# ঘুরে দাড়ান ! না হলে মুক্তিযুদ্ধের বানোয়াট ইতিহাস রচনা করবে রাজাকারের বাচ্চারা !! জাতির কুলাঙ্গারের জন্য ঘৃণাস্তম্ভের দাবি

Author: অরণ্য জুয়েল
Published: 2015-06-01
Category: একান্ত অনুভূতি, মুক্তিযুদ্ধ, সমসাময়িক
Tags: গোলাম আজম, ঘৃনা স্তম্ভ, রাজাকার
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf/

আপনাকে কেউ জানোয়ারের বাচ্চা বললে আপনি রেগে যান কেন? কারন আপনার জন্মের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে, আপনার মাকে অপদস্ত করা হয়েছে। আপনি আপনার জন্মেও ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ করছেন অথচ আপনার জন্মভূমির ইতিহাস নিয়ে যখন রাজাকারকুল শিরোমণি গোলাম আযমের পুত্র আব্দুল্লাহিল আমান আজমী যা ইচ্ছে তাই বলে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করতে ইতিহাস রচনা করার চেষ্টা করছে, । তখন আপনার মনে কেন দাগ কাটছে না?  
রাজাকার শিরোমণি গোলাম আযমের পুত্র আব্দুল্লাহিল আমান আজমী প্রথমে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।বলেছে, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের তথ্যকে ‘কাল্পনিক’। এরপর মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় শহীদ ও তাদের সেনাবাহিনীর অবদান নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে এবং মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার করার অপচেস্টায় ইতিহাস বিকৃতির পথে নেমেছে এই কুলাঙ্গারের বাচ্চা। মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করতে একযোগে উঠেপড়ে লেগেছে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তানেরা। জামায়াত ও সমমনারা এর আগেও বিভিন্ন সময়ে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তোলার চেষ্টা করেছে। সুযোগ পেলেই পাকি দালালেরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিভ্রান্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তানেরা।  
[![FB\_IMG\_1433108140209](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/06/FB_IMG_1433108140209.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/06/FB_IMG_1433108140209.jpg)আমাদের এমনই দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের মিথ্যা বানোয়াট ইতিহাস বলে যাচ্ছে কুলাঙ্গারদের বাচ্চারা। রাজাকার পুত্রও দেশপ্রেমের বয়ান দিচ্ছে, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ বলে আবার সাজিয়ে গুছিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।এর আগেও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে মুক্তিযুদ্ধ আর আইসিটি নিয়ে। এতকিছুর পরও কেন প্রধান রাজাকারের পুত্রের বিরুদ্ধে এখনও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হচ্ছে না?

ইতিহাসকে সম্মান না করলে, ইতিহাসকে রক্ষা করা যায় না। বাংলাদেশের সকল ইতিহাসের মধ্যে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস আমাদের জন্মের ইতিহাস। এ ইতিহাস বিকৃতি করার অপচেষ্টা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এখনই সময় আইন করে এসব অপচেস্টাকে রোধ করতে হবে।

এবার আসুন আব্দুল্লাহিল আমান আজমীর বাপ প্রধান কুলাঙ্গার গোলাম আযমের ব্যাপারে কিছু কথা আলোচনা করা যাক। কোটি মানুষের কান্না, রক্ত, আর্তনাদ আর দীর্ঘ নিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সহযোগী, গণহত্যা ও বাংলাদেশবিরোধী রাজনীতির হুকুমদাতা গোলাম আযম। গোলাম আযম বা গোলাম আযমরা ১৯৭১ সালে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধেরও প্রতীক ছিলেন গোলাম আযম। গোলাম আযম স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কিভাবে বিরোধীতা করেছে তার ইতিহাস কমবেশি দেশের জনগন জানে। এ অপরাধে তার ৯০ বছরের সাজা হয়েছে। কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখেন স্বাধীনতার পরও কি এই কুলাঙ্গারের মনে ভয় ডর কিছু তৈরী হয়েছিল ? ইতিহাস কি বলে-

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হলে গোলাম আযম পাকিস্তানে বসে মাহমুদ আলীসহ ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’ নামে একটি সংগঠনের সূচনা করেন। পূর্ব পাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে তোলার আয়োজন করেন এবং ১৯৭২ সালে গোলাম আযম লন্ডনে ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’ গঠন করেন এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র উচ্ছেদ করে আবার এই ভূখণ্ডকে পাকিস্তানের অংশে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করে।

১৯৭৩ সালে ফেডারেশন অব স্টুডেন্টস ইসলামিক সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে এবং ব্রিটেনের লেসটারে অনুষ্ঠিত ইউকে ইসলামিক কমিশনের বার্ষিক সভায় গোলাম বাংলাদেশবিরোধী বক্তৃতা দেয়। ১৯৭৪ সালে মাহমুদ আলীসহ কয়েকজন পাকিস্তানিকে নিয়ে গোলাম পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটির এক বৈঠক করেন। এই সভায় গোলাম আযম ঝুঁকি নিয়ে হলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থেকে ‘কাজ চালানোর’ প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন। এভাবেই গোলাম আযম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে গেছেন।  
[![GolamAzamLobbied2-788898](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/06/GolamAzamLobbied2-788898.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/06/GolamAzamLobbied2-788898.jpg)জামাতের এই নেতার বিরুদ্ধে আরো মারাত্মক অভিযোগ আছে। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে গোলাম আযম রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামি যুব সম্মেলনে যোগদান করেন এবং পূর্ব পাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সকল মুসলিম রাষ্ট্রের সাহায্য প্রার্থনা করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত তিনি সাতবার সৌদি বাদশাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়ার আহ্বান জানান এবং কখনো তিনি বাদশাহকে বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ করতে ও কখনো বাংলাদেশকে আর্থিক বা বৈষয়িক সাহায্য না দিতে অনুরোধ করেন। ১৯৭৪ সালে রাবেতায়ে আলমে ইসলামির উদ্যোগে মক্কায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এবং ১৯৭৭ সালে কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করেন। জামাতে ইসলামীর এ সাবেক আমির ২০০২ সালে প্রকাশিত তার নিজ জীবনী ‘জীবনে যা দেখলাম’ বইয়েও এসব কথা অকপটে স্বীকার করেছেন।

[![63410\_10203980663051425\_6962984337715288691\_n](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/06/63410_10203980663051425_6962984337715288691_n-375x300.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/06/63410_10203980663051425_6962984337715288691_n.jpg)তাহলে বলুন এই অমানুষটা সহ তার অনুসারীদের জন্য একটি ঘৃণাস্তম্ভ জরুরি কিনা? আমার একটা দাবি আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাশের গোলাম আজমের একটি ঘৃণাস্তম্ভ তৈরী করা হোক। আর সেখানে বড় করে লেখা থাকবে জাতির কুলাঙ্গার । একই সাথে বাংলাদেশের প্রতিটি অলিগলিতে একটি করে রাজাকারদের চিহ্নিত করে ঘৃণাস্তম্ভ তৈরী করতে হবে । তা না হলে রাজাকার পুত্রদের দৌরাত্ম্য ক্রমান্বয়ে বেড়েই যাবে। একদিন হয়তো দাবি করে বসবে রাজাকারদের অনুরোধে পাক বাহিনী এদেশকে মুক্ত করে দিয়েছে।

[জাতির কুলাঙ্গারদের জন্য একটি ঘৃণা স্তম্ভের দাবি সম্পর্কে আমার একটি লেখা পড়ুন এখানে।](https://www.amarblog.com/aronnojewel/posts/181932 "জাতির কুলাঙ্গারদের জন্য একটি ঘৃণা স্তম্ভের দাবি সম্পর্কে আমার একটি লেখা পড়ুন এখানে। ") 

[![কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম ঘৃনা স্তম্ভ ](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/06/10644646_622079031234857_399449415242740415_n.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/06/10644646_622079031234857_399449415242740415_n.jpg)

কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম ঘৃনা স্তম্ভ
