# গল্প: পশু

- Author: [শিপু ভাই](https://sonelablog.com/author/shipubhaihappy/)
- Published: 2017-03-05T09:40:50+00:00
- Updated: 2017-03-05T09:40:50+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/), [সাহিত্য](https://sonelablog.com/category/literacy/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b6%e0%a7%81/

---

ডাঃ আরতি মুখার্জি ভোর ৪ টার দিকে ফিরে এলেন তার কোয়ার্টারে। ১৪ বছরের ছেলে সুমিত ঘুম জড়ানো চোখে দরজা খুলে দিতেই টলতে টলতে রুমে ঢুকে ফ্লোরে ঢলে পরলেন আরতি। দরজা বন্ধ করে ঘুরতেই সুমিত দেখে তার মা ফ্লোরে পরে আছে। বিদ্ধস্ত লাগছে। চোখ বন্ধ করে ঘনঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে আর দরদর করে ঘামছে। সুমিত দৌড়ে যায় মায়ের মাথার কাছে – “কী হইছে আম্মু!? কী হইছে?”  
আরতি কথা বলে না। সুমিত কেঁদে ফেলে। আরতি দু হাত বাড়িয়ে ছেলেকে বুকের উপর টেনে নেয়, জাপটে ধরে হাউমাউ করে কাদতে থাকে! কিছু বলতে পারে না! বলতে পারে না কয়েক ঘন্টা আগে কী বিপর্যয় ঘটে গেছে তার জীবনে। কর্তব্যের দায় মেটাতে কত বড় মূল্য দিতে হয়েছে তাকে।  
গতকাল রাত দশটায় দুই যুবক এসে “ইমার্জেন্সি ডেলিভারি কেস” এর কথা বলে অনেক অনুনয় বিনয় করে ইউনিয়নেরই দুরবর্তী এক গ্রামে যেতে বলে। দুই যুবকের একজন ডাঃ আরতির পূর্ব পরিচিত। আগেও কয়েকবার এই ইউপি হেলথ কমপ্লেক্সে এসেছিল রোগী নিয়ে। রাত বেশি হওয়ায় আরতি আপত্তি জানালে যুবকরা জানায় যে তারা অটো নিয়ে আসছে আবার কাজ শেষে তাকে পৌছে দিয়ে যাবে। রোগীর অবস্থা গুরুতর, হাসপাতালে আনার সুযোগ নাই, ব্যাথা উঠেছে। এখন ডাঃ আরতি না গেলে অই প্রসুতিকে বাঁচানো যাবে না। কর্তব্যের ডাকে, মানবতার তাগিদে ডাঃ আরতি তার ব্যাগ নিয়ে অই যুবকদের সাথে বেরিয়ে যায়। সুমিত, অমিত আর ৩ বছর বয়সী মেয়ে স্নিগ্ধাকে বলে যায় খেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পরতে।  
কিন্তু কোথায় রোগী! কিসের প্রসূতী মহিলা! বেশ কিছুদূর রাতের নির্জন পথে অটো যাওয়ার পর এক পরিত্যাক্ত বাড়িতে নিয়ে যায় ডাঃ আরতিকে। ওখানে আরো তিন জন লোক ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মুখ আর হাত পা বেঁধে ফেলে লোকগুলো!!!!  
ভোরের দিকে বিদ্ধস্ত বিমূঢ় আরতিকে মুখ বাধা অবস্থায় নামিয়ে দিয়ে যায় কাছাকাছি জায়গায়। যাওয়ার আগে বলে যায় এই ঘটনা জানাজানি হলে বিপদ হবে আরতির!  
মুখের কাপড় সরিয়ে একটা ঘোরের মধ্যে হাটতে হাটতে বাসায় ফেরে আরতি।  
সুমিত ফ্যান ছেড়ে দিয়ে মাকে সোফায় বসিয়ে ভেজা টাওয়েল দিয়ে মুখ গলা হাত মুছে দিচ্ছে। সোফায় বসে ক্ষনে ক্ষনে চমকে উঠছে। শরিরের অনেক জায়গায় ব্যাথা। কিছু জায়গা জ্বলছেও।পশুগুলো খামচে কামড়ে নিজেদের পাশবিকতার জ্বালা মিটিয়েছে।  
শরিরের ব্যাথা সেরে যাবে, খামচি কামড়ের দাগ মিলিয়ে যাবে। কিন্তু ডাঃ আরতির হৃদয়ে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে তা মিলাবে না এই জীবনে।

---

Comments: 25 — https://sonelablog.com/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%aa%e0%a6%b6%e0%a7%81/#comments
