# কাগজে মানি, আচরণে না।

- Author: [রিতু জাহান](https://sonelablog.com/author/mounata/)
- Published: 2016-08-19T18:29:22+00:00
- Updated: 2016-08-21T02:29:14+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a5%a4/

---

---

আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের প্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তাদের মনের চাহিদা। বাচ্চা সুলভ আচরণগুলোর পরিবর্তন হয়েছে খুবই দ্রুত। শিশু থেকে কিশোর, কিশোর থেকে যৌবন। কিন্তু শিশু থেকে সরাসরি যৌবনেই যেন চলে যেতে চায় আজকালকার ছেলেমেয়েরা। কিশোর বয়সটা যেন চোখের পলকেই সরে যায় তাদের জীবন থেকে। কিশোর বয়সের ছেলেমেয়েদের আমরা তাদের বয়স অনুযায়ীই আচরণ দেখতে ভালবাসি। কিশোর কিশোরী যদি বয়স আনুযায়ী আচরণ না করে, তবে তো দৃষ্টিকটু লাগবেই। প্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা তাদের খুব তাড়াতাড়িই বড় করে দিচ্ছি। নাকি তারাই অতি দ্রুত বড় হয়ে যাচ্ছে ! আমি কাউকেই একতরফা দায়ী করছি না। এটা যেন সিস্টেমের দৌড়।  
আমরা বয়স না হতেই মোবাইল ফোন, তাও আবার এন্ডরয়েড দিয়ে দিচ্ছি হাতে। ক্লাস সিক্সের বাচ্চা যখন ফেসবুকে এ্যাকাউন্ট করে চ্যাট করে, নিষিদ্ধ ছবিগুলো খুব মনযোগ দিয়ে দেখে, তখন সত্যি লজ্জা রাখার জায়গা থাকে না।

কিছু ছোট খাটো  ঘটনা ধরেই বলিঃ  
* ঈদের কেনাকাটা করতে সাধারণত আমি উনার সাথে রাত এগারোটার পরেই যাই। মফস্বল শহরগুলোতে তখন অনেক রাতই। প্রায় সময়ই পরিচিত দোকানেই যাওয়া হয়। এক দোকানে যাবার পরে দেখলাম খুবই অল্প বয়সের কয়েকটা ছেলে দোকানে এসে মেয়েদের “পাখি জামা” খুঁজছে। ফোনে আবার তার প্রেমিকাকে জিজ্ঞেস করছে জামার রং ও সাইজ। ফিসফিস করে বলছে তবুও শোনা যাচ্ছে। আমরা যে পাশে বসে আছি সে দিকে কোনো খেয়ালই নেই। ম্যানরসই নেই হয়ত। মুলত এইসব কিশোর ও তরুন ছেলেরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এমন সব সম্পর্কে পড়ে। পরিবারে চুরি করছে। পরিবার ও সমাজে এর প্রভাব পড়ছে।

**  ইদানিং দুই বুড়াবুড়ি এখানে একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে কফি অথবা লাচ্ছি খাই (এই বুড়ো বয়সে এসে অবশেষে এই বুড়ির প্রতি তার প্রেম বেড়েছে, বুড়োরে যে আর কেউ প্রেম নিবেদন করছে না)। যাই হোক পাশের টেবিলে বেশ কিছু উঠতি বয়সের তরুন তরুণী কিশোর কিশোরী এসে বসে। কি প্রাণ তাদের আড্ডায় ! ভালো লাগে দেখে। ওদের মাঝে দেখি আমরা আমাদের হা্রানো দিন। আবার আফসোসও হয়, ঐ বয়সে আমরা অনেক কিছুই বুঝতাম না। আর এরা বয়স্কদের চেয়েও বেশি বোঝে। যেন এক উড়ন্ত প্রজাপতির দল।

এদের আবেগও যেন ক্ষণস্থায়ী। তারা মুহুর্তের আবেগে প্রেমিক প্রেমিকার জন্য সবকিছুই করতে পারে। এই যেমন, কোনো সচ্ছল পরিবারের মেয়ে কোনো বেকার অসচ্ছল ছেলের প্রেমে পড়ে সারাক্ষণ ফোনে জিজ্ঞেস করবে,” খেয়েছো”। ছেলেটি ফোনে বলবে,” খাইনি, সকালে হালকা নাস্তা খেয়েছি এক টিউশনিতে, দুপুরেও খাইনি, বিকালে একটা টিউশন আছে, তারা যদি নাস্তা দেয় তখন খাওয়া হবে”। এই কথা শুনে মেয়েটি অতি আবেগে আপ্লুত হবে, তাকে খাওয়ানোর জন্য অস্থির হবে। নিজের পকেট মানি সে ছেলেকে দিতে অস্থির হবে। এমনকি মায়ের টাকাও চুরি করে দিয়ে দেবে বলে।  
আবার সচ্ছল আগোছালো ছেলের প্রেমে পড়লে এই মেয়েটি তার এসাইনমেন্ট করে দিবে, রাতে বন্ধুদের সাথে বের হতে নিষেধ করবে। সারাক্ষণ আগলে রাখার চেষ্টা করবে।  
এই ব্যাপারগুলো ঘটে কা্লণ মেয়েরা এসব ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট হয় বেশি। মেয়েদের হরমোনে এমন কিছু আছে, যা তাদের মা হবার আগেই মাতৃত্ব করে দেয়। এটা তাদের সহজাত অভ্যাস। কিন্তু এই আবেগও ফুস করে উড়ে যায়। তার মনে অন্য একটি স্বত্বাও কাজ করে, সে মনে মনে ভাবে, এই ছেলে বেকার, অগোছালো তার সাথে ফিউচার ভাল হবে না।

মেয়েরা একটা নিরাপদ আশ্রয় চায়, চায় একটি গোছানো সংসার, সেই সংসারে সচ্ছলতা থাকবে। অসচ্ছলতা থাকলে যতোই প্রেম থাকুক তা যে ঠুনকো এই উপলব্ধিতে সে মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে পরিচয় হওয়া, আমেরিকান ও সরকারী কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বিয়ে করে সে নিরাপদ আশ্রয়ে ঢুকে যায়। সে তার স্বামীর হাজার ব্যস্ততা মাঝেও চাইবে, শীতের রাতে মুখ থেকে কাঁথা সরিয়ে জিজ্ঞেস করুক,”খেয়েছো তো”।

আমাদের ছেলেমেয়েগুলো বয়স হওয়ার আগেই এইসব পারিপার্শ্বিক বিষয়ে এতো বেশি পেকে যায় যে তাদের সামনে দিয়ে হাঁটতেই লজ্জা লাগে। তারা অতি আধুনিকতার দোহাই দিয়ে, রাস্তাঘাটে, কলেজ ক্যাম্পাসে এমনকি স্কুলেও এমন ভাবে তাদের প্রেমের সম্পর্কগুলো প্রকাশ করে যে আমরা বড়রাই লজ্জা পাই। এরকম বন্ধুবান্ধবদের সামনে নিজের প্রেসটিজ রাখতে, তাদের সামনে শো করতে চায় দামি ফোন, বয়স হওয়ার আগেই দামি বাইক। এতে পরিবারের পুরোপুরি সাপোর্ট না পেলে সেই ছেলেমেয়ে হয় বিপদগামী। তারা টাকা উপার্জনে অন্য পথ বেছে নেয়। অপরাধ করে মারাত্বক সব। এদের জুতসই শাস্তিও দেয়া যায় না। ঐ যে মনে, শরীরে বাড়লেও কাগজে যে তার বয়স কম!

সময় এসেছে এদের কাউনসেলিং করার। এদের নজরে আনার। নতুন করে ভাবতে হবে, কীভাবে এদের বড় করব।

---

Comments: 40 — https://sonelablog.com/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a5%a4/#comments
