# দোল পূর্ণিমা

- Author: [অনুশঙ্কর গঙ্গোম্যাক্সিম](https://sonelablog.com/author/anupam/)
- Published: 2013-11-29T02:19:39+00:00
- Updated: 2013-11-29T02:19:39+00:00
- Category: [বিবিধ](https://sonelablog.com/category/misc/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2-%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%be/

---

সেদিন দোলপূর্ণিমার রাত। কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছে নয়ন,বাড়ির পাশের মন্দিরে দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে উৎসব দেখার জন্য। ঘরে ঢুকে মা বাবাকে প্রনাম করে ফ্রেশ হতে যায়। নিজের রুমে ঢুকে আনমনে ভাবতে লাগল এবার অনেক মজা হবে উৎসবের নাম দিয়ে অনিতার সাথে পুকুরঘাটে সারারাত আড্ডা দেওয়া যাবে,এমন সময় ঘরে ঢুকে অনিতা।হাতে লাল চুড়ি, কপালে আবিরের ফোঁটা, গায়ে বেগুনি রঙের শাড়ি যেন সদ্য বিবাহিত কোন নববধূ।  
-ভালো আছ নয়ন?তোমার পড়াশুনার কি খবর?কয়দিন থাকবে এবার?  
-ভালো,পড়াশুনা চলছে, চারদিন আছি,  
মন্দিরে দেখা হবে বলে চলে যায় অনিতা। নাশতা নিয়ে ঘরে ঢুকে মা,বলে কে এসেছিল?  
-অনিতা।  
-কি বলল?ওর তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, ছেলে কর কমিশনের কর্মকর্তা, জেলা শহরে বাড়ি,আশির্বাদ করে আংটি দিয়ে গেছে, আগামী মাসে বিয়ে।  
-কি বললে মা?ও তো কিছুই বলেনি!  
এই পূর্ণিমার রাতেও নয়নের মন যেন ঢেকে ফেলল অমাবস্যার আধাঁর। মন্দিরে যাবে বলে ঘর থেকে বেরিয়ে বিষন্নমনে অনিতাদের বাড়ির দিকে হাটতে থাকে, পূর্ণ চন্দ্রর আকাশ যেন ভেঙে পরবে তার মাথায়। অনিতাদের পুকুর ঘাটে পেয়ে যায় অনিতাকে,একা বসে কাঁদছে। নয়ন চুপচাপ তার পাশে গিয়ে বসে। কান্না ভেজা চোখে অনিতা বলে আমার তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।তোমাকে বলিনি কষ্ট পেয়ে যদি তুমি লেখাপড়ার ক্ষতি কর।  
-তুমি ও কি রাজি আছ এ বিয়েতে?  
-আমি মাকে তোমার কথা একবার বলেছিলাম, মা বললো, এটা হয় না, নয়ন এখনও পড়াশোনা শেষ করে নি। তাছাড়া ওদের ফ্যামিলির আর্থিক অবস্থা ও তেমন ভালো না,তার চেয়ে সজল অনেক ভালো, সরকারি কর্মকর্তা, গাড়ি, বাড়ি সব আছে।  
নয়ন নিশ্চুপ, তার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। অনিতা একাই কেঁদে যাচ্ছে, নয়ন বলে দেখ অনিতা –  
আবেগ,অনুভূতি দিয়ে জীবন চলে না,অর্থ বিত্তের ও দরকার আছে! তোমার মা ঠিকই বলেছেন ,তোমার সাথে আমার কখনোই মানায় না,সম্পর্কে জড়ানোর আগে আমাদের বোঝা উচিত ছিল। প্রেম ভালোবাসা আজকাল টাকায় বিবেচিত।  
-তুমি ও তাই বলবে।  
-যে টা সত্যি সেটাই বললাম,অনিতা তুমি ওই ঘরে গিয়ে আমার চেয়ে অনেক সুখী হতে পারবে,নয়ন নিজের চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেনি,অনিতা শাড়ির আঁচল দিয়ে নয়নের চোখের জল মুছে দেয়,নয়ন বলে উঠে এই দোল পূর্ণিমার রাতে নাকি রাধাকৃষ্ণের মিলন মেলা হয়,কিন্তু আমাদের হচ্ছে বিচ্ছিন্ন খেলা, খুব ভালো লীলাতোমার ঈশ্বর বলে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে আসে।পরেরদিন খুব ভোরে ক্লাস আছে বলে মাকে মিথ্যা বলে শহরে পথে রওনা দেয়।

---

Comments: 8 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a6%b2-%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%be/#comments
