# দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ পদবীর ভার!

- Author: [মারজানা ফেরদৌস রুবা](https://sonelablog.com/author/marjanaruba2979/)
- Published: 2019-08-28T17:40:21+00:00
- Updated: 2019-08-28T17:40:21+00:00
- Category: [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b2-%e0%a6%93-%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d/

---

আলোচিত সেই ডিসি কেলেঙ্কারির সমাধানটা কী এভাবে ধর্মীয় বিধানের মধ্যেই খোঁজা হবে? বিয়ের মাধ্যমেই এর সমাধান হয়ে যাবে? প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদবীটির ভার কী তবে এতোই হালকা? এর কী কোনই প্রভাব পড়বে না জনমনে?

ঘটনাটি তো কোন সাধারণ নাগরিকের জায়গা থেকে ঘটেনি। রীতিমতো দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে কর্মস্থলে অবস্থানকালীন ঘটিত ঘটনা। এখানে পদবীটি থেকেও বড় কথা হচ্ছে কর্মস্থলে অবস্থানকালীন পদবীটির প্রশাসনিক মর্যাদা। এতো সম্মানিত একটি পদবী নিয়ে কর্মস্থলে অবস্থানকালীন সময়ে এরকম একটি ঘটনার জন্ম দেয়া মানে মর্যাদাপূর্ণ পদবীটির অসম্মান করা। প্রশাসনিক পদবীটি ঘিরে যে গুরুগাম্ভীর্যতা বিরাজমান, তা হালকা করা। এটা কেবলই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যাপার নয়, একজন নাগরিকের জায়গা থেকে তা ঘটেনি। দায়িত্বের বাইরে তিনি একজন সাধারণ নাগরিক কিন্তু যখন তিনি দায়িত্বরত, তখন তিনি গুরুত্বপূর্ণ এ পদবীকে ঘিরে আবর্তিত। তিনি তখন প্রশাসক। তো, সাধারণ নাগরিকের প্রশাসক যদি এতো পাতলা মানের হন, তো নাগরিক তাঁর নিয়ন্ত্রণকে আমলে নেবে কেনো? ধর্মীয় বিধানে সমাধান টানার আগে রাষ্ট্রযন্ত্রকে এ বিষয়গুলো ভেবে দেখা উচিত।  
এভাবে সমাধান টানলে এ ধরণের অপরাধপ্রবণতা আরো বাড়বে নিশ্চিত। ধর্মীয় বিধান দিয়ে ব্যক্তিক পাপের ভার লাঘব হয়, কিন্তু রাষ্ট্রীয় অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে রাষ্ট্রীয় বিধিব্যবস্থায় হাঁটতে হবে।

ঘটনাটি এখন আর ব্যক্তি পর্যায়ে নেই, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে হলে আমার কোন বক্তব্য ছিলো না।

এবার আসি অন্যকথায়।  
আমরা সকলেই জানি, অনেক অফিসেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দ্বারা অধীনস্থ নারীকর্মীরা হ্যারেজমেন্টের শিকার হয়ে থাকেন। পদাধিকারবলে উর্ধ্বতনদের অনেকেই সে সুযোগটা নিয়েই থাকেন। অনেক অসহায় নারীকেই এ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। এহেন পরিস্থিতিতে পড়লে যারা নিজেদের গা বাঁচাতে এড়ানোর চেষ্টা করেন, তারা বিভিন্ন রকমের হেনস্থার শিকার হয়ে থাকেন। এমনও হয় যে, হেনস্থার সীমাহীন পর্যায়ে উপনীত হলে কেউ সুযোগ থাকলে শিকারির হাত থেকে বাঁচতে চাকুরী থেকে অব্যাহতি নেন। আবার কেউ কোনরকমে টিকে থাকতে চাইলেও ক্ষিপ্ত শিকারির কলাকৌশলের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অব্যাহতি নিতে বাধ্য হন। আর কেউবা জীবন জীবিকার যাঁতাকলে পিষ্ট বলে শিকারির জালে ধরা দিয়ে বাধ্য হয়ে অন্তর্জালায় দগ্ধ হন। মূলত এখনো আমাদের সমাজে নারীদের ‘মানুষ’ দৃষ্টিতে না দেখে ‘মেয়ে মানুষ’ নজরেই দেখা হয়। স্থুল এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হয়তো আরো এক শতাব্দী সময় লেগে যাবে।

আবার এর অন্যদিকটাও আছে। উচ্চাভিলাষী কিছু কর্মজীবী নারীও আছে, যাদের দ্রুত আসমান ছোঁয়ার নেশা। তারা খুব সহজেই সিঁড়ি ভাঙতে কর্মস্থলের উর্ধ্বতনের দিকে নজর দেয়। কাউকে কাউকে দেখা যায়, একবার হাতের মুঠোয় নিতে পারলে রীতিমতো ভেড়া বানিয়ে ফার্স্টলেডীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। শুনেছি, আলোচিত এই ঘটনার নারী চরিত্র সাধনাও নাকি তেমনই একজন ফার্স্টলেডী ছিলো। যে কিনা একজন অফিস সহায়ক হয়েও বিশাল ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলো। সারা অফিসে সেই হয়ে উঠেছিলো মুল নিয়ন্ত্রক।

যাহোক, যদি সত্যিই বিয়ের মাঝেই এর সমাধান খোঁজা হয়, তবে এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রশাসনিক এ পদবীটির ভার, মর্যাদা, গুরুগাম্ভীর্যতা হ্রাস পাবে। রাষ্ট্রীয় আইনে দ্বীতিয় বিবাহের ক্ষেত্রে সহজ অনুমতি আদায়ে প্রথম বউকে এভাবে মাইনকা চিপায় ফেলা যাবে। ব্ল্যাকমেইলিং এর মাধ্যমে স্বার্থসিদ্ধি করতে সাধনাদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকবে।

কাজেই, রাষ্ট্রযন্ত্রকে অবশ্যই ভাবতে হবে।

---

Comments: 20 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b2-%e0%a6%93-%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d/#comments
