# গ্রেট স্মোকি হলো ফলস-এ কিছুক্ষণ

- Author: [নীলাঞ্জনা নীলা](https://sonelablog.com/author/nilanjana/)
- Published: 2017-05-26T22:28:11+00:00
- Updated: 2017-06-04T21:05:43+00:00
- Category: [ভ্রমণ](https://sonelablog.com/category/misc/tours/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9f-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%ab%e0%a6%b2%e0%a6%b8-%e0%a6%8f-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b/

---

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/Tirthos-photography-1-225x300.jpg)

****তীর্থ’র তোলা জলপ্রপাতের ছবি…****

কোনো একদিন যদি অগাধ কিন্তু সাবধানী(!) স্বাধীনতা পেয়ে যাই,  
প্রথমেই তোমার কাছে যাবো।  
হয়তো আমাকে অচেনা লাগবে, অমন চঞ্চলতা আর না দেখে!  
জলের মতো গড়িয়ে পড়া পাহাড়ি ঝর্ণা এখন নুড়ি-পাথরের মতো কিনা!  
তবুও একদিন চলে আসবো ঠিক খুড়িয়ে খুড়িয়ে  
দু’ চোখের সমুদ্রকে ভাসিয়ে দেবো এক চিমটি আনন্দের ভেতর।

বহুদিন কোথাও যাওয়া হচ্ছেনা। হুম নিমন্ত্রণ, পার্টি এসব যদিও থাকে। কিন্তু আমি যে একসময় চঞ্চলা পাখী ছিলাম! খাঁচার ভেতর ভালো ভালো খাদ্য দিলেও মন উড়াল দেয় ওই দূরের আকাশেই। “গ্রামছাড়া ওই রাঙামাটির পথ” এখানে এ দেশে এসে দেখিনি। তবে পাথুরে মাটির এবরো-থেবড়ো পথের সাথে বহুবার দেখা হয়েছে। অবশ্য এক্সিডেন্টের পর আমার কোথাও যাবার জায়গাগুলো খুবই সীমিত। তবুও মন তো চায়, আর বহু বাঁধাকে অতিক্রম করি এই মনের শক্তিতে। যদিও পরে অনেক ব্যথা হয়, কিন্তু আমি যে বর্তমানে বিশ্বাসী।

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/Tirthos-photography-2-225x300.jpg)

****তীর্থ’র ফটোগ্রাফি…****

যাক মূল বিষয়ে আসি। ২০ মে তারিখে আমার যাবার কথা ছিলো Terra Greenhouse and Garden Centre-এ। শুনেছি ওখানে এশিয়ান ফুলের গাছ পাওয়া যায়। আমি খুঁজছিলাম গন্ধরাজ, হাস্নাহেনা, কামিনী ফুলের চারা। সবগুলোর ইংরেজি নাম লিখে নিয়েছি। কিন্তু গিয়ে দেখি সন্ধ্যা ৬ টায় বন্ধ হয়ে গেছে। মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। কি ইচ্ছে ছিলো ফুলের ভেতর কিছুটা সময় কাটানোর! কি আর করা! “আমি যাই বঙ্গে, আমার কপাল যায় সঙ্গে” মনে মনে এই প্রবাদটা স্মরণ করছিলাম। যাবার আর কোথাও নেই, ফিরে যাচ্ছি বাসায়। দু’ পাশে পাহাড় আর চারদিকে কি সবুজ! অমন পাহাড়ি এলাকায় পার্কিং দেখে বুঝে গেলাম এখানে কিছু আছে দেখার মতো। ছেলের বাবাকে বললাম ওখানে গাড়ী রাখতে। দরোজা খুলতেই জলের শব্দ। মনে পড়ে গেলো [জিসান শা ইকরাম](http://sonelablog.com/blogger/jeshan4u/) নানার লেখা [জলের গান](http://sonelablog.com/%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%a8-2/)-এর কথা। আর আমিও কান পেতে শুনছিলাম সেই [জলের গান](https://www.youtube.com/watch?v=br0ky5yhvXM)। ছেলেকে বললাম ওয়াকারটা দিতে, বললো, “মাম ওয়াকার নিয়ে যেতে পারবেনা।” মনটা ভেঙ্গে গেলো, পরক্ষণেই আবার উঠে দাঁড় করালাম মনটাকে। ছেলেকে বললাম আমার সাথে চল, তোর হাতটা ধরে ওখানে যাবো। যতোটুকু যাওয়া যায় আমাকে দেখতেই হবে জলের এতো শব্দ কোথা থেকে আসছে! তবে ধারণা করেছি এখানে একটা জলপ্রপাত আছে।

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/1-1-300x225.jpg)

****এখান থেকে চলার শুরু…****

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/18741426_10212292278118487_1590943180_n-225x300.jpg)

****গাড়ী ছুটে চলছে…****

একটা কথা বলে রাখি, হ্যামিল্টন শহরকে বলা হয় “Falls City.” এখানে অনেকগুলো ছোট-বড়ো ঝর্ণা/জলপ্রপাত আছে। এককথায় বলা যেতে পারে সর্বমোট ১৮টি জলপ্রপাত এই শহরে। আর আমার ভাগ্য ভালো হ্যামিল্টনের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত [নীল সমুদ্রে ধবল জ্যোৎস্না](http://sonelablog.com/%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a7%8e%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a8/) (এ পোষ্টের শেষ ছবিটা) Albions Falls দেখেছি ২০১৫ সালে। যাক সে কথা! ফিরে আসি বর্তমানে। আমার ধারণাকে সত্যি করে দিয়ে দেখি সাইনবোর্ড দেয়া Smokey Hollow Access Trail. বেশ কয়েকটি সিঁড়ি, তবে অনেক বড় পাশ, মানে সিঁড়িগুলো খুব প্রশস্ত। আর সিঁড়িটার চারপাশ কাঠ, মধ্যে মাটি। তেমন কষ্ট হয়নি নামতে। ওখানে কেউ বুঝতেই পারেনি যে আমি ওয়াকার ছাড়া বাইরে বের হইনা। অবশেষে পৌঁছলাম। কতোক্ষণ একেবারে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। ভুলেই গিয়েছিলাম ছবি তোলার কথা। একেবারে ডুবে গেলাম। দেখি ওখানে আমি একা, কেউ নেই। কী ভাল লাগছিলো! মাত্র গাছে পাতা এসেছে, বিশাল বড় বড় ওক গাছ। মে ফ্লাওয়ার ফুটে আছে। শুনেছি ওখানে ব্লু হেরোন পাখী দেখতে পাওয়া যায় গভীর বনে। তীর্থ কখন যেনো আমার একটা ছবি তুললো এসে, টের পাইনি। অনেকক্ষণ পর ফটোসেশন শুরু হলো। শুধু মানুষের নয়, ফুল, গাছ, পথ, জল, আকাশ সবকিছুর।

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/18718196_10212267914589414_1536654217_n-225x300.jpg)

****নিমগ্ন…****

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/May-flower-225x300.jpg)

****মে ফুলের ঘ্রাণে আচ্ছন্ন…****

বেশীক্ষণ থাকা হয়নি। গিয়েছিলাম পৌনে সাতটার দিকে। এই জলপ্রপাতের একটা বিশেষত্ব হলো বারো মাস এখানে ভিজিট করা যায়। শীতের সময় নাকি পার্কিং পাওয়া যায়না, এতোটাই ভীড় হয়। আমরা যেখানে গাড়ী রেখেছিলাম, সেখানে মাত্র বিশটি গাড়ী পার্ক করতে পারে। অন্যান্যগুলো আরও বেশ দূরে। যদি অনেক দূরে পার্ক করতে হতো, আমার পক্ষে বোধহয় যাওয়া সম্ভব হতোনা। শরৎ কিংবা বসন্ত ঋতুতে এতোটাই অসাধারণ রূপ ধারণ করে। আমরা আকাশে রঙধনু দেখেছি, কিন্তু এখানে জলের মধ্যে রঙধনু দেখা যায়। অবশ্য আমার ভাঙ্গা সেলফোনে সেভাবে ছবি আসেনি।

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/18718248_10212292265678176_972996548_n-225x300.jpg)

****সারি বেঁধে দাঁড়ানো চৌকিদার বৃক্ষরা…****

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/18741782_10212292194076386_37801629_n-225x300.jpg)

****কিশলয় আর মেঘের কথোপকথন…****

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/18741990_10212292186556198_858532657_n-300x167.jpg)

****জলের কতো রঙ!…****

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/18762261_10212292180556048_513339245_n-225x300.jpg)

****জলের কতো রঙ!…****

আফসোস তবুও থেকে যাবে জলের গান শুনেছি, বাতাসে ঘ্রাণও পেয়েছি, কিন্তু জল স্পর্শ করতে পারিনি। তিরিশ মিনিটের মতো ওখানে ছিলাম। এক বয়ষ্ক দম্পত্তিকে দেখলাম দুজন দুজনকে ধরে নামছে সিঁড়ি দিয়ে, মামনি-বাপির মুখটা চোখে ভেসে এলো। নিজেরা সেলফি তুললো, তারপর চলে গেলো। এবারে এলো তরুণ দম্পত্তি, বরের পিঠে ছোট্ট বাচ্চাটা। ওরা এসেই চলে গেলো পাহাড়ের পথে। চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আবার চাইলাম জলের দিকে, দেখি একজন তার ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলছে। বুঝলাম প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার।

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/18718332_10212292272598349_1694142275_n-225x300.jpg)

****ফটোগ্রাফারের ফটোগ্রাফ…****

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/18716534_10212267914269406_1211222781_n-225x300.jpg)

****যে পথে যাওয়া হয়নি…****

এবারে ফেরার পালা। আস্তে আস্তে সিঁড়ির রেলিং ধরে এক পা, এক পা করে উঠছি, তীর্থ দৌঁড়ে এসে ধরলো আমায়। বললাম ঠিক আছি, পারবো। আশেপাশের কয়েকটা ছবি তুললাম, দেখি তীর্থ গাছে ঝুলছে। মনে মনে বললাম আজীবন এভাবে যেনো তুই আনন্দ করতে পারিস।

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/18556003_10212242072023366_1985647542403369126_n-220x300.jpg)

****দোল দোল দুলুনি…****

[জলের গান](https://www.youtube.com/watch?v=br0ky5yhvXM) – ভিডিও

হ্যামিল্টন, কানাডা  
২৩ মে, ২০১৭ ইং।

---

Comments: 24 — https://sonelablog.com/%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9f-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%ab%e0%a6%b2%e0%a6%b8-%e0%a6%8f-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b/#comments
