# জাতিস্মর…..৪

- Author: [বনলতা সেন](https://sonelablog.com/author/bonolota/)
- Published: 2014-04-23T03:22:51+00:00
- Updated: 2014-04-23T20:51:06+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b0-%e0%a7%aa/

---

প্রাণের সই , লতা ,

তোকে চিঠি লেখার পরে পরেই মজার ঘটনাটি ঘটে এবং তা শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছি না । এ জন্য উত্তরের অপেক্ষা না করেই তড়িঘড়ি করে লিখতে বসে গেলাম । ঐ যে তিনটে তাগড়া মাছের প্রেমের আখুটিপনার কথা বলেছিলাম , এবারে নীরবতার শব্দে নয় , সেই দুষ্টুগুলো এবারে গাছের রঙ্গিন পাতায় লিখে প্রেম পত্র দিয়েছে । চিঠি ফেলে রেখে যে পালিয়েছে আর এ মুখো হচ্ছে না । তোকে তা না দেখিয়ে পারছি না ।

মোদের প্রাণের দেবী ,  
(দেবী না ছাই , খালি মারধোর করার চিন্তায় থাকে )

আমাদের ভালোবাসা গ্রহণ করবেন , না করলেও আমাদের পক্ষ থেকে সমস্যা নেই , আমরা নাছোড় বান্দা তা আপনি অচিরেই আরও ভাল করে ভাল ভাবেই বুঝতে পারবেন । আমরা আপনার প্রেমে পড়ে এখন কবি হয়ে উঠেছি , সত্যি সত্যি কবি নয় । নকল নবীশ কবি । কবি না হলে আর আজকাল নাকি দেবীদের রুচি হয় না , তা আপনার ও কি কবি হতে ইচ্ছে জাগছে ? নাকি হয়ে গেছেন ইত্যবসরে।

দেবী ,ওই খানে যেয়ো নাকো তুমি,  
বোলোনাকো কথা ওই পরীদের সাথে;  
ফিরে এসো দেবী :  
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;  
বা দিনের যে কোন ক্ষণে ।

ফিরে এসো এই সরোবরের , ঢেউয়ে ;  
ফিরে এসো হৃদয়ে মোদের;  
দূর থেকে দূরে – আরও দূরে  
পরীদের সাথে তুমি যেয়ো নাকো আর।

কী কথা ওদের সাথে? – ওদের সাথে!  
আকাশের আড়ালে আকাশে  
মৃত্তিকার মতো তুমি আজ :  
ওদের প্রেম ঘাস হয়ে আসে।

প্রাণের দেবী,  
তোমার হৃদয় আজ ঘাস :  
বাতাসের ওপারে বাতাস –  
আকাশের ওপারে আকাশ,  
তুমি এখন দাস  
কচু খেকোদের দাসানুদাস।

দেবী মোদের,  
বনপরী আর ফুলপরীদের সাথে কিসের এত মাতামাতি ? কিসের এত মাখামাখি ? অসহ্য অসহ্য । খুব তো বুড়ো মাছেদের সাথে ঘোরাঘুরি , আমদের বুঝি তোমার সাথে ঘুরতে ইচ্ছে করে না ? চল না যাই কোন নিরালায় লোকালয় এড়িয়ে গভীর থেকে আরও গভীরে , মত্ত হই নূতন নূতন কোন আবিষ্কারের নেশায় । জানিতো , আমরা বললেই তেড়েফুঁড়ে আসবে । বলবে – তোদের জলপরীদের চোখে লাগে না বুঝি ? ঐ পাখাওয়ালী খ্যাংরাকাঠি পরীদের কাছে আমরা যাই না ,ছুঁয়েও দেখি না , তা যতই কান্না করুক। আমরা তোমাকেই চাই , শুধু তোমাকেই ।  
পাখির নীড়ের মত চোখ দু’টি কে ভালোবাসি ।তোমাকেই শোনাব স্বর্গ মর্ত ও পাতালের সব কবিতা । আসল ও নকল করে , তোমার অনুমতি নিয়ে ।  
তোমার পায়ের কাছে জমা দেব সব কাব্য মহাকাব্য । শোনাব গান । মাছেদের ডিম খেত দেব , আমাদের রঙ্গিন পাখনা খুলে খোপায় দেব গুজে । সাদা সাদা দাঁতগুলো দেব তোমার শাড়ির আচলে বেঁধে , তুমি হেঁটে যাবে ঝুনুর ঝুনুর শব্দ তুলে । তাও কথা দাও ভালোবাসার , এক বার বল ‘ভালোবাসি’ ।

একটুখানি গালিব শোনাই তোমাকে (নকল নয়)

কিউ জ্বল গ্যয়া না তব-এ রুখ-এ য়ার দেখ কর,  
জ্বলতা হুঁ আপনে তাকত –এ দীদার দেখ কর ।

প্রিয় ’র মুখের দীপ্তি দেখে কেন জ্বলে মরলাম না,  
দেখার এই শক্তি দেখেই জ্বলে মরছি এখন ।

প্রিয়তম,  
যদিও ‘আজ’ আজই ‘গতকাল’ নয় কোনভাবেই , প্রাপ্যতার চেয়েও বেশি সহৃদয়তা আমাদের প্রয়োজন আগামীকাল। আমাদের নীরস সুরহীন চিঠিটি মধুর আলাপিয়া হয়ে তোমার নিরুত্তেজ ঘুমহীন স্বপ্নচোখের পাতা ছুঁয়ে হৃদয়ে স্থান করে নিক এ প্রত্যাশা নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিরতি টানছি ।  
আমাদের সাথে যোগাযোগের বাৎলে দেয়া পদ্ধতি শেষে বলে দিয়েছি ,মনে থাকে যেন । ফিরতি চিঠির প্রত্যাশা এখনই করছি না । তবে লিখতে তোমাকে হবেই । আপাতত আকাশ সমান নিঃসঙ্গতা ও ভীষণ একাকীত্ব তোমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলুক তা সত্যি কামনা করছি ।  
খেলামকুচি না হয়ে এ চিঠিটি তোমার ‘বুক পকেটে’ স্থান পাক মনে মনে আমাদের এই প্রার্থনা । যদি দেবীর পাথর হৃদয় গলে এক ফোটা ভালোবাসা চুঁইয়ে পড়ে ।

দেবীজী,  
স্বর্গ মর্ত্য পাতাল মালিকের কাছে আমাদের ক্ষুদ্র প্রার্থনা আপনি পৌছে দিয়ে আমাদের মনোবাঞ্ছা পুরনে সাহায্য একমাত্র আপনি-ই করতে পারেন ।

শেষেও,  
আমরা একান্ত রূপমুগ্ধ তোমার-ই । (শীঘ্র এ মুখো হচ্ছি না )  
রাগ কমে এলে (কমবে জানি) একটি ঢিল ছুড়ে মেরো।

লতা ,  
কেমন তেঁদড় প্রেমিকদের পাল্লায় পড়েছি দেখ একবার । এ দেখছি শকুন্তলা, অনুষূয়া ও প্রিয়ংবদার পুরুষ ভার্সন । কথা বলতে হবে বাঁদরদের সাথে , আগে জানতে হবে শকুন্তলাটি কে ?  
তুই এলে যে কী মজাই না হত ভাবতে পারছি না । ওদের ডেকে কথা বলে তোকে জানাচ্ছি সব বৃত্তান্ত ।

তোর  
নাছরিন ।

এ চিঠির উত্তর দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই । নিরুপায় আমার হৃদয়বানদের সাহায্য চাওয়া ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে ।  
====================================================================  
অধ্মের ক্ষীণ কণ্ঠের সুউচ্চ নিবেদন………………………………

অগাধজলসঞ্চারী বিকারী ন চ রোহিতঃ ।  
গণ্ডুষ জলমাত্রেণ শফরী ফরফরায়তে।।  
(অর্থাৎ -রুইমাছ অগাধ জলে বিহার করে, অথচ তাহার বিকার নাই।  
পুঁটি মাছ গণ্ডুষ মাত্র জলে ফরফর করিয়া বেড়ায়।)  
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

এ শ্লোকের শেষ অংশটি আমার ক্ষেত্রে শতভাগ প্রযোজ্য এবং আমার কথা মনে করেই লিখে গিয়েছেন । অল্প বিদ্যার ফরফরানিতে চমক আছে কিন্তু কোন খমকের ঝুলন ঝংকার। আপনাদের ক্ষমাসুন্দর প্রশ্রয় পেয়েই কিছু লেখার চেষ্টা করছি।

সবাইকে আবার নতুন বছরের শুভেচ্ছা ও অভিবাদন । আরও নিবিড় প্রশ্রয়ের একান্ত আশায় ।

---

Comments: 34 — https://sonelablog.com/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%b0-%e0%a7%aa/#comments
