# কি ভাবে ভালো বাবা/মা হওয়া যাবে

- Author: [নার্গিস রশিদ](https://sonelablog.com/author/nargis-rashid/)
- Published: 2023-09-02T17:43:31+00:00
- Updated: 2023-09-04T13:49:19+00:00
- Category: [বিবিধ](https://sonelablog.com/category/misc/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be/

---

 

 

বাবামা হওয়া একটা বিরাট অভিজ্ঞতা ।

কিন্তু তার মানে এই না যে বাবামা হওয়ার কাজটি খুব সহজ।

ছেলে মেয়ে যে বয়েসেরই হোক না কেন বাবামার দায়িত্ব শেষ হয়না।

সন্তান কে বোঝাতে হবে বাবামা তারাকে ভালোবাসে এবং একই সাথে তাদের কি ভুল এবং কি সঠিক সেটাও তাদের জানাতে হবে।

পরিবারে  এমন একটি আবহ তৈরি করতে হবে যেন সন্তানরা আত্মবিশ্বাস,স্বাধীন এবং সেবা করার মনোভাব নিয়ে বড়ো হতে পারে। তাদেরকে ভালবাসার বন্ধন দিয়ে আকর্ষণে রাখতে হবে ।

**প্রশংসাঃ**

যে বিষয় গুলোতে তাদের আকর্ষণ বা  ইন্টারেস্ট  নাই  তা জোর  করে  করতে না দেয়া উচিৎ। তারা যে কাজই করুক না কেন তার প্রশংসা করা উচিৎ। একটু প্রশংসা তাদের কাজ করার উৎসাহ বাড়িয়ে দায়। এতে তো কোন অর্থের দরকার পড়েনা। মুখ দিয়ে শুধু বলা। প্রশংসা  করাতে কার্পণ্য মোটেও উচিৎ নয়।

**ভালোবাসার আবহ তৈরি করতে হবেঃ**

সন্তানদের আপনার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে আপনাকে তাদের প্রায় হাগ বা  আদর করতে হবে ।

১) তাদের আপনার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে প্রতিদিন একবার করে আদর করেন । এবং এ দ্বারা তারাকে বোঝান যখনি আপনার ভালোবাসা মনে আসবে জরিয়ে ধরে আদর করে বলবেন ‘ আপনি  তাদের ভালোবাসার স্থান’।

২) কিছু যদি তারা ভুল করে তবে আপনি ধমক দিবেন না বা  টোলড অফ করবেন না। আপনাকে বলতে হবে  “ভুল থেকেই মানুষ শিখে। এতে আরও অভিজ্ঞতা বাড়ে ” ।

**সন্তানদের অনেক অ্যাফেক্সান  দিনঃ**

শারীরিক এবং ইমোশনাল বন্ডের জন্য বাবামাকে তাদের পুরো চাইল্ডহুড জুড়ে রাগের সাথে কথা না বলে দয়া মায়ার সাথে কথা বলতে হবে।

যেমন ১) তারা কোন কারণে আপসেট হলে বলবেন আপনি তাদের সাথেই আছেন এবং আপনি তাঁকে ভালোবাসেন  ২) কাঁধে হাত দিয়ে তাদের কথা শুনবেন ।

**সন্তানদের ভালো বাসতে হবে কোন স্বার্থ  এবং শর্ত ছাড়াঃ**

তারাকে বুঝতে দিতে হবে আপনি তারাকে কোন শর্ত হীন  ভাবে ভালোবাসেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যদি সে ফুটবল পছন্দ না করে তখন খুঁজে বের করতে হবে কিসে তাদের ইন্টারেস্ট আছে।

ছোটো বাচ্চা দের জন্য শুধু মাত্র খেলার জিনিস যথেষ্ট নয়। তাদের সাথে মাঝে মাঝে কোয়ালিটি সময় বা সুন্দর সময় কাটাতে হবে। যেমন পার্কে গিয়ে আইসক্রিম কিনে দিয়ে হাত ধরে ঘুরে বেড়ানো। বা লাইব্রেরীতে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে বসে বই পড়া অথবা ঘরের মেঝেতে দুজনে বসে গল্পের বই পড়া বা  শুনা।

**তারা কিছু অর্জন করলে তার জন্য প্রশংসা অতি জরুরীঃ**

যখন তারা কিছু একটা ভালো জিনিস করে তা রেজাল্ট হোক বা ছবি আঁকা বা খালাধুলা হোক ,আপনার কাজ হবে বলা আপনি তার জন্য গর্ব অনুভব করছেন। এতে তাদের আত্ম বিশ্বাস বেড়ে যাবে। সবসময় সমালোচনা আর আর নিচু করার চেষ্টা করলে তারা যখন বড়ো হবে তাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাবে। কৃটিসাইজ আর দুর্নাম  করলে তাদের মন খারাপ হবে এবং তার খারাপ প্রভাব পড়বে তার পরবর্তী জীবনে। এটা তারা কোনদিনও ভুলতে পারবেনা এবং মনে দাগ কেটে যাবে এবং পিতামাতার উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে যাবে।

যেমন বলতে হবে ‘তোমার এই কাজটির জন্য তোমাকে ধন্যবাদ’। বা  ‘তুমি যে তোমার বোনের সাথে জিনিস গুলো সমান ভাবে দিয়েছ এটা ভালো কাজ করেছো’।

1)  এর ফলে সন্তান শিখতে পারবে কোনটা ভালো কাজ আর কোনটা খারাপ কাজ । ২) প্রশংসা করা একটা গুরুত্ব পূর্ণ অভ্যাস যা দ্বারা তারা উৎসাহ পায়। ৩) নিগেটিভ ফিডব্যাক দেয়ার চেয়ে ঘন ঘন প্রশংসা করতে শিখুন। যা বেশি কাজ দায় । অবশ্য এটাও একটা গুরুত্ব পূর্ণ ব্যাপার যদি কিছু খারাপ করে তা বুঝিয়ে বলা। ৪) সবসময় তাদের খারাপ দিক গুলো বলে  তারাকে অপমানিত করা মোটেও উচিৎ নয়। যা তাদের উপরে খারাপ প্রভাব ফেলবে।

**অন্য বাচ্চার সাথে কোন সময় তুলনা করবেন না বিশেষ করে আপন ভাইবোনদের সাথেঃ**

১) অন্য ভাইবোন দের সাথে তুলনা করলে তারা তাদের মধ্যে প্রতিশোধ নেয়ার প্রবণতা বাড়বে।

২) ভাইবোন দের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে

৩) ছেলে মেয়েদের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব দেখানো মারাত্মক প্রভাব ফেলে। সন্তানদের সমান ভাবে দেখার চেষ্টা করতে হবে। পক্ষপাতিত্বের প্রভাব খুবই মারাত্মক । এর ফলাফল খুবই খারাপ। যে বাচ্চাকে আপনি বেশি আদর যত্ন করবেন না সেই বাচ্চা আপনার উপর থেকে মন উঠে যাবে এবং আপনার কোন কাজে সে এগিয়ে আসবেনা ।

**সন্তানদের কথা শুনুনঃ**

১) তারা যখন কিছু বলতে চাইবে তা বলার সুযোগ দিন এবং মনোযোগ সহকারে  শুনুন। ‘সময় নাই পরে  বল’ বা ‘শুনতে চাইনা’  এসব কথা কখনও বলা উচিৎ নয়। সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক রাখতে হবে। যেন তারা কমফোর্ট ফিল করে কথা  বলার জন্য। তাদের সমস্যা মাবাবা কে শুনতে হবে। সম্পর্ক সহজ হলে সন্তান সাহস পাবে কথা  বলার।

২) কথায় কথায় ধমক দিলে দূরত্ব হয়ে যাবে সন্তানের সাথে।

৩) যখন তারা কিছু বলবে তখন মাথা নেড়ে বোঝাতে হবে আপনি তা শুনছেন। ‘ও বুঝতে পেরেছি’ , ‘ও এই কথা’ , ‘এই ব্যাপার’ , ‘ আচ্ছা ‘ এই গুলো ব্যাবহার করে বোঝাতে হবে আপনি একজন মনযোগী শ্রোতা ।

৪) দিনের একটি সময় ঠিক করে বা  রাতের ডিনার টেবিলে বসে সবায় মিলে আপডেট করুন সারা দিন কি কি হয়ে ছিল । সবায় মিলে তা সেয়ার করুন। এভাবেই প্রতিস্টা করতে হবে নিজেদের মধ্যে একটা পারিবারিক বন্ধন।

৫) ওয়ান টু ওয়ান কথা বলা অর্থাৎ একেক বাচ্চার সাথে আলাদা আলাদা ভাবে কথা বলা। একেক বাচ্চার একেক বয়স থাকে এবং একেক রকমের কথা থাকে ,তাই আলাদা আলাদা করে সময় দিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে হবে।

৬) তারাকে বোঝাতে হবে এবং তারা যেন বুঝতে পারে তারা সবায় বাবামার কাছে গুরুত্ব পুর্ন ।

পার্কে নিয়ে গিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হাত ধরে তাদের কথা শুনতে হবে। এই ভাবে কথা বলা তাদের জন্য খুবই অর্থবহ এবং মূল্যবান ।

১) একেক বাচ্চার একেক রকমের পছন্দের জায়গা থাকতে পারে ,একেক ধরনের অ্যাক্টিভিটি  থাকতে পারে, সেই কাজের সাথে ঘনিস্ট হতে হবে এবং সংযুক্ত হতে হবে।২) স্কুল ওয়ার্ক,  হোম ওয়ার্ক এগুলোর দেখভাল, স্কুলের ফাংশনে যোগ , গ্রেড গুলোর খোঁজখবর নেয়া বাবামার জন্য একটা গুরুত্ব পুর্ন কাজ।

২) তারাকে বোঝাতে হবে তাদের সাথে সময় কাটানো একটা গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় এবং সেই সাথে তারা যেন না বোঝে আপনি সময় দিচ্ছেন আপনার  ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

**সন্তানদের প্রাইভেসিকে সন্মান দিনঃ**

সন্তানদের নিজস্ব কিছু জিনিস থাকে যেমন ডায়েরি বা নোটবুক যা তারা চাইনা কেউ পড়ুক ।সেগুলো চুপি চুপি পড়বেন না ।তাহলে বাবামার উপর থেকে  বিশ্বাস বা ট্রাস্ট নষ্ট হয়ে যাবে। সন্তান দের প্রাইভেসিকে সন্মান জানানো সবার উচিৎ ।

১) যখন তারা বড়ো হবে তাদের নিজস্ব একটা ব্যাক্তিগত স্থান দিতে হবে। যেখানে তারা নিজেদের প্রাউভেসী বজায় রেখে চলতে পারে।

**তাদের বিশেষ significant বা গুরুত্ব পুর্ন দিন গুলোতে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টাঃ**

বাবামা হয়তো চাকুরী নিয়ে ব্যাস্ত তাই সেই বিশেষ দিন যেমন তাদের গ্র্যাজুয়েসান বা স্কুলের প্রথম দিন উপস্থিত হতে পারেন নি । তখন তারাকে জানাতে হবে আপনি দুঃখিত এবং পরে  একটা সময় করে বিশেষ ডিনার পার্টির সেলুব্রেসান  করে তাঁকে জানিয়েদিন যে আপনি খুব খুশি এবং তা নিয়ে আলোচনা করুন।

**সন্তানদের ডিসিপ্লিন সেখান এবং তা তারাকে পালন করে একটা ডিসিপ্লিন পুর্ন জীবনে আনেনঃ**

প্রত্যেক বাড়িতে কিছু রুলস রেগুলেসান বানাতে হয়। যেমন বাথরুম পরিষ্কার করে, ময়লা কাপড় বাস্কেটে রাখা, ধোয়া কাপড় গুছিয়ে রাখা, বিছানা থেকে উঠে বেড কভার দিয়ে বেড  গুছিয়ে রাখা, পড়ার টেবিল  গোছানো বা খেলার জিনিস গুছিয়ে রাখা।

১) এগুলো তারাকে সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে এবং তা  তারা ঠিক মতো করছে কিনা দেখা । এর মাধ্যমে তারা ম্যানেজমেন্ট স্কিল শিখে।

২) তবে বেশি স্ট্রিক্ট হওয়া উচিৎ নয়। তা হলে তারা সেসব করবেই না।

৩) একটু বড়ো হলেই তারাকে শেখানো সারা বাড়ির কাজে হাত দেয়া। যেমন বাগানের ঘাস কাটা, বাড়ি ঘর পরিষ্কার করা। বা ডিনার টেবিলে থালা বাসন দেয়া এবং তা সরিয়ে নিয়ে আসা এবং ধোয়া।

৪) বাচ্চাদের কাছে ফিডব্যাক চাওয়া তারা কি ভাবছে এই রুলস সম্বন্ধে।

**শাস্তিঃ**

বাচ্চাদের শাস্তি যেন কোনও সময় কঠিন না হয়। শরীরে আঘাত দিয়ে জোরে জোরে মারধোর এটা বাচ্চাকে অত্যাচার করা এবং যা আইন বিরুদ্ধ। এই অত্যাচার করে মারধোর হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। বাচ্চারা পরে অন্য মানুষের সাথেও  খারাপ ব্যাবহার করতে থাকবে । বরং সবসময় গাইড করতে হবে যেন তারা ভুল থেকে শিখতে পারে।

**সন্তানদের খারাপ ব্যাবহারকে সমলচনা করা উচিৎ ,বাচ্চাকে নয়ঃ**

সন্তান যদি কারো সাথে খারাপ ব্যাবহার করে তবে তাকে  বলতে হবে ব্যাবহারটি ভালো হয়নি । তবে তার সাথে এটাও বলতে হবে যে আপনি এখনো তাকে ভালোবাসেন। এবং তার কেয়ার করেন। তাহলেই তারা পরিবর্তন হবে যখন সে বুঝবে যে আপনি এখনো তাকে ভালোবাসেন এবং সাপর্ট করেন।   উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়

১) এটা কখনো বলা যাবেনা যে  ‘তুমি যা করেছো এই জন্য তুমি খুব খারাপ’।

২) বলতে হবে ‘আমি হ্যাপি নয় তোমার ব্যাবহারের জন্য। তোমার উচিৎ তার কাছ যেয়ে সরী বা দুঃখিত বলা’ ।

৩) সন্তান যদি  লোকজনের সামনে খারাপ ব্যাবহার করে তবে লোকজনের সামনে ধমক না দিয়ে আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে শাসন করা ভালো।

৪) সবার সামনে বললে সে বেশি সরমের মধ্যে পরবে।

সন্তানের কাছ থেকে অযৌক্তিক  বেশি এক্সপেক্টেসান বা বেশি আশা  করা উচিৎ নয়ঃ

পড়াশুনার রেজাল্ট হউক বা খেলাধুলা কোনকিছুতেই খুব বেশি আশা করা উচিৎ নয়।

১) বাবামার বলা উচিৎ  ‘তোমার ভালোটা দেয়ার চেষ্টা করবে’।

২) আপনি কি চান তা পরিষ্কার করে বলে দেয়া ভালো। ‘সবচেয়ে ভালো প্লেয়ার হতে হবে’  বা ‘ক্লাসে প্রথম হতে হবে’ , ‘ডাক্তার হতেই  হবে’ এই  ভাবে  চাপা চাপি করা উচিৎ নয়।

**সন্তানদের স্বাধীন ভাবে বড়ো হতে দিন অর্থাৎ তারা যেন নিজে নিজে সব কিছু করতে পারে**    **এবং পর নির্ভরশীল যেন না হয় তার শিক্ষা দিনঃ**

তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত স্বাধীন ভাবে গ্রহণ করার সুযোগ দিতে হবে। আপনার ইচ্ছা তাদের উপর    চাপাবেন না। অন্য সব মানুষ কি করছে তা তাকেও  অনুসরণ করতে হবে এই শিক্ষা তাকে দিবেন না। তার মন কি চাই তা জেনে সেটাই করার জন্য তাকে প্রস্তুত হতে হবে। এবং এটাই তারাকে বলতে হবে। তারা যখন  ছোটো থাকে তখন কোনটা ভুল আর কোনটা সঠিক তা শেখাতে হবে।

এই কারনেই করতে হবে যেন পরবর্তী জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে  তারা নিজেদের সিধান্ত নিজেরাই নিতে পারে।সব ক্ষেত্রে নিজেদের সিধান্ত তাদের কাঁধে দেয়া উচিৎ নয় এবং সব ক্ষেত্রে নাক গলানো উচিৎ নয়। যেমন

১)   যখন তারা বড়ো হবে তাদের বন্ধু নির্বাচন, কাদের সাথে ঘুরবে ,এক্সট্রা কারিকুলাম যা তারা করতে চায় সব কিছু তাদের মতো যেন তারা করতে পারে।

অবশ্য দেখতে হবে তাদের সিধান্ত যেন সঠিক হয়।

২) মনে রাখতে হবে আপনার সন্তান আপনার কপি নয় সে সম্পুর্ন একটা পৃথক জীবন,সম্পুর্ন এক আলাদা ব্যাক্তিত্ব এবং আলাদা অস্তিত্ব । আপনি শুধুমাত্র কেয়ারার । আপনার মধ্যে দিয়ে ‘আর একটা আপনি’ সে নয়। সে সম্পুর্ন ভাবে আর একটা জীবন। আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড তার ব্যাকগ্রউন্ড নয়। সে পরিবর্তিত চিন্তা চেতনার আর একটি জেনারেশনের জীবন।

বাচ্চা দের সামনে বাবামা  এক ইউনিট হওয়ার চেষ্টা করবেন ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার ক্ষেত্রে। বাবা যদি সবসময় ‘হ্যাঁ’ বা মা  সবসময় ‘ না ‘  বলে সন্তান কনফিউজড হয়ে পড়বে। সন্তানের সাথে তর্কা তর্কী করবেন না। তাদের সামনে তর্কা তর্কী করলে বাচ্চা রা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগবে এবং ভীত হবে। তারা কে বোঝাতে হবে মানুষ কোন কোন সময় দ্বিমত হতে পারে তবে তারা নিজেদের মধ্যে শান্তি পুর্ন ভাবে আলোচনা করে নিবে।

**তারা যেন আপনাকে অনুসরন করতে পারে তাই আপনাকে তাদের রোল মডেল হওয়ার গুন অর্জন করতে হবেঃ**

১) সন্তান কে দয়ালু হতে শেখার জন্য দাদা দাদি নানা নানী কে সন্মান করতে শেখাতে হবে তাদের হাত দিয়ে গিফট দিয়ে তারা কে দিতে শেখানো, মাঝে মাঝে এতিম খানা নিয়ে গিয়ে তাদের হাত দিয়ে এতিমদের সাহায্য করতে শেখানো, দুঃস্থ দের খেদমত করতে শেখানো এগুলো তারাকে দিয়ে করাতে হবে।

২) বাড়িঘরের কাজ  করাতে তারাকে ইনভল্ব করতে হবে । তার সাথে বাবামাকেও করতে হবে এবং বলতে হবে চল একসঙ্গে করি।  নিজে সোফায় বসে কোন কিছু না করে , তারাকে অর্ডার দিয়ে নয়।

**ম্যানার শেখানোঃ**

ভালো ম্যানার শেখাতে নিজেকেই মডেল হতে হবে। যাতে তারা আপনার কাছ থেকে শিখতে পারে।

১) Please,Thank you ,Excuse me ( দয়া করে, ধন্যবাদ, যদি কিছু মনে না করেন এই গুলো  ব্যাবহার করতে শেখানো ।

২) ভাই বোনদের সাথে জিনিস ভাগা ভাগি করেতে শেখান  , ‘নিজে আমি একলা নিব কাউকে দিবনা’ এই মনোভাব যাতে না হয় তা শেখাতে হবে।

৩) বড়োদের সাথে ভদ্র ভাবে কথা বলা এবং সন্মান দেয়া শেখাতে হবে তা নিজে আগে করলে সেই আচরণ তারা পাবে।

**নিজের ভুল থেকে শেখাঃ**

যাকে বলা হয় ‘লাইফ লেসন ‘ বা ‘অভিজ্ঞতা’ যা নিজের ভুল থেকেই মানুষ শিখে তা তারাকে শেখাতে হবে।

‘আমাদের জীবন’ বা ‘জীবন চলার দিন ‘ একেকটা শিক্ষক । অর্থাৎ আমরা চলতে ফিরতে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করি সেগুলোই আমাদের শিক্ষক ।

আমরা সারা জীবন সন্তানদের প্রটেক্ট করে রাখতে পারবোনা । তারাকে একদিন ছেড়ে দিতে হবে। এবং তখন তারা চলতে ফিরতে মানুষে সাথে মিশতে মিশতে এবং কাজের মধ্যে দিয়ে শিখতে পারবে। আর  এই শেখার ব্যাপারটা যতো তাড়াতাড়ি আরম্ভ করা যায় ততই ভালো।

হ্যাঁ তারা ভুল করবে, মানুষের কাছ থেকে খারাপ ব্যাবহার পাবে ,নানা রকমের মানুষের আচরণের সম্মুখীন হবে এবং তা দিয়েই দুনিয়াতে চলতে শিখবে। ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে চলা মানুষ শক্ত পোক্ত হবে। তাকেই বলা হয় ‘জীবনের অভিজ্ঞতা’ বা ‘Life Lesson’ ।

**বয়ঃসন্ধি কালঃ**

এই সময়টিতে সন্তান দের মাঝে শরীরে পরিবর্তন আসে । ব্যাপারটাকে সহজ ভাবে নিতে হবে। সহজ ভাবে বোঝাতে হবে। শরীর কি ভাবে কাজ করে, সেই ‘এনাটমি’ তারাকে বোঝাতে হবে। তারা এটা ওটা জিজ্ঞেস করতে পারে পরিবর্তনের ব্যাপারে। বন্ধু সুলভ আচরণ করে সরম না পেয়ে তা বোঝাতে হবে এটা একটা ন্যাচারাল বিষয় । এটা সরম বা লুকানোর বিষয় নয়। সবচেয়ে বড়ো কথা সবকিছুর উত্তর খোলাখুলি ভাবে এর  উত্তর দিতে হবে।

**তোমাদের সাথে সব সময় আছিঃ**

সন্তান যখন বড়ো হয়ে যাবে তাকে বলতে হবে আমরা সবসময় তোমাদের সাথে আছি। পিতৃত্ব এবং মাতৃত্ব করার স্কিল গুলো সারা জীবন একটি সন্তানের উপর প্রভাব ফেলে। সারা জীবন সন্তানদের আপনার ভালোবাসার দরকার আছে এবং যতদূরেই  আপনি  থাকেন না কেন তারা আপনার ভালোবাসা চাইবে।

তাদের প্রতিদিনের সময় গুলোতে হয়তো আপনি থাকতে পারবেন না আপনার উপস্থিতি হয়তো থাকবেনা কিন্তু তবুও বলবেন “আপনি তাদের ভালোবাসেন এবং ভালো চান” । যতো বয়সেই তাদের হোকনা কেন যদি একটা ভালো রিলেসান থাকে সন্তানের সাথে ,তারা বারে  বারে  ঘুরে  আসবে আপনার উপদেশ নেয়ার জন্য।

তথ্য সূত্রঃ

ঊইকিপেডিয়া

Social Issue in Britain Children at work

Kathy Slah

 

---

Comments: 0 — https://sonelablog.com/%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%b9%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be/#comments
