# জানুন, জানান

- Author: [শুন্য শুন্যালয়](https://sonelablog.com/author/sunnaloy007/)
- Published: 2016-07-09T05:46:05+00:00
- Updated: 2016-07-10T21:25:39+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/), [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- Tags: জঙ্গি উত্থান
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-2/

---

প্রখ্যাত এক ব্লগে একজন ব্লগারের লেখা চোখে পড়লো। লেখাটি সে সময় লেখা যখন এক রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন যুদ্ধের রেফারেন্স দিয়ে তিনি লিখেছেন, যেকোন যুদ্ধেই একজন বিপ্লবী কে প্রতিপক্ষ দেখে যুদ্ধাপরাধী হিসাবে। সিপাহী বিদ্রোহ ব্রিটিশদের কাছে ছিলো সিপাহী বিদ্রোহ আর সিপাহীদের কাছে সিপাহী বিপ্লব। মোদ্দা কথা তার লেখার সারমর্ম হচ্ছে যাদের আমরা রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী হিসাবে ঝুলিয়ে দিচ্ছি তারা আসলে এক একজন বিপ্লবের ঝান্ডা …  
কবে কাকে যেন একবার বললাম, পৃথিবীতে ভালো আর মন্দ বলে কিছু কি আছে? খুনীর খুনের পেছনে একটা লজিক থাকে, তার হিসাবে সে সহি। তার মানে কি দাঁড়ালো? খুনীরাও এক একজন পীরের বাদশা?

এবার রিসেন্ট ঘটনাটা। সুরা বাক্কারাহ্‌’র দুটো আয়াতের কথা উল্লেখ করবো,  
*(১৯৪) পবিত্র মাসের খাতিরে, আর সব নিষিদ্ধ ব্যাপারে প্রতিশোধ নিতে হবে। কাজেই যে কেউ তোমাদের উপরে আক্রমণ চালায়, তোমরাও তবে তাদের উপরে আঘাত হানবে সেইভাবে যেমনটা তারা তোমাদের উপরে আঘাত করেছিল। আর আল্লাহ্‌কে ভয়-শ্রদ্ধা করবে, আর জেনে রেখো নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ ধর্মভীরুদের সাথে আছেন।* —– এখানে পবিত্র মাস মানে রমজান মাস।

(২১৭) *তারা তোমাকে পবিত্র মাস সম্পর্কে প্রশ্ন করছে — তাতে যুদ্ধ করার ব্যাপারে। বলো —* *”এতে যুদ্ধ করা*  
*গুরুতর, কিন্তু আল্লাহর রাস্তা থেকে ফিরিয়ে রাখা, আর তাঁর প্রতি ও পবিত্র মসজিদের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করা, এবং তার বাসিন্দাদের সেখান থেকে বের করে দেয়া আল্লাহর কাছে আরও গুরুতর! আর উৎপীড়ন হত্যার চেয়ে গুরুতর।* (হত্যার চাইতেও গুরুতর আছে তাহলে?)  
———-[আয়াত দুটো নেয়া হয়েছে এই অনুবাদ থেকে](http://tanzil.net/#trans/bn.hoque/1:1)

এরকম কিছু আয়াতের কথা অনেকেই এনেছে। আনছে। না আনার কোন কারন ও দেখছি না, কারন কোরআন কে বলা হয় পরিপূর্ণ জীবনবিধান। এখানের প্রত্যেকটা আয়াতের ব্যাখ্যা থাকতে হবে। যারা কোরআন চর্চা করেন তারা জানেন প্রত্যেকটা আয়াতের পেছনে একটা ব্যাখ্যা ছিলো, যেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা কোরআনে দেয়া নেই, আছে হাদিসে, বিভিন্ন সাহাবীদের বইতে। কিন্তু ব্যাখ্যাগুলো ক’জনের কান পর্যন্ত পৌঁছেছে আজ পর্যন্ত? এই দুটো আয়াত নাজিলের ব্যাখ্যা না দিয়ে যদি কেবল মাত্র আয়াত দুটো ব্যবহার করা হয়, তবে খুব সহজেই কিছু মানুষকে জঙ্গি বানানো যায়, যা ধর্ম ব্যবসায়ীরা করে থাকে, এর ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি।  
এই আয়াত গুলো যদি দুই কলম ধরা মানুষদের দেখিয়ে পথ ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে ভুল কি হবে? কোরআন এর পজেটিভ সৌহার্দ্য  সম্প্রীতির কথা আমরা তুলবো না, কারন, বলা হয় চোরায় না শোনে ধর্মের কাহিনী, আসলে চোরায় না শোনে সুধর্মের কাহিনী। জিজ্ঞেস করতে পারে কেউ, যারা নির্মম ভাবে খুন হলো তারা কিভাবে কোন দিকে আমাদের শত্রু ছিলো? টেরোরিস্টদের কাছে পৃথিবীর সব বিধর্মীরা ই শত্রু। তাদের প্রাণপ্রিয় আফগানিস্তানে আজ হামলা হলো তো কাল ইরাক। সারা পৃথিবীতে তারা পরিত্যক্ত, ঘৃণিত। তো তারা তো সবাইকে শত্রু ভাবে। আর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে তারা কাকে শত্রু ভাবছেনা সেটাই বিবেচ্য। তারা যে শুধুমাত্র রাজনীতির কারনেই ধর্মটাকে ব্যবহার করছে তা আমরা মুসলিমদের উপর হামলাতেই স্পষ্ট বুঝতে পারছি। তাদের উদ্দেশ্য যেটাই হোক তারা অস্ত্র কিন্তু বানাচ্ছে কোরআন কেই। তাদের রাজনীতি সাধারণ জঙ্গিদের বোঝার কথা না।  
উপরের ব্লগারের সাথে এবার সদ্য টেরোরিস্টদের ঘিলু এক করুন, দেখুন কিছু মিল পান কিনা। এই মানসিকতার ব্লগার বা আইডি আপনার ফেসবুক কিংবা সোশ্যাল আইডিতে ঢু দিলে পাবেন শত শত, যারা বৃদ্ধ রাজাকারের মৃত্যুতে আহা উহু করছে, নিষ্পাপ কিউট জঙ্গি গুলো কেন জঙ্গি হইলো কেঁদে কেটে লাইক কামাইতেছে।

হয়তো অমিল:—-  
ছোটবেলায় মাকে খুব প্রশ্ন করে করে জ্বালাতাম। একটা কথা মনে পড়ে, জিজ্ঞেস করেছিলাম মাকে আল্লাহ্ কোথা থেকে আসলো? উত্তরে আম্মা বললো আল্লাহ্ কোথা থেকে আসলো, আল্লাহ না থাকলে কি হতো এসব প্রশ্ন নাকি কখনো মনে আনতে নেই! অনেকটা জোর করে দরজা বন্ধ করে দেবার মতো হলো মনের অবস্থা। আমরা যেন সবাইই তোতা পাখির মতো ইসলাম চর্চা করি, কিছু না জেনে না বুঝে। প্রশ্ন ছাড়াই।  
বহুবছর পর ইন্ডিয়ান একটা বিজ্ঞাপন আমার ছোটবেলা ফিরে এলো। বাজারের মধ্যে বাচ্চা ছেলে মাকে নানা প্রশ্ন করতে করতে হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো, আগার ভগবান না হোতা তো কেয়া হোতা?  
বাজারের সব্বাই বিষ্ময় নিয়ে বাচ্চাটার দিকে তাকালো। তার মা তখন হাসিমুখে ছেলেকে বোঝালো, আগার ভগবান না হোতা তো তোমহারা এ আইসক্রিম কাহা সে আতা? হাম কেয়া খাতা? তোমহারা মাম্মি কাহাছে আতা? হাও কিউট না?  
বলার উদ্দেশ্য একটাই, জানুন, সঠিকটা জানুন, জানান; যাতে কেউ ভুলটা না জানে।  
জিসান ভাইয়ার গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি এড করছি … [জঙ্গি দমনে করণীয় …](http://sonelablog.com/%e0%a6%9c%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%80%e0%a7%9f/)

---

Comments: 57 — https://sonelablog.com/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-2/#comments
