# নিশি’তে নিগুঢ়

Author: দালান জাহান
Published: 2021-08-03
Category: উপন্যাস
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a6%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-3/

পর্ব তিন

দুই সন্তানের জননী নিগুঢ় নাহার একসময় মুশফিকের ক্লাসমেট ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলো মধুর সম্পর্ক তখনও মুশফিক এটাকে প্রেম বলে জানতো কীনা! এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে নিগুঢ়ের মনে।

নিগুঢ় চেয়েছিলো তার মালিকানাহীন এবং অবারিত আকাশে পাখি উড়ুক। মেঘ বাদল ঝড় বৃষ্টি ভেঙে ঘরে ফিরুক সব পাখিরা। তাই বলে কী আমি আমার আকাশ সাজাবো না।

কিন্তু মুশফিক সেই আকাশে উড়ার কোন ব্যস্ততা কোনদিন দেখায়নি। সে যেন এক নিভৃত কৃষক তারমন শুধু নিবিষ্ট ছিলো, কচি ধানের পাতায়। নিগুঢ়ের বাবা নিরিহ মানুষ ও দরিদ্র কৃষক।

কন্যার বিয়ে নিয়ে সে সর্বক্ষণ উৎকন্ঠায় থাকতেন। তাই নিগুঢ় ক্লাস নাইনে উঠার পরেই হুটহাট করে বিয়ে দিয়ে দেয় এক শহুরে ধনী ছেলের সাথে।

ছেলেটা নিগুঢ়ের বাবাকে অনেক টাকা পয়সা দেয় বাড়িতে ভালো ভালো বাজার করে নিয়ে আসে এবং তার অসহায় শ্বশুরকে হালের গুরু ও কিছু চাষের জমি কিনে দেয়।

এতে নিগুঢ়ের বাবা অনেকটা আশ্বস্ত হোন। মা-মরা মেয়েটাকে ভালো ঘরেই বিয়ে দিয়েছেন ভেবে মনে মনে অনেক  খুশি হোন তিনি।   

মুশফিকের হয়তো তখন নিগুঢ়ের বিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিলো না। কিন্তু মুশফিক বিয়ের আগে, একদিন নিগুঢ় নাহারকে বলেছিলো, “আমার গল্প আমি যেভাবে লিখেছি তোমাকে সেভাবেই ফিরে আসতে হবে নিগুঢ়। তবে আমি ইচ্ছে করে এমন গল্প লিখিনি। এই গল্পটা আমাকে দিয়ে লেখানো হয়েছে।”  

নিগুঢ় মুশফিকের কথার কোন মানে বোঝে না। কীসের গল্প ? অতীতের এক মিষ্টি বাতাস গমের শীষের মতো তাকে কোথাও হেলিয়ে নামায়। নিগুঢ়ের অনুভূতি ধাবমান হয় এবং অনুভব করে  এমন একটা গল্পের কথা কে যেন তাকে  বলেছিলো, কিন্তু তা গল্প ছিলো না। তা ছিলো বাস্তব।

কিন্তু বিষয়টি পুরোপুরি মনে করতে ব্যর্থ হয় নিগুঢ়। কিছু আবছা মনে পড়ে এবং আবার ভুলে যায় রাতে দেখা স্বপ্নের সকালের ভাবনার মতো।  এই ভাবনায় কেটে যায় তার প্রহর এবং ভাবতে-ভাবতে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। কিন্তু তার কোন অন্তকূল সে খোঁজে পায় না।

পরপর দুটো বাচ্চা হওয়ার পর। ছেলেটার কোন হদিস পাওয়া যায়নি কিছুদিন। তার কিছুদিন পর পত্রিকায় একটা নিউজ হয়, ক্রসফায়ারে মাদক ব্যবসায়ী নিহত। তাতে ছেলেটার পরিচয় মিলে।   

এরপর জানা যায় যে, শহরে তার আরেকজন স্ত্রীও আছে, তাদেরও আছে চার সন্তান। নিগুঢ়ের মুখ কালো হয়ে যায়। মরা নদীর মতো শুকনো জল খেলা করে তার চোখে।   

মা-মরা একমাত্র মেয়ের এমন কষ্ট সইতে পারেনি নিগুঢ়ের বাবা। এরপর তিনি  বাড়ির পশ্চিমের মাঠে বসে কাঁদতেন কড়া রোদ মাথায় নিয়ে। এর কিছুদিন পর একদিন ভর-,দুপুরে হিটস্ট্রোকে মারা যান তিনি । দুটো সন্তান নিয়ে বড়ো অসহায় হয়ে পরে বেচারি নিগুঢ়।
