# নদী (১০ম পর্ব)

- Author: [ইঞ্জা](https://sonelablog.com/author/einzza/)
- Published: 2017-02-14T08:51:16+00:00
- Updated: 2017-02-14T12:53:58+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/

---

![fb_img_1486807267949](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/02/FB_IMG_1486807267949-208x300.jpg)

 

 

 

এক সপ্তাহ পরঃ

ফুঁফিয়ে কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল নদীর, আবছা অন্ধকারে চোখ পিটপিট করলো নদী, ভাবলো ঘুমের গোড়ে হয়ত এমন লেগেছে, পাশ ফিরে আবার শুলো আর দেখলো অন্য পাশের বেডে নাবিলা উঠে বসে আছে, নদী হাত বাড়িয়ে টেবিল ল্যাম্প অন করে দিলো।  
মামনি কি হয়েছে, তুমি উঠে বসে আছো কেন, নদী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো।  
নাবিলা আঙ্গুল তুলে নদীর পাশের জানালা দেখালো।  
নদী মুখ ঘুরিয়ে তাকালো জানালার দিকে, বাইরের আলোয় গাছের ছায়ার নাচন দেখে হেসে দিলো আর বললো, সুইটি ওগুলো গাছের স্যাডো, তুমি শুয়ে পড়ো আমি পর্দা টেনে দিচ্ছি, বলেই হাত বাড়িয়ে পর্দার সুতা টান দিয়ে পর্দা বন্ধ করতে লাগলো।  
আন্টি।  
উঁ বলো।  
আমি তোমার সাথে বেডে শুতে পারি?  
ওলে মারে, শুবে আমার সাথে, আসো বলেই নদী জায়গা করে দিলো।  
নাবিলা বেডের উপর উঠে এলে নদী ওকে বুকে টেনে নিলো আর এক হাতে ল্যাম্প নিভিয়ে দিলো।  
ভয় পেয়েছো।  
উঁ।  
সরি মা, পর্দা বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলাম।  
তুমি মাইন্ড করছো নাতো।  
না মা, আমি খুব খুশি, এখন ঘুমাও।  
নাবিলা একটা হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো নদীর গলা।

আপনি মেয়েকে রাতে একলা রাখেন কেন, ও তো ভয় পায়, নদী খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেটে এসে ড্রয়িং রুমে বসেই জীবনকে জিজ্ঞেস করলো।  
কাল রাতে কি ভয় পেয়েছে ও?  
হুম, শেষে এসে আমার সাথে শুলো।  
কি বলেন, আপনার কোন অসুবিধা হয়নি তো?  
না না কি অসুবিধা হবে?  
ও তো ভয় পেলে আমার রুমে চলে আসে, আপনাকে পেয়ে আর আসেনি আমার কাছে হয়তো।  
যখন ও ভয় পায় তাহলে কেন একা রাখা?  
মেয়ের ভয় ভাঙ্গানোর চেষ্টা আর এইটাই নিয়ম।  
এইটা কেমন নিয়ম, মেয়ে ভয় পায় আর উনি তবুও মেয়েকে একা রাখেন।  
এইটা এইখানকার নিয়ম নইলে ও জীবনে যে একা চলতে হয় তা শিখবে কি করে?  
ওহ আচ্ছা, কঠিন নিয়ম।  
আপনি এক্সারসাইজ গুলো কি করছেন?  
হুম করছি।  
আপনার তো আজকে পায়ের প্লাস্টার খুলবে, এক ঘন্টা পর আপনাকে নিয়ে হাসপাতালে যাবো।  
ঠিক আছে, আসলে এই প্লাস্টার গুলো বইতে পারছিনা।  
জীবন হাসলো, আজকের পর আর সমস্যা হবেনা।  
সেলফোন বেজে উঠাই জীবন পকেট থেকে সেলফোন নিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন কেটে নদীর দিকে ফিরে বললো, আগামীকাল সকাল নয়টাই আমাদের কোর্টে যেতে হবে, রনির নামে যে কেইস চলছে আর আপনার ডিভোর্স কেইস দুইটারই রায় দেবে।  
এতো তাড়াতাড়ি, নদী আশ্চর্য হলো।  
এইটা ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ নয়।

চলুন আজকে আমরা বাইরে খাবো, জীবন বললো।  
ড্যাড কোথায় খাবে আজকে, নাবিলার মনে সরল প্রশ্ন।  
দেখি তোমার আন্টি কি খেতে চাই, নদী কি খাবেন বলুন?  
বাইরে যাওয়াটা কি ঠিক হবে, ঘরেই খাই।  
প্রতিদিনই তো বাইরে খাইনা, শুধু বন্ধের দিন খাই আর ভয়ের কিছু নেই, আপনি জানেন না আমি কিন্তু ব্ল্যাক বেল্ট ধারি।  
যেটা পড়ে আছেন সেইটা, নদী হাসতে হাসতে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো।  
জীবন প্রথমে থমকে গেল তারপর হা হা হো হো করে হেসে দিলো, সাথে নাবিলা বোকার মতো হাসতে লাগলো বাপের হাসি দেখে।  
না না আসলেই, সত্যি বলছি হাসতে হাসতে বললো জীবন।  
যদি ব্ল্যাক বেল্ট হোন তাহলে ওইদিন আহত হলেন কি করে?  
জীবন চুপ করে গেল একটু দম নিয়ে বললো, ওইদিন সুযোগই দেয়নি ওরা, পিছন থেকে হটাৎ কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে দিয়ে চেপে ধরে বেশ কয়েকজন মারতে থাকে, তাদেরই একজন কিছু দিয়ে মাথায় মারে আর আমি জ্ঞান হারাই।  
নদী শিউরে উঠলো ওইদিনকার কথা মনে করে।  
জীবন বলছে, ফাইটটা সামনাসামনি হলে হয়ত অন্য কিছু হতে পারতো।  
থাক থাক বাদ দিন ওইসব, তা কোথায় খাওয়াবেন বলুন?  
এই এক ঘন্টা লাগবে এইখান থেকে, একটা ভালো কাবাব হাউজ আছে, আপনার ভালো লাগবে।  
ঠিক আছে চলুন।

জীবন নদীকে নিয়ে প্রথমে হাসপাতালে গেল প্লাস্টার খুলার জন্য, প্লাস্টার খুলার পর ডাক্তার দেখিয়ে দুপুরে জীবন, নদী আর মেয়েকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে, রেস্টুরেন্টে পোঁছে জীবনরা ভিতরে প্রবেশ করে একটা টেবিল দখল করে বসলো।  
কি কি খাবেন বলুন, ওয়েটার মেনু দিয়ে গেলে তা নদীর দিকে বাড়িয়ে দিতে দিতে জীবন বললো।  
আপনিই অর্ডার দিননা।  
আরে আপনি প্রথম এলেন আমাদের সাথে খেতে, তাই আজ আপনি অর্ডার দেবেন।  
আচ্ছা আচ্ছা আমি আগে দেখি কি কি আছে, নদী হেসে বললো আর চোখ ভুলাতে লাগলো মেনুতে।  
কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে বললো, বাজেট কতো?  
হা হা হা হা করে হেসে দিলো জীবন।  
আরে হাসির কি আছে?  
আচ্ছা আচ্ছা কোন বাজেট নেই, আপনি অর্ডার দিন যা ইচ্ছে।  
আমার তো সব অর্ডার দিতে ইচ্ছে করছে, নদী বাচ্চাদের মতো করলো।  
অসুবিধা নেই যা বাঁচবে বাসায় নিয়ে যাবো, ওয়েটার আসাতে জীবন বললো, তিনটা বড় লাসসি দিতে।  
তাহলে আমার প্রিয় গুলা নিই, নদী বললো, ডোনা কাবাব, মাটন বটি কাবাব, কলিজি ফ্রাই এন্ড ব্রেইন ফ্রাই, ঠিক আছে?  
ওকে, জীবন ওয়েটার কে ডেকে অর্ডার দেওয়া শুরু করলো, ডোনা কাবাব তিনটা, বটি কাবাব, কলিজি ফ্রাই এন্ড ব্রেইন ফ্রাই দুই প্লেট করে, বটল অফ প্লেইন ওয়াটার, দ্যাটস অল।  
নান অর পারাটা?  
দুইটা বাটার নান আর তিনটা আলু পরটা।  
ওয়েটার ধন্যবাদ জানিয়ে চলে গেল, একটু পর আবার তিন গ্লাস লাসসি দিয়ে গেল যা দেখে নদী আশ্চর্য হয়ে গেল।  
এতো বড় পিতলের গ্লাস, নদী অবাক হয়ে স্বগতোক্তি করলো।

এই রেস্টুরেন্ট ইন্ডিয়ার বনেদি পাঞ্জাবী খাদ্য গুলো বানানোর স্পেশিয়ালিটি ধরে রেখেছে আর এই পিতলের গ্লাস দিয়েই ইন্ডিয়ার ধাবা গুলোতে লাসসি পান করে, জীবন জানালো।  
কিন্তু কাবাব বানানোর রেসিপি আসলে এসেছে মোঘলদের কাছ থেকে আর বিরিয়ানিও আসলে মোঘলদের প্রিয় রেসিপি।  
তাই, আমার জানা ছিলোনা, নদী বললো।  
এই রেস্টুরেন্ট নাবিলার প্রিয় জায়গা।  
ইয়েস আন্টি অল্ল দা ফুড ইজ সো ডিলিশাস।  
রিয়েলি, নদী নাবিলার চিবুক ধরে জিজ্ঞেস করলো।  
ইয়াপ, তুমি খুব লাইক করবে।  
ওকে।  
ওয়েটার এসে ওদের টেবিলে খাবার দিয়ে গেলে জীবন তুলে দিতে লাগলো নদী আর নাবিলার প্লেটে।  
নাবিলা লাসসির গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে বললো, ওয়াও সো টেস্টি আর তা শুনে নদী আর জীবন হেসে দিলো।  
নিন শুরু করুন, জীবন বললো।  
জি নিচ্ছি।  
ওরা খেতে শুরু করলে নদী দেখলো নাবিলা ফর্ক আর নাইফ দিয়ে নান কাটার চেষ্টা করছে কিন্তু না পেরে নদীর দিকে তাকালো।  
সুইটি, নান তো তুমি এইভাবে কাটতে পারবেনা, আমি ছিঁড়ে দেবো?  
নাবিলা হাঁ সুচক মাথা নাড়লে নদী নান ছিড়ে দিতে লাগলো যেন নাবিলা ভালো ভাবে খেতে পারে।

নদীর খুব ভালো লাগছে আজ বাইরে বের হতে পেরে আর প্রায় দের বছরের উর্দ্ধে হয় নদী বাইরের রেস্টুরেন্ট বা খাবার দোকানে খেতে এসেছে।  
নদী মাঝে মাঝে ন্যাপকিন দিয়ে নাবিলার মুখ মুছে দিচ্ছে দেখে জীবন মিটিমিটি হাসতে লাগলো।  
খাওয়া শেষে জীবন জিজ্ঞেস করলো, ডেজার্টে কি খাবেন?  
না না আর খাবোনা, পেট একেবারে ফুল হয়ে গেছে।  
এইখানকার কুলফি কিন্তু খুব মজার।  
কুলফি কি জিনিস?  
কুলফি চিনেন না, খুলফি এক ধরণের আইস্ক্রিম।  
আইস্ক্রিম, ওটা না খেয়ে কিভাবে যাই।  
জীবন হেসে নাবিলাকে জিজ্ঞেস করলো কি খাবে?  
চকলেট আইস্ক্রিম, নাবিলা আদুরে গলায় বললো।  
জীবন ওয়েটারকে ডেকে দুইটা কুলফি আর একটা চকলেট আইস্ক্রিমের অর্ডার দিলো।  
আপনার খুব ভালো লাগবে এদের কুলফি, আমার তো খুব ভালো লাগে, জীবন বললো।  
ধন্যবাদ আপনাকে, আমার দিনটি সুন্দর করার জন্য, আজ যেন আমি নতুন করে এই মাটির আলো দেখলাম, এতদিন যা ছিলো আমার জন্য শুধুই অন্ধকার, জানিনা আগামীকাল কোর্ট কি রায় দেয় কিন্তু আমি আর ওই ঘরে ফিরছিনা।  
আপনি ওগুলো নিয়ে ভাববেন না, আপনি নিশ্চিত থাকুন রায় আপনার পক্ষেই থাকবে, জীবন অভয় দিলো নদীকে।  
কিন্তু রনির কি বিচার হবে, নদীর প্রশ্ন?  
অবশ্যই হবে, ওর অবশ্যই জেল জরিমানা হবে, সাথে আপনি ক্ষতিপূরণবাবদ অর্থ পাবেন।

……………… চলবে।  
ছবিঃ Google

---

Comments: 28 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80-%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/#comments
