# চিরন্তন একটি গল্পঃ দ্বিতীয় পর্ব

- Author: [নীলাঞ্জনা নীলা](https://sonelablog.com/author/nilanjana/)
- Published: 2014-10-18T02:32:41+00:00
- Updated: 2014-10-18T02:35:10+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- Tags: Home my sweet home., চিরন্তন একটি গল্প
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%a8-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4/

---

[!\[\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/10/1369360648395801_tal-sonela-201x3001.jpg)](http://sonelablog.com/archives/22332/1369360648395801_tal-sonela-201x300)  
[*প্রথম পর্বটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন*](http://sonelablog.com/archives/21985)

–“এক কাপ চা কি হবে রীনি?” মৌণব্রতর কথায় ফিরে তাকালো রিনীতা । দুপুরে ঘুমোয় না মৌণব্রত , ওই সময়টায় লাইব্রেরীতে বসে । বাড়ী যখন করে , তখন এই লাইব্রেরী ঘরটাও ডিজাইনে রেখেছিলো । মানুষটাকে অনেক জ্বালায় রিনীতা । মৌণব্রত একটু-আধটু রাগ যে করেনা , তা নয় । একবার যদি রেগে যায় তাহলে কথা তো বলবেই না । বরং রিনীতার মনকে পোড়াতে থাকবে । তাই সহজে ঘাটায় না । কষ্টটা তো বেশী পায় মৌনব্রতই ।  
–“কি হলো ? এক কাপ চা কি দেবে বানিয়ে ?”  
–“না দেবোনা , নিজে বানিয়ে নাও ।”  
–“বানিয়ে নিতে পারিনা । না দিলে কি আর করা ! বৃষ্টির মধ্যে পাড়ার ওই দোকানে গিয়ে চায়ের গন্ধ লাগানো জল পান করতে হবে ।”  
–“ইস কি কথা ! জল পান !! দাঁড়াও বানিয়ে দিচ্ছি । কিন্তু ঋভু বললো আজ একসাথে নাকি সবাই চা খাবে । পৌষীটা তো এখনও আসেনি । কি যে করে , কোথায় যায় ! কিছু জিজ্ঞেসা করলে চুপ করে থাকে । একটা শব্দ মুখ থেকে বের করতেও যেনো কষ্ট হয় । কথা খরচ যে এতো দামের , সে তোমার মেয়েকে না দেখলে জানতামই না ।”  
–“রিনী কেন এমন করো বলোতো ? সেদিন রাতের খাবার খাওয়ার সময়েই তো বলেছিলো আজ ওরা সাত বান্ধবী মিলে আয়োজন করেছে একসাথে ঘোরার । ওর কোন এক বান্ধবীর সামনের মাসে বিয়ে , তাই এই আয়োজন । আজ আমায় কি বলে গেলো জানো ?”  
–“কি ?”  
–“বাবা তোমরা ছেলেরা বিয়ের আগে ব্যাচেলর পার্টি করতে পারলে মেয়েরা কেন করবে না ? ওরা তো পরিচিত জায়গা ছেড়ে যায়না ! আচ্ছা বাবা তুমি কি ব্যাচেলর পার্টি করেছিলে বন্ধুরা মিলে ?”  
–“তা বললে না কেন ? বিয়ের আগের দিন তোমার হবু বৌকে ফোন দিয়ে বলেছিলে , আস্ত একটা ঝামেলা ঘাড়ে উঠলো ।”  
মৌণব্রত হেসে ফেললো । রিনীতার এসব কথার জন্যেই এখনও অপেক্ষা করে থাকে সেটা রিনীতাও বোঝে-জানে । রাতের শয্যায় মৌণব্রতর বুকে যখন মুখ লুকিয়ে বলে , “খুব বাজে ব্যবহার করি । কেন কিছু বলোনা আমায় ?” কেন বলেনা কারণ এখনও ওই লজ্জ্বা মাখানো কোমলতর আহ্লাদীকে মনের ভেতর প্রতিদিন নতূন করে সাজিয়ে নিতেই ।  
ফিরে এলো পৌষালী । এসেই প্রথম কথা , “বাবা চা খেয়েছো ?” মৌণব্রত বললো , “অপেক্ষা করছিলাম তুই আসবি , একসাথে খাবো ।”  
–“বলো মা বানিয়ে দেয়নি । কি যে হয়েছে মায়ের , একেবারে…”  
থামিয়ে দিলো মৌণব্রত । “একটা কথাও না মায়ের সম্পর্কে । এবার তুমি যেতে পারো ।”  
পৌষালী ভুলে গিয়েছিলো মাকে নিয়ে কোনো কথা বাবাকে বললে মারাত্মক রেগে যায় । এক মুহূর্তে বাড়ীর পরিবেশ একেবারে থমথমে । ঋভু বুঝলো এবার ওকেই মঞ্চে নামতে হবে । “মা সবাই তো এলো । এবার তোমার চা দাও । আর চায়ের সাথে তোমার বিশেষ খাবার কি ?”  
রিনীতা আর পিউলী দুজনে মিলে চা আর পুরী ভেঁজে নিয়ে এলো । খাবার টেবিলে সবাই একসাথে , কিন্তু নিঃশব্দে । “কি ব্যাপার আমরা কি সবাই কোনো শোকসভায় এসেছি ? মনে হচ্ছে শোকসভার এক মিনিট নীরবতা পালন করা হচ্ছে ?” ঋভুর কথায় পিউলী হেসে ফেললো ।  
–“দাদা তুই না যে কি !”  
–“আচ্ছা শোনো একটা খবর জানানো হয়নি । আটলান্টায় একটা চাকরীর ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম ইন্টারনেটে । চাকরীটা পেয়ে গেছি । এতোদিন বলিনি । আজ খবর পেলাম ভিসা হয়ে গেছে । কাল সেটা তুলতে যাবো অ্যামবেসীতে । সামনের মাসের পনেরো তারিখের মধ্যে জয়েন করতে হবে ।”  
এক যোগে সবাই চাইলো ঋভুর মুখের দিকে । কানের কাছে বাজ পড়েছে , তাও অমন চমকায়নি রিনীতা । পৌষালী বলে উঠলো , “অভিনন্দন ভাই । দারুণ করেছিস । এ দেশে থাকলে তোর ক্যারিয়ারের বারোটা বেজে যেতো ।”  
সবার মুখে-চোখে আনন্দ এ খবর শুনে । যাক অবশেষে ঋভুর একটা অবস্থান তৈরী হলো । মৌণব্রত জানে পৌষালীও কিছুদিনের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাবে । শুধু পিউলীকে নিয়েই একটু চিন্তা । লেখা-পড়া নিয়ে নয় , ক্যারিয়ার গড়ে নিতে পারবে । কেবল চিন্তা জীবনের জটিলতায় । সংসারের মারপ্যাঁচে নিজেকে সামলে নিতে পারবে তো ? রিনীতার মতো হয়েছে একেবারে । রিনীতার অনেক দোষ-ভুলকে আপন করে নিয়ে সহজভাবে বুঝিয়ে দিতো মৌণব্রত । তাই এই সংসারে এখনও খুনসুটি হয় ।  
অনেক রাতে সবকিছু গুছিয়ে শুতে গেলো রিনীতা । মৌণব্রত তখনও জেগে । “আচ্ছা ঘুমোওনি কেন ?” প্রশ্নটার উত্তর জানে রিনীতা । আজ অব্দি বিছানায় না গেলে ঘুমোয় না মৌণব্রত । সমস্ত দিনের গল্প হয় , কিছুটা আদর । শারীরিক সম্পর্কটা আদরের কাছে নতজানু হয়েছে । সারাটি দিনের ব্যস্ততা-ছুটোছুটি ঘরে-বাইরে , এই আদরটুকুই মনে শক্তি সঞ্চার করে । বালিশে মাথা রাখতেই বুকে টেনে নিলো মৌণব্রত । “মন খারাপ করোনা ।”  
–“না , না মন খারাপ কেন করবো ? এখন ওরা বড়ো হয়ে গেছে । ওদের সিদ্ধান্ত ওরা নিতে শিখে গেছে , এইতো চাওয়া ছিলো আমাদের । আগে আমরা ছিলাম ওদের আবেগী নিরাপত্তার ছায়া । জন্ম দিয়েছি বলেই ওটুকু দায়িত্ত্ব পালন করলো জানিয়ে । এটাই তো নিয়ম ।”  
–“ওরা এখনও আমাদের ছায়ার নীচেই আছে রিনী । এই যে পরিচয় , বাবা-মায়ের নাম কখনো কি বদলে দিতে পারবে ? বলো ? সে যেখানেই যাক না কেন !”  
রিনীতা চুপ করে রইলো । একটা বাচ্চা মেয়ের মতো মৌণব্রতর বুকে মাথা রেখে চোখ বুজলো । মনে মনে নিজেকে বলে যাচ্ছিলো রিনীতা , “ফিরে আসার জন্যে আর কখনোই ফিরবেনা ঋভু । বৃক্ষ বড়ো হয়ে তার ডাল-পালা ছড়ায় । শেকড় ততোই বিস্তৃত হতে থাকে ।”  
–“মৌণ আমায় আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে নাও ।”  
.  
হ্যামিল্টন , কানাডা  
২৮ জুলাই , ২০১৪ ইং ।

---

Comments: 12 — https://sonelablog.com/%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%a8-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%83-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4/#comments
