# গল্পটা খুব মনে পড়ছে

Author: দালান জাহান
Published: 2019-05-27
Category: গল্প
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%ac-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a6%9b%e0%a7%87/

গল্পটা খুব মনে পড়ছে  
— দালান জাহান

গল্পটা ছিলো ভালোবাসার বর্ষার গল্প সন্ধ্যার গল্প। উন্মাদ শ্রাবণে রঙ মাখা কোন শ্রাবন্তীর কারুকার্যে খচিত অচেনা রক যুবকের এক লোমহর্ষক বিকেলের উপাখ্যান । সন্ধ্যার আলো স্তিমিত সূর্য ধীরে ধীরে সিঁদুরে লাল। সন্ধ্যার আলোকচিত্রে বিনা দ্বিধায় বন্দি হচ্ছিল ডোন্ট কেয়ার তরুণী । তখনও সে জানেনা সুন্দরবন শুধু সুন্দর নয় রয়েল বেঙ্গল টাইগার চিতাসহ আরও কত ভয়ঙ্কর জানোয়ার লুকিয়ে আছে বনে। তবু ও সে লাফিয়ে লাফিয়ে সন্ধ্যা ধরছিল আঁচলে।

ছেলেটা হঠাৎ আঁতকে উঠে । সূর্য ডুবে গেছে  
ট্রলার ও নেই । বুঝতে পারলো তারা দলছুট হয়ে গেছে । ঘন অন্ধকার যেন ঘন মেঘের কালো পাহাড় । কি করবে এখন কোথায় যাবে এই সব প্রশ্ন করে যখন, জড়োসড়ো করলো মেয়েটিকে, মেয়েটি তখন মিটিমিটি করে হেসে বলল ভীতু ছেলেদের একদম পছন্দ হয়না আমার। তার মানে কি ? তোমার বয়ফ্রেন্ড কোথায় ! সে তোমাকে রেখে যেতে পারলো, আর আমি তো তোমাকে চিনিও না । মেয়েটে তখন কর্কশ গলায় বললো বোকা ছেলে । যে চলে গেছে তাকে ভেবে লাভ কি ?  
এখন তো তুমি আর আমি । আর কোন বর্ণমালা নেই ।

লবনাক্ত বাতাসে যখন ছেলেটির মুখ ধীরে ধীরে কালো হচ্ছিল, জোয়ারে জলে তখন ফুলছিল মেয়েটির বুক । ছেলেটি মাথাঠাণ্ডা করে ভাবলো ঝাঁপ দিবো কোন সাগরে।  
হঠাৎ বাঘের গর্জনে তটস্থ ছেলে মেয়ে প্রাণ ভয়ে ছুটতে থাকলো। বাঘ থেকে পালিয়ে বাঁচলেও পথ পাচ্ছিলনা ফেরার । অনেক চেষ্টার পরও যখন কুল-কিনারা পাচ্ছিলনা তারা। ভাগ্যক্রমে তখন ফরেস্টের একদল বনরক্ষী উদ্ধার করে তাদের। কাঁপল ভেবে থাকার ও ব্যবস্থা হয় একসাথে । সারারাত ভূবনবিদারী বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির শব্দ নুপুরের শব্দে লিখলো নতুন স্বরলিপি।

মেয়েটি রাতভর ছেলেটিকে সাপ ইঁদুরের গল্প শিখালো। ছেলেটি শিখালো বাঘ আর হরিণের গল্প। পরদিন সকালে মেঘ-মুক্ত হলো আকাশ। মেয়েটির চোখও হলো শান্ত।  
তারপর চলে গেল যে যার ঠিকানায়। হঠাৎ এক সন্ধ্যায় ছেলেটির ফোন বেজে উঠলো । পিক করতেই ভেসে উঠলো এক নির্মল কণ্ঠ । ভালো আছো অনিক ? আপনি কে বলছেন ? আমাকে চিনতে পারছোনা ? আমি অনিকা ! ও অনিকা কেমন আছো কি খবর তোমার ? ভালো আছি বলো !  
জানু একটা সমস্যায় পড়ে তোমাকে ফোন দিলাম। পারবে হেল্প করতে । বলোনা আগে শুনি কি সমস্যা ?  
জানু আমার পঞ্চাশ হাজার টাকা লাগবে। দিতে পারবে ?  
পঞ্চাশ হাজার টাকা ! কি বলো এতো টাকা দিয়ে তুমি কি করবে আর এতোটাকা আমি কোথায় পাবো বলো ?

দেখনা একটু প্লিজ ! আমার একটা ফোন সেট খুব পছন্দ হয়েছে । প্রাইস সাতাত্তর হাজার টাকা । কিন্তু বাবার কাছে এতো চাইতে পারবোনা তাই । দাওনা ম্যানেজ করে প্লিজ । আমি কি করে পারি বলো ?  
দাওনা জানু তোমাকে নিয়ে কক্সবাজার যাবো যদি দিতে পারো !  
তোমার বড়লোক বন্ধু নেই তাদের হেল্প নাওনা জ! কিন্তু …..?  
কিন্তু টিন্তু নেই তুমি কথা বলো প্লিজ প্লিজ ।  
আচ্ছা ঠিকাছে কথা বলবো।

কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে অনিকা । কথা বলেছো ? হ্যা বলেছি !  
হবে ? হবে তবে শর্ত আছে !  
আমি জানি কি শর্ত তোমার বলার দরকার নেই । তুমি কাল চলে এসো আমরা একসাথে বের হবো ।  
আচ্ছা ..

অনিকের মাথায় নতুন ফন্দি আঁটল তার বন্ধু বিজয় শেখ । ফন্দি হলো সেই ভয়ঙ্কর নীল চিত্র ধারণ এবং তারপর ব্ল্যাক মেইল । মেয়েটি পরদিন বিকেলে বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বের হলো। সময়মতো পৌছালো ওয়াটার গার্ডেনে। দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় অনিক । সোফার বসে বসে লাল। দুঘণ্টা পর যখন অনিকা এলো। খুব ফ্রেশ আর সজীব লাগছিল তাকে। অনিক জিজ্ঞেস করলো গোছল ও করেছো নাকি ? অনিকা হ্যা এইসব বাকি রাখতে নেই। টাকা পেয়েছো ?  
হ্যা কতো ? যা চেয়েছিলাম তার ও বেশি । ও গ্রেট ।

অনিকের তোমার বন্ধুটা না অনেক ভালো ।অনেক টাকা আছে ওর । তাইনা ?  
অনিক হ্যা কতটুকু যে ভালো টের পাবে পরে মনে মনে বললো।  
অনিক শুন এইসবে কিন্তু ফিলিংস নেই বুঝেছো ? তোমার ফ্ল্যাটে না আসলে আমার ভালো লাগেনা । অনিক হাসে । দুজন দুজনার বাড়ি চলে যায়।

তারপর অনিক আর অনিকার আর দেখা নেই। পাঁচ বছর হলো অনিক সুইডেন চলে এসেছে । অনিকের মা মৃত্যুশয্যায় তাই দেশে এসে মায়ের ইচ্ছে তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করতে হলো তাকে। এমনকী পাত্রী দেখারও সময় হলোনা তার। কিন্তু বিয়ের আসরে দেখে খুব চেনা চেনা লাগছিল মেয়েটি কে । কিন্তু ভারী মেকআপ আর বাহারি সজ্জা অনেকটাই অচেনাও লাগছিল ।

আজ ফুলশয্যার রাত। দুজনের পরিচয় দুজনার কাছেই স্পষ্ট। লজ্জায় কেন কান্নার জল গড়িয়ে পড়ছে অনিকার ? অনিকার মুখের দিকে তাকিয়ে এতোক্ষণ এই  
গল্পটাই বার বার মনে পড়ছিল অনিকের।

—————————————————
