আমি হলাম নদী, হেসে দিলো নদী, ড্রয়ার খুলে বেশ কিছু চকলেট দিলো নাবিলাকে আর বললো এই নাও এগুলো সব তোমার।  
আরে আরে কি করছেন, জীবন বলে উঠলো।  
না না তেমন কিছু নয়, মেয়েটি আপনার খুব লক্ষি, আজ অনেকদিন পর নদী হাসছে মন খুলে।

……………… চলবে।  
ছবিঃ Google.

---

Comments: 25 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a7%a8%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/#comments
