# ছাত্রলীগের ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

- Author: [মাহবুবুল আলম](https://sonelablog.com/author/mahbubulalam/)
- Published: 2016-01-05T13:31:57+00:00
- Updated: 2016-01-05T13:31:57+00:00
- Category: [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4/

---

মাহবুবুল আলম//

আজ ছাত্রলীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। চলিত মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যা গড়িষ্টতা নিয়ে ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে আসামীর কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এমনকি ইলেক্টনিকস মিডিয়ায় হল দখল, চাঁদাবাজী টেন্ডারবাজীসহ বিভিন্ন বিতর্কীত কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে নানা ধরণের সমালোচনা করে যাচ্ছে। এত সব সমালোচনা বিষয়ে এক ছাত্রলীগ নেতাকে জিজ্ঞেস করতেই সে হতাশার একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেছে, ‘আসলে আমাদের জন্য এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার যে পার্টি যখন ক্ষমতায় আসে তখনই আমাদেরকে নিয়ে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ২০০১-২০০৬ বিএনপি জামায়াত জোটের শাসনামলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হল থেকে অত্যাচার নির্যাতনের মাধ্যমে নিগৃহীত করে বের করে দিয়েছিল, তখন কিন্তু আজকের মতো সংবাদপত্রকে এত নিরপেক্ষ হতে দেখিনি। তবে আমি এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারি, চাঁদাবাজী ও হল দখলের বিচ্ছিন্ন যে দু’একটি ঘটনা ঘটেছে; তা কখনো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী প্রকৃত কোন ছাত্রলীগ কর্মী দ্বারা সংগঠিত হয়নি। বিএনপি জামায়াত জোটের শেষ সময়ে এবং বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ছাত্রদলের অনেক সুবিধাবাদী নেতাকর্মী ছাত্রলীগে যোগদান করেছে; সেই আদর্শহীন ছাত্রলীগ নামধারীরাই দলের নাম ভাঙ্গিয়ে হল দখল, চাঁদাবাজী বা টেন্ডারবাজীর মত কিছু কিছু অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে, এরা হয়তো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের তথাকথিত ছাত্রলীগনামধারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত মার্ডারের আসামী শফিউল আলম প্রধানের উত্তরসুরী, যে শফিঊল আলম প্রধানরা এখন একটি পেড সর্বস্ব প্রক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলের ধ্বজাধারী এবং বিএনপি-জামায়াতের খুবই কাছের লোক। বর্তমানে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণে ছাত্রলীগ নামধারীদের অপকর্ম স্থিমিত ও নিয়ন্ত্রনের মধ্যে চলে এসেছে। এখানে আমি একটি কথা জোর দিয়ে বলতে চাই যে, ছাত্রলীগের জনপ্রিয়তায় ঈর্শান্বিত কোনো একটি মহল ছাত্রলীগের গায়ে কালিমা লেপন করে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলেও মিথ্যা গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে শেখ কামাল ভাইয়ের নামেও ব্যাংক ডাকাতির বদনাম রটিয়েছিল।  
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জয়নাল হাজারীর ও শামীম ওসমানের মত জনপ্রিয় নেতাকে গডফাদার বানিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে তাদের জনপ্রিয়তা নস্যাৎ করার চেষ্টা হয়েছে। অথচ বিগত বিএনপি জামায়াত জোট শাসনামলে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেই এমন কত জয়নাল হাজারী ও শামীম ওসমান বানিয়ে দেশের শাসন ব্যবস্থাকে দুঃশাসনে পরিনত করেছিল। তখন কিন্তু পত্রিকাওয়ালাদের এত মাতামাতি দেখিনি।’ ছাত্রলীগের এই নেতার কোনো কথাই আমি তুবড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারিনি। ঐ ছাত্র নেতার মতো এমনই হতাশার কথা জানতে পারলাম, বাংলাদেশের প্রতিথযশা এক বুদ্ধিজীবীর কন্ঠে। সম্প্রতি সহযোগি এক দৈনিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আবদুল খালেক ‘কেষ্টা বেটাই চোর’ শিরোনামে লিখিত নিবন্ধে রবীন্দ্রনাথের চিত্রা কাব্যের ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতায় ‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’ কতিপয় পত্র পত্রিকা খবর, কিছু সংখ্যক মুখচেনা লেখক বুদ্ধিজীবীর নানা আলোচনা সমালোচনা থেকে ধারনা হচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আজ রবীন্দ্র কবিতার কেষ্টার দশা হয়ে দাড়িয়েছে। মনে হচ্ছে দেশের সবাই এখন তুলশী ধোয়া পানি, আর যত নষ্টের গোড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। … তিনি এই নিবদ্ধেরই শেষের দিকে বলেছেন,‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে কতিপয় পত্র পত্রিকার মাধ্যমে বেশ কিছু মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাবমুর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যে পত্র পত্রিকায় প্রচার করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতি করতে যেয়ে প্রহরীর গুলিতে আহত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পিছনে ষড়যন্ত্র কত গভীর ছিল পত্র পত্রিকার এ মিথ্যা খবরটি তার উজ্জল দৃষ্টান্ত। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নামে যে সমস্ত খবর পত্র পত্রিকায় প্রচারিত হচ্ছে, সে সব খবরের আড়ালে আর কোন খবর আছে কিনা, সে সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।’  
আজ আমি আমার এই নিবন্ধের মাধ্যমে নুতন প্রজন্মের কিশোর যুবা ও সাধারণ মানুষের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে ছাত্রলীগ কোন ভূঁইফোড় ছাত্র সংগঠন নয়, এই ছাত্রলীগ হলো বাংলাদেশের প্রচীনতম ঐতিহ্যবাহী একটি ছাত্র সংগঠন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চেয়েও প্রায় বছর দেড়েক আগে জন্ম দেশের এ ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনটির। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির সৃষ্টির পর থেকেই মুসলিম লীগ সরকার পূর্ব বাংলায় তাদের বৈষম্যমূলক নীতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক শোষণ ও এ অঞ্চলের মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে শুরু করে। এর বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন এ ছাত্র সংগঠনটি। এর আগে অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক কর্মী সম্মেলনের ডাক দেন। এই কমী সম্মেলনেই একটি বিরোধী ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ব্যাপক আলাপ আলোচনার প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ তোয়াহা, তাজ উদ্দিন আহমদ, অলি আহাদ, আব্দুস সামাদ আজাদ ও খালেক নেওয়াজ প্রমুখ ছাত্র নেতাদের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। তারও প্রায় বছর দেড়েক পড়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করলে, ছাত্রলীগ এই দলটির সহযোগি সংগঠন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। নানা প্রতিকুলতা, অত্যাচার নির্যাতন, জেল-জুলুম, হামলা মামলা ও নানাবিদ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সেই থেকে যে পথচলা শুরু করেছিল এই ত্যাগী ও সংগ্রামী ছাত্র সংগঠনটি, আজ পর্যন্ত তার নিরন্তর পথচলায় কোনো যতি চিহ্ন পড়েনি।  
ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের পটভুমিতে যে সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল, সেই দলটি এক সময় হয়ে দাড়ালো, পাকিস্তানী শাসক শোষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবী আদায়ের সংগ্রামের অগ্রদূত। অতন্ত্র প্রহরীর মতো মূলদল আওয়ামী লীগের পাশে থেকে যুগিয়েছে শক্তি সাহস, দিয়েছে প্রণোদনা। এই ভাবে ১৯৪৮-৫২ ভাষা আন্দোলন, ৫৪ সালের নির্বাচনে বিপুল অবদান, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব শাহীর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগ্রাম, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, সামরিক শাসক আইয়ুব খান সামরিক শাসনের মধ্যেই ১৯৫৯ সালে তার শিক্ষা সচিব এমে শরিফকে চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্য জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। পাকিস্তানী ভাবধারায়,সাম্প্রদায়িকতাকে চাতুরীর মাধ্যমে জিইয়ে রেখে উর্দূকে জনগণের ভাষায় পরিনত করার কুটকৌশলে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগের প্রতিবাদে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে যে তীব্র ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে সে আন্দোলনের ব্যাপকতায় আইয়ুব খান সে শিক্ষা নীতি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৬৬ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাঙালীদের মুক্তির সনদ ছয় দফার পক্ষে ব্যাপক প্রচারনা। ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন পাকিস্তানী সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামী করে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা আগরতলা মামলা দায়ের ও মামলার বিচার শুরু করলে এই ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর মুক্তি আন্দেলন শুরু করে। তাদের কন্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে ‘জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনবো’। এই আন্দোলনে আসাদ, মতিউর, জার্জেন্ট জহুরুল হক, রুস্তম, মকবুল, ড. শামসুজ্জোহা, আনোয়ারসহ আরো আনেকের রক্ত ঝরেছে। তবু পাকিস্তানী সামরিক জান্তা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দমাতে পারেনি। নিজেদের জীবন বাজি রেখে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে। ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারী থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয় ২৪ জানুয়ারীর গণঅভ্যুত্থান। এই গণঅভ্যুত্থানে ব্যাপকতায় ছাত্র জনতার কাছে নতি স্বীকার করে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক আগড়তলা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।  
এরপর সত্তুরের সাধারণ নির্বাচনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঘাম ও শ্রমের মূল্য ছিল অতুলনীয় অপরিসীম। কিন্তু নির্বাচনের পরে পাকিস্তানী সরকার মেজরিটি পার্টির নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা অর্পন করতে টালবাহানা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন তা বাস্তবায়নের অনেকটাই কাঁধে তুলে নেয় ছাত্রলীগ। তাই পাকিস্তানী সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ কালো রাত্রিতে প্রথমেই টার্গেট করে ছাত্রদের এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে। ২৫ মার্চের কালোরাত্রিতে তাই তারা প্রথম আক্রমনটি চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। তারা ভেবেছিল প্রথম আঘাতে ছাত্রদের স্তব্দ করে দিতে পারলেই সফলতার এক ধাপ এগিয়ে যাবে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে সেই কালোরাত্রিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জঘন্যতম হত্যার উৎসবে মেতে ওঠেছিল পাকিস্তানী বর্বর পশুশক্তি। আমার তখন যুদ্ধে যাবার বয়স না হলেও দেখেছি কি ভাবে খেয়ে না খেয়ে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছিল। আমাদের মহান মুক্তি যুদ্ধে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করলেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও অবদান ছিল বিপুল।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকান্ডের পর দেশে বিভিন্ন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে পুরোভাগেই ছিল ছাত্রলীগ। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে নব্বইয়ের এরশাদের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে যৌক্তিক পরিনতিতে নিয়ে গিয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করা, ১৯৯৬ সালে খালেদা বিরোধী আন্দোলন। যার কারণে খালেদা জিয়ার ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে অর্ধমাসেরও কম সময়ের মধ্যে হটিয়ে দিয়ে সংবিধানে তত্বাবধায়ক সরকারের সন্নিবেশিত করতে বাধ্য করেছিল। সর্বশেষ ২০০৬ সালে বিএনপি কর্তৃক জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা ধরণের তালবাহানা বিরুদ্ধে দেশ ব্যাপী যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল সেই আন্দোলনেও দেশের ছাত্র সমাজকে সংগঠিত করেছিল ছাত্রলীগ। আর ২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটিকে তিন চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী করতে অনন্য ভুমিকা রেখেছিল।  
ছাত্রলীগের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তাদেরকে অনেক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। ৭৫ পরবর্তী একটা বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে যেয়ে বিভিন্ন স্বৈরশাসকদের হাতে অনেক নিগৃহিত হতে হয়েছে। পুলিশ, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ত্রিমুখী আক্রমনে অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। এই সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শুধু নিগৃহিত বা হত্যাকান্ডের শিকারই হয়নি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পাশ থেকে চাকুরী, এমন কী প্রশাসন, বিচার বিচার বিভাগ, এবং পুলিশ বিভাগ সহ বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের চাকুরী পাবার ক্ষেত্রে অনেক বৈষম্য এবং বঞ্চনার শিখার হতে হয়েছে তাদের। তবু শত প্রলোভনের কাছে আত্মসমর্পন না করে, অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে ছাত্রলীগের হাল ধরে বসে ছিল এই ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা।  
কিন্তু বর্তমান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে বিচ্ছিন্ন ভাবে দেশের দুই একটি স্থানে দুই একজন বিপদগামী কর্মীর অসততার ঘটনা গুলোকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে খবর করে পুরো ছাত্রলীগকেই আসামীর কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। যখন শেখ হাসিনার সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে, ভিশন টুয়েন্টি- টুয়েন্টি ওয়ান বাস্তবায়নে তিন চতুর্থাংশ মেজরিটি নিয়ে সরকার পরিচালনায় হাত দিয়েছে, ঠিক তখনই ছাত্রলীগ যুবলীগের বিরুদ্ধে নানামুখী অপপ্রচার চালিয়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামিয়ে ফায়দা লুটার অপচেষ্টায় মেতে ওঠেছে একটি চিহ্নিত মহল।  
বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী দূরে থাক, গায়ে আওয়ামী পরিবারের গন্ধ আছে এমন ঠিকাদারদেরকে কোনো অফিসের আশপাশেও ভীড়তে দেয়া হয়নি। তখন কিন্তু সেইসব পত্রিকা ও সুশীল সমাজ তকমাধারী ব্যক্তিরা কোনোরূপ উচ্চবাচ্য করেনি। আর এখন ছাত্রলীগের কোন স্তরের নেতাকর্মী টেন্ডারে অংশ গ্রহন করতে গেলেই বিএনপি জামায়াত আমলের ঠিকাদাররা বাধার সৃষ্টি করে। ঐসব মহলের পাশাপশি বিএনপি-জামায়াতের বেনিফিসেয়ারী আমলারাও এ সব অপপ্রচারে ইন্দন যুগিয়ে যাচ্ছে। তিলকে তাল করে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কেনো জানি ঐসব অপপ্রচারের জবাব দিতে পারছেনা। আর এ সুযোগটাই বারবার গ্রহণ করছে আওয়ামী লীগবিরোধীরা। এবং বিরোধী দলের এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ।  
ছাত্রলীগ আজ আর একটি সংগঠন নয়, এটি এখন পরিনত হয়েছে একটি ইনষ্টিটিউশনে। কাজেই এই প্রতিষ্ঠানটির গায়ে কালিমলেপন করে ধ্বংস করে দিতে পারলেই বিশেষ গোষ্ঠীটির ছাত্র সংগঠনকে সামনে নিয়ে আসতে পারলেই সরকারকে বেকায়দায় ফেলা সহজ হবে। কাজেই ছাত্রলীগ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে এ অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। তা না হলে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনটির অপপ্রচারের যুপকাষ্টে নিপতিত হতে সময় লাগবে না। #####

---

Comments: 2 — https://sonelablog.com/%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%93-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4/#comments
