# তালগাছ – অপূর্ণ শখ

- Author: [সাবিনা ইয়াসমিন](https://sonelablog.com/author/sabina-yeasmin/)
- Published: 2020-01-09T07:30:53+00:00
- Updated: 2020-01-09T07:31:47+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b-%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3-%e0%a6%b6%e0%a6%96/

---

ছোট বেলায় অনেক অনেক খেলাধুলার মাঝে আমার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ছিলো গাছে চড়া। তখন বড় মাঠ বা গাছ খুঁজতে দূর-দূরান্তে যেতে হতো না। আমাদের এলাকাটাই ছিলো গাছে-মাঠে পরিপূর্ণ। পরীক্ষার সময়টা ছাড়া তখনকার মা-বাবারাও পড়া নিয়ে স্টিমরোলার চালাতো না। সন্তানের মেধার উপর তাদের বিশ্বাস-ভরসা শতভাগই ছিলো, আর ছিল নিকটতম প্রতিবেশীদের প্রতি আস্থা। তখন ছোট ছেলেমেয়েদের কেউ রেপ করতে পারে এমন ধারণার জন্মই হয়নি হয়তো। তাই আমি/ আমরা আমাদের দুরন্তপনার শীর্ষে অবস্থান করতাম। 😀

স্কুলটা যত না পড়া জন্যে ভালো লাগতো, তারও বেশি ভালো লাগতো বড় মাঠে খেলাধুলা করতে পারার জন্যে। আর ঐ সময়ের স্যার/ ম্যাডাম! তারা সাক্ষাৎ দেব-দেবী ছিলো। এত দুষ্টুমি করেছি, এত করেছি কিন্তু বাড়িতে কখনো নালিশ পাঠায়নি। মাঝে মধ্যে শাস্তি দিতেন। আমাদের স্কুলের মাঠে দলবদ্ধ করে কান ধরে দাড় করিয়ে রাখতেন। ঐ শাস্তিটা কেন জানি আমাদের শাস্তি মনেই হতো না। কারণ প্রতিদনই ১০০/৫০ জন একই অবস্থানে থাকতো।

আমরা বন্ধু-বান্ধবীরা মিলে প্লান করতাম স্কুলে বসে বসে। বাড়ি ফিরে কি কি করবো। সকাল সাতটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত স্কুল টাইম। প্রাইভেট টিচার আসতো বিকেল তিনটায়। বড়জোর এক ঘন্টা তাকে সময় দিতাম। এরপর মাগরিবের আজানের আগে মা আমাকে দুরবিন দিয়েও খুঁজে পেতো না।

তারপর শুরু হতো গাছে চড়ার প্রতিযোগিতা। কে কত বড় গাছে উঠে লাফ দিয়ে নামতে পারি, এটাই ছিলো প্রতিযোগিতার মুল অংশ। অনেকে উঠতো ঠিকই কিন্তু নামতে আর পারতো না। পরে তাদের বাসা থেকে লোকজন এসে নামিয়ে দিয়ে যেতো। আমার অবশ্য তেমন কিছু হয়নি। লাস্টবার দুপুর বেলায় বেল গাছের মগডালে বসে আছি, এমন সময় দূর থেকে দেখি মাই ফাদার ইজ কামিং, ওমনি দিলাম লাফ। পায়ে দুটো কাঁটা বিঁধে ছিলো। ঐ অবস্থাতেই দৌড়ে বাড়ি ফিরেছিলাম। আব্বাও লাঠি হাতে আমাকে এমন পিটুনি দিলেন,,,এক সপ্তাহ পর জ্বর ভালো হয়েছিলো।

এরপর আর গাছে চড়িনি। কেমন করে জানি শখটা ধিরে ধিরে ভালোবাসায় পরিনত হয়ে গেলো। গাছকে ভালোবাসলাম। আমার গাছ ভালো লাগে। বড় গাছ। কেন যেন ছোট ছোট গাছ বা লতানো গাছ গুলো আমার বেশি একটা পছন্দ না। বড় প্রাচীন ছায়া-বৃক্ষের প্রতি আমার মনে শুধু ভালোবাসাই না শ্রদ্ধা কাজ করে। যখনই কোন প্রাচীন বৃক্ষের সামনে দাড়াই, একবার হলেও তাকে জড়িয়ে ধরি। আমি শান্তি পাই।

তালগাছ আমার অনেক পছন্দের একটা গাছ। এটাই একমাত্র গাছ যেটাতে আমি কখনো চড়তে পারিনি। চলতি পথে যখনই কোন তালগাছ দেখি তাকিয়ে থাকি, যতক্ষণ না দৃষ্টির আড়াল হয়।

* ভালোবাসা হয় বৃক্ষের সাথে, গাছের সাথে নয় *

---

Comments: 15 — https://sonelablog.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9b-%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3-%e0%a6%b6%e0%a6%96/#comments
