# চিহ্ন

- Author: [মুহম্মদ মাসুদ](https://sonelablog.com/author/masud95/)
- Published: 2019-11-10T10:07:45+00:00
- Updated: 2019-11-15T16:11:49+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%a8/

---

বাঁশি বাজছে। হেমন্তের গাঙচিলে ভর করে নিরালায়। শকুন পক্ষীরাজ মাঝরাত অবধি তখনো ডাকে।  
হুঁশ বেহুঁশ তালবাহানাগুলো রঙিন কাগজ ছাউনির দোকানগুলোয় ঘুরে ঘুরে বন্দী হয় আমার জানালার করিডরে। আর আমি! চাঁদটাকে প্রদীপ ভেবে ভাসতে থাকি চাঁদ, তারা আর আকাশের ক্যানভাসে। যেন আমরা এক কাপড়ে, এক ছাউনির ছায়াতলে নির্বাচিত রাত্রিযাপন করছি।  
মন ঠাঁইঠাঁই রোগের রোগী। চিকিৎসক বাঁশিওয়ালা তখনও নিরবধি। অজান্তেই ভালোবাসায় হোঁচট খেয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে হাটছি। তখনও অবধি প্রেম নেশার গন্ধে আঁকড়ে থেকে দেহমধ্যস্থ শুঁকে শুঁকে পঁচে পঁচে কলোনির অর্ধগলিত ময়লা স্তুপে পরিনত।  
মহল্লা। কতো রংবেরঙের রং মিশানো পাতলা টিশার্ট, জিন্স প্যান্ট, ফতুয়া – পাঞ্জাবি, চুনট-করা ধুতি, মালকোঁচায় সাজানো প্রেমিকগুলো চোখের কোণে ঘুরপাক খায়। শুধু নেশাতুর চোখে নিশ্বাসের ধোঁয়ায় মানুষটির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আজও কথা বলার সুযোগ হলো না।  
অলিগলি, মেস বাড়ি। দোকানের পরতে পরতে দ্বিতীয় মস্তিষ্কে সিগারেটের দাওয়াতে যাওয়া কতো যুবকের ভিন্ন ভিন্ন ইশারা, চোখের হতবিহ্বল, বিষের শিস চোখের মনিকোঠায় আর কানের লতিকা বরাবর  নিখুঁতভাবে কতবারই যে সুঁই সুতোয় গেঁথেছে। তার হিসেব মিলাতে গিয়ে মুচকি হেঁসেছি বারংবার।  
টিউশনি। আহা! কতো লাজুক লাজুক, নরম-গরম চাহনি, সুদর্শন যুবক, সুপ্রিয় ভাষ্যকার, রংঢং রং মেশানোয় মাখামাখি পারদর্শী ছেলে বাসার চৌকাঠ পেরুলো। কিন্তু সেই বাঁশির কচিকাঁচা সুরের অগোছালো প্রলোভনে প্রেমাসক্ত হয়েও শুন্যস্থান পূরণ হলো না।  
কলিং বেল। অবশেষে ষাট সত্তর দশকের পরে মনের ভিটায় টান পড়লো। আচমকাই আচমকাসুন্দরী দরজার ছিটকিনিতে আটকে গেলো। দরজার ছিটকিনি খুলতেই এলোপাতাড়ি এলোমেলো কিছু উষ্ণ আবরণের ছোঁয়াচে শীতল বাতাসে প্রাণ ভরে গেলো।  
ঠোঁট। সুমিষ্ট স্বাদের সে ঠোঁটের শিহরণের কিছু দীর্ঘশ্বাস বাঁশির সুর প্রতীকী সাঁজে। আর আমাকে প্রতিনিয়ত সুমিষ্টঘ্রাণে মশগুল করে। সেদিনই প্রথম সাক্ষাৎ আমাদের।  
কথা। ঠোঁট দুটো মাঝেমাঝে বাজ হয়ে সুর  বাজতো। তখন অবশ্য সরি সরি মিনতির আকুতিতে আমি নিজেও মিষ্টি মিষ্টি হাসতাম। আর ধীরে ধীরে প্রেমের অন্ধকারে ডুবে যেতাম।  
স্যার। অবশেষে শরমের খোলস ছেড়ে বুকের পর্দায় উঁকিঝুঁকি দেওয়া গুনগুন কথাগুলো বেজেই উঠলো। বললাম – স্যার আপনিই কি প্রতিরাতে বাঁশি বাজান?  
প্রতনু বললোঃ হুমম, কেন বলোতো?

---

Comments: 18 — https://sonelablog.com/%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%a8/#comments
