# ধর্ষন, যৌনাচার ও নৃশংসতা

- Author: [এস.জেড বাবু](https://sonelablog.com/author/s-z-babu/)
- Published: 2019-11-21T14:58:43+00:00
- Updated: 2019-11-21T14:58:43+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%8c%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%a8%e0%a7%83%e0%a6%b6%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a6%be/

---

**ধর্ষন-**  
এই একই ঘটনায় নারীর জাত যায় সমাজে  
পুরুষের জাত যায় বিচারে (আপাত দৃষ্টিতে)  
আর শিশুদের শেষ হয়ে যায় স্বপ্ন, শেষ হয় জীবন ।

অনিচ্ছাকৃত ভাবে জোড়পূর্বক ধর্ষিতা কোন নারী- ধর্ষনকালীন অসহায়ত্বের সত্য দোহাই দিয়ে ও সামাজিক কলংকের দাগ মুছতে পারেনা। সমাজের প্রায় শতভাগ কথিত বিবেকবান নারী পুরুষ তাকে ভিন্ন/কুলশিত চোখেই দেখে।  
প্রশ্ন হলো-  
যদিও এই অপকর্মের সমস্ত দোষগুণ ধর্ষক পুরুষের, তবুও একজন অসহায় ধর্ষিতা নারীর প্রতি সহমর্মীতার বদলে কেন বাঁকা দৃষ্টি সমাজের ?

**যৌনাচার- **( বর্তমান সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা )  
প্রাপ্ত বয়স্ক এবং মানষিক প্রতিবন্ধী নয় এমন নারী পুরুষের সম্পূর্ণ সম্মতিক্রমে, দুইজনের ইচ্ছাকৃত শারীরিক মিলন মানে অবৈধ যৌনাচার।  
কিন্তু নারীর সম্মতির দোহাই দিয়ে- পুরুষ ও পরবর্তিতে চলমান বিচারের হাত থেকে রেহাই পায় না।  
প্রায়ই নিউজ হেডলাইন দেখা যায়,  
“বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর যাবত ধর্ষন”  
মামলার আসামী- পুরুষ,  
আর ভিকটিম- নারী।

খোলা চোখে দোষী কে ?- পুরুষ একা ?

যদিও এক্ষেত্রে বিয়ের প্রলোভন দেখানোর দায়ে পুরুষ দোষী এবং বিয়ের লোভে পড়ে শরীর বিলিয়ে দেয়ার কারণে ধর্ম, সমাজ ও বিবেকের দৃষ্টিতে নারীও একই অপরাধে সমান অপরাধি।

বিয়ের প্রলোভন দেখালে, বেতন বাড়ানো কথা বললে বা পরীক্ষায় অধিক নাম্বারের প্রলোভনে, কাপড় খুলতে হবে কেন ?  
ভুল করে ?  
তাই বলে দিন, মাস, বছর যাবত লোকচক্ষুর আড়ালে শতশত বার ?

> সমাজে নারীদেহ লোভী পুরুষের তুলনায় অবাদ যৌনতায় লোভী নারীর সংখ্যা হয়ত কম তবে শূণ্য নয়।  
> একজন পুরুষের আত্ম-মর্যাদা নষ্ট করার জন্য বা ঐ পুরুষের সম্পদের লোভে- শত্রুতা বশত, কোন নারীর দ্বারা নিজের শরীর/সম্ভ্রম লুটিয়ে দেয়ার মত “পরিকল্পিত ফাঁদ” কাল্পনিক নয় বরং চিরায়ত বাস্তবতা।

উভয় পক্ষের ইচ্ছাকৃত একাধিকবার / দীর্ঘমেয়াদী অবৈধ শারিরীক মিলন- ধর্ষন নয়, এটা উভয়ের দ্বারা সংঘটিত ঘৃণিত অনৈতিক যৌনাচার- বিবাহিতদের ক্ষেত্রে- পরকিয়া।

এইরকম ঘটনার হেডলাইন হওয়া উচিত-  
> “বিয়ের লোভে পড়ে ও বিয়ের লোভ দেখিয়ে দুই বছর যাবত অবৈধ যৌনাচার”  
> “অধিক বেতনের লোভে পড়ে সিনিয়র কুকুরের লালসায় দেহদান”  
> “পরীক্ষায় পাসের আশায়, খচ্চর শিক্ষকের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক।

বাস্তবে- ঐ দুজন নারী পুরুষ সমাজ, আইন ও ধর্মের কাছে অসামাজিক / অনৈতিক অপরাধে সমান অপরাধী হওয়া উচিত।

প্রশ্ন হলো-  
সুদীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষনের অপরাধে, ধর্ষক হিসেবে পুরুষের আইনগত শাস্তি হলে, একই অপরাধে, লোভের বসবতী হয়ে, ইচ্ছাকৃত যৌন ক্ষুধা নিবারণের জন্য ঐ নারীর শাস্তি হবেনা কেন ?

পুরুষের আর্থিক জরিমানা হলে নারীর হবে না কেন ?  
কোন ক্ষেত্রে লোভে পড়লে নারীদের পাপ হয় না ?

টাকার লোভে দেহ বিলিয়ে দিয়ে এক শ্রেণীর নারী পতিতা হলে, বিয়ে, বেতন, নম্বরের লোভে শরীর বিক্রেতা নারীকে কি বলবেন ?

**নৃশংসতা-**  
এইতো গেল প্রাপ্তবয়স্ক নরনারীদের হিসেব- অন্যদিকে- কালের সবচেয়ে জঘন্যতম একটা বিষয় হলো “শিশু ধর্ষন”

কথার প্রয়োজনে ধরে নিলাম, একজন স্বল্পবসনা নারী, গভীর রাত্রিতে, একাকী অসহায় অবস্থায় দেখে যে পুরুষের ভেতর “পশুসম আত্মা” জাগ্রত হলো, লম্বা হয়ে ঝুলে থাকা জিভে লালার ঝর্ণা বয়ে গেল, এমনকি ভাদ্র মাসের কুকুরের ন্যায় পিছু নিয়ে সুযোগ বুঝে আক্রমন করলো- সে ধর্ষক।  
অথবা-  
একজন প্রবাসীর স্ত্রী, একজন শিক্ষকের বাধ্যগত ছাত্রী বা একজন অধিনস্থ চাকুরীজিবী নারীর আনুগত্যের প্রতি, নিজের বৌ, মেয়ের কথা ভুলে- যে পুরুষের “শুকুনী নজর” পড়ে এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে অথবা ছলে, বলে, কৌশলে জোড় পূর্বক শারিরীক মিলনে বাধ্য করে- সে ধর্ষক।

তাহলে একজন প্রাইমারী স্কুলের ছাত্রী- যে আজও নারী হয়ে উঠেনি, যাকে দেখে কথিত পৌরষিক আত্মা জাগ্রত হওয়ার বদলে স্নেহ, মায়া, মমতা, ভ্রাতৃত্ববোধ বা পিতৃত্ববোধ জাগ্রত হওয়ার কথা- তেমন একটা শিশুর উপর অমানবিক নির্যাতন কি শুধুই ধর্ষন ?  
সেই নৃশংস শিশু নির্যাতনকারী পুরুষ কি শুধুই ধর্ষক ?

নাহ- শিশুদের উপর পৈশাচিক লালশা চরিতার্থকারী শুধুই ধর্ষক নয়, সে “জীবন্ত মাংসাসী হায়েনা”  
আমি বলবো- চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত “চারিত্রিক সনদে ওদের জন্য আলাদা অপশন থাকা উচিত- “নেড়ি কুকুর” “ভাদ্রমাসী পাগলা কুকুর” এবং চেয়ারম্যান ওই অপশনের একটাত টিক চিহ্ন দেবেন।

প্রশ্ন হলো-  
একজন “নারীলোভী ধর্ষক” এর জোড়পূর্বক ধর্ষনের শাস্তি,  
লোভ দেখিয়ে বা লোভে পড়ে “ইচ্ছাকৃত অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনকারী”দের শাস্তি বা পরকীয়ার শাস্তি  
আর  
একজন শিশুর উপর “পৈশাচিক নির্যাতন” কারী হায়েনার শাস্তি এবং অপরাধের পরিমাপ আইন ও সমাজের চোখে ভিন্ন মাত্রার হবে না কেন ?

অপরাধের গভীরতা ও অপরাধের কারণভেদে নির্ধারিত হউক ন্যায় বিচারের মানদন্ড।

সামাজিক ভাবে  
> ইভটিজিংয়ের কঠিনতম ও অবশ্যই জনসম্মুখে লজ্জ্যাজনক শাস্তি নিশ্চিত হলে,  
>জনপ্রতিনিধি কর্তৃক ধর্ষকদের চারিত্রিক সনদে নির্দিষ্ট কলামে প্রমান সাপেক্ষে ধর্ষক / পরকীয়ায় আসক্ত ইত্যাদি বিশেষণ লিখা বাধ্যতামূলেক করা হলে,  
>বিবাহ বহির্ভূত ইচ্ছাকৃত অনৈতিক সম্পর্কের জন্য “কর্মস্থল থেকে বাধ্যতামূলক” অব্যহতি দেয়া হলে  
এবং  
>শিশু ধর্ষনের ক্ষেত্রে ধর্ষকের স্থাবর অস্থাবর যাবতীয় সম্পদ যদি থাকে অথবা ধর্ষকের পৈত্রিক সম্পদের প্রাপ্য সমস্ত অংশ তাৎক্ষণিক ধর্ষিতা শিশুর নামে হস্তান্তরসহ-  
প্রতিটি বিচারের ক্ষেত্রে অপরাধ ভেদে চলমান আইনে জেল, জরিমানা, মৃত্যূদন্ড কার্যকর করা হলে- শুধু মাত্র বিচারের ভয়ে আশি শতাংশ উল্লিখিত অপরাধ কমে যাবে।

যে বিচারের রায় নির্লজ্জভাবে হজম যোগ্য- তেমন বিচারে হবু অপরাধিরা ভয় পায় না।  
বরং কিছু কিছু সামাজিক হাস্যকর বিচার ব্যাবস্থা ও বিচারের রায় দেখে “হবু ধর্ষকেরা” উৎসাহ ও পায়।

আপনি বিচারক, ধর্ষনের শাস্তি হিসেবে দশ/বিশ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিলেন- তো আপনি পরবর্তিতে কোন সচ্ছল অগোছালো/নিয়ন্ত্রনহীন পরিবারের বিগড়ে যাওয়া উড়নচন্ডি ছেলেটাকে, ভবিষ্যত ধর্ষক হিসেবে সায়/সাহস দিয়ে গেলেন। খুশি হতাম যদি পরের বার ধর্ষনের ভিকটিম আপনার মত বিচারকের পরিবারের হতো এবং উৎকোচের টাকাটা আপনাকেই গুনতে দেয়া হতো।

> > ধর্ষনের ভোগান্তি টাকার বিনিময়ে নিরাময় যোগ্য নয়। ভয়ংকর বিচারের ভয়ে, হেন অপকর্ম করার আগে, থেমে যেতে পারে ভবিষ্যত ধর্ষক।
>
>
>
> > উভয়ের সম্মতিতে, দিনের পর দিন লাগাতার অবৈধ সম্পর্কের জন্য পুরুষ কিংবা নারী এককভাবে দোষী নয়। সমান অপরাধের অপরাধি দুজন।
>
>
>
> > শিশু ধর্ষনকারী কোন ভাবেই মানুষের পর্যায়ে পড়ে না। দেখতে মানুষের মত হলেও ওরা মানুষ নয়।  এদের একমাত্র শাস্তি মৃতূদন্ড হওয়া উচিত।
>
>
>
> আমি প্রায়ই একটা কথা বলি- “আজকের ইভটিজার আগামি দিনের ধর্ষক। তাই সময় থাকতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার আশপাশের এলাকা এবং হাটে বাজারে, গ্রামে এসব ইভটিজার পর্যায়ের উঠতি ধর্য়কদের সামাজিক ভাবে প্রতিহত করা উচিত।

আমরা নীতি নির্ধারক মহলের সঠিক পরিকল্পনার অপেক্ষায়,  
আমরা সুদিনের অপেক্ষায় ॥

–  
১৮/০৯/২০১৯  
–  
-প্রতিকি ছবি

---

Comments: 14 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%8c%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%93-%e0%a6%a8%e0%a7%83%e0%a6%b6%e0%a6%82%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a6%be/#comments
