# খেরোখাতা ৯ জানুয়ারি ২০১৯

- Author: [জিসান শা ইকরাম](https://sonelablog.com/author/jeshan4u/)
- Published: 2019-01-09T17:35:21+00:00
- Updated: 2019-01-09T17:43:10+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a7%af-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%af/

---

ডায়েরী লেখার অভ্যাস একসময় ছিলো। কালের বিবর্তনে সে অভ্যাসটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে আমার। পুরাতন লেখা ডায়েরীগুলো কোথায় আছে তাও ভুলে গিয়েছি। খুঁজে পেলে ভালোই হতো, অনেক থলের বেড়াল প্রকাশ হয়ে যেতো।  
আজ তেমন কোন দিন নয় যে ঘটা করে কিছু একটা লিখে রাখতে হবে ডায়েরীতে। অন্যান্য সাধারণ দিনের মতই একটি দিন।  
ইদানিং ঘুম থেকে জেগেই চা বানিয়ে খাবার একটা অভ্যাস রপ্ত হয়েছে। আজও বানালাম দুই কাপ। দুই কাপ চা বানাতে পানি দেই পৌনে তিন কাপ। তিন চামচ ডিপ্লোমা গুড়ো দুধ+ দুই চামচ চিনি+ দুই চামচ চায়ের পাতা। প্রতিবার চা বানাতে গেলেই ছোট বেলার গুড় দুধ খাবার কথা মনে পরে যায়, তাই এক চামচ গুঁড়ো দুধ মুখে চালান করে দেই। সেই ছোট বেলার স্বাদ এখনো পাই। স্বভাব বা অভ্যাস সহজে কি পালটানো যায়? এই গুঁড়ো দুধ খাবার অংশ টুকু আপনাদের না পড়লেও চলবে। যাই হোক- পৌনে এককাপ পানি টানাতে হবে চা বানানোর সময়, হালকা একটা সরের মত পরলে তখন বুঝি যে চা পারফেক্ট হয়েছে। ভোরের চা খাই মুড়ি বা বড় টোস্ট ( ছোট বেলায় একে আমরা খাস্তা বলতাম)। চায়ের মধ্যে আধা চামচ কফি দিয়ে খাই আমি, এতে একের ভিতরে দুই এর স্বাদ পাই। যারা ভবিষ্যতে আমাকে তাঁদের বাসায় দাওয়াত করে খাওয়াবেন, মনে রাখবেন এই তথ্য।  
চা মুড়ি খেয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়ে পরাটা ডাল আনলাম বাসার সবার জন্য। আজ বাসায় ছেলেদের মা এর সকালের নাস্তা আর বানানো লাগলো না। আবার চা বানালাম সবার জন্য, যথারীতি আবার এক চামচ গুঁড়ো দুধ ডাইরেক্ট মুখে। আচ্ছা আমি কি এই গুঁড়ো দুধ খাবার জন্যই চা বানানোর অভ্যাস করলাম? এ প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?  
এরপর গেলাম বাজারে, আগামী দুই সপ্তাহের জন্য কাঁচা বাজার বাদে প্রয়োজনীয় সব কিছুই কিনলাম, চাল ডাল আলু পিয়াজ চা পাতি গুঁড়ো দুধ চিনি পোলাওর চাল সয়াবিন তেল ( কেন যে সয়াবিন তেলে অভ্যস্থ হলাম বুঝলাম না, সরিষার তেলে কি অপরাধ করেছিলো তা জানলামই না) সার্ফ এক্সেলের গুঁড়ো, ভিম বার, নুডলস, মুরগী। মুরগী জবাই করে কুটে দিয়েছে, পা দিয়েছে ১৬ টা। মুরগি কিনলাম ৬ টা, অথচ পা দিলো ১৬ টা। একটা মুরগীর কয়টা পা তাইলে? মুরগীর পা দেখে ভিয়েতনাম ভ্রমণের কথা মনে পরে গেলো। ফুড কোর্টে মাইনসে প্লেটে উচু করে মুরগীর পা খায়, এত মুরগীর পা কই পায় ওরা? ঐ দেশের মুরগীর শিওর দুইটার বেশী পা হয়। বাজারে গেলে আজকাল বাজারের ফর্দ লিখে নেই, ভোলা নাথ হইছি ইদানিং, সব কিছু ভুলে যাই।  
সকালের নাস্তা পর্ব শেষ করে গেলাম ছোট ছেলের স্কুলে। ক্লাস সেভেন থেকে এইটে উঠেছে ও এবার। নির্দিষ্ট একটা তারিখের মধ্যে ভর্তি করালে ভর্তি ফী ২৫ হাজারের পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা, আর সেশন চার্জ মাসিক ৮ হাজার টাকা। এই সময়ের মধ্যেই ভর্তি করিয়েছিলাম। আজ খেয়াল করলাম ভর্তির কাগজে সেশন চার্জ লিখে দিয়েছে প্রতিমাসে ১১ হাজার টাকা। ভর্তির ইনচার্জ ম্যাডামের কাছে গিয়ে বললাম এটা। সুন্দরী ম্যাডাম হেসে দিয়ে বললেন ‘ না ভাইয়া আমি তো কখনো বলিনি যে সেশন চার্জ ৮ হাজার টাকা।’ অথচ আমার স্পষ্ট মনে আছে উনি তাই বলেছিলেন। কি আর করা, সুন্দর মুখের জয় হয়েছে। কেন যে এই সমস্ত সেকশনে সুন্দরী ম্যাডামদের বসায়, তা হারে হারে টের পেলাম।  
বাসায় ফিরে ওয়াশিং মেশিনে একগাদা কাপড় চোপড় ওয়াশ করলাম। সমস্ত কাপড় ছাদে দিয়ে ক্লিপ আটকিয়ে শুঁকাতেও দিলাম রোদে। এই যে আজ এত কিছু করলাম বাসার কাজের, এটি তো আমার ছেলের মা ই করতো। আমাদের এই দেশে আমরা পুরুষরা ঘরের কাজ করিইনা বলতে গেলে। যেন এসব করতে মানা, বা এসব কেবল বাসার কর্তীই করবেন এমন নিয়ম। সামান্য একটু রান্না করে বিশাল ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছি এমন লিখে ফেইসবুকে স্ট্যাটাসও দেই। আমিও দিয়েছি কিছুদিন আগে আচার বানিয়ে। অথচ একজন গৃহিণী সমস্ত জীবনই কাজ করে যান কোনো ধরনের অহমিকা বাদেই। কিভাবে করেন এনারা সমস্ত দিন এসব কাজ?  
দুপুরে গোছল করে খাবার খাবার পরে এমন শীতে ধরলো যে কাঁপুনি উঠে গেলো। ছাদে গেলাম রোদ পোহাতে। ছোট বেলায় দেখতাম আম্মা আব্বার জন্য গামলায় পানি ভর্তি করে রোদে দিতেন পানি গরম করার জন্য, পানি গরমও হতো। আব্বা সে পানি দিয়ে গোছল করতেন। গোছলের পূর্বে আব্বা শরীরে সরষের তেল দিতেন। যতদিন আব্বা বেঁচে ছিলেন, তার স্কিন ছিলো একদম টাইট। এখন আর সরষের তেল মালিশ করেনা কেউ শরীরে। কেনো?

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/01/49348814_752315268472231_802684393545007104_n111.jpg)  
একটি পাখি আসলো ছাদে লাগানো মরে যাওয়া গাছের ডালে, মরা গাছটি যেন প্রাণ ফিরে পেলো, আমার বেশ কাছেই। চোরা চোখে দেখছে আমাকে। ফিরে আসলো নাকি আমার পাখিটা আবার? ইদানিং খুব পাখি আসে আমার কাছে। [**সেদিন ছোট বোনের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেলে আসলো একটা।**](https://www.facebook.com/jeshan.shaikram/videos/1710785272359877/) নিজের বিশ্রামাগারে দুপুরে বিশ্রাম নেয়ার পরে একটি পাখি আসে রোজ। এসে জানালার গ্রিলে বসে থেকে তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। অনেক দিন আমার পাখি নিয়ে কিছু লেখা হয়না। [**একটি সময়ে প্রায়ই লিখতাম আমার প্রান পাখি নিয়ে ( ক্লিক করে দেখতে পারেন)।**](http://sonelablog.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%aa/)এরা কি আসে আমাকে তা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য?

সন্ধ্যার পরে ফার্মেসিতে ভিটামিন-ডি+ ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট কিনতে গেলাম। হাড্ডি শক্ত করতে হয় আজকাল। বয়সের কারণে হাড্ডিতে বিভিন্ন সমস্যা এসে ভর করছে। আর ব্যাক পেইন তো আছেই। অস্ট্রেলিয়া থেকে ৩০০ ট্যাবলেটের বোতল এনেছিলাম কয়েকটা। বেশ সস্তাই বলা চলে। এখান থেকে আজ কিনলাম ৬০ টি ট্যাবলেটের বোতল, আমেরিকান, মূল্য অনেক। আমাদের সোনেলায় একজন হাতের জাদুকর আছেন, [**তিনি নাকি তার হাতের স্পর্শে ব্যাথা নিরাময় করেন**।](http://sonelablog.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81/) আমি তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম যে জাদু বিদ্যাটা একটু শিখায়ে দেন। শিখালেন তো নাই বরং আমার ব্যাক পেইন নাকি অভ্যাস হয়ে গেছে – এসব নিয়ে তিনি এবং অন্য একজন ব্লগার বেশ হাসাহাসিই করলেন। এদের দিল এত্ত পাষাণ হইল ক্যামনে?  
![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/01/49612706_1971016402996253_5658266645341143040_n111.jpg)  
ফার্মেসি থেকে ফেরার সময়ে বাসার কাছেই মুড়ি মাখা বিক্রী করেন একজন লোক। নাম বলতে চাইনা এমন একজন ব্লগার আছেন এই সোনেলায় যিনি আমার বাসায় এলে প্রতিদিন সন্ধ্যায় এই মুড়ি ভর্তা কিনবেনই কিনবেন। কিছু অভ্যাস সংক্রামক, আমার মাঝেও এই অভ্যাসটি সংক্রামিত হয়েছে। মিস করছি খুব আজ তাঁকে।  
খুব সাধারণ ভাবেই একটি অসাধারণ দিন অতিক্রান্ত হলো আজ।  
ভালো থাকুক আমাকে ঘিরে থাকা সব প্রিয়জন,  
ভালো থাকুক সোনেলার সোনারা।

---

Comments: 22 — https://sonelablog.com/%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a7%af-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf-%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a7%e0%a7%af/#comments
