# ওয়াজ নিসিয়ত ইস্তমা তাবলিগে ব্ক্তাকে সতর্ক হতে হবে বচনে আর স্মার্ট হতে হবে শিক্ষাদিক্ষায় ও আমল আখলাকে

- Author: [আতা স্বপন](https://sonelablog.com/author/ats/)
- Published: 2020-02-13T12:12:12+00:00
- Updated: 2020-02-13T12:12:12+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%a4-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%bf/

---

ওয়াজ নিসিয়ত ইস্তমা এসব কিছুই তাবিলিগ। কাজেই তাবলিগ কোন বিশেষ কোন প্রতিষ্ঠানের উপর ফরজ নয় এটা গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরজ। আপনি যে অবস্থাই থাকুন ইসলাম সম্পর্কে যতটুক সহিহ বুজ আল্লাহ দিয়েছেন তা প্রচার করুন। আল্লাহ বলেন, একটি আয়াত হলেও প্রচার করতে হবে। আপনাকে মুফতি হতে হবে বা মহা বুজর্গ হতে হবে এমন শর্ত নয়। আপনাকে ইলম অর্জন করতে হবে। ইসলামী ইলম।এজন্য বুজর্গ হতে হবে না। বুজর্গদের সহবতে থাকুন। তাহলেই হবে। ইসলাম মানার জন্য বা আমল করার জন্য যতটুক জ্ঞান দরকার তা জানা ফরজ। আর আপানি জেনে বসে থাকবেন তা হবে না তা অন্যকে জানানোও ফরজ।  
এখন কথা হল আপনি না জানলে জানবেন কি করে? জানতে হলে পড়তে হবে। আল কুরআন তাই ওহির প্রথমে বলেছেন পড়! তোমার সৃষ্টি কর্তা প্রভুর নামে।  
কি পড়ব প্রভুর নামে? প্রথমেই পড়তে হবে বিজ্ঞান। কিভাবে? মহান আল্লাহ এই ওহির পরবর্তী অংশে বলেন যিনি সৃষ্টি করেছেন এফোটা জমাট রক্ত থেকে। যাকে আলাক বলে। আলাক নিয়ে গবেষনা করুন। আপনি বিজ্ঞান দেখতে পাবেন পতি পরতে পরতে। আপনি জানেন এই ওহি বা আয়াত যে সুরার তার নাম কিন্তু আলাক। সুরা আলকা একটু ভাল করে পড়ুন সৃষ্টা এবং সৃষ্টির জ্ঞান লাভ হবে। এভাবে আপনি সুরা মুলক পড়ুন। আপনি জানতে পারবেন সেখানেও বিজ্ঞান রয়েছে। জম্ম মৃত্যু রহস্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান রয়েছে।যা প্রচলিত বিজ্ঞান থেকে অনেক উর্দ্ধে।রয়েছে আকাশ রহস্য আর তাতে বিচরশীল পাখির ডানা বিস্তারে উড়ার কথা।পড়ুন বিজ্ঞান জাানা হয়ে যাবে।  
আপনারা কি জানেন পবিত্র কুরআনের প্রথমে যে সুরাটি রয়েছে তার নাম সুরা ফাতিহা ছাড়াও আরও অনেক গুলো নাম আছে। তার একটি হলো এর নাম সুরাতুল শিফা। যার বাংলা অর্থ আরোগ্য। অর্থাৎ চিকিৎসা বিজ্ঞানের হিলিং বিষয়টিও এখানে আছে। আছে রাজনীতি সমাজ নীতি, অর্থনীতি, যুদ্ধনিতি, পারিবারিক, সংস্কৃতিক বিষয়ক জ্ঞানও। শুধূ ধর্মিয় নয়। সার্বিক বিষয়েই জ্ঞান আছে ।

তাই দাওয়াত দিতে হলে সব বিষয়গুলোই এসে যায়। আর এজন্য বক্তাকেতো একটু স্মাট হতে হবেই। কথা বাচন ভংগি, শিক্ষাদিক্ষা ও আমল আখলাকে। তাই এসব গুন যার মধ্যে আছে সেই তাবলিগ করতে পারবে। নির্দিষ্ট করে কেউ নয়।

ফেসবুক ইউটিউব ব্লগ সবগুলোই এখন ওয়াজ নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় সরগড়ম।কেউ ওয়াজের পক্ষে কেউ ওয়াজের বিপক্ষে। আবার কেউ ওয়াজের পক্ষে থাকলেও ওয়াজিন বা হুজুরদের বয়ান নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। আবার কেউ ধর্ম কর্মই বিশ্বাস করেন না তারা এসব দেখে এগুলোকে নিয়েই আবার আরেকটি সমালোচনামুলক পোষ্ট বা ভিডিও বানিয়ে নিচ্ছেন। মোট কথা ফেসবুক বর্তমানে ধর্মিয় বিশ্বাস অবিশ্বাস এসব বিষয়ে সর্বদা মুখরিত। এটা কি ভাল না খারাপ এ নিয়ে বলতে গেলে আমিও হয়ে যাব এ গ্রুপের একজন।কিন্তু বাস্তবতা হলো আলোচনা সমালোচনা ছাড়া কেউই থাকতে পারে না। সেটা কোন কিছুর পক্ষে হোক বা বিপক্ষে। ভাল দিক বা খারাপ দিক। তাই এসব আলোচনা সমালোচাকে পাস কাটানো যায় না। এগুলো নিয়েই চলতে হয়। এসবের মাঝেই আছে সত্য সুন্দর কিছু বাস্তবতা। যেগুলো শুধু একজন থেকে নয় অনেকের কাছ থেকে কিছু কিছু করে লাভ করা যায়।আছে কিছু কুরুচি পূর্ন অপ্রাসঙ্গীক কাদা ছোড়াছুড়ি। এসব বাদ দিয়ে ভালটুকু গ্রহন করতে পারলে এসব আলোচনা সমালোচনা হতে পারে জ্ঞান অর্জনের একটা ভাল সেকশন।

আমি আস্তিক থেকে শিখছি । শিখছি নাস্তিক থেকে। শিখছি জ্ঞানী, স্বল্প জ্ঞানী, বা মূর্খ থেকেও। কেউ বলতে পারেন জ্ঞানী থেকে শিখছেন ভাল মুর্খ থেকে কিভাবে শিখেছেন? আসলে এখানে জ্ঞানী স্বল্প জ্ঞানী বা মূর্খ এ বিচার আমার নয়। আলোচনায় একে অন্যকে জ্ঞানী বা মূর্খ বলছে। তাদের সোর্স ধরেই বলা।

আমি যেহেতু শিখছি আমার কা্ছেই সবাই জ্ঞানী। সবাই আমার গুরু। কথা হলো আমি যা শিখছি তা কি সত্যই ভাল কিনা? বাস্তব সম্মত কিনা?  
এখানে প্রাথমিক ভাবে আমার কোন কিছু নিয়ে চিন্তাই করতে হয় না। তথ্য উপাত্ত সব প্রস্তুতই থাকে সবার। সেখানথেকেই শিখা। প্রশ্ন এসব তথ্যযে একদম নির্ভুল বা কারসাজি বা জাল নয় তা কি করে শিউর হবেন?  
এটা সিউর হতে হলে আমাকে সবার সোর্সগুলো নিয়ে স্টাডি করতে হবে। এতে করে আমাকে অনেক রেফারেন্স ঘাটতে হবে। ফলশ্রুতিতে আমি মূল সোর্স চেক করে বুঝতে পারব কোনটা সঠিক? এতে করে আমার জ্ঞান বৃদ্ধি হবে।আমি সত্য দলিল নিয়ে আলোচনায় সামিল হব।

কথা হল দলিল বা সোর্স খোজা কাজটা খুবই কঠিন। বললেই পেয়ে গেলাম এমন নয়।আমাকেও যোগ্য হতে হবে দলিল বুঝার জন্য।তা না হলে আমার আলোচনা বা সমালোচানাও নতুন বিতর্ক জন্ম দিবে। তাই খুব সর্তকতার সাথে এসব করতে হলে নিজেকে আগে যোগ্য করে তুলতে হবে। এতে সত্যি সুস্পষ্ট ভাবে ধরা দিবে। যখনিই সত্য জানবেন তখনই আপনাকেএর প্রচারেও সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।কারণ সবােইতো আর আপনার লব্ধ জ্ঞান নাও বুঝতে পারে। কাজেই সত্য প্রকাশ এত সোজা নয়। সবাই ভাবে আমিই সত্য আমার দলিল সত্য। আসলেইকি তাই? এতে কি কাউকে হেয় করার স্বার্থ নেই বা নিজেকে জাহির করার মানসিকতা নেই? ভাবার সময় এখনই।

একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে কোন ধর্মীয় জ্ঞান বিতরণ করলে তা হলো তালিম মানে প্রশিক্ষন। কিন্তু তাবলিগ নয়। তাবলিগ হল অন্য ধর্মের লোকদের মাঝে ধর্ম প্রচার। আমাদের উচিত ইলামের সৌন্দর্য অন্য ধর্মমতের মানুষের মাঝে প্রচার করা। এমন ভাবে যাতে তারা ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান  আহরন করতে পারে। যাতে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারনাগুলো দুর হয়। আর এর পদ্ধতি আল্লহ বলেছেন পবিত্র কালামে পাকে-

> তার চেয়ে উত্তম কার কথা হতে পারে যে মানুষকে আল্রাহর পথে দাওয়াত দেয় সুন্দর বচনে এবং নেক আমল করে। আর বলে আমি মুসলমান।(সূরা হা-মিম সাজদাহ-৩৩)

মানে দাওয়াত দিতে হলে বচন সুন্দর হতে হবে। আবার নেক আমলও করতে হবে। মানে নিজেকেও যা বলছি তা করে দেখাতে হবে। এরপর বলতে হবে এই হল মুসলমান। আমরা কি এমন ভাবে ওয়াজ করতে পারছি? আমাদের ব্যর্থতা আমাদের ধর্ম সম্পর্কে অন্য ধর্মাবল্বীদের নেগেটিভ কর তুলতে পারে, এটা কি আমরা ভাবছি?

“ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক নরম দিল ভদ্র এবং মানুষের সাথে মিশুক লোকদের জন্য জাহান্নাম হারাম”। যাদের জন্য জাহান্নাম হারাম তারা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

> عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ:«حُرِّمَ عَلَى النَّارِ كُلُّ هَيِّنٍ لَيِّنٍ سَهْلٍ قَرِيبٍ مِنْ النَّاسِ»
>
>
>
> আহমদ, ১/৪১৫। হাদীস নং ৩৯৩৮।

আসুন ধর্ম প্রচারে কাদা ছোড়ছুড়ি বাদ দেই। নিজেদের সমালোচনা করতে শিখি। নিজেকে পরিশুদ্ধ করি। তারপর অন্যকে পরিশুদ্ধ করি। গ্লাসে যদি ময়লা থাকে বিশুদ্ধ পানি ঢালা হল্ওে তা কিন্তু বিশুদ্ধ থাকে না। তাই যিনি দা্ওয়াতে তাবলিগ বা ওয়াজ করবেন তাকে অবশ্যই পরিশুদ্ধ হতে হবে। মহানিবি (স.) এর মিষ্টি ছাড়ার ঘটনাটি কিন্তু সবাই জানি। নিজে আমল করে তারপর তিনি কিন্তু উপদেশ দিয়েছেন।ওয়াজ গুলোতে নিজেরাই নিজেদের জাহির করতে যেয়ে ছোট করছি। আবার তা বুঝতেও পারছিনা। সবাই নিজেকে সঠিক মনে করে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছি। এ আচরন ঠিক নয়। মোটেই ঠিক নয়। আসুন অলি আল্লার এ বাংলাদেশে সবাই মিলে মিশে ধর্ম কর্ম পালন করি। বিভেদ নয়। আসুন একতায় জাগি। তবে এটা মনে রাখতে হবে জঙ্গী বা মানুষ হ্ত্যাকারী কোন ধর্মের লোক নয়। তাদেরকে সবার প্রতিহত করতে হবে। তাদের প্রচার প্রসার রোধে ওয়াজকমিটিকে সজাগ থাকতে হবে।

---

Comments: 6 — https://sonelablog.com/%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%9c-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%a4-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%bf/#comments
