# কিশোর বয়সের অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত যখন অশনি সংকেত

Author: মোঃ খুরশীদ আলম
Published: 2020-09-16
Category: সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%9f%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a6/

অপরিণত বয়সের প্রেম কোন দিনও পূর্ণতা পায় না। কিংবা এ সময়ের প্রেম প্রেমই নয়। জীবন গঠনের মতো শ্রমসাধ্য ও দুর্গম এই সময় যারা প্রেম নিবেদনে লিপ্ত থাকে তারা প্রায়শঃই অনাকাঙ্খিত মূহুর্তে অনাকাঙ্খিত সমস্যার সম্মুখীন হয়। নিজে জড়িয়ে পড়ে নেতিবাচক ঝামেলায় এবং পরিবারের সকল সদস্যকে করে তুলে অসহায়। জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। সেই অন্ধকারে কেবল ছেলে মেয়ে দু’জনেই নয় তার সাথে সাথে তাদের পরিবারের অন্যান্যরাও ভোগ করে সামাজিক ও আইনী জটিলতার তিব্রতা।

অপরিণত বয়সের অপরিপক্কতা, বিবেক বিরুদ্ধ ক্রিয়াকলাপের মন্দভাল বিবেচনা শক্তি কাজ না করা, তীব্র আবেগময়তা, অভিভাবকের সীমাহীন আদর-সোহাগ কিংবা মাত্রাতিরিক্ত শাসন-বারণ অথবা মাত্রাতিরিক্ত স্বাধীনতা- কোনটি দায়ী?

সন্তানদের বোধবিবেক পরিচ্ছন্নতার জন্য আমরা কি কোন ভূমিকা রাখতে পারি কিংবা রাখি? সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের সন্তানদেরও চাহিদার পরিবর্তন ঘটেছে। আমাদের শৈশবে আমরা দুই টাকার চকলেট কিংবা এক টাকার মুড়ি আর এক টাকার চানাচুর খেয়ে সারাদিন কাটিয়ে দিতাম। আমাদের সন্তানরা নাম জানা না জানা হাজারো বাহারি ফাস্টফুডের স্বাদে ডুবে থাকে আজকাল। লাটিম, ঘুড়ি-নাটাই, হা ডু ডু, গোল্লাছুট, দারিয়াবান্ধা, লুকোচুরি, কানামাছি, বৌছি ইত্যাদি আমাদের খেলার তালিকায় ছিল। আমাদের ব্যস্ততা ছিল দৌঁড়ঝাঁপ আর বনবাদারে ঘুরে ফিরে। আমাদের সন্তানরা ফেজবুক, ইন্ট্রগ্রাম, মেসেঞ্জার, ইমোতে খুঁজে ফেরে তাদের বিনোদন। ফ্রেন্ড রিকেয়েস্ট আক্টসেপ্ট, চ্যাটিংয়ের দুনীয়ায় একসময় তারা হারিয়ে যায় ভাল লাগা আর না লাগার হিসাবের খাতায়। স্বপ্ন দেখে নিজেদের মতো করে বেঁচে থাকার ।

অপরিণত বয়সের অপরিপক্ক সিদ্ধান্তে থমকে যায় চলমান সুখ। দুটি পরিবারে একে অন্যকে দোষাপোপ করার পাশাপাশি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই থানা ও আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সমাধান খুঁজতে সচেষ্ট হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মাইনর প্রেমিকা পরিবারের চাপের মুখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায়  22 ধারায় জবানবন্দিতে ছেলে কর্তৃক অপহরণের শিকার ও জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার হয়েছে মর্মে  জবানবন্দি প্রদান করে। ফেঁসে যায় প্রেমিক, জেলের ঘানি টানে দিনের পর দিন। কখনো কখনো অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েটি তার প্রেমিকের সাথে স্বেচ্ছায় পালিয়ে গেছে মর্মে স্বীকার করলেও তাকে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয় এবং সেটি একটি ভিন্ন  জগত। জেল, জুলুম, জরিমানা কি জিনিস সেটা সেই বুঝে যে আইনের দ্বারস্থ হয়েছে।

কোন কিশোর-কিশোরি এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়, কেন আমার-আপনার সন্তানরা আমাদেরকে তাদের মনের কথা খুলে বলতে পারে না। আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রক্ত পানি করা পরিশ্রমে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত বিনির্মাণে সচেষ্ট থাকি আর তারা আত্নঘাতি সিদ্ধান্তে আমাদের সুখ স্বপ্ন বিলিন করে দেয়। কিভাবে এর থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব? আমি সমস্যাগুলো দেখিয়ে দিলাম। বন্ধুরা সমাধানের পথ আবিস্কার করবেন আশা করি। মতামত চাইলাম সকলের আর সেই সাথে সন্তানদের প্রতি সুনজরের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করলাম।

এই ব্লগ যারা পড়েছেন তাদের জন্য জ্ঞাতব্য : আমি দুই সন্তানের জনক। বড়টি ছেলে 14 বছর আর তার ছোট মেয়ে 10 বছর।
