# নদী (১২তম পর্ব)

- Author: [ইঞ্জা](https://sonelablog.com/author/einzza/)
- Published: 2017-03-09T12:57:09+00:00
- Updated: 2017-03-09T12:57:09+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a7%a7%e0%a7%a8%e0%a6%a4%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/

---

![images-2](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/03/images-2-500x281.jpg)

 

 

মে আই কাম ইন, দরজায় নক করে খুলে ধরে জীবন জিজ্ঞেস করলো।  
ইয়েস ইয়েস প্লিজ কাম ইন, ইউনিভার্সিটির ডিন নিজে উঠে এসে জীবনের সাথে হ্যান্ড সেইক করে ভিতরে প্রবেশ করার আমন্ত্রণ জানালেন।  
লেট মি ইন্ট্রুডিউস ইউ উইত মিস নদী, জীবন পরিচয় করিয়ে দিলো, নদী উনি হলেন মি. পার্কার।  
হ্যালো, নদী বললো।  
হ্যালো মাই ডিয়ার, প্লিজ সিট ডাউন।  
জীবন আর নদী চেয়ারে বসার পর মি. পার্কার বললেন ইংরেজিতে যা বাংলায় হলো, উনার কথায় তো বলেছিলেন?  
জি।  
আমি কি আপনার সার্টিফিকেট গুলো দেখতে পারি, নদীর দিকে ফিরে বললেন মি. পার্কার।  
জি, নদী ফাইল গুলা এগিয়ে দিলো।  
উনি সব খুটিয়ে খুটিয়ে দেখলেন সব কাগজ আর বললেন, আপনার ওয়ার্ক পারমিট আর রেসিডেন্সির অরিজিনাল কি সাথে আছে?  
জি, নদী হ্যান্ড ব্যাগ থেকে দুইটা কার্ড বের করে দিলো।  
ওকে, এভরিথিং ইজ ওকে, সাথে আপনি ওভার কোয়ালিফাইড, বলেই উনি উনার প্যাড টেনে নিয়ে কিছু খশ খশ করে লিখে নদীর দিকে বাড়িয়ে ধরলেন, এই নিন এইটা নিয়ে আপনি অফিস রুমে যাবেন, অফিস রুমটা দেখেছেন নিশ্চয়।  
জি।  
ওখানে মি. স্যামুয়েলকে দেবেন, উনি আপনার এপয়ন্টমেন্ট লেটার দেবেন রেডি করে।  
ধন্যবাদ, আন্তরিক ধন্যবাদ মি. পার্কার, নদী বললো।  
আমিও সাথে যায়, জীবন পারমিশন চাইলো।  
নো নো উনিই যাক, আপনি বসুন কিছু ব্যাংকিং বিষয়ে আপনার সাথে আমার কথা আছে।

পনের ষোলো মিনিট পর নদী নক করে প্রবেশ করলো আর মি. পার্কারের কাছে একটা এনভেলপ দিলো।  
প্লিজ ইউ সিট ডাউন।  
নদী জীবনের পাশের চেয়ারে অপেক্ষা করতে লাগলো.  
মি. পার্কার এনভেলপ থেকে এপয়নমেন্ট লেটারে চোখ ভুলিয়ে নিলেন আর সাইন করে নদীর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে কাগজটি দিয়ে বললেন, কনগ্রাজুলেশন্স, ইউ আর হাইয়ারড।  
নদী উঠে দাঁড়িয়ে হ্যান্ড সেইক করে বললো, ধন্যবাদ।  
জীবনের দিকে আরেকটা কাগজ বাড়িয়ে দিয়ে মি. পার্কার বললেন, মি. জীবন চৌধুরী, আপনি একটা সাইন করে দিন প্লিজ উনার গ্যারান্টার হিসাবে।  
জীবন নিয়ে সাইন করে ফেরত দিলে উনি বললেন, ওকে ইউ ইঞ্জয় ইউর ডে।  
থ্যাংক ইউ মি. পার্কার, আমরা আজ আসি।  
ওকে, সি ইউ দ্যান এন্ড মিস. নদী সরি মিস. আয়েশা করিম (নদীর আসল নাম) আগামী পরশু তুমি জয়েন করছো।  
ইয়েস মি. পার্কার।  
বাই।  
বাই বাই।  
জীবন নদীকে নিয়ে বেড়িয়ে এসে পার্কিংয়ে এসে গাড়ীতে উঠে রওনা হলো।  
আপনি কাগজটা দেখলেন না।  
বাসায় প্রায় পোঁছে যাচ্ছি, সেইখানেই দেখবো।  
বাসার সামনে এসে গাড়ীতেই জীবন দেখলো এপয়নমেন্ট লেটারটি, দেখে বললো খুব ভালো হয়েছে।  
নদী হেসে বললো, আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেবো।  
আরেহ না না ধন্যবাদের কিছু নেই, ওরা সাধারণত এই ধরণের জবে এড দিয়ে যাচাই বাচাই করে তারপর নেয় কিন্তু ব্যাংকিং এক সমস্যায় পড়ে আমার রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করেছে।  
এরপরেও আপনাকে ধন্যবাদ।  
আপনাকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা।  
নদী খিল খিল করে হেসে দিলো।

হ্যালো বাবা।  
কিরে মা কেমন আছিস আজ এতো রাতে ফোন দিলি, সব কিছু ঠিকঠাক আছে তো?  
বাবা তুমি এতো উতলা হচ্ছো কেন, সব ঠিকঠাক আছে, একটা সুখবর দেবো বলে ফোন দিয়েছি।  
তাই, কি সুখবর বল শুনি?  
বাবা আমি এইখানকার সেইন্ট পিটার্স ইউনিভার্সিটিতে চাকরী পেয়েছি।  
কি বলিশ, ইউনিভার্সিটিতে চাকরী পেয়েছিস, তা কেমন চাকরী, কতো পাবি?  
রেজিস্টারার পদে আর বেতন ট্যাক্স বাদ দিয়ে সতেরশো পাউন্ড।  
তাই, তা তো অনেক টাকা।  
বাবা দেশের হিসাবে অনেক কিন্তু এইখানে মাত্র সতেরশো।  
ওখানেই এই টাকা কেউ পাইনা সহজে, আমি জানি, হাসতে হাসতে নদীর বাবা বললো।  
বাবা তুমি খুশি তো?  
হাঁ মা অবশ্যই খুশি, আমি তোর উন্নতি চাই মা।  
দোয়া করো বাবা।  
সব সময় করি।  
বাবা, মা কই?  
এইতো আছে, কথা বলবি?  
জি বাবা দাও, তোমাকে আল্লাহ্‌ হাফেজ।  
হ্যালো, নদীর মার গলা শুনা গেলো।  
মা আমি একটা ইউনিভার্সিটিতে চাকরী পেয়েছি।  
সত্যি, খুব খুশি হলাম।  
হাঁ মা।  
খুব ভালো, তা তুই কি শেষ পর্যন্ত ওখানেই থেকে যাবি চিন্তা করলি?  
হাঁ মা, তোমাকে তো বলেছি।  
ঠিক আছে তোর যা খুশি তুই কর।  
মা আমি রাখছি।  
ঠিক আছে।

নদী কিচেনে গিয়ে চাল নিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে চুলাতে ভাত চড়ালো আর নিজে কিছু ভেজিটেবেল নিয়ে কাটতে লাগলো, কলিং বেলের শব্দে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিলো, স্কুল থেকে নাবিলা এসেছে, নাবিলা ঘরে ঢুকেই নদীকে জড়িয়ে ধরলো।  
মামনি কেমন আছো, মন খারাপ দেখছি, কি হয়েছে?  
নাবিলা চুপ করে রইল।  
নদী এক হাতে স্টিলের লাঠিতে ভর দিয়ে আরেক হাতে নাবিলাকে নিয়ে কিচেনে নিয়ে গিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দিলো আর নিজে চেয়ার টেনে পাশে বসলো।  
কি হয়েছে মামনি, আমাকে বলো।  
আগামীকাল স্কুলে মাদের মেলা হবে, সবাই যাবে মাকে নিয়ে।  
তো কি হয়েছে?  
আমার মম তো নেই, আমি কাকে নিয়ে যাবো?  
কেন, তোমার ড্যাড যাবে, নদী হেসে জবাব দিলো।  
না, ড্যাড এলাউড না।  
তাহলে কি করা যায় তুমি বলো।  
নাবিলা নদীর দিকে তাকিয়ে রইল।  
কি ভাবছো?  
আন্টি, তুমি আমার মা হয়ে স্কুলে যাবে?  
নদী থমকে গেল, নিজেকে ঠিক করে বললো, তোমার স্কুলের প্রিন্সিপ্যালের ফোন নাম্বার আছে তোমার কাছে?  
নাবিলা স্কুল ব্যাগ খুলে খুঁজে একটা ডায়রি বের করে দিলো।  
নদী খুলে দেখলো স্কুলের টিচারদের লিস্ট আর নাম্বার লেখা আছে।  
মামনি তুমি রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসো আমি স্কুলে কথা বলে দেখি, ঠিক আছে?  
ওকে বলে নাবিলা নিজ রুমে চলে গেল।

নদী ফোন করে স্কুলের প্রিন্সিপ্যালকে সব খুলে বলে অনুমতি চাইলো, প্রিন্সিপ্যাল নিজেই আমন্ত্রণ জানালো নদীকে, নদী ধন্যবাদ দিয়ে ফোন কেটে দিলো।  
ভাত হয়ে গেছে দেখে নামিয়ে, ভেজিটেবেল চুলায় চড়িয়ে দিলো।  
মেয়ে নেমে এলে নদী বললো, সুইটি, আমি কাল স্কুলে তোমাকে নিয়ে যাবো।  
রিয়েলি, মেয়ের চোখে মুখে আনন্দ।  
হাঁ মামনি।  
নাবিলা নদীকে জড়িয়ে ধরলো।  
নদী নাবিলার মাথায় হাত ভুলিয়ে দিয়ে বললো, খিদে লেগেছে তোমার?  
মাথা নেড়ে হাঁ সূচক জবাব দিলো নাবিলা।  
ওকে তুমি বসে পড়ো, আজকে রাইস দিয়ে ভেজিটেবেল আর বিফ খাবো আমরা, জীবন গতরাতে বিফ রান্না করেছিলো আর তাই নদী ফ্রিজ থেকে বের করে ওভেনে গরম করতে দিলো।  
নদী দুইটা প্লেট, বাটি, ডিস ওয়াসিং মেসিনে দিয়ে ওয়াস করে নিয়ে টেবিলে সাজিয়ে দিলো আর বাটিতে করে ভাত, ভেজিটেবেল আর বিফ নিয়ে খেতে বসলো নাবিলার সাথে।  
খেতে খেতে নাবিলার সাথে এইটা ওইটা নিয়ে কথা বলতে লাগলো নদী, খাওয়া শেষে নদী খালি প্লেইট বাটি গুলো ডিশ ওয়াসিং মেসিনে ঢুকিয়ে দিয়ে অটোমেটিক সুইচ চেপে দিলো আর নিজে গেল ড্রয়িং রুমে নাবিলাকে নিয়ে টিভি দেখার জন্য।

সন্ধ্যায় জীবন এলো অফিস থেকে একগাদা শপিং নিয়ে, নদী হেল্প করতে লাগলো সব গুলো গুছিয়ে রাখতে, ঘরের দরকারি সব কিছুই এনেছে জীবন।  
নদী, আপনি আমার অফিস ব্যাগটাতে একটা খাম আছে সেইটা বের করুন প্লিজ।  
জি, বলে নদী ব্যাগটা খুলে খামটা বের করে জীবনকে দিতে গেলে জীবন বললো, ওইটা আপনার খুলে দেখুন।  
নদী উল্টেপাল্টে দেখলো খামটা, কোর্ট জাজের সিল দেওয়া, খুলে ভিতর থেকে একগাদা কাগজ বের করে পড়তে লাগলো, একটা হলো ডিভোর্সের অরিজিনাল কপি, একটা দুই লাখ পাউন্ডের চেক রনি কোর্টে জমা দিয়েছে আর কেইসের রায়।  
জীবন আমার তো নিজের কোন একাউন্ট নেই, কি করবো?  
ঘরে ব্যাংকার রেখে এই প্রশ্ন করছেন, হাসতে হাসতে জীবন বললো, কাল আমার সাথে ব্যাংকে গিয়ে একাউন্ট করে জমা দিয়ে দেবেন।  
কালকে তো পারবোনা, কাল আমি নাবিলার স্কুলে যাবো।  
নাবিলার স্কুলে কেন?  
ওর স্কুলে মাদের নিয়ে একটা অনুষ্টান আছে।  
জীবন চমকে উঠলো, খানিক চুপ থেকে বললো, মেয়েটা আপনাকে ধরেছে নিশ্চয়।  
হুম আর আমি ওর প্রিন্সিপ্যালের কাছ থেকে পারমিশন নিয়েছি।  
ঠিক আছে অসুবিধা নেই, ওখানকার প্রোগ্রাম তো বারোটা পর্যন্ত, এরপর না হয় ব্যাংকে চলে আসবেন।  
ঠিক আছে, আপনি এখন যান, ফ্রেস হয়ে নিন।

পরদিন সকালে নদীর ঘুম ভেঙ্গে গেল জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো চোখে লেগে, নদী আরেক পাশ ফিরে শুলো, নাবিলার দিকে তাকালো, ওর দিকে তাকিয়ে নিজের মনটা খুশি মনে হলো নদীর।  
নদী উঠে বসে পড়লো, হাত দিয়ে পর্দাটা খুলে দিলো, পুরা রুমটা আলো হয়ে গেল মিষ্টি আলোতে, কিছু আলোক ছটা জানালা গলে আসলো, নদীর খুব ভালো লাগে এমন আলো, হাত মেলে ধরলো সেই আলোর মাঝে, খেলতে লাগলো আলো নিয়ে, হঠাৎ গা গুলিয়ে উঠলো ওর, বমি বমি ভাব হতে লাগলো, চেষ্টা করলো দমাতে কিন্তু বেগতিক দেখে স্টিলের লাঠিটা নিয়ে পড়িমরি করে ছুটলো নদী বাথরুমের উদ্দেশ্যে।

———– চলবে।

ছবিঃ Google.

 

নারী দিবস বছরে একবার নয়, প্রতিদিন হোক নারীদের দিন, নারী আমার শ্রদ্ধা জানবেন।

লেখক।

---

Comments: 22 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a7%a7%e0%a7%a8%e0%a6%a4%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/#comments
