# ট্রান্সজেন্ডার মেয়ে ব্রিয়েলা

Author: শুন্য শুন্যালয়
Published: 2019-03-10
Category: বিবিধ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf/

“হিজড়া” শব্দটা আমাদের কাছে এতোটাই নিগৃহীত আর অগ্রহণযোগ্য যে শিরোনামে হিজড়া শব্দটা লিখতেও আমার সংকোচ হচ্ছিল। এটা আমাদের ছোটবেলা থেকে সমাজ প্রদত্ত শেখানো। হিজড়া শব্দটাকে আমরা গালি হিসাবে ব্যবহার করতেই দেখেছি। আমরা মানুষ হিসাবে এতোটাই সেরা এবং সভ্য যে, কোন বিকলাঙ্গ, পাগল, তোতলা অথবা বোবা মানুষ দেখলেই তাকে নিয়ে প্রহসন করি, এড়িয়ে চলি, ঘৃণাও করি। অথচ তারা সবাই এক সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। মানুষের হাতেই সমস্ত সৃষ্টি রক্ষার ভার দেয়া হয়েছে, অথচ আমরা মানুষেরা মানুষদেরই হেফাজত করতে পারিনা। অন্য সৃষ্টিদের কথা বাদই দিলাম।

লেখাটি একটি ট্রান্সজেন্ডার মেয়ে ব্রিয়েলা কে নিয়ে…

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/03/http___prod.static9.net_.au___media_2019_02_05_12_41_190205_BRIELLA_SP9.jpg)

ব্রিয়েলা, এক বছর বয়সে।

একটি ছেলে হিসাবে জন্ম নিয়েও ব্রিয়েলা সবসময়ই জেনে এসেছে সে একটি মেয়ে। ঘৃণা করতো সে তার পুরুষের অঙ্গটিকে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সে একদিন চেষ্টা করলো তার পুরুষাঙ্গটিকে টেনে ছিঁড়ে ফেলবার। সে মনেপ্রাণে চিন্তা করতো তার সমস্ত যন্ত্রণার জন্য দায়ী এই অঙ্গটি, এটি তার নয়। সে একটি মেয়ে।

দু বছর বয়স থেকে ব্রিয়েলার মধ্যে, যার জন্ম হয়েছিল বেয়লিন নাম নিয়ে, একটি মেয়ের চরিত্র দেখা দিতে শুরু করেছিল।  
ব্রিয়েলা ভালোবাসতো তার মায়ের মেকাপ, নেইলপলিশ, হিল। অনেক ছেলেশিশু বাচ্চারাই হয়তো ছোটবেলায় এসব পছন্দ করতো, তবে ব্রিয়েলার ব্যাপারটা তেমন ছিলো না। ব্রিয়েলা হ্যাপি ছিলো ততদিন যতদিন না তার স্কুলজীবন শুরু হলো।  
ব্রিয়েলা ছেলেদের বাথরুম ইউজ করতো না, সে মেয়েদের বাথরুমে তো এলাউড ছিলোইনা। সারাদিন তৃষ্ণার্ত থাকতো, বাথরুমে যেতে হবে ভেবে।

ব্রিয়েলার ডায়েরিতে লেখা ছিলো টুকরো টুকরো কথা…

\*আমি ভাবতাম না খেলে, পানি পান না করলে আমি বড় হবোনা, আমি বড় হতে চাইতাম না। কারণ বড় হবার সাথে সাথে আমার অঙ্গটি বড় হচ্ছিলো।  
\*আমি সবসময় স্বপ্ন দেখতাম বড় চুল, মেকাপ, জুয়েলারি পরে আমি মানুষের সামনে যাচ্ছি  
\*আমার যদি একটি ম্যাজিক ওয়ান্ড থাকতো আমি চাইতাম সবাই ভুলে যাক আমি একজন ট্রান্স এবং সমস্ত বুলিজ বন্ধ হয়ে যাক।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/03/http___prod.static9.net_.au___media_2019_02_05_12_15_190205_BRIELLA_SP6.jpg)

ব্রিয়েলার ডায়েরী

বুলিজের মাত্রা এতো বেশি ছিলো সময়ে যে ব্রিয়েলা সুইসাইডের চিন্তা করেছে অনেকবার।  
এসব তার ছোট ছোট হাতের লেখায় ডায়েরির নানা জায়গায় লেখা ছিলো।  
ব্রিয়েলার বাবা-মা, ভাই-বোন বা পরিবারের সবাই কী অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে সহজেই পরিমেয়।

ব্রিয়েলার মা কিরা কারমাইকেল এর কিছু কথা…  
\*ট্রান্স জেন্ডার সম্পর্কে আমার কোন ধারণাই ছিলো না এর পূর্বে। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের সন্তানকে আমরা চিনি, কিন্তু তা নয়। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো এটা একটা সময়, একসময় সে ঠিক হয়ে যাবে একটু বড় হলে। কিন্তু তা নয়, দিনে দিনে অবস্থার অবনতি হচ্ছিল।  
\*ব্রিয়েলা বাড়িতে মেয়েদের জামাকাপড়, হিল পরে থাকতো। দরজায় কোন নক হলেই সে ছুটে রুমে চলে যেতো এবং ছেলেদের পোষাক পরে আসতো।  
\*সে চাইতো না, সে বড় হয়ে তার বাবার মতো দেখতে হোক।  
\*ব্রিয়েলা স্কুলে ছেলে ফ্রেন্ডদের সাথে মিশতো না, আবার ছেলে মনে করে মেয়েরাও তাকে তেমন গ্রহণ করতো না, সে ছিলো একদম একা।

সবকিছু সহ্য করে যাবার পরে পাঁচ বছরের বাচ্চাকে তারা সাইকোলজিস্ট এর কাছে নিয়ে যাবার প্রস্তুতি নিলো, যখন সে তার অঙ্গটিকে রিমুভ করার চেষ্টা করেছিল। কস পড়ছিল, রক্তপাত হচ্ছিল, তা সত্ত্বেও যখন তার মা তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার ব্যাথা হয়নি এভাবে করতে, ব্রিয়েলা উত্তর দিয়েছিল “না”।  একটি শিশুর মানসিক যন্ত্রণা কতোটুকু হলে এতো বড় ফিজিক্যাল পেইন তার কাছে কিছুই মনে হয়না!

সেপ্টেম্বর ২০১৫ ব্রিয়েলা ট্রাঞ্জিশনড হলো।  
ব্রিয়েলার মা যখন পরিবারের সবাইকে ডিসিশান জানালো ব্রিয়েলার নানী তিন সপ্তাহ তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছিল।  
ব্রিয়েলার জন্য স্যোশাল ট্রাঞ্জিশনটা ছিলো স্বপ্ন পূরন হওয়া কিন্তু তার বাবা-মার কাছে এ ছিলো একটি সময়, একটি যন্ত্রনাতীত এবং বর্ণনাতীত সময়, কষ্টের সময়।  
ট্রাঞ্জিশনটা শুধু পোষাক বা নাম পরিবর্তনই ছিলো না, ছিলো আরো বেশি কিছু।  
একদিকে তারা চায়নি তাদের ছেলে শিশুটাকে হারিয়ে ফেলতে অন্যদিকে তারা চেয়েছে তাদের বাচ্চাটা যেন হাসিখুশি একটা বাচ্চা থাকে।  
মিসেস কারমাইকেল যখন বার্থ সার্টিফিকেটে তাদের ছেলের নাম দেখতো, তারা কাঁদতো, তারা বিশ্বাস করতে পারতো না, কিন্তু এটাই সত্যি ছিলো।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/03/http___prod.static9.net_.au___media_2019_02_05_12_41_190205_BRIELLA_SP8.jpg)

স্কুলে “ব্রিয়েলা ডে”

ব্রিয়েলা একটি নাম পেয়েছে, পেয়েছে পরিবারের সহযোগিতা। ব্রিয়েলার স্কুলে একটি দিন পালন করা হয় ব্রিয়েলা ডে, যখন ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকরা সবাই হলুদ পোষাক পরে তাকে সাপোর্ট দেয়।

তবুও পথ অনেক বাকি।  
ব্রিয়েলা কে যেতে হবে হরমোন ব্লকার এর ভেতর, জেন্ডার রি-এসাইনমেন্ট সার্জারির উপর, তার ভয়েস ট্রানজিশন, তার ফার্টিলিটি।  
ব্রিয়েলা এখনো জানেনা এসব কি, সে শুধু চায় সে হ্যাপি থাকবে, সবাই ভালোবাসবে, তাকে গ্রহণ করবে।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/03/http___prod.static9.net_.au___media_2019_02_05_12_50_190205_BRIELLA_SP10.jpg)

ছয় বছর বয়সে ব্রিয়েলা, তার বড় ভাই আর ছোট বোনের সাথে

ব্রিয়েলা পেয়েছে একটি পরিবারের সাপোর্ট, যদিও পেছনের দরজায় কতো কিছু ঘটে যাচ্ছে আমরা জানিনা। তবুওতো সে পেয়েছে একটি পরিবার, সাপোর্টিভ বাবা-মা, আদরের একটি ভাই, একটি বোন। ব্রিয়েলার মতো আরো যারা আছে তারা সবাই কেমন আছে?

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/03/http___prod.static9.net_.au___media_2019_02_05_12_15_IMG_20190127_154752.jpg)

ব্রিয়েলার পরিবার

ব্রিয়েলার মা কারমাইকেলের একটি কথা যা আমাকে নাড়িয়েছে, “আমার মেয়ের দু’পায়ের মাঝখানে কি আছে তা নিয়ে তোমাদের কোন মাথাব্যথার দরকার নেই। সে আমাদের মেয়ে। সে হ্যাপি, আমাদের আর কিছুর প্রয়োজন নেই”।

প্রতিটা মানুষেরই মুক্ত ভাবে বেঁচে থাকবার অধিকার আছে। সম্মান করুন সকল মানুষকে, হিজড়াদের ঘৃণাকে পরিহার করুন। We all love children, trans or whatever..

[লেখাটি এই আর্টিকেল থেকে নেয়া হয়েছে..](https://www.9news.com.au/2019/02/05/11/17/transgender-news-australia-gender-diverse-assigned-wrong-sex-at-birth-self-harm).

যারা অনেকেই জানেন না। বাংলাদেশে “বাঁধন” নামে একটি অর্গানাইজেশন আছে ট্রান্সজেন্ডারদের, যাদের ট্রমাটিক স্টোরি আমি ২০০৩ সালেই কাছে বসে শুনেছি এবং এখনো বহন করে যাচ্ছি। মানবতা খুব শক্ত জিনিস, তবে অসম্ভবের নয়।
