# টুক্-টুক্-টুক্‌ ডাকে বসন্ত বাউরি

Author: শামীম চৌধুরী
Published: 2020-10-16
Category: পরিবেশ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9f%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d-%e0%a6%9f%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d-%e0%a6%9f%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e2%80%8c-%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d/

বসন্ত বাউরি বিভিন্ন নামে পরিচিত।  যেমন বসন্ত বউরি, বসন্ত বাওড়ি, বসন্ত বৌরি ইত্যাদি। এই পাখির গড় দৈর্ঘ্য ১৬-১৭ সেন্টিমিটার। কপাল, বুক পরিষ্কার লাল। চোখের দুই পাশ থুতনি ও গলা হলুদ। মুখাবয়ব কালো। পিঠ ঘাসরঙা সবুজ। নিচের দিকে খাড়া খাড়া মোটা রেখা। ওড়ার পালক কালচে। বুক উজ্জ্বল লালের সঙ্গে সোনালি হলুদের পট্টি। লেজ খাটো। লেজের শেষ প্রান্ত সবুজাভ নীল। চোখের মণি কালচে-ধাতব। ঠোঁট শক্ত মজবুত, কালো। ঠোঁটের গোড়ায় ক’টি শক্ত লোম। পা বাদামি-লালচে। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম।

বসন্তকালে এদের দেখা মেলে। গ্রামের নির্জন রাস্তা ধরে হাঁটলে প্রজাতির ‘টুক্-টুক্-টুক্‌…’ ডাক কানে আসে। অনেক দূর থেকে শোনা যায় সে শব্দ। হঠাৎ শব্দটি কানে গেলে যে কেউ কামারের হাতুড়ি পেটার শব্দ মনে করতে পারেন। বিদঘুটে আওয়াজ হলেও সুরে রয়েছে চমৎকার তাল-লয়। শোনার আগ্রহ জাগে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এরা আকারে চড়ুই পাখির সমান হলেও অনেক উচ্চস্বরে ডাকতে পারে। পাখি দেখতে ভারী চমৎকার!প্রথম দর্শনেই ভালো লাগে। সাধারণত এরা বসন্তকালে জনসন্মুখে আসে। অন্য সময়ে চলে যায় আড়ালে আবডালে। তাই বলে এরা কিন্তু পরিযায়ী নয়। দেশি প্রজাতির পাখি। হরেক প্রজাতির দেখা মেলে দেশে। তার মধ্যে এরা অতি সুলভ দর্শন। ঢাকা শহরেও হরহামেশাই দেখা মেলে। চোখ-কান খোলা রাখলে রাজধানীর উদ্যানগুলোতে নজরে পড়তে পারে এদের। উঁচু উঁচু গাছে এদের বিচরণ। ঘন পাতার আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। বৃক্ষচারী পাখি; পারতপক্ষে মাটিতে নামে না।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2020/10/Bird_120190531111043-800x600-1.jpg)

বসন্ত বাউরী পাখি ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে বাসা বাঁধে ও প্রজনন করে। প্রজননের সময় পুরুষ পাখিটির মাথার উপরি অংশ ও বুকে সিঁদুরে লাল বর্ণের হয়। যা দেখে মেয়ে পাখি আকৃষ্ট হয়। মেয়ে ও পুরুষ পাখির মধ্যে ভালোবাসার আদান-প্রদান হলেই তারা প্রজনন করে। অঞ্চলভেদে সময়ের হেরফের হয়। যেমন ভারত, শ্রীলঙ্কায় ভিন্ন সময়ে বাসা বাঁধে। তবে সব স্থানেই এরা গাছের খোড়লে বাসা বাঁধে। নিজেরাই খোড়ল করে নেয়। এরা ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৫দিন। শাবক উড়তে শেখে ১৫-২০ দিনে। ছোট ছোট বুনোফল। বট-পাকুড়, বকুল, দেবদারু, পেয়ারা, জাম, আতা, সফেদা, জামরুল ইত্যাদি ফলের প্রতি আসক্তি বেশি। ফল সংকটে পোকামাকড়েও ভাগ বসায়।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2020/10/Bird_220190531111043-640x480-1.jpg)

**বাংলা নাম:**ছোট বসন্ত বাউরি  
**ইংরেজি নাম:** Coppersmith Barbet  
**বৈজ্ঞানিক নাম:** Megalaima haemacephala

ছবিগুলো ঢাকার মিরপুর ‘জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান’ থেকে তোলা।
