# ড্রুকগিয়াল জং

Author: কামাল উদ্দিন
Published: 2020-05-30
Category: ভ্রমণ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a1%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%97%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a6%82/

ভুটানের একমাত্র এয়ারপোর্ট রয়েছে পারো শহরে। পারো থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে তিব্বত সীমান্তে ড্রুকগিয়াল জং বা জং এর ধ্বংসাবশেষ। সেই পোড়া ধ্বংসপ্রাপ্ত জং নিয়াই আমার আজকের ছবি পোষ্ট। জং হল এমন এক ধরনের স্থাপনা যা একাধারে প্রশাসনিক কেন্দ্র, দূর্গ, উপাসনালয়। প্রাচীনকালে এগুলো মূলত দূর্গ ছিল। বর্তমানে জংগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার হলেও ড্রুকগিয়াল জংটা শুধুই একটা পোড়া বাড়ি বা দূর্গ । ড্রুকগিয়াল জং প্রাচীন একটা জং। ১৬৪৬ সালে সাবড্রং গুয়াং নামগিয়াল তিব্বতী আগ্রাসন থেকে ভূটানকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করেন। ১৯৫১ সালে আগুনে পুড়ে গেলেও জংটি এখনো পর্যটকদের সমানভাবেই আকর্ষণ করে থাকে। এখান থেকেই দেখা যায় তিব্বতের বাসিন্দাদের কাছে অতি পবিত্র পর্বতমালা ‘চোমো লহরি’।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8479/28117748880_438e428458_o.jpg)  
(২) পারো থেকে পা নদীকে ডানে রেখে ট্যাক্সিতে করে ছুটে চললাম ড্রুকগিয়াল জং এর দিকে। এবং এক সময় এই মাইল পোষ্ট বলল ড্রুকগিয়াল জং শুন্য কিলোমিটার। শেষ বিকেল, তাই সময় নষ্ট না করে আমরাও দ্রুত ট্যক্সি থেকে নেমে এগোলাম পোড়া বাড়িটার দিকে, কে জানে সন্ধ্যা হলে আবার ভুত টুত বের হয়ে আসে কিনা।

![](https://c2.staticflickr.com/8/7543/28117742770_cc5772d266_o.jpg)  
(৩) পাশে হাতে গোনা কয়েকটি বাড়িঘর, বাড়িগুলোর নিচের অংশে ছোট ছোট দোকান, পর্যটকদের প্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিসপত্র কেনার সুযোগ রয়েছে দোকান গুলোতে।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8793/27783681084_221e1653f7_o.jpg)  
(৪) অন্য পাশে একটা টিলা মতো জায়গার উপর দাঁড়িয়ে আছে সেই অতি পুরোনো পোড়া জং।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8675/27783681764_be718b2e54_o.jpg)  
(৫) ভুটানের লোকেরা বেশীর ভাগই বোদ্ধ ধর্মালম্বী, এবং ওরা যথেষ্ট ধার্মিক। তাই জনসমাগম ঘটে এমন প্রতিটা জায়গায় ওদের উপাসনার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ঘুড়ির নাটাইয়ের মতো বিশাল চাকতি এটা ঘুড়িয়ে কিছু একটা জপে ওরা ওদের ধর্মীয় কোন একটা বিষয় পালন করে। অন্যান্য জায়গায় ছোট ছোট দেখলেও থিম্পুর বাসষ্টপ এবং ড্রুকগিয়াল জং এর পাশে এইগুলো অনেক বিশাল সাইজের রয়েছে, হয়তো আরো অনেক জায়গায়ই রয়েছে, তবে আমার দেখা হয় নাই।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8398/28117743810_2ac7eeda6f_o.jpg)  
(৬/৭) সামনের তুলনামূলক ভাবে সহজ পথটা বাদ দিয়ে পেছনের কঠিন পথটা দিয়েই আমরা উপরে উঠার সিদ্ধান্ত নিলাম।  
![](https://c1.staticflickr.com/9/8705/27783682894_270f047654_o.jpg)

![](https://c1.staticflickr.com/9/8644/27783682434_cef7af94be_o.jpg)  
(৮) এই তো চলে এসেছি, ভুতুরে পোড়া বাড়িটিতে।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8782/28117744410_88da98684f_o.jpg)  
(৯) একটু দূরে তিব্বতের পাহাড় চুড়ায় চলছে মেঘদের ব্যপক আনাগোনা।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8746/28117747500_d7daba10d3_o.jpg)  
(১০/১১) সর্বত্রই শুধু পোড়া আর ধ্বংসের ছাপ।  
![](https://c2.staticflickr.com/8/7593/28117748000_ceea5574b9_o.jpg)

![](https://c1.staticflickr.com/9/8543/27783683834_fea95c3c23_o.jpg)  
(১২) এক সময় হয়তো এটাই ছিলো জং এর প্রধান প্রবেশ পথ।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8624/28117746810_62d0dce54a_o.jpg)  
(১৩/১৪) মাঝখানে একটা উঠান মতো, আর চারিদিকে এমন পোড়া দেয়াল।  
![](https://c1.staticflickr.com/9/8713/27783685244_da9a38ffc3_o.jpg)

![](https://c1.staticflickr.com/9/8707/27783686164_2ec9577bb3_o.jpg)  
(১৫) নিচের উপত্যকায় দেখা যাচ্ছে ভুটানি গ্রাম।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8531/28295977222_e79cecaefe_o.jpg)  
(১৬) এই ধ্বংসাবশেষের মাঝেও কিছু প্রাচীন সৌন্দর্য্য এখনো বর্তমান।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8626/28295978132_fcd18c0c8b_o.jpg)  
(১৭) এই ধ্বংসাবশেষের ভেতরই ওর বসবাস কিনা কে জানে, নাম না জানা এই পাখিটা আগে কখনো দেখিনি।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8679/28295976852_40cb0cd5a0_o.jpg)  
(১৮) বন্ধুদের নিয়ে একটা স্মৃতি না থকলে কি হয়?

![](https://c1.staticflickr.com/9/8317/27783680564_76b273b525_o.jpg)  
(১৯) এবার এই প্রাচীন জং থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার পালা।

![](https://c1.staticflickr.com/9/8474/28117741880_8d36dbd899_o.jpg)  
(২০) বের হয়ে আসার পথে আরো একজনের সাক্ষাৎ পাই।
