# জনগোষ্ঠীর পরিচয়ে বাঙ্গালী “ভেডডিড জনগোষ্ঠী”

Author: নার্গিস রশিদ
Published: 2026-08-18
Category: ইতিহাস ঐতিহ্য
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be/

( ১৪)   ভেডডিড জনগোষ্ঠী   “বঙ্গ” আর “বাঙ্গালী” শেকড়ের খোঁজে,নরগোষ্ঠী

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2026/08/Screen-Shot-2025-12-24-at-12.38.25.png)

অ্যাস্ট্র এশিয়াটিক ভাষা গোষ্ঠীর  প্রথম প্রবেশ পথ এই “বরেন্দ্র অঞ্চলের” মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে

তাদের হাতেই গোড়াপত্তন এই বঙ্গে আসা বাঙ্গালীর চাষবাস আর বন্দর নগরী স্থাপনের ।  
তারপর একটু একটু করে  ছড়িয়ে  যায় সমস্ত বাংলাদেশে।   আর পশ্চিম বাংলায় তথা সমস্ত  বঙ্গে ।

**তারা কোন নরোগোষ্ঠীরঃ**

নরগোষ্ঠীর বিচারে পুণ্ড্র রা “ভেডডিড  নরগোস্টির” । দক্ষিণ ভারত, শ্রীলঙ্কার ভেদ্দারা এবং দাক্ষিণাত্য অঞ্চলের মানুষ এই শ্রেণি ভুক্ত।

নরগোস্টি প্রবাহ সম্বন্ধে যিনি গবেষণা করেছেন তার নাম “ব্যারন ফন আইকস্টেডট” ,যিনি পুরো  ভারত বর্ষ জুড়ে মানুষের শরীর পরিমিতি গণনা করে এই আলোকপাত করেছেন। তাঁর গবেষণা একান্ত বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি । যা সর্বজন  স্বীকৃত ।

তাঁর মতে ভেডডিড জনগোষ্ঠী আকৃতিতে বেঁটে খাটো , গায়ের কালো রং,  লম্বাকৃতি মাথা এবং  কিছুটা চওড়া নাক। বিগত কয়েক হাজার বছরে পীতাভ মঙ্গলীয় এবং গৌড় বর্ণের আর্য ও  অন্যান্য রক্তধারার সাথে সংমিশ্রণে একটা অভিনব সংকর জাতিতে পরিণত হয়েছে।

তবে অস্ট্রিক  জাতি গোস্টির রক্ত সবার  মধ্যে থেকে গেছে।  তা থেকে কেউ বিচ্ছিন্ন নয়।

ডক্টর ম্যাকফারলেন, মীনেন্দ্রনাথ বসু,শশাঙ্ক শেখর প্রভৃতি কয়েকজন গবেষণা করে পান এই বঙ্গের হীন্দু মুসলমান, উচ্চবর্ণ,  নিম্মবর্ণ  সব মানুষের একই ডি এন এ ,  অর্থাৎ একই রক্ত বৈশিষ্ট্য ।

বাঙ্গালী ব্রাম্ভন হউক আর নিন্ম বর্ণের মানুষই  হউক ,হিন্দু বা মুসলমান সবার জিনগত বৈশিষ্ট্য এক ।

তবে আজও বরেন্দ্র অঞ্চলে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে প্রাচীন পুণ্ড্র বা ভেডডিড জাতীর আকৃতিগত মানুষ চোখে পড়ে যা কিনা প্রকট ভাবে বিদ্যমান। যা থেকে বুঝা  যায় এই বরেন্দ্র অঞ্চল দিয়েই বাঙ্গালীর পূর্ব পুরুষ এই বঙ্গে প্রবেশ করেছিল ।

আর্য সভ্যতা আসার আগে এই একই নরগোষ্ঠীর মানুষ প্রাচীন অঙ্গ,বঙ্গ,কলিঙ্গ, পুণ্ড্র, এবং সূক্ষ্ম অঞ্চল সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতো।

ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারনে ভিন্ন ভিন্ন জনপদে তারা ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করে।

আর্য রা যতটা দ্রুততার সাথে উত্তর পশ্চিমে আধিপত্য বিস্তার করে সেই হিসেবে এই পূর্ব দিকে বিস্তার করে নাই। কারন  এই অঞ্চল নদ নদী ,খালবিল জলাশয়ে পরিপূর্ণ থাকায় তাদের পক্ষে  সম্ভব হয় নি এই দিকে আগমনের । তাই বাঙ্গালীর ধমনিতে আর্য রক্ত ক্ষীণ  ধারায় দেখা  যায়।

প্রাচীন বাংলায় অনার্য জাতি দ্বারা এই পুণ্ড্র সভ্যতা ছাড়া  আরও কয়েকটি সভ্যতার নিদর্শন আছে ।

সেগুলো হল ১) চন্দ্র কেতু গড় ২) পাণ্ডু রাজার ঢিপি ৩)বানেস্বরের ভাঙ্গা ৪) মহিসদল ৫)  ভরতপুর ইত্যাদি ।

“যুদ্ধ বিগ্রহ যথেষ্ট হয়েছে ভিন দেশের রাজা রাজত্ব করেছে কিন্তু এই সব ঐতিহাসিক ঘটনা,   বাঙ্গালীর সমাজের মূল ধরে টেনে,  সমাজবিন্যাসের চেহারাটা,  কে একেবারে বদলিয়ে দিতে  পারে নি”  নিহাররঞ্জন রায় ।

চলবে
