# কি দরকার মানুষের মন নিয়ে এইভাবে খেলার?

Author: একজন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক
Published: 2014-08-17
Category: একান্ত অনুভূতি, সমসাময়িক
Tags: একজন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক, ছেলে, প্রতারণা, ভালোবাসা
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87/

মাঝে মাঝে চিন্তা করি একজন মানুষ আরেকটা মানুষের লাইফ নিয়ে কিভাবে খেলতে পারে???

যাই হোক, কাহিনীতে আসা যাক।

আমার একটা ফ্রেন্ড আছে নাম রাফি, সেই একেবারে কলেজ লাইফের প্রথম থেকেই সে একটা মেয়েকে ভালোবাসে। মেয়ের নাম সানজিদা।

রিলেশনটা এক পক্ষীয় কখনোই ছিল না, রাফি তো মেয়েটাকে ভালোবাসতোই আর মেয়েটাও ভালোবাসত (এমনিতে অভিনয় করত)।

এই মেয়ের যখন যেটা চাইতো, রাফি তা করে দিত, হোক সেটা যেভাবেই, প্রত্যেকদিন মেয়েটার মোবাইলে ৫০-১০০ টাকা ফ্লেক্সি করতে কখনোই ভুলত না সে।

না সে নিজ থেকেই ফ্লেক্সি করে দিত তা-ও কিন্তু না, মেয়েটা চাইত বলেই দিত।

ফোন করে বলত  
– জান, আমার না মোবাইলে টাকা নেই।  
এইটুকুই বলত সে, আর কিছু বলা লাগত না, রাফি যেইখান থেকে পারত টাকা ম্যানেজ করে ফ্লেক্সি করে দিত সেই মেয়েকে, এইটা তো শুধু সামান্য একটা উদাহরন, কোথাও খেতে গেলে সেই মেয়ে কিভাবে টাকা খরচ করত তা কাউকে বুঝানো যাবে না।

এরকম অনেকবার হয়েছে, বিল দিতে পারছে না বলে বন্ধুর কল, আর আমরা যে পারতাম সেই যায়গায় গিয়ে বন্ধুকে উদ্ধার করতাম বিলে সাহায্য করে, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে রাফি, কতই আর পারত, তাই আমরা যে যতটুক পারতাম সাহায্য করতাম, আমাদের সাহায্যর পরও তার কত টাকা যে দেনা হয়েছে তা বলতে পারব না।

তারপরো মেয়েটার মধ্যে এই ব্যাপারে কখনো কোন কিছুই লক্ষ্য করতাম না, টাকা থাকলেইও অর্ডার দিত, না থাকলেইও দিত, পুরোই ড্যাম কেয়ার যেন এই ব্যাপারে সে ফিলিং লেস।

অনেকবার বন্ধুকে বলতে চেয়েছিলাম যে মেয়েটা আসলে ভালো না, কিন্তু কি দরকার এরকম বলার, ভয় পেতাম এরকম বললে বন্ধুর সাথে না আবার ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়, যতই হোক সেই মেয়েটা ছিল তার গার্লফ্রেন্ড, আর বন্ধুর চেয়ে গার্লফ্রেন্ড নিশ্চই একটু বেশি কাছের হবে, তাই আর কখনো সাবধান করিনি, কিন্তু আকার ইঙ্গিতে যে একদম নিষেধ করিনি তা-ও না।

যাই হোক, ২ জনই এইচএসসি এক্সাম দিয়েছে।

রাফির রেসাল্ট টেনে টুনে এ, আর সানজিদার এ+

না সেই মেয়ে নিজের যোগ্যতাই এ+ পেয়েছে তাও কিন্তু না, ২ বছর যে মেয়ে সারাদিন ফাউ কাজ করে বেরিয়েছে, সেই মেয়েকে পরিক্ষার জন্য রসদ কিন্তু রাফিই জুগিয়েছিল। রাফি পড়ত সায়েন্সে আর সেই কমার্সে পড়ুয়া মেয়ের জন্য সে এর থেকে ওর থেকে নোটস, শিট, ফটোকপি, যত ভালো ভালো সারদের ইম্পর্ট্যান্ট, বই, টেস্টপেপার সবই যোগাড় করে দিয়েছিল এই রাফিই, শুধুমাত্র ভালোবাসার মানুষটা যাতে ভালো করতে পারে তার কারনে, কারন তার ভয় ছিল সানজিদা না আবার ফেল করে বসে??

আর এখন????

১৩ তারিখ এইচএসসি রেসাল্ট দেয়ার পর থেকেই সানজিদার আগের সিম অফ, ফেইসবুকে রাফি এবং আমরা যারা রাফির ফ্রেন্ড সবাই ব্লকড, গতকাল একজন থেকে শুনেছি, মেয়েটা নাকি নতুন সিম নিয়েছে, রাফি এবং আমাদের কাউকে নম্বর দিতেও নিষেধ করে দিয়েছে।

এই সেই মেয়ের ভালোবাসা???? কেন এরকমটা সে করেছে তা আমি রাফি, আমরা কেউই জানিনা, জানবও না হয়ত কখনো।

যে রাফি রিলেশনটার ব্যাপারে এতো সিরিয়াস ছিল যে, তার মাকেও সে ম্যানেজ করে রেখেছিল।

এখন রাফি কই, আর সেই মেয়ে কই???

মাঝে মাঝে চিন্তা করি রাফির অবস্তাটা, রেসাল্ট খারাপ হয়েছে, ফ্যামিলির ফিন্যানশিয়াল কন্ডিশনও তেমন আহামরি না, ফ্যামিলির বড় ছেলে, তার মাঝে ভালোবাসার মানুষটার থেকে প্রতারিত হওয়ার যন্ত্রনা।

এইরকম ডিপ্রেসড অবস্তাতেই মানুষ আসলে আত্মহত্যা করার সিদ্বান্ত নেয়।

কি দরকার ছিল আসলে মেয়েটার এমন করার।???? কি দরকারটাই ছিল???

আমাদের সমাজে রাফির অবস্তায় এরকম হাজার হাজার ছেলে মেয়ে আছে, এরা কিভাবে আসলে সেই অবস্তা থেকে বের হয়ে আসে আমার জানা নেই, নাহলে ফ্রেন্ডকে আর যাই হোক কিছু সাজেশন দিতাম।

কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় এইসব ভালো মানুষদের লাইফ নিয়ে যারা এরকম একটা খেলা খেলে তাদের আর যাই হোক বেঁচে থাকার অধিকার নেই। সত্যি নেই। 🙁
