# চোখ মেলে দেখা

Author: ছাইরাছ হেলাল
Published: 2014-09-05
Category: ছবিব্লগ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%96-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be/

জনা ষোলকের দলটি নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য,আমি ও আমার ছোটভাই+বন্ধু , বারো ঘণ্টার জার্নি শেষে। ভাল কথা, আমার এই ছোট ভাইয়ের সূত্রেই ওদের সাথে পরিচয়,তা ধরুন প্রায় দু’কুড়ি মাস হল। সুতরাং বুঝতেই পারছেন সম্পর্কের এখন গলাগলি অবস্থা।বেশ লম্বা সময় ধরে কোলাকুলি চালু থাকল। এক কোর্স,দু’কোর্স এবং আর একজনের সাথে তিন কোর্সের কোলকোল। (সব সময় কোলাকুলি একটু কেমন যেন ,তাই সামান্য পাল্টে কোলকোল। দেখবেন সবাই যেন অন্য কিছু মনে লিবেন না ) যেহেতু আমিও নাইকন।

আগে থেকে ফিট করে রাখা ইঞ্জিন বোটে রওয়ানা,গন্তব্য দু’ঘণ্টা দূরের একটি গ্রাম্য হাট। বিকেলে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত যেখান হবে ফটোগ্রাফির মূল পর্ব। অন্য পর্বগুলো চালু থাকবে সারাক্ষণ হুল্লোড় আর গপ্পের পাশাপাশি।  
[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/09/10606358_560352474069835_334199578791645960_n.jpg "10606358_560352474069835_334199578791645960_n")](/archives/20528/10606358_560352474069835_334199578791645960_n)  
আসল কথা না বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক না ঠিক না।এই দলে এই অধ্ম ই একমাত্র বুড়ো ভাম যে কিনা খুব সহজেই শিং ভেঙ্গে ফেলতে পেরেছে। মুখটিপে হাসবেন ! তা সহ্য করা থেকে স্বীকার করে নেয়াই ভাল।  
সেশন——— বিদায়।  
আকাশের ভারী মেঘ পোয়াতি বৃষ্টি নিয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ঘন বিষণ্ণতায় কোলাকুলি পর্ব শেষ হয়েছে নামকাওয়াস্তে। জানতে চাইলাম — এই যে এলেন বারো ঘণ্টার পথ বেয়ে আবার ফিরে যেতেও লাগবে সেই বারো ঘণ্টাই। সাথে প্রায় দশ ঘণ্টার কষ্ট –আনন্দের বৃষ্টি ভেজা ফটোগ্রাফি, পেলেন কাঙ্ক্ষিত ছবি ? প্রফেশনাল জায়গা থেকে যে যার মত বললেন, তবে এক জন বললেন “ দেখুন ভাই ফটোগ্রাফি এমন নয় যে এলাম দেখলাম,ফটো তুললাম আর পকেটে রত্ন পুড়ে চলে গেলাম।একটা দু’টো ছবি পেলেই খুশি,না পেলেও মন বা মুখ কালো হবে না। সবার সাথে কাটানো এই আনন্দ মুহূর্ত গুলোর দাম কী করে নির্ধারণ করব ?” তবুও জানতে চাইলাম। পেলেন কোন ছবি ? উত্তরে দেখলাম একান-ওকান ছোঁয়া বিস্তৃত হাসির ছটা।

ইঞ্জিন বোট চলতে শুরু করল প্রায় কান ঝালা পালা শব্দ নিয়ে।অপেক্ষাকৃত ছোট হওয়ায় একটু দুলছিল। সামান্য ভয় কেটে গেল ছোট্ট খালে প্রবেশ করায়। নীল আকাশে পেঁজা পেঁজা মেঘেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।  
ঘন সবুজের মাঝ দিয়ে বোট এগিয়ে চলছে।  
[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/09/10646927_560352580736491_5045893565043819037_n.jpg "10646927_560352580736491_5045893565043819037_n")](/archives/20528/10646927_560352580736491_5045893565043819037_n)  
একে একে খুলে জেতে লাগল বিচিত্র ও অদ্ভুত দর্শন প্যান্ডোরার বাক্স। বিচিত্র সব যুদ্ধ সরঞ্জাম ও বেশভূষা। সামুরাই বেশ ও তরবারি নিয়ে যুদ্ধ সাজ।  
কারো আবার কাপালিক বেশ হাতে খড়গ । এই অবস্থায় বোটের সামনে পেছনে ছাদে যে যার সুবিধা জনক স্থানে পজিশন নিয়ে শুরু হল কুপা-কুপি ফটোগ্রাফি। আমিও শরিক হলাম নখ কাটার ছুরি নিয়ে। এই কুপা-কুপি যুদ্ধের মহড়া মাত্র। এমন হুল্লোড় করতে করতে গ্রাম্য বাজারটিতে পৌঁছে গেলাম। জানা গেল মাহেন্দ্রক্ষণের কিছু বাকী এখনও।  
[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/09/12516_560351850736564_6443640668212604095_n.jpg "12516_560351850736564_6443640668212604095_n")](/archives/20528/12516_560351850736564_6443640668212604095_n)

[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/09/10547686_560351724069910_548879821921999816_n.jpg "10547686_560351724069910_548879821921999816_n")](/archives/20528/10547686_560351724069910_548879821921999816_n)  
ছবি তোলা শুরু হয়ে গেল , চলছে চলছে। হঠাৎ করে আকাশ ভেঙ্গে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। আমি বীর বেশে পালিয়ে একটি বিশাল মন্দির চত্ত্বরে আশ্রয় নিলাম। মন খারাপ করে।এদিকে তাকিয়ে দেখি তাদের অতিকায় তোলক যন্ত্র এই বৃষ্টিতেও সমান গতিশীল।  
[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/09/10609408_560351890736560_5953031499096760384_n.jpg "10609408_560351890736560_5953031499096760384_n")](/archives/20528/10609408_560351890736560_5953031499096760384_n)

[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/09/10609563_560352494069833_3371263529991650758_n.jpg "10609563_560352494069833_3371263529991650758_n")](/archives/20528/10609563_560352494069833_3371263529991650758_n)  
এবারে জল খাবারের বিরতি , বৃষ্টিও ধরে এসেছে। মন্দির চত্ত্বরে বিছানো হোগলায় সবাই বসে গেল বিশ্রাম পর্বে,কেউ শুয়ে,কেউ আধ শোয়া হয়ে গুলে গপ্পে-ওয়ালা সাজল।  
এবারে আমাকে পাঠ দানের পালা।আমার বুড়ো মাথায় কিছুই ঢুকল না,ছিটকে এদিকে দিকে চলে গেল। শুধু একটি পাঠ কোন রকম ধরে ঝুলে পড়েছি। আমি বুঝিনি কিছুই,তবে আপনাদের বলে রাখছি। ক্রিটিকাল এ্যাপারচারের বাইরেও গিয়েও আপনি আপনার সাধ্যানুযায়ী ছবি তুলতে পারেন।  
[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/09/10629725_560351704069912_4976105781120530343_n.jpg "10629725_560351704069912_4976105781120530343_n")](/archives/20528/10629725_560351704069912_4976105781120530343_n)

[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/09/10670283_560352467403169_3328759516583928372_n.jpg "10670283_560352467403169_3328759516583928372_n")](/archives/20528/10670283_560352467403169_3328759516583928372_n)  
হাল্কা রোদ,আবার নেমে গেল ওরা। এবার সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে। কেউ কেউ ছোট্ট নৌকা ভাড়া করে আশেপাশে চলে গেল।আমি আশেপাশে চিমটি কাটতে শুরু করলাম আমার বন্ধুকে নিয়ে। এক ফাঁকে  
টং দোকানে বাজার পাঠানোর ব্যবস্থা হল। চিংড়ি ও ইলিশ মাছ। খুব ঝাল রান্নার হুকুম দেয়া হল।  
আমি কিছু মন্দির গ্রাফি চালালাম।এরপর মন্দির চত্ত্বরে হোগলার দখলস্বত্ব নিয়ে মটকা মেরে পড়ে রইলাম। ফাঁকে ফাঁকে এখানকার মানুষদের জীবন-যাত্রা,শিক্ষা,চাষবাস,আয়-ব্যয়,খাদ্যাভাস ইত্যাকার সব খোঁজ-খবরের আগ্রহ স্থানীয় মানুষের সাথে আলাপ করে মেটালাম।  
এখানকার মানুষরা খুব ভাল।  
[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/09/10672181_560351910736558_7737002853549122524_n.jpg "10672181_560351910736558_7737002853549122524_n")](/archives/20528/10672181_560351910736558_7737002853549122524_n)

[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/09/10690022_560352567403159_8068831847281253963_n.jpg "10690022_560352567403159_8068831847281253963_n")](/archives/20528/10690022_560352567403159_8068831847281253963_n)  
পিল পিল করে এদিক-সেদিক থেকে সবাই ফিরে আসতে শুরু করল,ক্ষুধার্ত,অবসন্ন সবাই। কেউ কেউ কাদায় লুতুপুতু। খালের পানিতে গোসলের প্রস্তুতি। কেউ কেউ সাতার জানেনা এই ভেবে নানা ধুনফুন বুঝিয়ে নিরস্ত্র করতে সক্ষম হলাম।  
পলিথিনের চাল মাথার উপরে এবং পাটাতনের নীচে পানি , টং দোকানে সবাই মহানন্দে ভরপেটে ভাত খেয়ে আবার ইঞ্জিন বোটে উঠে পড়া।

[**বিভিন্ন সময় যাদের সাথে আমার ছবি তোলার সুযোগ হয়েছিল এবং হবে তাঁদের ছবি আপনারা ইচ্ছে করলে এই লিংকে গিয়ে দেখতে পারেন।**](http://www.bengalpixbd.com/ "বিভিন্ন সময় যাদের সাথে আমার ছবি তোলার সুযোগ হয়েছিল এবং হবে তাঁদের ছবি আপনারা ইচ্ছে করলে এই লিংকে গিয়ে দেখতে পারেন।")

এই পোষ্টের  ফটো ঝালকাঠি জেলার বিখ্যাত ভিমরুলী বাজার এবং তার কাছাকাছি এলাকার , দেশের সব থেকে বেশি পেয়ারা এখানে বিক্রি হয় ।

——————————————————————-

ছবিগুলো সম্পূর্ণরূপে কাঁটাছেড়া ও চুনকাম মুক্ত ।
