# ক্লান্তির পথে নদী

Author: সৌবর্ণ বাঁধন
Published: 2022-01-22
Category: কবিতা
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%80/

**হয়তো ক্লান্তির শেষে শুয়ে আছে ক্ষণজন্মা কোন বিকাল,**  
**ঐরাবতের মতো কমলা লাল মেঘ!**  
**পায়ের নীচে মৃদু শব্দে হেঁটে যাওয়া কিশোরী ঘাসের দল,**  
**কচি জলে ছলাত ছলাত শব্দে ভেঙ্গে পড়া হিমবাহের আবেগ,**  
**বিলের ঢেউয়ে শস্যক্ষেতের নুয়ে পড়া ঢল,**  
**সেই সব মৃদু জল ছুঁয়ে দিতে আমি বুঝি দাবানলে পুড়ে,**  
**হেঁটে যাই মানচিত্রের সীমানা ছাড়িয়ে আজো বহুদূরে!**  
**হয়তো উত্তাপে তীব্র মাঘের শীতে থার্মোমিটারে থাকে জ্বর,**  
**তবুও সুদূর ডাকে নিয়ে মাঠভরা মুক্তির পরিশুদ্ধ জল,**  
**হয়তো বিবাগী বিকালের কোলে নেভাবো সমস্ত অনল!**   

**হয়তো ক্লান্তির শেষে অপেক্ষায় আছে নাতিশীতোষ্ণ রাত,**  
**নরম লেপের বুকে আয়েশী শীত ঘুমায় যেমন,**  
**ঘুমের কড়া ডোজে থেমে থাকে বহু তীব্র জলপ্রপাত!**    
**প্রতিটি সন্ধ্যার বুকে নেমে আসা বিশ্রামের প্রত্যয়ী আভাস,**  
**যেভাবে জড়িয়ে ধরে মহাকাশে ভাসা বুনোপাখিদের চোখ,**  
**গভীর স্বপ্নের কালে উঠে আসা প্রেমিক ধরে রাখে রাশ,**  
**আমার ক্লান্তিরা তার তাঁবুর পাশে সাইবেরিয়ার গাঁড় শীতে,**  
**মুক্ত তবু পাশাপাশি শুয়ে থাকা বন্য হরিণী হোক!**  
**হয়তো ক্লান্তির শেষে ঘিরে নিবে কুয়াশার রহস্যময় ঝাঁক,**  
**বলবে আয়েশী রাত- ‘আহা! ও একটু শান্তি পাক!’**   

**হয়তো ক্লান্তির শেষে আছে প্রাচ্যের কোন স্তব্ধ শহর,**  
**প্রাচীন তবু কথা বলে কোটি ভ্রমরের অশ্রুত মৃদু কন্ঠস্বর!**  
**গান গায় নিচুস্বরে পোষা ময়না বুড়ো দেয়ালের ছায়াতলে,**  
**চুপ থাকে কোলাহল নীলপদ্মের সরোবরে বিস্মৃত বিকালে!**  
**হালকা হাওয়ায় উড়ে যায় আঁচলের কারুকাজ,**  
**অলিন্দে হয়তো বাজবে আমারই নুপূরের তীব্র আওয়াজ!**    
**এক আমি থেকে বহুজন আমি জন্ম নিব মুক্ত চাতালে,**  
**আসল আমাকে হয়তো হারাতে চাই তাদেরই আড়ালে!**  
**স্তব্ধ রাজপথে চুপচাপ আঁচড়াবে পালক হীরামন পাখি,**  
**হয়তো অনন্তকাল আমি হাঁটবো রাস্তায় স্রেফ একাকী!** 

**হয়তো ক্লান্তির শেষে দীর্ঘ অপেক্ষায় আছে এক বনভূমি**  
**সবুজে মিশে হৃদয়ের রঙ পালটাবে পলি মিশ্রিত জমি!**  
**বিচিত্র অর্কিডে মিশে থাকবে মুক্তির গাঁড়তম নিঃশ্বাস,**  
**শুষে কষ্টের রেশ আকাশে ছোঁয়াবে মাথা সব বনস্পতি,**   
**তাদের মূলের কাছে জাগবে বিচিত্র আলোকের আভাস!**  
**সবটুকু ক্লান্তি নিয়ে একদিন সেইখানে বসে যাব আমি,**  
**হয়তো বাতাস বলবে মেলানকোলিয়ার কথা ফিসফাস!**  
**পুরাণের অমৃতভাষিণীদের মতো সব ক্লান্তি ছুড়ে ফেলে,**  
**ক্রমশ পৃথিবীরে মূলে চলে যাব অনেকটা বৃক্ষের মতো,**  
**লিখে দিব নোট- ‘দরকার নেই অনুগ্রহের অমৃতে!’**

**হয়তো ক্লান্তির শেষে অপেক্ষায় আছে হাওরের জল,**  
**অদ্ভুত সে স্রোতে প্রায়ই নেমে আসে গ্রহ নক্ষত্রের ঢল!**  
**টুপ করে হাঁসেদের মতো ডুব দেয় নেশাগ্রস্ত শোকে,**  
**নিঃসঙ্গ যাত্রীরা পথ ভুলে এসে সেইসব দৃশ্যাবলী দ্যাখে,**  
**বেদুইন রাত্রির চোখ তন্দ্রায় আচ্ছন্ন রাখে অলৌকিকে!**  
**হয়তো ক্লান্তির চরম প্রহরে পৌঁছে যাব সেই উপত্যকায়,**  
**মহেন্দ্রক্ষণে আমিও মিশে যাব গ্রহদের তীব্র মিলনে,**  
**তারপর আরো বেশি ডুবে যাব হ্রদের অতল মনে,**  
**আমিও হ্রদের মতো জল হবো! হবো এক ঘুমন্ত ঢেউ,**  
**ঘুরবো নিজের স্রোতে! থামাতে পারবেনা আর কেউ!**
