# ডিভোর্সের পরের গল্প

Author: রুম্পা রুমানা
Published: 2016-10-12
Category: গল্প
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/

মিনহাজের সাথে সংসার ভেঙে যাওয়ার পর মানসিকভাবে নিজেও ভেঙে গিয়েছিলাম। পারিবারিক , সামাজিক নানান অসুবিধার সাথে নিরাপত্তাহীনতাও ছিলো।ডিভোর্সের পর ছেলে-মেয়েকে নিয়ে,বারো বছরের সংসার ছেড়ে ভাইয়ের সংসারে এসে জুটেছিলাম । প্রথম প্রথম কেউ কিছু বলতো না কিন্তু কাজে-কর্মে বুঝাতো।বছর ঘুরতেই যা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো।  
.  
বিয়ের পর মিনহাজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছিলাম।অনেকটা জেদ করেই।চাকুরিও করতে চেয়েছিলাম , অনুমতি পাইনি। মিনহাজের সাথে চিন্তা- ভাবনায় বিস্তর ফারাক ছিলো। সংস্কৃতিমনা ছিলাম । কিন্তু সে ছিলো উল্টো।মৌলবাদী ধ্যান-ধারণার।একবার মেয়েকে নাচের স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলাম।ওকে না বলেই। বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলো সেবার। ওর সবচে’বড় সমস্যা , ওথেলো সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ছিলো।সন্দেহ করতো প্রচুর। অকারণ সন্দেহ। তবুও কাটিয়েছি বারো বছর।  
.  
এখন মনে হয় আরও আগেই সেই সংসার ছেড়ে চলে আসা উচিত ছিলো। গত পনেরো বছর তো একাই কাটাচ্ছি, কেটে যাচ্ছে জীবন।  
আমি রোকেয়া খানম ।শিক্ষকতা করি। বেসরকারী একটা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে , ছাত্র পড়িয়ে যা পাচ্ছি তা দিয়ে ছেলে-মেয়ের পড়াশুনার খরচ আর সংসার চলছে।তাছাড়া বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া নিজের অংশের টাকাটা ব্যাংকে রেখেছিলাম। ওখান থেকে যা আসে তাতেও সাহায্য হয় ।ছেলে-মেয়েেক প্রাচুর্য দিতে পারিনি। কিন্তু মানবিক মানুষ করে গড়ে তুলতে পেরেছি।  
মেয়েটা এ বছর ম্যাজিস্ট্রেট হলো। ছেলেটা অনার্স তৃতীয় বর্ষে । মেধাবী হওয়ায় নিজেও টিউশনি করে পড়াশুনার খরচ যুগিয়েছে মেয়ে।  
.  
যা বলছিলাম। ডিভোর্সের পর আশেপাশের লোকজন আর আত্মীয়দের কাছে হয়ে উঠেছিলাম চোখের বালি। ছেলে-মেয়েকে অনেকটা একঘরে করেই মানুষ করেছি।কেননা আত্মীয়রা নানান কথা জিজ্ঞেস করতো -শুনাতো।ওদের বাবা আরেকটা বিয়ে করেছে এসব সংবাদ ওদের কানে দিয়ে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলতো। আর আমাকে তো শুনতেই হতো নানান অপবাদ।মেয়েদের এতো দেমাগ ভালো না , অনেক বেড়ে গেছি এসব।  
সংগ্রাম করেছি, খেয়ে-না খেয়ে সংসার চালিয়েছি।কাউকে তবু বিরক্ত করিনি।হাত পাতি নি । করুণার জীবন চাইনি কখনও ।মানুষের মতো বাঁচতে চেয়েছি। আজ , এতো বছর পরে এসে কেবল এটুকুই মনে হচ্ছে ,হেরে যাই নি।  
নারী যদি প্রকৃতি হয় তবে প্রকৃতি তো হারে না। বরং আশ্রয়স্থল হয়ে উঠে বিপন্ন প্রাণের।
