# জীবন যুদ্ধ ১৩-তম পর্ব

- Author: [রেজওয়ান](https://sonelablog.com/author/rezwan22/)
- Published: 2017-11-28T03:24:45+00:00
- Updated: 2017-11-28T03:24:45+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a7%a7%e0%a7%a9-%e0%a6%a4%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/

---

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/11/jj13.jpg)

খাওয়া শেষে নাবিল বিল দিতে গিয়ে বললো কত হয়েছে মামা?  
– তিনশ ষাট টাকা মামা।  
– চারশো টাকা দিয়ে বললো পুরাটাই রেখে দেন মামা। আজ আসি পরে দেখা হবে।  
ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে আসলে সবাই গাড়িতে গিয়ে বসলো।  
– মামা এখন জামু?  
– হৃদি বললো দশ মিনিট পরে যেতে। নাবিলাকে ফিডার খাওয়াচ্ছে। খাওয়া শেষ হলে নাবিল ড্রাইভার মামাকে বললো বাসায় যেতে। জ্যামের কারণে প্রায় চল্লিশ মিনিট পরে বাসায় পৌছালো সবাই। সব্বাইকে নামিয়ে দিয়ে নাবিল বললো তোমরা থাকো আমি আসছি রাত দশটার মধ্যেই চলে আসবো।  
– কোথায় যাবা তুমি? যেখানেই যাও আমিও যাবো হৃদি বলে উঠলো।  
– না না তুই বাসায় ই থাক। আমি আসছি একটু পরেই।  
– নাবিলা ঘুমাবে এখন। বুবাই তো আছে তাহলে আমি গেলে সমস্যা কি শুনি?  
– তর জিদের কারণে ভাল মত কাজও করা যায় না, আচ্ছা চল। মামণী তুমি বুবাই এর কাছে থাকতে পারবে? মাথা কাত করে হ্যা সুচোক উত্তর দিলো নাবিলা।  
– তাহলে তোরা আর দেরি করিস না। তাড়াতাড়ি এসে পরিস। আমি রাতের খাবার রেডি করি আছতে আছতে।  
– না বুবাই আসার সময় আমি বিহারী ক্যাম্প থেকে কাচ্চি নিয়ে আসবো সবার জন্য।  
– এত টাকা খরচ করার দরকার নেই। তোর কাচ্চি খেতে ইচ্ছা হলে আমি ই রান্না করছি। বাসায় খাসির রিবস আছে সমস্যা নেই।  
– আচ্ছা তাহলে তাই করো বুবাই, আমরা আসছি বলেই নাবিল আর হৃদি গাড়িতে বসে বললো মামা সোজা ইস্টার্ন প্লাজা যান।  
– এখন বলো নাবিল ইস্টার্ন প্লাজা কেন?  
– বুবাই আর স্যারের একত্রিশ তম বিবাহ বার্ষিকী কাল। রাত বারোটার পরে দু জনকে দু’টো ফোন গিফট করতে চাচ্ছি তাই। তুই না বড্ড কথা বলিস। বুবাইয়ের সামনে কেন জাবি কেন জাবি বলে চেঁচাচ্ছিলি! মনটা চাচ্ছিলো দেই কানের নিচে।  
– তাহলে দিলে না কেন?  
– নাহাত বাচ্চার মা দেখে বেচে গেছিস।  
– আর কি প্ল্যান আছে তোমার?  
– বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারে চকলেট কেকের অর্ডার দেয়া আছে, যাওয়ার সময় নিয়ে যাবো।  
– ও আচ্ছা। এই কথাটা আমার কাছে এতদিন গোপন করে রেখেছিলে কেন? আমারও তো কিছু দেয়া উচিৎ তাই না?  
– দে তাহলে না করলো কে?  
– সাথে যে টাকা নেই তেমন।  
– সমস্যা নেই এলিফেন্ড রোড থেকে স্যারের জন্য পাঞ্জাবী আর বুবাইয়ের জন্য শাড়ি দেখে ছিলাম তারপর আজকেই মত পরিবর্তন করে ফোন কিনবো চিন্তা করছি।  
– এত টাকা কোথায় পেলে নাবিল?  
– চুরি করিনিরে পাগলী। মনে আছে ইসলামপুরে একটা দোকান ছিলো? ওটাই বারো লাখ টাকায় বেঁচে দিয়েছি গত কালকে সম্পূর্ণ পেমেন্ট টা পেয়েছি।  
– সুন্দর দোকান ছিলো! বেঁচে দলে কেন জানতে পারি?  
– আসলে নিজে দেখভাল করতে পারতাম না। স্টাফের বেতন সহ অন্যান্য খরচ দিয়ে তেমন লাভ হতো না।হয়তো মাল চুরিও হত তাই ছেড়ে দিলাম।  
– প্রাইম ব্যাংকে দশ লাখ ডিপোজিট করেছি গত কালকেই। পঞ্চাশ হাজার দিয়েছি পথশিশু ফাউন্ডেশনে মোহাম্মদপুর শাখায় আর এক লাখ আছে ডাচবাংলা একাউন্টে বাকিটা পকেটেই। হুহ হইছে তর হিসেব নেয়া? বাদ দিবি এখন নাকি মাইর খাবি?  
– তুমি এত খরচ করো কেন? দুজনকেই ফোন দেয়া টা কি জরুরী? স্যার বাহিরে থাকেন, উনার দরকার কিন্তু পিসিতো বাসায়ই থাকেন সবসময়।  
– চোপ! আর একটা কথা বললে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেব তোকে! স্যারের স্ত্রী তোর পিসি আমার না, আমার বুবাই! আমার মা’এর সমান। তোর সাহস হয় কি করে এভাবে বলার?  
– সরি নাবিল আমার ভুল হয়ে গেছে, কানে ধরছি আর কোনোদিন এভাবে বলবো না। সরি আমাকে মাফ করে দে।  
– তুই যানিস সব ই বুবাই আমাকে কতটা ভালবাসেন, তারপরেও এভাবে বলতে পারলি?  
– ভুল হয়ে গেছে। আমি আসলে বুঝাতে পারিনাই। সরি নাবিল।  
– আচ্ছা বাদ দে, চল এখন। মামা চলেন বলে কানে হেডফোন দিয়ে নাবিল রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতে লাগলো। এলিফেন্ট রোড এলে ড্রাইভার মামা নাবলকে বললো মামা আইসা পরছি সাড়ি-পাঞ্জাবি লইবেন নাকি ইস্টার্ন প্লাজার দিকে জামু?  
– নাহ এখানেই পার্ক করো ১০ মিনিটের মত লাগবে নিয়ের এসে পরবো। চল হৃদি  
– গাড়ি থেকে নেমে হৃদি বললো চলো দেখি তোমার চয়েস।  
– আমার চয়েস অনেক রুচিশীল তর মত হলুদ মার্কা কাপড় দেখি না। চল দেখাই হা হা হা  
দোকানে এলে সেলসম্যান শাড়ি ও পাঞ্জাবী দু’টো বের করে দিয়ে বললো এই আপুর জন্য শাড়িটা নিচ্ছেন? ভাল মানাবে কিন্তু আপনাকে এই পাঞ্জাবীতে আর এই আপুকে এই নীল রংয়ের শাড়িতে।  
নাবিল কিছু বললো না চুন পরে ভাবতে লাগলো হৃদির নীল রং খুব পছন্দ। ওকেও একটা কিছু দেয়া উচিৎ। ভাইয়া এই রকম শাড়ি দুইটা দেন আর পাঞ্জাবীটা দেন তাড়াতাড়ি।  
– দুইটা শাড়ি দিয়ে কি করবা?  
– ভাই এই শাড়ি এক পিস ই আছে। সামনের উইকে আসবে।  
– খুব ভাল হইছে। দুইটা শাড়ি দিয়ে কি করবা?  
– ওই চুপ একটা কথা বলবি না।চুপচাপ দায়াড়া থাক এইখানে। তাহলে একই ডিজাইনের কালো টা তো থাকার কথা তাই না?  
জি ভাই আছে দিবো?  
– হুম দিন আর এই বাচ্চাদের গাউনটা দেখি? হালকা পিংক রংয়ের মধ্যে অনেক সুন্দর তাই না হৃদি?  
– কিচ্ছু বললো না হৃদি শুধু চোখ গরম করে তাকিয়ে রইলো। নাবিল কোনো পাত্তা না দিয়ে নামাতে বললো তাড়াতাড়ি।  
– সেলসম্যান দিতে দিতে বললো দের/দুই বছরের বাচ্চা মেয়ের জন্য পারফেক্ট। নিয়ে নিন।  
– জি নিবো। প্যাক করে বিল টা দিন। সব আলাদা আলাদা প্যাক করবেন টিক আছে? আর নীল শাড়ি-পাঞ্জাবী টা এই র‍্যাপিং বক্সে সুন্দর করে প্যাক করে দিন। বিল দিয়ে সব নিয়ে নাবিল কিছু না বলে গাড়ির কাছে এলো। হ্রিদিও পিছনে পিছনে এসেছে। সে ভাল করেই জানে যদি পিছনে পিছনে না আসে তাহলে তাকে রেখেই চলে যাবে। নাবিলটা এমন ই। অভিজ্ঞতা হয়েছে হৃদির বেশ কয়েকবার। নিজের উপরেই রাগ খুব না পারছে নাবিলকে কিছু বলতে না পারছে নাবিলের উপর রাগ করে থাকতে।  
নাবিল-হৃদি ও ড্রাইভার গাড়িতে উঠে ইস্টার্ন প্লাজা গেলো। সেখান থেকে নোকিয়ার দুটো ফোন নিয়ে আর কেক নিয়ে রাত নয়টার দিকে স্যারের বাসার সামনে এলো। হৃদি এই কালো শাড়িটা তোর আর গাউনটা মামণির জন্য। ড্রাইভার মামা তোমার জন্য একটা শার্ট নিয়েছি দেখ তো লাগে কিনা?  
– না মামা আমার লাগবো না।  
– বেশি কথা নানিতে বলছি নিয়ে নেন  
– নেন মামা নেন না নিলে ও আবার বকা দিয়ে দিতে পারে। সারা রাস্তা আমাকে বকতে বকতে আনছে হৃদি মামাকে বললো।  
– আচ্ছা সরি আর বকবো না হইছে? চল বাসায় যাই দেখি বুড়া-বুড়ি কি করে।

গল্পের সকল স্থান, নাম ও চরিত্র কাল্পনিক কিন্তু গ্রাম-বাংলার পরিপ্রেক্ষিতে অতি সাধারণ ঘটনা, কারো সাথে মিলে গেলে নিজ গুণে ক্ষমা করবেন”

---

Comments: 5 — https://sonelablog.com/%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7-%e0%a7%a7%e0%a7%a9-%e0%a6%a4%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/#comments
