# ধর্ষণ মামলাগুলো আর আমাদের গতানুগতিক চিন্তাভাবনা

- Author: [রিতু জাহান](https://sonelablog.com/author/mounata/)
- Published: 2021-08-16T04:54:06+00:00
- Updated: 2021-08-16T17:31:30+00:00
- Category: [বিবিধ](https://sonelablog.com/category/misc/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81/

---

 

জনসংখ্যার ভারে জর্জরিত বাংলাদেশ। সে দেশে আইনের প্রয়োগ ও তা মানার ক্ষেত্রে অনিহাও সর্বত্র বিরাজমান। যারা মানে তাদের সংখ্যা তাই যেনো খুব নগন্য। সামাজিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হচ্ছে সমাজে আইন ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এদেশেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত পুলিশ বাহিনী। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এদেশের পুলিশবাহিনী সদস্যের সংখ্যা অনেক কম। এদের প্রশিক্ষণ সুবিধা অপ্রতুল, আধুনিকায়ন সুযোগ সুবিধা এমনকি বাসস্থানের কোনো নিরাপদবেষ্টিত পুলিশ কোয়ার্টার নেই। তাই আরো ভালো, আরো ভালো কাজের আশা করাটা অনেকটা কষ্টসাধ্য বটে৷ অনেকক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোতে তদন্ত কর্মকর্তা পারিবারিক নিরাপত্তার কথাও ভেবে থাকে এতে করে মামলা পরিচালনা ব্যাহত হয়।

কখনো কখনো আমরা দেখি চেকপোস্ট নামক যায়গাগুলোতে জনগণের তীব্র আপত্তি। মনোভাবটা তখন এমন যে তার চৌদ্দপুরুষের মানসম্মান সব ধুলোতে মিশে গেলো।

হ্যাঁ, এ ক্ষেত্রে আপনি জনগন হিসেবে যেটা করতে পারেন তা হলো আপনি কোনো তৃতীয় ব্যাক্তিকে সে সময় কাছে রাখার দাবি রাখতে পারেন৷

আমরা দেখি পাবলিক প্লেসে তল্লাশির সময় তারা স্পষ্টই পুলিশকে গালি দিতে থাকেন। একটা জিনিস মনে রাখা উচিৎ, তিনি পুলিশ হলেও রক্তে মাংসে মানুষ। আপনার এই গালিটা উচ্চবাচ্য শব্দটা সে সহ্য করতে নাও পারে।

মহান স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত অপরাধ বিষয়বস্তুগুলো সামনে আনলে দেখা যাবে, সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি অবনতির দিকেই যাচ্ছে। অপরাধ বৃদ্ধির প্রবণতা এ দেশের মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তারা প্রায়শই তাদের জীবনে হুমকি অনুভব করছে। যুব সম্প্রদায় কর্তৃক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে খতিয়ান ও অপরাধের কলরবকে যথেষ্ট বৃদ্ধি করেছে। হেরোইন, মদ মোবাইল ফোনের পর্ণ ইত্যাদিতে আসক্ত শিক্ষিত ব্যক্তির সংখ্যাও কম নয়৷

অপরাধ একটি স্বাধীন সত্তা ও আপেক্ষিক ধারণা।দণ্ড বিধানে যেসব কাজের শাস্তির বিধান রয়েছে সেগুলোকে রাষ্ট্রের জন্য অনিষ্টকর আখ্যায়িত করা হয়।, কেননা ঐ কাজগুলো অসামাজিক ও নৈতিকতাবিহীন। কিন্তু দণ্ডবিধির প্রণেতা গণ স্বীকার করেন যে রীতিনীতি বহির্ভূত অসামাজিক ও নৈতিকতা বিরোধী সকল কাজকে উক্ত বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বহু নীতি সম্বন্ধীয় কাজ আছে যা দণ্ডবিধিবলে শাস্তিযোগ্য নয় অথচ দণ্ডবিধির অপরাধের চেয়েও নিকৃষ্ট।

যেমনঃ একজন দরিদ্র ব্যক্তি যদি অনাহার সহ্য করতে না পেরে কোনো ধনী ব্যক্তির বাড়ি থেকে ভাত কেড়ে নিয়ে খায় দণ্ডবিধিতে তাকে চুরির অপরাধে তাকে শাস্তি দেবার বিধান রয়েছে।

অন্যদিকে অনাহারক্লিষ্ট ব্যক্তিকে যদি কোনো ধনি ব্যক্ত অন্ন-বস্ত্র দিয়ে সাহায্য না করে তাহলে দণ্ডবিধি দ্বারা উক্ত ধনী ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে পারে না। যদিও আপাতদৃষ্টিতে দরিদ্র ব্যক্তি উক্ত চুরির চেয়ে ধনী ব্যক্তি কৃতক উল্লেখিত কাজ নিকৃষ্টতম।

কে অপরাধী? বা কাকে অপরাধী বলা যায়?

আসলে এক কথায় হিসেব করে দেখলাম এমন প্রশ্নের উত্তর দেয়া বাস্তবিকই কঠিন।

আপাতদৃষ্টিতে যে অপরাধ করে সে অপরাধী।

‘টারডের’ মতে অপরাধীরা সমাজের নিকৃষ্টতম পদার্থ স্বরূপ।

আদালত শুধুমাত্র যাদের দণ্ড দিয়েছেন শুধুমাত্র তারাই কি অপরাধী?

মনে হয় না। যদিও আইন বলে রায় না হওয়া পর্যন্ত বা অপরাধীর অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী বলা দণ্ডনীয় অপরাধের মধ্যে পড়ে।

বলা হয়ে থাকে সমাজ যতোদিন থাকবে ততোদিন সমাজে অপরাধ থাকবে। অপরাধ আচরনের কারণ অনুসন্ধান বিষয়ক গবেষণার এক সময় সিজার লম্ব্রোসো ও তার সুযোগ্য ছাত্র এনরিকো, ফেরি জন্মগত অপরাধী তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণের এক ব্যাপক কাজ। একে মোটামুটি দুটি অংশে ভাগ করা যায়। তা হলো নিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ ও অপরাধ অন্ববেক্ষণ।

একজন মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রথমত একটা মামলার প্রথম বিচারকর্তা হিসেবে আমরা ধরতে পারি।

লতানো ফলধরা যে সমস্ত গাছ আর সে গাছ কেমন করে বেড়ে উঠবে তা নির্ভর করে মালীর উপর তেমনি মামলার অগ্রগতির ব্যাপারটাও নির্ভর করে সে পুলিশ কর্মকর্তার মামলা তদারকির উপর৷ তাই বলা যায় প্রথমতঃ চার্জশিট এবং ফাইনাল রিপোর্টের ব্যাপারে জবাবদিহিতার বন্দোবস্ত থাকা উচিৎ সে কর্মকর্তার।

এজন্য দরকার সেনসেটিভ মামলাগুলো সঠিক হস্তান্তর সঠিক কর্মকর্তার কাছে। দরকার এ বিষয়ে প্রচুর পড়াশুনা এবং সর্বপ্রাচীন শক্ত মনোবল। যেনো কোনো অপশক্তি তার মেরুদণ্ডকে ভাঙতে না পারে।

ধর্ষণ ও খুনের মামলায় একবার অভিযোগনামা দাখিল হলে তার তদন্তের ভার কোনো কর্মকর্তার উপর পড়লে তাকে হওয়া উচিৎ নিরপেক্ষ। সে হবে তখন মামলার বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষের।

ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় আপোষ নামক শব্দের কোনো জায়গা নেই এটা তাকে আগে মানতে হবে।

ভিকটিমকে সর্বোচ্চ সেবাটুকু দেবার প্রত্যয় থাকতে হবে।

মনে রাখতে হবে মৃতের হয়ে আপোষ করার অধিকার কারো নেই। এমনকি জন্মদাত্রী মায়েরও না।

যেটা বলছিলাম, অপরাধ অন্বেষণের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা, মামলা সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করা, বিচারে সোর্পদ করা, কোর্টে বিচার কার্যে মামলা সঠিকভাবে পরিচালনা করা। এসব প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালিত হলে অপরাধী শাস্তি পাবে।

দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে স্বাভাবিকভাবেই যে কোনো দেশে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। মোটামুটি সব ধরনের অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। সেই তুলনায় দেখা যায় বাংলাদেশে চুরি, ডাকাতি, খুন এ জাতীয় অপরাধের চাইতে নারী ও শিশু নির্যাতনের অপরাধের হার তথ্য বিবরণী মতে অনেক বেশি। তার প্রধান কারণ, আইন প্রণেতাদের আইন প্রণয়নে কঠিন শাস্তির বিধান ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনের বিধানে আইনের ফাঁক থাকায় এক শ্রেণীর মানুষ এই আইনকে তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। যার প্রেক্ষিতে তথ্য বিবরণীতে নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধ হঠাৎ করেই বেশি বৃদ্ধি পায়। আর এ সকল মামলা রুজু থেকে শুরু করে তদন্তকারী সংস্থা, তদন্তকারী কর্মকর্তা, তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা, কোর্ট পুলিশের কার্যক্রম, পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যক্রম প্রতিক্ষেত্রে দুর্বলতা থেকে যায়। উৎপ্রেক্ষিতে রুজু কৃত মামলার সঠিক তদন্ত থেকে শুরু করে সুষ্ঠু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় না।

জনসংখ্যাবহুল বাংলাদেশে ধর্ষণ মামলাগুলোর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়ার জন্য মামলার জট একটা বড় কারণ। মামলা জট বলতে, বিচারক ও তদন্ত কর্মকর্তার সংখ্যা কম অভিযোগনামা বেশি। আর এ মামলা জোটগুলো কেনো হয় তা আমাদের ভাবনার বিষয়। কারণ, প্রকৃতঅর্থে ধর্ষণের শিকার ভিকটিম ন্যায়বিচার পাক এটা আমাদের কাম্য ও একমাত্র চাওয়া এখন।

প্রকৃত জোরপূর্বক ধর্ষন মামলাগুলো তদন্তে প্রথম বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ফুসলিয়ে(১৮ বছের  উর্ধ্বে) ধর্ষণ মামলাগুলো। ফুসলানো শব্দটা আর জোরপূর্বক শব্দটার মাঝে ব্যাপক পার্থক্য এটা আমাদের মানতে হবে।

আমরা দেখতে পাই অনেক সময় একজন পূর্ণ বয়স্ক মহিলা নিজের দুর্বলতায় একটা দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং নিজ কার্যসিদ্ধি হওয়ার একটা আশা রাখে। কিন্তু কোনো কারণে সে স্বার্থে আঘাত পড়লে বা সামাজিকভাবে ধরা পড়লে সে এ আইনের আশ্রয় নেয়। ফুসলিয়ে নামক ধর্ষণের অভিযোগ আনে। সে নিজের সন্মান বাঁচাতে মামলার আশ্রয় নেয়। সাধারণত ফুসলিয়ে ধর্ষণের অভিযোগটা আমরা দেখি সমাজে নামকরা প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির উপরেই বেশি আসে।

আমরা দেখি ধারা অনুযায়ী জোরপূর্বক ধর্ষন এবং ফুসলিয়ে! এ দুইটা ঘটনায় মামলার রুজু ধারা কিন্তু একই। ধারাটা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১)। আমি ফুসলিয়ে ধর্ষণ মামলাগুলোকে ভ্যাজাল মামলা বলি। ধর্ষণের ক্রাইম ক্লাসিফিকেশন নিয়ে সবাই একটু দ্বিধান্বিত। তাই নৈতিকতার বিবেচনায় ফুসলানো ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা স্বাভাবিকভাবেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিটির পক্ষেই যাবে। কারণ, এখানে ভিকটিম তার দুর্বলতা মেটাতে নিজ ইচ্ছায় একটা সম্পর্কে জড়ায়। সে ক্ষেত্রে এমন সব মামলায় আমরা অর্থনৈতিক আপোষ দেখি বেশি। তো এখানে দেখা যায় ভ্যাজাল মামলার ভিড়ে প্রকৃত মামলা দুর্বল হয়ে যায়। এমন ক্ষেত্রে এখন আমাদের মামলার ধারা নিয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে। কারণ, ফুসলিয়ে ধর্ষণ মামলার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত ধর্ষণ মামলাগুলো। যেটা খুব ক্ষতি হচ্ছে আমাদের।

কারণঃ আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারী-সেপ্টেম্বর ২০২০ এ রিপোর্টেড রেইপ ইন্সিডেন্ট ৯৭৫ টি (গড়ে ৩.৬) এবং ধর্ষনের প্রচেষ্টা ২০৪ টি ( গড়ে ০.৭৫)।

আশংকাজনক কথা হলো সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্থ ভিকটিমদের বয়স ১৮ বছরের নিচে ;

১. ৪০% রেইপ ভিকটিম  ( ২৮% এর বয়স ৭-১৮)।

২. ৪৩% ধর্ষনের প্রচেষ্টার শিকার ।

৩. ২১ জনের লাশ পাওয়া গেছে ( ৪৮% সর্বোচ্চ সিংগেল এইজ গ্রুপে)

৪. সুইসাইড করেছে ৭ জন (৫৮% সর্বোচ্চ সিংগেল এইজ গ্রুপে (১-৯ বছর বয়সি))

আর তদন্তের ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তার উচিৎ জোরপূর্বক ধর্ষন মামলার ক্ষেত্রে সে ঘটনার স্থান, ভিকটিমের জবান বন্দী, ভিকটিমের কাপড়, যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা।

ভিকটিমকে সাহস দেয়ার জন্য কাউন্সিল এর ব্যবস্থা করা। অনেক সময় সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, আইনের জটিলতা, কোর্টে বিচারকাজ বিলম্বিত হবার কারণে ভিকটিম মামলা থেকে সরে আসে। বিলম্বিত হবার কারণে নামমাত্র ক্ষতিপূরণ নিয়ে আপোষে চলে যায়।

মামলা পরিচালনার জন্য নমুনা সংগ্রহ এবং তা সংরক্ষণের জন্য কোর্ট মালখানা এক বিরাট ভূমিকা রাখে। কোর্ট মালখানায় জব্দকৃত মালামাল সংরক্ষণ করার জন্য অত্যাধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।

বাংলাদেশে কোর্ট মালখানাগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। পর্যাপ্ত পরিমাণে আধুনিক ব্যবস্থাপনা নেই বললেই চলে।

ইঁদুর কেটে সাবাড় করে ম্যাক্সিমাম নমুনা। তাই কর্তৃপক্ষের উচিৎ এদিকে সদয় দৃষ্টি দেয়া।

যাই হোক, এমন সব নাজুক মামলার জব্দ কৃত নমুনা সংগ্রহের জন্য আলাদা আলাদা বক্স ট্যাগ সিস্টেম করে রাখা উচিৎ। যেনো মামলার ডেট বাই ডেটে তা কোর্টে উপস্থাপন করতে সুষ্ঠু বিচারকার্যে তদন্ত কর্মকর্তার বেগ পেতে না হয়।

বর্তমানে আমরা নিজেদের অর্থনৈতিক সম্পদ রক্ষার চেয়ে নিজ সন্তানদের রক্ষা করার চিন্তায় অস্থির।

বাংলাদেশে ক্রিমিনালদের প্রোফাইলিং যা করা হয় তা অপ্রতুল। (আমাদের সেই লেভেলের সাইক্রিয়াটিস্ট ক্রিমিনোলোজিস্ট আছে কিনা সন্দেহ) তাই আমরা শিউর না আমাদের চারপাশে আসলে কোন ধরনের অপরাধী ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে অপরাধীরা ক্রিমিনাল সাইকোলজির কোন ক্যাটাগরিতে পড়ছে। তবে আমাদের দেশে ভিকটিমদের বয়স এবং আর্থ সামাজিক অবস্থা দেখে অনুমান করা যায় যে-

১. বর্বর সেক্সুয়াল এক্ট থেকে যৌন উত্তেজনা পেয়ে থাকে এমন কিছু সংখ্যক অপরাধী।

২. সুবিধাবাদী (যারা খুব সহজেই ভিকটিমের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পায়) এবং যারা বেশ এক্সপেরিয়েন্সড এবং এগ্রেসিভ ভাবেই যৌন চাহিদা মেটায়।

আমরা যেহেতু পরিপূর্ণভাবে ধর্ষকদের আর্থ সামাজিক এবং বয়স ভিত্তিক ডাটা পাচ্ছি না তাই ধর্ষক চিহ্নিত ও ধর্ষনের কারণ সঠিকভাবে ধারনা করা কঠিন। তাই-

এইটার উত্তর আসবে যদি খুব নিবিড় ভাবে একটা Qualitative Research করা যায়, যেখানে কথা বলতে হবে ধর্ষকদের সাথে, ধর্ষকদের সাপর্টারদের সাথে( অনলাইন ফ্যান যারা বলে রেইপ খারাপ কিন্তু নারীদের অশালীন পোশাক দায়ী…….), অনলাইন এক্টিভিটি যাচাই বাছাই করলেও আমরা দেখি নারীর প্রতি এদের বিদ্বেষ মনোভাব। এতে আমারা বিভিন্ন বয়সের এবং আর্থ সামাজিক অবস্থার পুরুষদের দেখতে পাই। তা থেকে যে মনোভাব বোঝা যাবে তাতেই অনেক খানি প্রোফাইলিং করা সম্ভব। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে Criminology নামের একটা বিভাগ আছে, যাদের কাজ এই টাইপের গবেষনা করা কিন্তু আমরা এখন পড়াশুনা নামক গবেষনা থেকে এতোটাই বিমুখ যে আমাদের সঠিক তথ্য উপাত্তের উপর গবেষণা করা লাগেনা। মৌখিক গতানুগতিক একটা ধারনা সেঁটে দিয়ে বসে থাকি।

আমরা অনলাইন এক্টিভিটি থেকে দেখতে পাই বিশাল এক জনগোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর পোশাককে দায়ী করছে। নারীর শালীনতার দিকে আঙ্গুল তুলছে। আমরা নারী এবং পুরুষদের কে একে অন্যর মুখোমুখি করে দিয়েছি। এজন্য নারী আন্দোলনকারী সংস্থা কম দায়ী নয়। একটা ঘটনায় ঢালাওভাবে গোটা পুরুষ জাতীকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেবার মানসিকতা আমাদের পাল্টানো উচিৎ এটা আমরা ভেবেই যেনো দেখছি না।

সাধারণ গড় করলে দেখা যায় গণধর্ষণগুলোতে আসামী হয় একেবারে নিন্ম শ্রেণীর মানুষ। যারা ফেসবুক এক্টিভিটি সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখে না। তারা পড়েও না এমন সব পুরুষবিদ্বেষী লেখা। এতে করে আমরা কি করছি? উল্টো তরুন সমাজকে দোষারোপ করে তাদের নারী বিদ্বেষী করে তুলছি।

আর তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে যেনো দেখিয়ে দিচ্ছি, এখন নারী মানেই অধিক সুবিধা প্রাপ্ত জনগোষ্ঠী এবং ক্ষমতার রদবদলের কাণ্ডারী। ফলে সামাজিক ভাবে একটা পাওয়ার ইমব্যালান্স এসেছে এবং নারীর বিনয়ী বা বাধ্য রুপের বদলে বহির্গামী অর্থাৎ সংসার ও তার প্রফেশন রুপ টা ভালো ভাবে নিচ্ছে না বিশাল একটা তরুন সমাজ। এটাও একটা বড় কারণ হতে পারে সাম্প্রতিক rape incident and violence aganist women এর পিছনে।

তারমানে দাঁড়ালো বিশাল এক তরুন সমাজকে আমরা নারীর বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছি।  সেক্ষেত্রে আমরা তথাকথিত শিক্ষিত তরুণ সমাজে এগ্রেসিভ ধর্ষণ বেশি দেখতে পাচ্ছি।

একজন আইন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগ পরিবারেরই সদস্য হিসেবে এমন সব মামলায় আমি যেটা দেখতে পাই এদের সবার ফোনে পর্ণ ভিডিওক্লিপ এর পাশাপাশি ধর্মীয় ওয়াজের ভিডিও ক্লিপ সমপরিমাণে থাকে।

ধর্মের বিকৃত ব্যাখায় তারা যেনো দিগ্বিদিকশূন্য।

এখন আমাদের ভাবতে হবে কি করে খুব দ্রুত এক একটি ধর্ষণ মামলা সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হতে পারে৷ প্রথমত ভাগ করে ফেলতে হবে ফুসলিয়ে নামক ধর্ষণ মামলাগুলো আর তার ধারা নিয়েও চিন্তা করার সময় এসেছে। অনেক সময় ভিকটিম তার পরিধেয় কাপড় না বুঝে ধুয়ে ফেলে বা নিজেও ধর্ষণের আলামত নষ্ট করে ফেলে৷ এ ক্ষেত্রে উচিৎ যিনি ধর্ষিতা তার সে সব আলামত সংরক্ষণ করা। আর এ বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনমূলক আলোচনাটা জরুরী বলে আমি মনে করি।

অন্যদিকে যেহেতু নারী শিশু নির্যাতন দণ্ডবিধি ৩৭৬ ধারাকে কেন্দ্র করেই বা ৩৭৬ ধারার কলেবর বৃদ্ধি করে একটি বিশেষ আইন তথা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন তৈরি হয়েছে সেই সাথে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছে কিন্তু মাঝে থেকে এই ধরনের অপরাধ তদন্তের জন্য স্পেশালাইজড কোসো সংস্থা গঠন করা হয়নি। যে স্পেশালাইজড সংস্থায় খুব দক্ষ তদন্তকারী কর্মকর্তা, মনোবিজ্ঞানে দক্ষ পরামর্শক, ডাক্তার, প্রভৃতি বিশেষজ্ঞের উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। তাহলেই হয়তো প্রকৃত ধর্ষণের ঘটনায় প্রকৃত ধর্ষকের সাজার মাধ্যমে ধর্ষিতা ন্যায়বিচার পাবে।

আসুন সচেতন হই সুন্দর জীবন গড়ি সুন্দর দেশ গড়ি।

 

,,রিতু জাহান,,রংপুর।

নোটঃ আমার এ কলামটা পড়ে দুইজন জজ তাদের অনেক রায় এর ব্যাপারে চিন্তা করেছিলেন। আইওদের এ ব্যাপারে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়াছিলেন।

---

Comments: 13 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a7%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81/#comments
