# দৃষ্টিভঙ্গির অন্তরালে।

- Author: [রিতু জাহান](https://sonelablog.com/author/mounata/)
- Published: 2017-01-13T14:39:04+00:00
- Updated: 2017-01-13T15:02:24+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a5%a4/

---

---

এ জীবন বৃক্ষের শাখায় যে ফুল ফোটে তাই মনুষ্যত্ব। বৃক্ষের গোড়ায় মালি জল ঢালে ফুল ও ফলকে লক্ষ্য রেখে। শুধু মাত্র মাটির রস টেনে গাছটা মোটা হয়ে উঠবে এই ভেবে কোনো মালীই গাছের গোড়ায় জল ঢালে না। সে তার এই গাছটিতে চমৎকার এক হেসে ওঠা ফুল ও ফলের আশায় যত্নের সাথে লালন করে গাছটিকে। গাছটিও তার প্রতিদান স্বরুপ মালীকে উপহার দেয় চমৎকার সব ফুল ও ফল। মালী তার গাছটিকে সযত্নে নির্দিধায় বেড়ে উঠতে আশেপাশের আগাছাকেও ঝেঁটে ফেলে।

মানুষের জীবন পরিক্রমায় সন্তান হলো আল্লাহর সব থেকে বড় নিয়ামত। আমাদের প্রত্যোকেরই আলাদা কিছু স্বপ্ন আছে, আশা আছে। আমাদের সবার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। আমরা সমাজে একেকজন একেকরকম করে বেড়ে উঠি। সন্তানদেরও নিজেদের আদর্শে বেড়ে উঠতে চেষ্টা করি। সন্তানের কারনে আমাদের জীবন সংসারকে মরুভূমি বোধ না করে ফুলবাগান বলে মনে হয়। আমরা তখন হয়ে যাই সেই বাগানের মালী। সন্তানরা আমাদের এক একটি বৃক্ষ। এই বৃক্ষকে বেড়ে তুলতে হয় আমাদেরই। হ্যাঁ, অনেক মালী ছাড়া বাগানের বৃক্ষও বেড়ে ওঠে। সেও ফল দেয় ফুল দেয়। হয়ত তা বেশীর ভাগই হয় জংলী ফুল ও ফল। কিছু হয় খাওয়ার যোগ্য কিছু হয় অযোগ্য। কিছু ফুলের গন্ধ নেওয়া যায় কিছু ফুলের গন্ধ নেওয়া যায় না। তবুও সে ফোটে। ফুটতে তাকে হয়ই।  
ইদানিং কেন যেন মনে হয়, আমি এখন থেকে একটা কঠিন সময় পার করছি। আমার দুই পরিবারের সবারই ধারনা, আমি খুবই রাগী মানুষ। তবে আমি সত্যি রাগী কিনা জানি না, আমার অসহ্য। আমি আমার দুই ছেলেকে অবশ্যই খুবই ভালবাসি, যা অন্য মায়েরাও ভালবাসে। কারন এটা মাতৃসুলভ ভালবাসা। এই ভালবাসার কোনো পরিমাপ নেই। এক কথায় আমার জীবন, আমার স্বপ্ন সবই আমার দুই সন্তান। আমার কাছে সন্তানের জন্য যতোটা ভালোবাসা আছে, ততোটা কড়া নিয়ম আর শাষনও আছে। নিয়মানুবর্তিতা সব থেকে বড় কথা। আমার কাছে ছাত্র জীবন মানেই পরিশ্রম। সত্যি বলতে কী, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় সন্তানদের অতিরিক্ত স্বাধীনতা, অতি আধুনিক মনোভাবে আমি ভীত। আমি মেমন রিয়ানকে মোবাইল ফোন ধরতে দেই না। সত্যি বলতে বাচাদের হাতে ফোন দেখলে আমি বিরক্ত বোধ করি। মোবাইলে কোনো বাচ্চাকে গেম খেলতে দেখলে মনে হয়, থাক আর এ প্রসংগ।  
কখনো কখনো আমি ভাবি, আসলেও কি আমি নিষ্ঠুর! আমি কি এদের শৈশব কৈশর নষ্ট করে দিচ্ছি? না, তা না। আমি বিকালে দুই এক ঘন্টা অবশ্যই খেলতে পাঠাই। হ্যাঁ, একটা অভ্যাস ইচ্ছে করেই করাইছি। বই পড়ার নেশা ধরাইছি। যেন তারা অন্তত ফোনে ঝুকে না পড়ে।  
এখন মেমন ক্লাস সেভেনে পড়। সত্যি আমার কঠিন সময় শুরু হয়েছে। তার সাথে পড়ে সবারই ফেসবুক আইডি আছে। অনেকে ক্রিকেট খেলাতে বাজিও ধরে।

এই আমি কতো কি যে অবান্তর ভাবনা ভাবি এখন! নীলা আপু ঠিকই বলে, প্রত্যোকের মাঝেই অন্য একটা মানুষ আছে। তারও একটা আলাদা ভাবনা আছে। এই ভাবনাতে আমরা আমাদের মনের অজান্তেই কাউকে বেশী কাউকে কম শ্রদ্ধা, সন্মান করে বসি। আমি মেয়েদের চাকরি করাকে সব সময়ই প্রাধান্য দেই। অথচ এই আমিই সেদিন মনের অজান্তে এক চাকরিজীবি মাকে কোনো এক কারনে সেই সন্মানটুকু দিতে পারিনি। কারন তার সন্তান ঠিকমতো মানুষ হতে পারেনি। পরক্ষণে অন্য একজনকে ঠিকই সেই সন্মান ও শ্রদ্ধা দিতে কার্পন্য করিনি। সন্মান শ্রদ্ধা বলতে এখানে আমি, বসতে দেওয়া বা খেতে দেওয়ার কথা বলছি না, আমার মনের ভিতরের যে আচরন তার কথা বলছি। তারমানে বৈষম্য এই অবচেতন মনই তৈরি করে।  
সন্তান ঠিকমতো মানুষ না হলে বাবা মাকে সেই গ্লানি বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় মৃত্যু পর্যন্ত। সবার সন্তান বেড়ে উঠুক সঠিক আদর্শে, এই কামনা।  
,,,,,,,মৌনতা রিতু।  
১৩/১/১৬। কুড়িগ্

---

Comments: 17 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a5%a4/#comments
