# ডাক্তার এবং কিছু কথা … যদি পারেন যুক্তি খন্ডান ….

Author: হিপনোটক্সিক ইরেকটাস
Published: 2014-04-17
Category: বিবিধ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%af%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%aa/

আজ আমি নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান।  অনেক ক্ষোভ,  হতাশা আর বুক ভরা ঘৃণা নিয়ে লিখতে বসেছি আজ। হৃদয়ের সব আবেগ আজ ঘৃণায় পরিনত হতে চলেছে।  আততায়ী  হবার নেশায় পেয়ে বসেছে আমাকে। আমি আজ আমার স্বজাতি মানে চিকিৎসকদের না উগরানো হতাশাগুলোকে হিংস্রতায় রূপ দেয়ার ভয়ে ভীত।

একেবারে শুরু থেকে শুরু করি।

আজকে সকালে ২য় বর্ষ এর  ফিজিও প্র্যাকটিকাল আইটেম ছিল –  
“Hearing Test”  
পাঁচ ছয়জন বসেছে।ম্যাম একজনকে করে দেখাতে বললেন।  
সে তার পাশের বন্ধুর উপর টেস্ট করা শুরু করল।

এবার ম্যাম- ‘অনুমতি নিসো?’

: (বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে সেই ছেলে) আমি আপনার হিয়ারিং টেস্ট করতে চাই,করব?

ম্যাম,  
\-হিয়ারিং টেস্ট মানে?পেশেন্ট কি বুঝবে হিয়ারিং টেস্ট কি?বলবা কান পরীক্ষা করতে চাও।

গেল,অনুমতি নেয়া শেষ।এবার সে টেস্ট করছে।টিউনিং ফর্কটা নিয়ে হাতের তালুতে বাড়ি দিল…

আবার ম্যাম –  “এই ছেলে,তুমি যে টেস্ট করতেসো পেশেন্ট কে ইন্সট্রাকশন দিসো?হাতুড়ির মত জিনিস একটা হাতে বাড়ি দিয়া যখন পেশেন্টের মাথায় ধরবা তখন তো সে বলবে -“ডাক্তার আমার মাথা ফাটায়তেসে।”  
ব্যাথা না পেলে ও দৌড়ে গিয়ে ইচ্ছা করে নিজেই মাথা ফাটায় আসবে!  
নাহয় বলবে -“আমার কান ঠিকই ছিল।ডাক্তার কি একটা কানের মধ্যে লাগাই কানের পর্দা ছিড়া ফেলসে!”  
তাই ভালমত বুঝায় বলবা কি করতে যাচ্ছ।”

এটা একেবারে সিমপ্লিয়েস্ট একটা উদাহরণ দিলাম।জিনিসগুলো আমাদের এভাবে শেখানো হয়।ডাক্তারের কাজ রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা,তার নির্ভরতা আদায় করা।কোন কারণ ছাড়া একজন ডাক্তার কেন রোগীকে মারতে চাইবে?!!

৬০০০০ পরীক্ষার্থীর সাথে যুদ্ধ করে ৮০০০ শিক্ষার্থী সুযোগ পায় মেডিকেলে পড়ার।  তারা জানে তাদের কি করা উচিত, তারা জানে তাদের গুরুদায়িত্ব সম্পর্কে।  তাই তারা শতকিছুর মাঝেও মনুষ্যত্বটাকে জিইয়ে রাখে।  তাদের মনুষ্যত্ব আছে বলেই সবগুলো মেডিকেল রেগিং নামক পাপাচার মুক্ত, তাদের মনুষ্যত্ব আছে বলেই সহপাঠী কতৃক লাঞ্চিত হয়ে জীবন দিতে হয় না কোনো নারীকে, তাদের মনুষ্যত্ব তাদের ছাত্র অবস্হাতেই রাত জেগে রোগী দেখতে শেখায়, তাদের মনুষ্যত্বটার কারনেই অকালে রাজনৈতিক সহিংসতার বলি হতে হয়েছে খুব কম ছাত্রকেই।

আর এদেরকেই আপনারা ডাকেন অমানুষ,কুত্তা,  জানোয়ার। আজ আমি আপনাদের প্রশ্ন করে যাবো ! প্রশ্নবানে জর্জরিত  করেই যাবো –

\-আপনারা বলেন ডাক্তারর্ গ্রামে থাকে না। যেখানে একজন টিএনও বিসিএস ক্যাডার হয়ে পায় সরকারী গাড়ি , বাড়ি সেখানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্হায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে পড়ালেখা করা বিসিএস ক্যাডার ডাক্তাররা বাড়ি , গাড়ি না পেলে কেনো থাকবে গ্রামে ? আমি বলছি না আমাদের বাড়ি গাড়ি দিতেই হবে । কিন্তু উই আর টকিং এবাউট ইকুয়েলিটি। টিএনও দের গাড়ি বাড়ি বন্ধ করে দেন, উই উইল ডো আওয়ারস।

– ডাক্তাররা একটা ভুল করলেই তাদের গায়ে হাত তোলা হয় । ডাক্তাররা মানুষ , তাদেরও ভুল হতে পারে ।  যদি ডাক্তারদের উপর আস্হা না থেকে থাকে তাহলে নিজের  চিকিৎসা নিজেই করেন । ভুলগুলো যদি ইচ্ছাকৃত হয় তাহলে আমার প্রশ্ন নিরাপরাধ লিমনের পায়ে ইচ্ছে করে গুলি করা RAB গুলার কয়টার গায়ে হাত তুলতে পেরেছেন , কিংবা আপনাদের শত কোটি টাকা মেরে দেয়া কোন কোন সরকারী আমলার কি করতে পারছেন , অথচ তাদের চেয়ে দ্বিগুন শিক্ষিত ডাক্তারদের দেখলে আপানাদের চেতনা এতো সহজেই খাঁড়া হয়ে যায় কেনো ?

\-ডাক্তাররা ধর্মঘট করলে আপনাদের চুলকানী শুরু হয়ে যায় । নাউ  আনসার মি ওয়ান কোশ্চেন , আপনার বস যদি আপনার চাহিদা পূরন করতে ব্যার্থ হয় তাহলে কি আপনি অন্যের অফিসে গিয়ে ধর্মঘট করবেন ? নিশ্চয়ই না ! আর আমাদের অফিস  মেডিকেল , আমরা সেখানেই ধর্মঘট করি । এটা কারো করুণা নির্ভর নয় , এটা আমাদের অধিকার ।

– এবার আসি আসল কথায় । আপনেরা বলেন , ডাক্তাররা কথায় কথায় টেস্ট দেয় । টাকা খাওয়ার জন্য ইচ্ছে মতো এই টেস্ট সেই টেস্ট করতে দেয় । শ্রদ্ধেয় গুরুজনেরা আসুর আর একবার আমাদের বইগুলো পড়ে যান । বই গুলো তো বাংগালীরা লেখে নাই । আপনাদের প্রাণপ্রিয় ইংলিশ , ইউরোপিয়ান কিংবা ভারতীয়দের লেখা । তারা যা লিখে আমরা তাই করি মাত্র ।

\-ডাক্তারদের ৫০০ টাকা ভিজিট দিতে গায়ে চুলকায় ? তার নামের পাশের ডিগ্রি গুলা দেখেছেন ? ওগুলা কি মাগনায় আসে ? নাকি লুতুপুতু কৈরা কেও দিয়ে যায় ? দাড়ান একটা বাস্তব ঘটনা বলি । এক লোক ফোন করল ডাক্তারের চেম্বারে। রিসিভ করে কম্পাউন্ডার বলেন –

\-সরি। স্যার ডেইলি ১০ জনের বেশি রোগী দেখেন না। আপনি কাল সিরিয়াল নেন।  
– না ভাই। আজকে দেখাতে না পারলে রোগী হয়তোবা মারা যাবে। প্লিজ একটা ব্যাবস্হা করেন। আপনার পায়ে পড়ি ভাই…..

অতঃপর কম্পাউন্ডার ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে রোগীকে সিরিয়াল দিলো।

ডাক্তারের চেম্বারে আসার পর সেই লোক –  
– দেখছস? শালা বাইনচুদের ডাক্তার, শালা শুয়ারের বাচ্চা, টাকার লোভে কতগুলা রূগী দেখে? এতো টাকা তাও খালি টাকা টাকা করে। এইগুলা সব বেজন্মার দল…..  
এবার বলেন  ; বাংলাদেশে কোন গ্রাজুয়েট আছে দেখান দেখি যে কিনা ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ১৬ ঘন্টা ডিউটি করবে ? ডাক্তাররা অমানুষ বলেই আপনাদের মতো মানুষদের পেছনে এই শ্রম দেয় । হাসপাতালে ডাক্তারের কাজ রোগীর সেবা করা , রোগীকে ভর্তি করানো নয় । তাই টাকার অভাবে রোগী মারা গেলে সেটার দায়ভার সরকার কিংবা হাসপাতাল কতৃপক্ষের , ডাক্তারের নয় । আপনি বোধহয় জানেন না সব হাসপাতালের মালিক ডাক্তার নন ।

সরকারী টাকায় পড়ালেখা করা কোন ভার্সিটির কোন ছাত্র ছাত্রীদের থেকে আপনারা কি উপকার পাচ্ছেন ? বুয়েটের কোন ছাত্র এসে আপনার ঘরের নকশা করে দিয়ে গিয়েছে ? রোবট দিয়ে গেছে আপনাকে ? কিন্তু এই মেডিকেল স্টুডেন্টরাই  তো থার্ড ইয়ার থেকে আপনার জন্য খেটে যাচ্ছে অবিরত ।

আমাদের সীমাবদ্ধতা নেই , যেসব সীমাবদ্ধতা আছে সেটা দেশের ।

পরিশেষে একটা কথা বলি , সম্মান দিতে না পারেন ভালো কথা কিন্তু অসম্মান করবেন না ।
