# দেদাস্যিমনা – দ্বিতীয় পর্ব

- Author: [রেজওয়ান](https://sonelablog.com/author/rezwan22/)
- Published: 2018-08-15T04:51:04+00:00
- Updated: 2018-08-16T16:35:15+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d/

---

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2018/08/PicsArt_08-16-12.46.52.jpg)

বাবার ব্যাবসার কাজে দুবাই যেতে হয়েছিলো একবার। কাজ শেরে হোটেল থেকে আসার পথে এই জয়নাল সাহেব হঠাৎ করেই আমাদের গাড়ির সামনে চলে আসে আর আরবি হিন্দী মিশিয়ে কিছু একটা বলতে থাকে আমার ড্রাইভার যা বুঝলো তা হলো লোকটা গাড়ি মিস করেছে এয়ারপোর্টে যাবার তাই সাহায্য চাচ্ছে যদি আমরা সে দিকেই যাই। প্রথমে ইচ্ছা না থাকলেও পরোপকারের কথা ভেবে নিয়ে নিলাম। ধন্যবাদ দিয়ে পেছনে গিয়ে চুপটি করে বসে রইলো। জিজ্ঞাসা করলাম কথায় যাবেন?উনি চমকে উঠে বললো আপনি বাংলা জানেন? উত্তর না দিয়ে তাকিয়ে করইলাম। আমার চাউনি দেখে প্রথমে ইতস্তত করলেও পরে একা একাই কথা বলা শুরু করে দিলো। বললো তার বউ-ছেলের গল্প। এক মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার গল্প সহ অনেক কথা। আমি রাগান্বিত হয়ে বললাম থামবেন আপনি? উনি হয়তো ভয় পেয়েছেন সাড়া রাস্তায় একটা টু শব্দও করলেন না।  
এয়ারপোর্টে এসে নিজ থেকেই সরি বললাম। উনি এসে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো।লোকটা চোখে অনেক হাহাকার দেখতে পেলাম। আমার ডানপিটে জীবনের এই প্রথম কাউকে দেখে বুকে কষ্ট অনুভব হলো কিন্তু কেন হলো বুঝলাম না। হয়তো বাবার আদর সেভাবে পাইনি তাই.. কিভাবে পাবো বলেন? মা মারা যাওয়ার পর বাবা যে শুধু দেশ বিদেশ ঘুড়ে বেড়িয়েছে ব্যাবসার কাজে। টাকার পেছনে ছুটেছে কিন্তু কেন আমার জানা নেই। বাবাকে অনেক বলেছি মাত্র আমরা দু’জন এত টাকা দিয়ে কি হবে? সিলেটে যে দু’টো চা বাগান আছে ওটা দিয়েই আমাদের ১৪ বংশ পার করে দিতে পারবে। তাহলে দেশ বিদেশে এত হোটেল করার কি দরকার। বাবা শুধু হাসতো আর বলতো তোর কাছে অনেকেই আসবে যখন জানবে তোর টাকা নেই দূরে ঠেলে চলে যাবে। এই সব সম্পত্তি তোর জন্যরে বাবা। দেখিস তোকে কেউ দূরে ঠেলে দিবে না।

এসব ভাবতে ভাবতে জয়নালের বোর্ডিং পাস নিতে গিয়ে দেখি আমরা একই ফ্লাইটে যাচ্ছি। আমি বিজনেস ক্লাসে আর জয়নাল ইকোনমিতে। ফ্লাইটে উঠার পরেই একজন ক্রু কে বলে দেই যেভাবেই হোক জয়নাল নামের লোকটাকে আমার পাশের সিটে নিয়ে আসতে। ১০ মিনিটের মধ্যেই ব্যবস্থা হয়ে যায়। আমাকে দেখে কি যে খুশি হয়, মনে হচ্ছিলো আমি উনার জনম জনম ধরে চেনা। কিন্তু তখন আমারর বয়স মাত্র ২১ বছর। সেখানেই জব অফার করি বাংলোর কেয়ার টেকার হিসেবে সংগে সংগে রাজি হয়ে যায়। এয়ারপোর্ট থেকেই সোজা বাংলোতে চলে যাবে। যখন জিজ্ঞাসা করলাম আপনার বাড়ির লোকেদের সাথে দেখা করবেন না? কেঁদে দিলো! বললো ২ বছর আগে এয়ারপোর্টে উনাকে বিদায় দিয়ে যাওয়ার সময় এক ট্রাকের ধাক্কায় পুড়ো মাইক্রোবাস উলটে নদীতে পড়ে যায় এক একক জনের লাশ এক এক যায়গায় ভেসে উঠে। ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে, মেয়ের হাসবেন্ড সবাই ছিলো এক মুহুর্তেই সব শেষ বলে অনেক্ষন কান্না করলো জয়নাল ভাই। আমি কিছু বললাম না! কাঁদুক বেচারা কেঁদে নিজেকে একটু হালকা করে নিক।  
পাঠকরা হয়তো বলছেন কিসের মধ্যে কি বলছি। আচ্ছা এইতো ফিরে এলাম খাবার টেবিলের কাছে। এসে দেখি এ্যামি গাল ফুলিয়ে বসে আছে। চেয়ার টেনে বসে ওকে ভাত বেড়ে দিলাম এবং আমিও নিলাম। কিছু না বলে দুজনেই খাওয়া শেষ করলাম। হাত ধুয়ে এ্যামিকে বললাম প্রয়োজনীয় সব কিছু গুছিয়ে রেখো। যাও এখন রেষ্ট নাও, সন্ধ্যায় বেরুবো ঠিক আছে? ঘাড় কাত করে সায় দিলে আমি বারান্দায় গিয়ে সিগারেট জ্বালালাম। ওমা কিসের রেষ্ট মেয়েটা টেবিল গুছিয়ে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলছে আজ থেকে ঢাকা যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি আপনার সাথে থাকবো। আপনি যা করবেন আমিও তাই করবো, আপনি যা খাবেন আমিও তাই খাবো, যেখানে শুবেন আমিও আপনার পাশেই শুবো বলেই একটা সিগারেট নিয়ে সেও জ্বালালো!!  
-কি করছো এইগুলা সিগারেট নষ্ট করছো কেন?  
-আপনার কি ধারণা আমি সিগারেট জীবনের প্রথম জ্বালালাম এখন? আপনার ধারণা ভুল আমরা মেয়েরাও সিগারেট খাই তবে যায়গা দেখে মানুষ বুঝে।  
-ও আচ্ছা ভাল! খেতে চাচ্ছো খাও সমস্যা নাই তবে সাথে মদ-গাঁজা সব আছে সেগুলাও নিতে চাইলে নিবা তবে লিমিট ক্রস করে উলটা পালটা করলে আমি মুখে কিছু বলবো না সব হাতে বলবো।  
-কি বুঝালেন ডিটিয়াল বলবেন কি?  
– বলেছি মাতলামো করলে কানের নিচে মাড়বো যাথে ভবিষ্যতে বাচ্চাকাচ্চা ও বয়ড়া পয়দা হয়।  
– স্যার একটা মেয়েকে এভাবে কেউ কিছু বলে হুম?  
– পৈশাচিক হাসি দিয়ে বললাম ন্যাকা সেজে লাভ নেই বাছা। যাও এখন রেষ্ট নাও শরীরটা দুর্বল তোমার…  
– আপনিও চলুন একটু ঘুমাবেন। সারারাত জাগতে হবে। অনেক কথা জানার আছে..  
হুম চলো বলে এগিয়ে গেলাম আমার রুমে। ধেই ধেই করে মেয়েটা আমামার রুমে ঢুকে পরলো আজব!  
কি ব্যাপার তুমি আমার পেছনে কেন? তোমার রুমে যাও।  
– স্যার আমিতো আগেই বলেছি শুলে আপনার সাথেই শুবো নয়তো না।  
কিছু না বলে এসি অন করে শুয়ে পড়লাম জানি তর্ক করে লাভ নেই এই মেয়ে পিছু ছাড়বে না..

🌹চলবে..

---

Comments: 12 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d/#comments
