# জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ

Author: হৃদয়ে আমার বাংলাদেশ
Published: 2013-10-18
Category: এদেশ, সমসাময়িক
Tags: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষন, শেখ হাসিনা
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ae%e0%a6%a8/

[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2013/10/1109.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2013/10/1109.jpg)

বর্তমান সরকারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে আগামী ২৪ অক্টোবর। আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। ভাষন এর গুরুত্ব বিবেচনায় এবং সবার সুবিধার কথা বিবেচনা করে ভাষণটি এখানে প্রকাশ করলাম। 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম  
প্রিয় দেশবাসী,  
আসসালামু আলাইকুম। আশা করি, আনন্দমুখর পরিবেশে আপনারা ঈদ-উল-আজহা পালন করেছেন। আমি আপনাদের সবাইকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।  
কয়েকদিন আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে। তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাই।  
আজ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব – প্রবারণা পূর্ণিমা। তাদেরকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।  
পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সকল সংস্থাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা দেশবাসীর আনন্দ-উৎসবকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আগামীতেও তারা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একইভাবে কাজ করবেন বলে আমি আশা করি।

সচেতন দেশবাসী,  
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমি আজকের দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা আত্মাহুতি দিয়েছেন এবং আমার নির্যাতিত মা-বোন সকলকে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গণতন্ত্রকে একটি সুদৃঢ় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হবে যখন তা সাংবিধানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।

২০০৭-এর ১/১১-এর মতো কোন তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকের উপর চেপে বসে তখন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-ছাত্র-পেশাজীবী, ব্যবসায়ীসহ সবার উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। এধরণের অসাংবিধানিক শাসনের পুনরাবৃত্তি আর কখনোই হবেনা – এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

২০০৮ সালে বাংলার মানুষ ভোট দিয়ে যে আস্থা এবং বিশ্বাস আমাদের উপর রেখেছেন আমরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাদের সেই আস্থা এবং বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।  
আপনাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর কৃষি, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন খাতে যে উন্নয়ন হয়েছে তা সারা বিশ্বের প্রশংসা অর্জন করেছে।

নিম্নবিত্ত মানুষ দারিদ্র্যের শৃংখল থেকে বের হয়ে মধ্যবিত্তের কাতারে উঠে আসছে। জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষ ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একজন দিনমজুর সারাদিনের পরিশ্রম শেষে দুই কেজি চাল কেনার মতো মজুরি পেতোনা। আজ তার মজুরির টাকায় সে ৮ থেকে ১০ কেজি চাল কিনতে পারছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্রও কিনতে পারছে।

এই কৃতিত্বের দাবীদার আপনারাই। আমি বিশ্বাস করি, যে জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা আনতে পারে সেই জাতির উন্নয়ন কেউ থামিয়ে রাখতে পারবেনা।

প্রিয় দেশবাসী,  
ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে, তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষিত আগামী প্রজন্ম গড়তে আমরা কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। প্রতি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগসহ তথ্য সেবাকেন্দ্র খুলে দিয়েছি। তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। তারা গ্রামে থেকেই নগদ টাকা আয় করে জীবনে স্বচ্ছলতা আনতে পারছে।  
মোবাইলের মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো সহজ হয়েছে। স্কাইপের মাধ্যমে, ভিডিও কলের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার মানুষ তাদের প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সাক্ষাত করতে পারছেন।  
ছাত্র-ছাত্রীরা বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। প্রাথমিক থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত ১ কোটি ১৯ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি ও উপ-বৃত্তি দেয়া শুরু হয়েছে।  
ঘরের কাছে কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ডাক্তার ও নার্সদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছেন। ফলে শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যুর হারও কমে যাচ্ছে।  
প্রশাসন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থা অর্থাৎ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিসসহ সকল প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরণের পেশাগত সমস্যার সমাধান করেছি। বেতন ভাতা বাড়িয়েছি। চাকুরির বয়স সীমা বাড়িয়েছি। তাদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছি।  
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জন্য বিশ্বমানের আধুনিক সমরাস্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরো সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করেছি।  
সকল প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরে পদমর্যাদা বৃদ্ধি করেছি, পদের নাম পরিবর্তন করে মর্যাদাপূর্ণ নামকরণ চলমান রয়েছে।

সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ,  
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পানির সমস্যা ও যানজট সমস্যার সমাধানে আমাদের সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বেশকিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে যার সুবিধা নাগরিকরা অচিরেই পাবেন। নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর ও গাজীপুরে চারটি নতুন সিটি কর্পোরেশন করেছি।  
দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ করে আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছি যা সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।  
সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। অনেক কাজ অব্যাহত আছে। রেল, সড়ক ও নৌপথের সংস্কার করা হয়েছে। নতুন রেল ইঞ্জিন, বগি ও লোকোমেটিভ ক্রয় করা হয়েছে। বিআরটিসির জন্য এক হাজার নতুন বাস ক্রয় করা হয়েছে। এবারের ঈদে যাত্রীদের ভ্রমণ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আমাদের সরকার নিয়েছে যার সাক্ষী আপনারাই।  
আমাদের সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময়ে দেশে ছিল বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। আমরা আপনাদের কষ্ট দূর করেছি। দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৯ হাজার ৭১৩ মেগাওয়াট। মোট জনগোষ্ঠির ৬০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আপনাদের সমর্থন নিয়ে আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবো ইনশাল্লাহ।

সচেতন দেশবাসী,  
বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ১০৪৪ ডলারে উন্নীত করেছি। প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগের উপরে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। মূল্যস্ফীতি ১১ ভাগ থেকে কমিয়ে ৭/৮ ভাগে নামিয়ে এনেছি।  
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করে বর্তমানে ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।  
রোজার মাসে খাদ্যপণ্যের দাম কমিয়েছি। এবারের ঈদে কোরবানির পশুর দাম আপনাদের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় ছিল।  
সুষ্ঠুভাবে পবিত্র হজ্ব পালনের ব্যবস্থা করেছি। যারা হজ্ব সম্পন্ন করেছেন তাদের মোবারকবাদ জানাচ্ছি এবং মহান আল্লাহতালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।  
আমরা সমুদ্র বিজয় করেছি। বিপুল সমুদ্র সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি। ভবিষ্যতে এগুলো বাস্তবায়িত হলে আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আরো উন্নতি হবে।

**পরবর্তী অংশ প্রথম মন্তব্যেঃ**
